দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারকে নানা রকম আর্থিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পূর্বে তাদের ভবিষ্যৎ করণীয় জানিয়ে ইশতেহার প্রকাশ করে; কিন্তু এই ইশতেহার জনগণের মধ্যে কোন সাড়া জাগায় না। শুধু জনগণ নয়, অধিকাংশ দলীয় নেতা-কর্মীও ইশতেহার পড়ার গরজ বোধ করে না। রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় ইশতেহারের তাৎপর্য নেই, কারণ ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ধরে কেউ সরকারের জবাবদিহিতা আদায় করে না, দল ইশতেহারে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা নির্বাচনের সময় ভোটার ভুলে যায়। ভুলে যাওয়ার আরও বহুবিধ কারণ রয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে, অধিকাংশ ভোটার দলকানা। ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে প্রার্থীদের তথ্য উন্মুক্ত করা হলেও তা আমাদের দেশের শিক্ষিত ভোটারও তা দেখেন না, কারণ তারা দলকানা, দল যাকে মনোনয়ন দেবে ভোটার তাকেই ভোট দেবে। শুধু তাই নয়, যারা বিভিন্ন মিডিয়ায় বিশ্লেষণ করেন তারাও রাজনৈতিক দলের বাইরে খুব বেশি চিন্তা করেন না। ২০০৮ সনের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল এবং যারা ‘ক্ষমতাধর’ তাদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী দাখিল নিশ্চিত করা হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১৪ এবং ২০১৮ সনের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ক্ষমতাধর’ শব্দটি না থাকলেও আওয়ামী লীগ দুর্নীতি রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিগত পনের বছরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দৃশ্যমান হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলা করা। বিগত পনের বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে, বিএনপি আরও পাঁচ বছর নিশ্চয়ই নিশ্চুপ থাকবে না, তাদেরও ক্ষমতা চাই। বিএনপি জানে, আওয়ামী লীগ সরকারের উপর প্রেসার সৃষ্টি করে আমেরিকা কিছু বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তাদের নির্বাচনের প্রতি কোন আগ্রহ নেই, তাদের প্রধান কাজ আওয়ামী লীগের ইমেজ নষ্ট করা। একাত্তরে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য তাদের বহু নেতার ফাঁসি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, একাত্তরে তারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে, তারা অখণ্ড পাকিস্তানের ঘোর সমর্থক; তাই আওয়ামী লীগ হচ্ছে জামায়াতের রাজনৈতিক শত্রু। বিএনপি আর জামায়াতের সম্মিলিত আন্দোলনের বিভিন্ন বাঁকা পথ রুদ্ধ করার চাণক্য নীতি এই সরকারকে প্রয়োগ করে টিকে থাকতে হবে।
ড. মোহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে উদ্ভূত ইস্যু মোকাবিলা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পৃথিবীর বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরাগভাজন হয়েছে। এই সুযোগটি লুফে নিয়েছে বিএনপি। দুই মেরুতে অবস্থান করে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির সহাবস্থান কখনো হবে বলে মনে হয় না, দুইটি দলই পরস্পরের ধ্বংস কামনা করে। এই অবস্থায় ব্যক্তি ইউনূসকে নিয়ে সৃষ্ট অস্বস্তিকর আবহকে আরও ঘোলাটে করা আওয়ামী সরকারের জন্য সুবিবেচনাপ্রসূত হবে বলে মনে হয় না। ড. ইউনূস আওয়ামী লীগের শত্রু নয়, ড. ইউনূস গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সবক দিয়েছেন, নারীর উপর পুরুষের অনভিপ্রেত কর্তৃত্ব কিছুটা হলেও কমাতে পেরেছেন। তাই ড. ইউনূস সম্পর্কিত অপ্রয়োজনীয় ইস্যু কমিয়ে ফেলা বাঞ্ছনীয়।
বিশ্বরাজনীতির বিভিন্ন মেরুকরণে বাংলাদেশ সকল অংশী দেশকে তুষ্ট রাখতে পারছে না; পারা সম্ভবও নয়। আফগানিস্তান আক্রমণের সময় প্রেসিডেন্ট বুশের ঘোষণা মোতাবেক কোন দেশ পক্ষে না থাকলে আমেরিকা সেই দেশকে শত্রু মনে করে। প্রধান প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকাতে গিয়ে আমেরিকা এক সময় পাকিস্তানের দূতিয়ালিতে চীনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীনের অভূতপূর্ব উন্নতি আমেরিকার চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন শুধু আফ্রিকার গরিব দেশগুলোতে নয়, মধ্যপ্রাচ্যেও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। চীনের দূতিয়ালিতে সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠলে