ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ শনিবারে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ৭১-এর এক স্মরণসভায় যোগ দিতে প্রেস ক্লাবে গিয়েছিলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কূটনৈতিক মহিউদ্দিন আহমেদের স্মরণে এই সভার আয়োজন। মহিউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই বলে এই স্মৃতিচারণ সভায় আমাকে এবং মহিউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী বিলকিস মহিউদ্দিনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রেস ক্লাবে প্রবেশপথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। প্রেস ক্লাবের সম্মুখে মেট্রোরেলের স্টেশন তৈরির কাজ চলছে; এমন সংকীর্ণ রাস্তায় প্রেস ক্লাবের প্রবেশপথ প্রায় বন্ধ করে কোন একটি রাজনৈতিক দলের পথসভা চলছিল, সভার বিষয়বস্তু পাঠ্যপুস্তক, পথ খুঁজে না পাওয়ার কারণে আমাকেও কিছু বক্তব্য শুনতে হয়েছে। সব পাঠ্যপুস্তক বাতিলের দাবি সম্বলিত গলা ফাটানো আওয়াজের মধ্যে হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন এক বক্তা। শ্রোতারাও উত্তেজিত, জিহাদের স্লোগান। এমন জিহাদি জোশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর কারণ বোঝা গেল পরবর্তী বক্তার মুখ থেকে—প্রধানমন্ত্রী স্কুলের দুটি পাঠ্যবই বাতিল করেছেন।

খ্রিস্টপূর্ব ২৬ শতাব্দীতে বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু নদের তীরে নির্মিত হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতার বর্ণনায় পাঠ্যবইতে দেব-দেবীর ছবির বাহুল্য অনেককে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতার সবাই ছিল মূর্তিপূজারি; শিক্ষার্থীর সম্যক ধারণা লাভের সুবিধার্থে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানে খনন করে পাওয়া দেব-দেবীর মূর্তির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে। ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে ৯২ শতাংশ ইসলাম ও মুসলমানের পুরাকীর্তি থাকা প্রয়োজন বলে অনেকে দাবি করেছেন। এখন সম্ভবত দেব-দেবীর ছবি কমানো হবে। বিবর্তনতত্ত্ব বাদ যাবে, না সংশোধিত হবে তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। আরো কিছু পরিবর্তন হবে হয়তো। কিছুক্ষণ বক্তৃতা শুনে প্রেস ক্লাবের দোতলায় আয়োজিত সভায় যোগ দিলাম এবং মঞ্চে উঠে মহিউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে দু-একটি কথা বললাম।

বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদ দুইজনই সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সদস্য ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের নেতৃত্বে ক্র্যাকপ্লাটুনের সদস্য স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ঢাকার অনেক দুঃসাহসিক অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন। আমেরিকান সরকার ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঘোর বিরোধী, তাই

ঢাকায় আমেরিকান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইউসিস ভবনে গেরিলা হামলা চালানো হয় এবং সেই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোবাশ্বের হোসেন। দেশের জন্য নিবেদিত এই মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নেননি, মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে তিনি কোন বেনিফিটও চাননি। মহিউদ্দিন আহমেদও প্রথমদিকে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট বা চাকরিক্ষেত্রে সরকারপ্রদত্ত দুই বছরের এন্টিডেইটেড সিনিয়রিটি নেননি। মৃত্যুর এক বছর পূর্বে বন্ধুদের পরামর্শে সার্টিফিকেট নেন শুধু মুক্তিযোদ্ধা ভাতার জন্য; এই ভাতা তিনি তার তালিকাভুক্ত গরিব লোকদের মাঝে প্রতি মাসে বিলিয়ে দিতেন।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভা শেষ হওয়ার আগেই সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বেদুর আমন্ত্রণে আমি আর বিলকিস মহিউদ্দিন বারিধারা ক্লাবে উপস্থিত হই; ‘স্মৃতিময় ১৯৬৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মরণ স্মৃতি’ বইয়ের উন্মোচন অনুষ্ঠান। আমিনুল ইসলাম বেদু, আব্দুল মতিন খান এবং ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত বইটি সম্পাদনা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৬১-৬৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে ‘স্মৃতিময় ৬৫’ সংগঠনের জন্ম দিয়েছেন। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে তাদেরই সতীর্থ শহীদজননী জাহানারা ইমাম, সাংবাদিক শহীদ রমিজ উদ্দিন আহমদ, শহীদ গোলাম মোস্তফা এবং এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদকে। সংগঠনের সভাপতি সালমা রহমান অসুস্থ, আইসিইউ-তে; তার লেখা ‘সভাপতির আভাষণ’ থেকে জানা যায়, এই এলামনাই সংগঠনে তিন জন বীর বিক্রম রয়েছেন এবং এই সংগঠন থেকে এই পর্যন্ত ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি, শিক্ষানীতি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ইত্যাদি নিয়ে পাঁচটি বই পরবর্তী প্রজন্ম ও গবেষকদের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। বইয়ের সম্পাদক ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত তার ‘কেন এই স্মরণ স্মৃতি’ নিবন্ধে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।

