করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে যেন কিছুদিন লুকোচুরি খেলা চলছিলো। এমন কিট পৃথিবীর প্রায় সব দেশই উদ্ভাবন করেছে, গণস্বাস্থ্যের এই কিট নতুন কোন উদ্ভাবন নয়, বাংলাদেশি সংস্করণ মাত্র। তারা এই কিট ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মহাসমারোহ করে সরকারের নিকট হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলো, কিন্তু গণস্বাস্থ্যের এই আয়োজনে ওষুধ প্রশাসন যোগ দেয়নি। কেন গণস্বাস্থ্যের এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ওষুধ প্রশাসন প্রতিনিধি প্রেরণ করেনি তার ব্যাখ্যায় তারা উল্লেখ করেছে যে, গণস্বাস্থ্যের এই কিটের কার্যকারিতা প্রমাণিত না হওয়ায় পর্যন্ত ঘটা করে রিসিভ করা যথার্থ নয়। ওষুধ প্রশাসনের ব্যাখ্যায় যুক্তি আছে। উদ্ভাবিত কিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে শুধু কিট হস্তান্তরের জন্য গণজমায়েত করে অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন ছিলো বলে মনে হয় না। অনুষ্ঠানে নমুনা কিট না নেয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য হলেও পরদিন কিট জমা দিতে গেলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে গণস্বাস্থ্যের তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের একজনকে ঢুকতে না দেয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক কিট অনুমোদনে একটি সুনির্দিষ্ট পাথওয়ের উল্লেখ করেছেন। আবার তারা বললেন যে, র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় এই জাতীয় কিট তারা ব্যবহার করবে না। মূল্যবান কথা; পৃথিবীর বহু দেশ এই কিট কিনে পয়সা নষ্ট করে পরে বাদ দিয়েছে। ব্যাপকভাবে ভুল রিপোর্ট আসায় চীন থেকে দশ লাখ র‍্যাপিড টেস্টিং কিট আমদানির অর্ডার ভারত বাতিল করেছে। কানাডা, স্পেন প্রভৃতি দেশও একই কারণে এই জাতীয় কিটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই কিটের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস সনাক্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ যথার্থ হবে বলে মনে করে না। তাই সম্ভবত গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের আমদানিকৃত ৩০ হাজার কিট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের দেশে করোনা রোগী শনাক্তকরণে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। আরও ১৮টি প্রতিষ্ঠান এই জাতীয় কিট আমদানির আবেদন করলেও সরকার অনুমোদন দেয়নি। এই অবস্থায় সরকার কেন গণস্বাস্থ্যকে কিট তৈরিতে এত বেশি আগাম সহায়তা প্রদান করলো তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়—র‍্যাপিড টেস্টিং কিট তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহায়তা করেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বৈদ্যুতিক গোলযোগ মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ঝাঁপিয়ে পড়েছে, আমদানী শুল্ক মওকুফ করে দিয়ে একদিনের মধ্যে কাস্টম থেকে কাঁচামাল খালাসের জন্য এনবিআর সর্বাত্মক সহায়তা করেছে। এই সকল সহযোগিতার কথা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও স্বীকার করেছেন। দুই দিন পর আবার সিদ্ধান্ত হলো যে, গণস্বাস্থ্যের কিট পরীক্ষা করা হবে। টালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত কিট পরীক্ষার অনুমোদন দেয়ায় ওষুধ প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অস্বাভাবিক নয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছেন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণস্বাস্থ্যের এই কিটের জোরালো সমর্থন সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে কিট উদ্ভাবকদের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণের পরিবর্তে ওষুধ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগের বিষোদগার পরিলক্ষিত হয়েছে, তিনি ওষুধ প্রশাসনের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন। ওষুধ প্রশাসন সম্পর্কে আমারও বিরূপ ধারণা রয়েছে। বাংলাদেশের নামকরা এক ওষুধ কোম্পানীর বড় ভাই বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার সহকর্মী ছিলেন, তার সাথে আমি বহু বছর আগে তাদের কোম্পানীর হেড অফিসে তার ছোট ভাই কোম্পানীর এমডি’র সাথে বসে চা খাচ্ছিলাম, কক্ষে ছিলেন টেলিভিশনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের একজন সঞ্চালক। তাদের মধ্যে কথা হচ্ছিলো ওষুধ প্রশাসন নিয়ে, এমডি মহোদয় স্পষ্ট করে উল্লেখ করলেন যে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনির উদ্দিন আহমেদ যাতে কোনভাবেই ওষুধ প্রশাসনে আসতে না পারেন সে চেষ্টা আমরা সকল ওষুধ কোম্পানী একযোগে করে যাচ্ছি’। আমি অযাচিতভাবে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তাকে ঠেকানোর এত চেষ্টা কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘এত নীতিবান লোক দিয়ে ওষুধ প্রশাসন চলে না—এমন লোক ওষুধ কোম্পানির জন্য ক্ষতিকারক’। আমি আর মুখ খুলিনি, কারণ ড. মুনির উদ্দিন আহমেদ যে আমার অব্যবহিত বড় ভাই তা তিনি জানতেন না। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, ওখানকার কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও কার্যক্রম পরিচালনায় ওষুধ কোম্পানিগুলো একজোট হয়ে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। বর্তমান ওষুধ প্রশাসন সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই; দুর্নীতি নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহর অভিযোগ সত্য না হলেও ওষুধ প্রশাসন গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে বালসুলভ আচরণ করেছে। কিট পরীক্ষার অনুমতি ওষুধ প্রশাসন শেষ পর্যন্ত দিলেও পানি ঘোলা করার আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা পরিহার করতে পারেনি।

করোনা রোগী শনাক্তকরণে র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে সারা বিশ্বে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। র‍্যাপিড টেস্টিং কিট দ্বারা ১৫ মিনিটের মধ্যে রক্ত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়, ডায়াবেটিসের টেস্ট বা প্রেগনেন্সি টেস্টের মতো এই পরীক্ষা খুবই সহজ, দক্ষ লোকের প্রয়োজন হয় না, খরচ খুবই অল্প, ৩ শত টাকার বেশী নয়। এখন যে পিসিআর পদ্ধতিতে টেস্ট করা হয় তা ব্যয়বহুল, প্রতিটি টেস্টে প্রায় ৪ হাজার টাকার মতো খরচ হয় এবং পরীক্ষার ফলাফল পেতে দুই বা তিন দিন সময় লাগে, কখনো কখনো এক সপ্তাহও লেগে যায়; এছাড়াও প্রতি ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন আড়াই শতের বেশী টেস্ট করা সম্ভব হয় না। তবে এই টেস্টের মাধ্যমে করোনাভাইরাস নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। এই পিসিআর পদ্ধতিতে নমুনা হিসেবে রোগীর সোয়াব বা লালা-শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়কেই এখন পর্যন্ত শতভাগ সফল বলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু গণস্বাস্থ্যের র‍্যাপিড টেস্টিং কিট দ্বারা রোগীর শরীরের করোনাভাইরাস আছে কি না তা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না, পরীক্ষা করা হবে রোগীর দেহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আপনা-আপনি সৃষ্টি হওয়া এন্টিবডির অস্তিত্ব। অবশ্য গণস্বাস্থ্য তাদের কিটের মাধ্যমে ভাইরাস শনাক্ত করাও সম্ভব বলেও উল্লেখ করেছে। কোনো ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলেই তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই এন্টিবডি কারো থাকলেই বুঝতে হবে যে তিনি করোনা রোগে আক্রান্ত। কিন্তু এই পরীক্ষা আক্রান্ত হওয়ার দুয়েক দিনের মধ্যে করা হলে কোন লাভ হয় না, কারণ এন্টিবডি তৈরি হতে কয়েক দিন সময় লাগে, কারো কারো মতে ৫-৭ দিন লাগে। অন্যদিকে যে সকল করোনায় আক্রান্ত রোগী ইতোমধ্যে রোগমুক্ত হয়েছে তাদের দেহেও কিছু দিন এন্টিবডি থাকে। কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দুয়েক দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে এন্টিবডি না পাওয়ার কারণে তাকে ভাইরাসমুক্ত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর সে অবাধে ঘুরে বেড়াবে এবং রোগ ছড়াবে। এছাড়া এই র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের সফলতা সেন্ট পার্সেন্ট নয়, অনেকের মতে শতকরা ৩০ ভাগ ভুল ফলাফল দিয়ে থাকে। ৩০ ভাগ না হয়ে ১০ ভাগ ভুল রিপোর্ট দিলেও বিপজ্জনক; ১০ ভাগ লোক দিব্যি করোনাভাইরাস নিয়ে ঘুরে বেড়াবে অথবা করোনায় আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও কিটের ভুল বার্তায় করোনা রোগে মৃত্যুর আতঙ্কেই মরবে। এই সকল কারণে করোনাভাইরাস বিস্তারে গণস্বাস্থ্যের এই কিট মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গণস্বাস্থ্যের র‍্যাপিড কিট দিয়ে পরীক্ষার কারণে ১০ জন রোগীও যদি ভাইরাসমুক্ত প্রত্যায়ন নিয়ে স্বচ্ছন্দে ঘোরাফিরা করে তাহলে করোনাভাইরাসের দ্রুত বিস্তৃতি রোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। অবশ্য লকডাউন শিথিল করা হলে এমনিতেই করোনা রোগী বিনা বাধায় ঘুরে বেড়াবে।