আমেরিকার শুধু প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়, অস্ত্র বিক্রিও কমে যাবে। তাই চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ প্রভাব-প্রতিপত্তি রুদ্ধ করার মানসে আমেরিকা চীনের সঙ্গে অন্য কোন দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মেনে নিতে পারছে না। বাংলাদেশে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আছে এবং তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে; কিন্তু চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সহ্য করতে পারছে না আমেরিকা। অথচ আমাদের উন্নয়নের গতি অপ্রতিহত রাখতে চীনের বিনিয়োগ অপরিহার্য। এমন সঙ্কটময় অবস্থা থেকে উত্তরণে আওয়ামী লীগ সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আরও বেশি কৌশলী কূটনীতির দ্বারস্থ হতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হচ্ছে, দেশে সুশাসনের অভাব। কিন্তু সুশাসন কোন আমলেই ছিল না। আইনকানুনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধী দলের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন সব সরকারের আমলেই হয়েছে, প্রশাসন কোন সরকারের আমলেই নিরপেক্ষ ছিল না। জবাবদিহিতা থাকলে দেশে সুশাসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। প্রশাসনের সর্বত্র ভয়-ভীতি। প্রতিটি সরকারের আমলে ওএসডি আমলার সংখ্যা অর্ধ সহস্রাধিক; এদের কোন কাজ নেই, শুধু অফিসে যাওয়া-আসা করা আর কর্মব্যস্ত কর্মকর্তার টেবিলের সম্মুখে বসে থাকা। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এমন অবস্থার পক্ষে কলম ধরেছিলেন সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন’-এর শফিক রেহমান, তিনি আমেরিকার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেছিলেন, দলীয় সরকার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে উঁচু পদের সব আমলার পরিবর্তন হয়ে যাওয়া শ্রেয়। শফিক রেহমানের যুক্তি মেনে নিয়েও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় যদি জ্ঞানহীন তোষামোদী লোকদের বাদ দিয়ে জ্ঞানী-গুণী ও সমৃদ্ধ নৈতিকতার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ঘুষ-দুর্নীতি কমে যাবে, ঘুষ-দুর্নীতি কমে গেলে অর্থ পাচারও কমে যাবে। এই শক্ত কাজটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শক্ত হাতে করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধাচার কমিটি করতে হয়েছে অশুদ্ধ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এই কমিটির আর কোন গুরুত্ব নেই। অর্থনীতির প্রতিটি সেক্টরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুষ আর দুর্নীতি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিছু প্রার্থীর ঘোষিত সম্পদ অবলোকন করে জনগণ স্তম্ভিত, এদের নিশ্চয়ই অঘোষিত সম্পদও আছে। পাঁচ বছর আগে একজন এমপির যে সম্পদ ছিল, সেই এমপির সম্পদ এই নির্বাচনের সময় শতগুণ বেড়েছে। দলীয় পর্যায়ে এদের সততার মাত্রা পরিমাপ করে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হলে ঘুষখোরদের শিক্ষা হতো। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যারিস্টার সুমন নৌকা প্রতীকের একজন মন্ত্রীকে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কাজ হবে এদের মতো জনসম্পৃক্ত ও জনদরদী নেতা তৈরি করা। ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন প্রদানে দুর্বলতা ও জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করে দিয়েছে।
সামষ্টিক অর্থনীতি আগের মতো সবল নেই, এর জন্য দায়ী করোনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। মূল্যস্ফীতি কমানো নতুন সরকারের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ।