‘ইতিহাস কেন নতুন প্রজন্মকে নাড়া দেয় না’ নিবন্ধে ড. তৌফিক ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে এক মনোজ্ঞ বর্ণনা দিয়েছেন। ১৯৬৯ সনে অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ধর্মান্ধতা, পেশীশক্তি, লোভ ইত্যাদি যেভাবে আমাদের সকল রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে অকার্যকর করে তুলছে তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে তিনি তার নিবন্ধের শেষ পর্যায়ে তরুণদের আহ্বান জানিয়েছেন। ড. তৌফিক ইলাহীর সাথে আমার এবং আমার ভাই ডা. জহির উদ্দিন আহমদের কিছুটা ঘনিষ্ঠতা ছিল, ড. তৌফিক ইলাহী এবং আমার কূটনীতিক ভাই সদ্য প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদ ধানমণ্ডী দুই নম্বর রোডের একই বাসার দুই অংশে থাকতেন।

হাফেজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের ‘একাত্তরে যেমন’ নিবন্ধ থেকে জানতে পারি, একাত্তরের ৩০ মার্চ যশোর সেনানিবাসের ব্রিগেড কমাণ্ডার আবদুর রহিম দুররানী বাঙালি সেনাদের নিরস্ত্র করার আদেশ দিলে হাফেজ উদ্দিনের নেতৃত্বে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের সাথে বাঙালি সেনাদের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। সাবেক মন্ত্রী হলেও তিনি মেজর হাফিজ ও ফুটবলার হাফিজ নামে সমধিক পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক তাদেরই ৬১-৬৫ শিক্ষাবর্ষের সতীর্থ রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী মাহমুদুর রহমান বেনু মেজর হাফিজের সাথে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন পর মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ঢাকায় গিয়ে গেরিলা কায়দায় প্রেমিকা সুগায়িকা শাহীনকে বিয়ে করে কোলকাতায় উপস্থিত হওয়ার কাহিনীও বর্ণনা করেছেন হাফেজ উদ্দিন। তারা আরও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে বিভিন্ন রিফিউজি ক্যাম্প ও মুক্তাঞ্চল এলাকায় ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষদের যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করতেন। তারেক মাসুদ পরিচালিত ‘মুক্তির গান’ ছবিটি তৈরি হয়েছে তাদের নিয়ে। অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান বেনু ছাড়াও তাদের আরেক সতীর্থ ড. আবু রেজা ট্রান্সপোর্ট ইকোনমিস্ট গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন।

মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এসপি মাহবুব নামে সুপরিচিত। তিনি তার ‘পলাশী থেকে মুজিবনগর’ নিবন্ধে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন। বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ৮ জন আনসার সদস্যকে একত্রিত করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। প্রাক্তন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ একাত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহকুমা প্রশাসক বা এসডিও ছিলেন। মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা আজহার উল ইসলামের সক্রিয় সহযোগিতায় তিনি ২৫ মার্চ থেকে কীভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধকে সংঘটিত করেছিলেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন ৫৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত ‘স্মৃতিময় একাত্তর’ নিবন্ধে। মেজর খালেদ মোশারফের চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল এবং মেজর শফিউল্লাহর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে ইপিআর, পুলিশ, আনসার এবং হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সমন্বয়ে একটি বিরাট মুক্তিফৌজ গড়ে উঠেছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা প্রশাসকের নিকট প্রেরিত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা সম্বলিত একটি তারবার্তাও কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ তার লেখায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকাকালীন আমি তার সাথে কাজ করেছি, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রবর্তনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সালেহা চৌধুরী তার ‘আমার মুক্তিযুদ্ধ’ নিবন্ধে একাত্তরে আল বদর, আল শামসের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রবাসী সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ চৌধুরীর বিশেষ সহকারী রাজিউল হাসান রঞ্জু লন্ডনে তার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবহুল জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন আমার কূটনৈতিক জীবন’ নিবন্ধে পহেলা আগস্টে পাকিস্তান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব মহিউদ্দিন আহমেদের বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। আবু সাঈদ চৌধুরীর বিশেষ সহকারী হিসেবে তিনি তার কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে পশ্চিম জার্মানির চ্যান্সেলর উইলি ব্রাণ্ডট এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ওলফ পালমের সঙ্গে তার দীর্ঘ আলাপের বর্ণনা দিয়েছে, তিনি তাদের উভয়কে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তুলতে পেরেছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব এবং কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ তার ‘মুক্ত স্বদেশ মুক্ত বঙ্গবন্ধু’ নিবন্ধে ১৯৭২ সনের ৮ জানুয়ারি লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুকে রিসিভ করার কাহিনী বর্ণনা করেছেন। ১৪ পৃষ্ঠার এই নিবন্ধে তিনি অজানা ইতিহাসের অনেক চমকপ্রদ তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ১৯৬৯ সনে দেশে উদ্ভূত সংকট নিরসনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আহুত গোলটেবিল বৈঠকে নবাবজাদা নসরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের অনেক রাজনৈতিক নেতা হাজির, কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত না থাকায় আইয়ুব খান বৈঠক শুরু করছেন না। তখন ‘পাকিস্তান টাইমস’র সম্পাদক জেড এ সুলেরী সম্পাদকীয় কলামে লিখলেন, ‘অনুপস্থিত শেখ মুজিব ব্যতীত উপস্থিত ১০ জন রাজনৈতিক নেতার পক্ষে আলোচনা শুরু করা সম্ভব না হলে এই ১০ জনকে বাদ দিয়ে কেবল শেখ মুজিবের সাথে বৈঠক করাই শ্রেয়’।

যাহিদ হোসেন তার ‘মুজিবনগর সরকার গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ এবং সৈয়দ মাহবুব রশীদ ‘মুক্তিযুদ্ধে আমি’ নিবন্ধে প্রবাসী সরকারের সচিবালয়ে কাজ করার স্মৃতিচারণ করেছেন। মো. হুমায়ূন কবীর সেরনিয়াবাত ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধে পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণের কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন, বৈষম্যের অফিসিয়াল গোপন তথ্য নিয়মিত বঙ্গবন্ধুকে তিনি সরবরাহ করতেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে ১৯৯৯-২০০০ সনে আমি তার জুনিয়র সহকর্মী ছিলাম। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ড. ডেনিস দিলীপ দত্তকে এনএসআই-এর চাপে ১৯৬৯ সনে ফিলিপিন্সে পাড়ি দিতে হয়। ফিলিপিন্সে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত টাঙ্গাইলের খুররম খান পন্নী বাংলাদেশের আনুগত্য স্বীকার করলে ডেনিস দিলীপ দত্ত খুররম খান পন্নীর অনুরোধে প্রবাসী সরকারের পক্ষে ফিলিপিন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগ দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি তার চার্চের যাজকের কাজে যোগ দেন। এই সকল তথ্যের সাক্ষাৎ তার লেখা ‘একাত্তরে আমি’ নিবন্ধ থেকে। তাদের অপর দুই সতীর্থ মো. খসরুজ্জমান চৌধুরী ও ড. আকবর আলী খান একাত্তরে কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ মহকুমার প্রশাসক ছিলেন, তারাও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।