র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের এমন ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, আইসল্যান্ড বা সেনেগাল তাদের উদ্ভাবিত কিট দিয়ে গণহারে পরীক্ষা করেছে। ব্যাপক হারে টেস্ট করার ব্যাপারেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তাগিদ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে টেস্ট করে রোগী শনাক্ত করে কী লাভ হবে জানি না। আমাদের দেশে চিকিৎসার যে হযবরল অবস্থা তাতে বেশী রোগী চিহ্নিত করেও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। ইতালির মতো উন্নত দেশেও নাকি প্রবীণদের বাঁচানোর চেষ্টাই করা হয়নি। আমেরিকাসহ ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতেও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। বিহারিদের বস্তি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প বা অন্য কোন বস্তিতে করোনার সংক্রমণ হলে বস্তিতে বসবাসকারীদের কোয়ারেন্টাইন করার রুম কই? শনাক্ত করার পর যদি রোগীদের আলাদাই করা সম্ভব না হয় তাহলে টেস্ট করে কোন বেনিফিট পাব বলে তো মনে হয় না। অন্যদিকে গণহারে টেস্ট করা হলে অন্য রোগের টেস্ট বন্ধ হয়ে যাবে। গত বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে গণহারে টেস্ট করার কারণে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত আমার স্ত্রীর বড় বোনের কেমো দেওয়ার পূর্বে অপরিহার্য রক্ত পরীক্ষা ব্যাহত হয়। তখন অসংখ্য লোক একটু জ্বর হলেই রক্ত পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি ও হাসপাতালে ছুটে গেছে, সরকারের নির্দেশে তাদের প্রাধিকার দেয়ায় অন্য রোগের রক্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হয়েছিলো। আমি দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করেছি, স্কয়ার হাসপাতালে যতজন রক্ত পরীক্ষা করিয়েছিলেন তার পাঁচ ভাগ লোকেরও ডেঙ্গু ছিলো না।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কিটের বিষয়টি গণস্বাস্থ্যের রাজনীতি আর ওষুধ প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। একটা গ্রুপ প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণস্বাস্থ্যের এই কিটের বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। ইতোমধ্যে আবার মিথ্যে প্রচার শুরু করে দিয়েছে যে, যুক্তরাজ্যের পরীক্ষায় (যুক্তরাষ্ট্র হওয়ার কথা) গণস্বাস্থ্যের এই কিট ১০০% যথার্থ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু রাজনীতি জাতীয় স্বার্থবিরোধী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। তাই বাদানুবাদ না করে জীবন-মরণের এই সন্ধিক্ষণে জীবন রক্ষার অনুকূল সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ত্রুটির পরিমাণ গ্রহণযোগ্য না হলে সরাসরি তার অপকারিতা জনগণকে যুক্তিসহকারে অবহিত করতে হবে, এ নিয়ে তেলেসমাতি করলে সরকারের লাভের চেয়ে লোকসান হবে বেশী। করোনা মোকাবিলায় সরকারের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে, সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে করোনা রোগীর জন্য আলাদা হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে, পর্যাপ্ত কিট, ভেন্টিলেটর, পিপিই, মাস্ক মজুত রয়েছে—এমনতর অতিরিক্ত বেসামাল কথাবার্তায় জনগণ এমনিতেই ত্যক্ত-বিরক্ত; তাই কিট নিয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করা জরুরি। সরকারকে বুঝতে হবে, পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল বৈজ্ঞানিকভাবে বিচার করার সামর্থ্য সরকারের বাইরে বহু লোকের রয়েছে, সাধারণ জনগণও গণস্বাস্থ্যের রাজনীতি বা ওষুধ প্রশাসনের টালবাহানা বুঝতে পারে। এখন জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিটের ব্যবহার সম্পর্কে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত জনগণ প্রত্যাশা করে।