ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পাকিস্তান। গত বছরের সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনও শুকোয়নি। চরম বেকারত্ব আর আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতির কারণে পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষুব্ধ; জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সরকারের ভর্তুকির কম দামের আটার প্যাকেট নিয়ে ভুখানাঙ্গা লোকগুলো পরস্পর পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করছে, পদদলিত হয়ে লোক মারা যাচ্ছে। কোয়েটায় আটাভর্তি একটি ট্রাককে কয়েকশ বাইক আরোহীকে ধাওয়া করতে দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া হওয়ার আগে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল, পাকিস্তানেও ধীরে ধীরে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসেন শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। শাহবাজ শরীফ যখন সরকার গঠন করেন তখনও পাকিস্তানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ছিল। এখন অবস্থা আরও ভয়াবহ। ইমরান খানের সময় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছিল দ্রুতগতিতে, চলতি হিসাবের ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছিল, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছিল ব্যাপকভাবে। বর্তমান জোট সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মেরামত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বিশ্বমন্দা, বিশ্ব ক্রমশ মন্দা অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর কোন দেশের পক্ষে বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশগুলো তাদের রপ্তানি আয় দ্বারা আমদানি ব্যয় মেটাতে পারছে না। ২০২১ সনের শেষের দিকে জ্বালানি তেলের দাম অত্যধিক বেড়ে গেলে পৃথিবীর অনেক দেশের রপ্তানি আয়ের বৃহদাংশ খরচ করতে হচ্ছে শুধু জ্বালানি তেল-গ্যাস ক্রয় করতে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ না হলে সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের গুরুত্ব অজ্ঞাতই থেকে যেত। বিদ্যুতের ব্যাপক ব্যবহারের পূর্বে গ্রামাঞ্চলে কুপি ব্যবহৃত হতো, কুপির আলো উৎপাদনেও তেল লাগত। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে লাগে তেল আর গ্যাস। তেল উৎপাদক দেশগুলোর এখন রমরমা ব্যবসা। তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ছাড়া মানবসভ্যতা অচল। এই সভ্যতাকে সচল রাখতে গিয়ে এখন অনেকগুলো দেশ ফতুর হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশ বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, সন্ধ্যারাতে দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এমন ভয়াবহ অবস্থায় জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার পর সব বিপণিবিতান, দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এছাড়া রাস্তার বাতিও কম জ্বলবে। জনগণ যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয় সেজন্য পাকিস্তান সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে বৈদ্যুতিক পাখা ও বাল্ব উৎপাদন বন্ধ রাখবে। পাকিস্তানে এখন সূর্যের আলোতেই অফিসের যাবতীয় কাজ চালানো হয়, রাতে কোন বৈঠক বা কাজ হয় না।
পাকিস্তান শুধু করোনা আর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে দেউলিয়া হচ্ছে না, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতও এর জন্য দায়ী। তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানেও প্রতিটি জিনিসের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, উৎপাদন খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যতীত শিল্পকারখানা চলে না, উড়োজাহাজ চলে না, পানির জাহাজ চলে না, বাস চলে না, ট্রাক চলে না, রেল চলে না, ট্রাক্টর চলে না, পানির পাম্প চলে না, বাতি জ্বলে না। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবহণ খরচও বেড়ে গেছে। পণ্য পরিবহণ খরচ বাড়ার কারণে জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। যাত্রী পরিবহণের খরচও বেড়েছে—এখন রেল, বাস বা বিমানে ভ্রমণ করতে হলে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের চাহিদা কমেছে, এখন ভোক্তা আর আগের মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে জিনিসপত্র ক্রয় করে না। জিনিসপত্রের বিক্রি কমে যাওয়ায় শিল্পের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে, উৎপাদন কমে যাওয়ার সাথে সাথে লোক ছাঁটাই হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ লোক বেকার হচ্ছে। দেশে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়াতে