আমাদের রপ্তানির চেয়ে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ, আমদানিনির্ভর দেশের পক্ষে মূল্যস্ফীতি কমানো সহজ নয়। মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় কানাডার মতো ধনী দেশও পরিত্রাণের কূল খুঁজে পাচ্ছে না। তবুও নতুন সরকারকে মূল্যস্ফীতি কমানোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। নীতি সুদ বৃদ্ধি করে জিনিসপত্রের দাম কমানো যাবে বলে মনে হয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু ভর্তুকি দিলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থের ঘাটতি হবে, ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। অর্থের অভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সীমিত করার সুযোগও নেই, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হ্রাস করা হলে কর্মহীন লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ২০০৮ সন থেকে ১১টি খাতে ইসিআর বা ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি, কেন হয়নি তার কোন জবাবদিহিতা নেই। ভ্যাট আদায়ে ইতোমধ্যে আরও উন্নত প্রযুক্তির ইএফডি বা ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইসের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ইএফডি ব্যবহৃত হলে ভ্যাট আদায়ে দুর্নীতি কমে যেত এবং রাজস্ব আদায় বাড়ত।
ডলার সংকট এবং ডলারের মূল্য নির্ধারণের জটিলতা নিরসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে নতুন সরকারকে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ কমাতে গিয়ে ব্যাপক হারে আমদানি হ্রাস করাও যাবে না; আমদানি হ্রাস করা হলে রাজস্ব আদায় কমে যাবে, প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, পণ্য যোগান ঘাটতির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। এমন একটি ত্রিশঙ্কু অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার যোগান বাড়াতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, জাইকা প্রভৃতি সংস্থা থেকে স্বল্প সুদের ঋণ নিতে হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধির সব সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে বিলাসদ্রব্য আমদানি বন্ধ করা দরকার এবং বিভিন্ন কৌশলে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করা ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপিএল ক্রিকেটে বিদেশি খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি কেন এই অবস্থায়ও অব্যাহত রাখতে হবে তা বুঝে আসে না।
হুণ্ডি ও অর্থ পাচার বন্ধ করা নতুন সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। টাকার অবমূল্যায়ন করে হুণ্ডি রোধ করা যাবে না, যত অবমূল্যায়ন হবে ততই জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। যারা অর্থ পাচার করে তাদের কাছে টাকা বা ডলারের মূল্য বিবেচ্য হয় না, কারণ বেশিরভাগ পাচারকারীর অর্থ অবৈধ পন্থায় অর্জিত। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থে আরও বেশি প্রণোদনা দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা যেতে পারে। আমদানি-রপ্তানির ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েস বন্ধ করা না গেলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও ব্যাংকের আন্তরিকতা থাকলে কমানো সম্ভব। খেলাপি ঋণগ্রহীতা কেন বাড়ছে তার কারণ অনুসন্ধান করে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, এর পেছনে ঋণদাতার অনৈতিক যোগসাজশ বা অবহেলা থাকলে তাও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে অর্থ পাচারের কারণে সৃষ্ট ঋণ খেলাপিদের আলাদা করা জরুরি, এদের সাথে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতার অপকর্ম উদঘাটন করা আরও বেশি জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তফসিলি ব্যাংকের দুর্বল ব্যবস্থাপনা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ কি না তাও খুঁজে দেখতে হবে।
শিক্ষানীতি নিয়েও চ্যালেঞ্জ আছে। সবার মন রক্ষা করে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা কঠিন কাজ। ধর্মের অনুগামী, না বিজ্ঞানের অনুগামী শিক্ষানীতি হবে তা নিয়ে সমাজে চলছে জিহাদ। রাজনীতি ঘোলাটে থাকায় সরকারের উপর প্রেসার গ্রুপের খবরদারি বেড়ে গেছে, তাদের মতামত চাপিয়ে দিতে সমর্থ হচ্ছে এবং হবে। বাক্স্বাধীনতার নামে অনিয়ন্ত্রিত নিউজ পোর্টালগুলোর গুজব আর মিথ্যার জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া আরেকটি চ্যালেঞ্জ। কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে তা নতুন সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে। বর্ণিত সবগুলো চ্যালেঞ্জ করোনার প্রাদুর্ভাবের পরপর উদ্ভব হয়েছে, কোনটাই নতুন নয়। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আওয়ামী সরকারকে ‘করতে হবে’ ভাববাচ্য অবশ্যই পরিহার করতে হবে, নতুবা গুজব আর মিথ্যার নিউজ পোর্টালগুলোর বক্তব্যে জনগণ শুধু বিভ্রান্ত হবে না, বিশ্বাসও করতে শুরু করবে।