মানুষ অধিক হারে কর্মহীন হয়ে পড়ছে, কর্ম না থাকায় আয়ও থাকছে না, মানুষ না খেয়ে উপোস করছে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে এমন ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করলেও ধনী দেশগুলো তা সামাল দিতে পারছে, কিন্তু পাকিস্তানের মতো গরিব দেশগুলোর পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে উঠছে। জনগণকে বাঁচিয়ে রাখতে গরিব দেশের প্রতিটি সরকার হিমশিম খাচ্ছে, নিঃস্ব ও কর্মহীন লোকগুলোকে বিনে পয়সায় খাবার সরবরাহ করছে, বেশি দামে জিনিস কিনে কম দামে জনগণের কাছে বিক্রি করছে। জনগণকে বাঁচিয়ে রাখার এমন দান-খয়রাত ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। কারণ গরিব দেশগুলো অভ্যন্তরীণভাবে যে ভ্যাট-ট্যাক্স আদায় করে তা পর্যাপ্ত নয়। দেশের ভেতরে যে উৎপাদন হয় তা জনগণের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়, জনগণের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তান আমাদের চেয়েও গরিব, বিশ্বের মন্দা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে পাকিস্তান সরকারও শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হওয়ার পথে। সরকারিভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। দেশটি দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের অধীন ছিল; বর্তমানে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় না থাকলেও পেছন থেকে ক্ষমতার কলকাঠি নাড়ে। ১৯৪৭ সনে যখন পাকিস্তান গঠিত হয় তখন পূর্ব পাকিস্তানের লোকসংখ্যা পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে বেশি ছিল। এখন পশ্চিম পাকিস্তান তথা পাকিস্তানের জনসংখ্যা বেশি। পাকিস্তানের এক ব্যক্তি ষাটতম সন্তানের পিতা হওয়ার পর শততম সন্তানের পিতা হওয়ার খায়েশ মিটাতে আরও বিয়ে করার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। বর্তমানে ২১ কোটির অধিক জনসংখ্যা নিয়ে পাকিস্তান জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং আয়তনের দিক থেকে ৩৩তম বৃহত্তম রাষ্ট্র। পাকিস্তানে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের শুধু মজুত কমেনি, কালোবাজারে প্রতিটির দাম ১০ হাজার রুপি বিধায় এলপিজি সংরক্ষণের জন্য খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকার লোকজন প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করছে।
পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও প্রায় শেষ। ২০২২ সনের ডিসেম্বরে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার; এই রিজার্ভ দিয়ে মাত্র তিন সপ্তাহের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্কটের কারণে জ্বালানি তেল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে পারছে না পাকিস্তান। বর্তমানে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির হার ২৪.৫ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫৬ শতাংশ; এক কেজি আটার দাম ১৫০ টাকা, প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২২০.৪ টাকা, প্রতি কেজি মুরগির দাম ৩৮৩.৫ টাকা, প্রতি কেজি লবণের দাম ৪৯.১ টাকা এবং প্রতি লিটার সর্ষে তেলের দাম ৫৩২ টাকা। এই দুরবস্থা থেকে পাকিস্তানকে টেনে তুলতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংকসহ পাকিস্তানের বন্ধুপ্রতিম কয়েকটি দেশ। চীন থেকে গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ পাকিস্তানকে আরও ঋণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; কারণ ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার মধ্যে চীনের স্বার্থ জড়িত। ২০১৯ সনে পাকিস্তানকে ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিতে সম্মত হয় আইএমএফ; কিন্তু গত বছরের শুরুতে শর্ত মানতে না পারায় কিস্তির অর্থ দেওয়া বন্ধ রাখে সংস্থাটি। এখন দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচতে পাকিস্তানকে পুনরায় ধরনা দিতে হচ্ছে আইএমএফ-এর কাছে। অন্যদিকে স্থানীয় মুদ্রার দরপতন হয়েছে ব্যাপকভাবে; এখন খোলাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬০ রুপি। পাকিস্তানের প্রবাসীরা ১ ডলার পাঠালে তার বিনিময়ে পাচ্ছে ২৬০ রুপি; এতদসত্ত্বেও প্রবাসীরা ডলার পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের দুর্বল আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বিশ্বের শীর্ষ তিন ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা পাকিস্তানের ঋণমান অবনমন করেছে।
পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার মতো খেলাপি পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ না থাকায় এবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুর দ্বিমাসিক লেনদেন সেটলমেন্টে শ্রীলঙ্কাকে রাখা হয়নি। পাকিস্তানের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হওয়ার সম্ভাবনার কথা অর্থনীতিবিদগণ বলে যাচ্ছেন। পাকিস্তান যা নিয়ে অহংকার করে তা হচ্ছে তাদের সামরিক শক্তি। ভারতের সঙ্গে টেক্কা দিতে গিয়ে পাকিস্তান পারমাণবিক বোমা বানিয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে কিনেছে সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র। ঘাস খেয়ে হলেও পারমাণবিক বোমা বানানোর অঙ্গীকার করেছিলেন পাকিস্তানের এককালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো। পারমাণবিক বোমা বানিয়ে পাকিস্তান অবশ্য মুসলিম জগতে মানমর্যাদাও পেয়েছে। সৌদি আরব পাকিস্তানকে দেউলিয়া হতে রক্ষা করে যাচ্ছে। মুসলমানদের পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনায় সৌদি আরবের অভিভাবকত্ব ইরান মানে না, কিন্তু পাকিস্তান মানে, তাই পাকিস্তানের প্রতি সৌদি আরবের দরদ একটু বেশি। এই দরদ থেকেই ইমরান খানের আমল থেকেই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ বিলিয়ন ডলারের আমানত রাখছে সৌদি আরব। ইতোমধ্যে পাকিস্তানে সৌদি আরবের বিনিয়োগ ও সহায়তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে সৌদি ঋণের সুদ অনেক বেশি, ৪ শতাংশ।
শ্রীলঙ্কার মতো পাকিস্তানেও পরিবারতন্ত্র কায়েম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে, তিনি নিজেও দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতা হারান। তার ছোট ভাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে ২০২০ সনে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তার ছেলে হামজার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পরিবারতন্ত্র ছাড়াও পাকিস্তানে আরও দুটি শক্তি অপ্রতিদ্বন্দ্বী—একটি সেনাবাহিনী, অন্যটি ধর্মীয়ভিত্তিক রাজনীতি। পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবানরা পাকিস্তানকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর মর্জির উপর পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক সরকারের আয়ু নির্ভর করে। ১৯৯৭ সনে প্রধানমন্ত্রী-ইলেক্ট নেওয়াজ শরীফের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে রাস্তায় তার গাড়ি সিগন্যালে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় সেনাবাহিনীপ্রধান জাহাঙ্গীর কারামাত প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন বলে। সুইস ব্যাংকে পাকিস্তানিদের দেড় হাজারের মতো অ্যাকাউন্টের হদিস পাওয়া গেছে; যার অধিকাংশই সেনাকর্মকর্তাদের। এদের এই অর্থ পাচারের তদন্ত করার ক্ষমতা পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক সরকারের নেই। সেনাবাহিনী এবং ধর্মীয় গোষ্ঠী—এই দুটি শক্তিকে তুষ্ট রেখে শক্তিশালী অর্থনীতির সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে যুদ্ধভিত্তিক অর্থনীতি থেকে পাকিস্তানকে বেরিয়ে আসতে হবে। কিন্তু এই দুটি শক্তি ভারত বিরোধিতায় এক। বড় অর্থনীতির দেশ ভারতের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চালিয়ে গেলে পাকিস্তান কাঙ্ক্ষিত উন্নতি করতে পারবে না। কিন্তু বিকল্প কোন উপায়ও নেই, কারণ উক্ত দুটি শক্তিকে অস্বীকার করে যুদ্ধভিত্তিক অর্থনীতি বাদ দেওয়া সহজ নয়। ভারতের সাথে কাশ্মীর নিয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনা শুরু করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে জীবন দিতে হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের ভুল নীতির কারণে পাকিস্তান আজ দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন; প্রবল আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। কারণ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হতে চলেছে ভারত। তাই কেবল পারমাণবিক বোমা দিয়ে ভারতের সাথে প্রতিযোগিতা করলে পাকিস্তান ক্রমশ পেছনে হটতে থাকবে। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী ইসহাক দারও বলছেন, ‘পাকিস্তান খেলাপি হবে না’; ব্যাপক ঋণ নিয়ে পাকিস্তান দেউলিয়া হওয়া থেকে আপাতত বেঁচে যাবে, কিন্তু এই বছর থেকে ১৫-২০ বিলিয়ন ডলার করে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পাকিস্তানকে পরিশোধ করতে হবে; ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পরিশোধ করতে হয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলার। ঋণ নিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কাকে শেষ পর্যন্ত চীনের নিকট নিজ ভূখণ্ড দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে, পাকিস্তান এমন অপমানজনক অবস্থায় পড়ুক তা কারো প্রত্যাশা নয়।