দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে আইন
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
আত্মীয়-অনাত্মীয় নির্বিশেষে স্বেচ্ছায় কেউ চাইলে এখন থেকে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন বলে সম্প্রতি আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন তদানুসারে সংশোধন করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনে নিকটাত্মীয়ের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেই সংজ্ঞার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে জনৈক ফাতেমা জোহরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনা মোতাবেক এখন নিকটাত্মীয় বহির্ভূত যে কোন সুস্থ লোক কিছু শর্তসাপেক্ষে যে কোন ব্যক্তিকে অঙ্গ দান করতে পারবেন। তবে হাইকোর্টের রায়ে দান করার অনুমতি থাকলেও অর্থের বিনিময়ে কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা যাবে না, মাদকাসক্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন অঙ্গ দিতে চাইলেও তা নেয়া যাবে না। এছাড়াও যারা বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, এইডস, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগে ভুগছেন তারাও কাউকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিতে পারবেন না। নাবালক ও প্রবীণেরাও কোন অঙ্গ দানের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হবেন না—জীবিত ব্যক্তির কিডনি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছর। এছাড়াও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে আরও বহুবিধ শর্তের পরিপালন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন হয়।
আদালতে এই রিট আবেদনের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা হয়েছে। আইনের মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের সুযোগ প্রসারিত হওয়ায় দেশে এর অপব্যবহার বেড়ে যাবে মর্মে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গ্রামের নিঃস্ব মানুষগুলোকে প্রলোভন দেখিয়ে অল্প টাকার বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে কিডনি নেয়া বিষয়ক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এছাড়াও অভিজ্ঞতা থেকে পরিলক্ষিত হয়েছে যে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা কিডনি দেওয়ার পর জটিলতা দেখা দিলেও কিডনি গ্রহীতারা কখনো কিডনি দাতার সহায়তায় এগিয়ে আসেননি। অর্থের বিনিময়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদানকে বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট ও অমানবিক বলেও উল্লেখ করেছেন অনেকে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের প্রক্রিয়াটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হলে অভাবী লোকজন নির্বিচারে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করতে উদ্বুদ্ধ হবেন বলেও অনেকের ধারণা। তবে ক্রয়-বিক্রয় সংশ্লিষ্ট থাকলে কিছু অপরাধের যে বিস্তার হবে না তা কিন্তু নয়; তখন হয়তো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি করার অভিপ্রায়ে ‘ছেলে-ধরা’ বের হবে, বের না হলেও গুজব ছড়িয়ে কিছু লোককে জনতা পিটিয়ে মারবে, হয়তো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মানবপাচার ও শিশু অপহরণ বেড়ে যাবে।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, যতই উন্নত হোক এদেশের এক শ্রেণির মানুষ অভাবের তাড়নায় এখনো নিজের দেহের প্রয়োজনীয় অঙ্গটি বিক্রি করতে সামান্যতমও দ্বিধা করছে না—এটা জাতি ও দেশের জন্য লজ্জাজনক। লজ্জাজনক হলেও গরিব লোকগুলো শুধু খাবারের জন্য দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কারণ মানুষ বাঁচার সংগ্রামে সর্বশক্তি নিয়োগ করেও যখন জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম আহারটুকু সংগ্রহে ব্যর্থ হয় তখন সে শুধু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নয় পুরো দেহটি দান করতে পারলে বেঁচে যায়। দেহের জন্য খুব জরুরি নয় এমন অতিরিক্ত অঙ্গ বিক্রি করে খাদ্য জোগাড় করা অপরাধ বলে তারা মনে করে না। উন্নত দেশে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর যন্ত্রণা লাঘবে স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণের আইন থাকলে আমাদের মতো গরিব দেশে খাবারের জন্য অঙ্গ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকা সমীচীন বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে বরং প্রতিটি অঙ্গের উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে দিয়ে বেচাকেনা বৈধ করে দেওয়া হলে গরিব দাতারা দর-কষাকষি করে একটু ন্যায্য মূল্য পেতে পারতো।
রক্ত ও কিডনি বিক্রির বিষয়টি নতুন কিছু নয়। কিডনি কেনার আগে ইতোপূর্বে দাতাকে গ্রহীতার বাসায় রেখে আত্মীয়-স্বজনদের নাম, ঠিকানা মুখস্থ করাতে হতো, কারণ আত্মীয় বলে মিথ্যা ঘোষণা প্রমাণিত হলে জেল-জরিমানার বিধান ছিলো—হাইকোর্টের রায়ের পর এখন আর তা লাগবে না। তবে অর্থের বিনিময়ে কিডনি নেয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। দেশ যত উন্নত হচ্ছে আয়-ব্যয় বৈষম্য তত বাড়ছে। কয়েক বছর যাবৎ একজন জর্দা বিক্রেতা দেশে সর্বোচ্চ করদাতা নির্বাচিত হচ্ছেন; অথচ কত লোকের বেহিসাবি সম্পদের কত গল্প আড্ডার আসরে উচ্চারিত হয়। এদের একেকজন ব্যাংকের পর ব্যাংক কিনছেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করছেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কাহিনী তো চায়ের টেবিলেও অহর্নিশ আলোচিত হয়ে থাকে। এরা সমাজের এই নিঃস্ব লোকগুলোর জন্য কিছু করে না—অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রয়োজন হলে এরা কয়েকজন গরিব লোককে দামি পোশাক পরিয়ে বিমানে করে বিদেশের দামি হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীবহির্ভূত এই লোকগুলোকে বেকারভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও নেই। আমাদের দেশে বিশেষ ধর্মীয় দিনগুলোতে একটু দান-খয়রাত হয়, অন্য দিনগুলোতে ভিক্ষাও মিলে না। উচ্ছিষ্ট খাবারের জন্য এখনো বহু লোক ডাস্টবিন হাতড়িয়ে বেড়ায়—ডাস্টবিন থেকে উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে দেখে প্রায় সকল পথিক নাক ধরে তাকিয়ে তাকিয়ে চলে যায়। কঙ্কালসার এই লোকগুলো শুধু মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যের জন্য দেহ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করবে—এমন প্রত্যাশা করা যায় না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবিত উন্নতির ফলে রোগাক্রান্ত বা বিকল অঙ্গসমূহ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। সবক্ষেত্রে যে কেবল অঙ্গ বেচাকেনার মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয় তা কিন্তু নয়। আগে গরিব বা মাদকাসক্ত ব্যক্তি ছাড়া রক্তদাতা পাওয়া যেত না, এখন তো স্বেচ্ছায় রক্ত দানের একটি উত্তম সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। রক্ত ছাড়া মরণোত্তর চক্ষু দানের নজিরও বহু। তবে দেহ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে মুরতাদ, নাস্তিকদের একাধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। মুরতাদ নামে অভিহিত ড. আহমদ শরীফের চক্ষু নাকি একজন অন্ধ হাফেজের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। নাস্তিক অভিধায়ে আখ্যায়িত আরজ আলী মাতুব্বরের চোখ দুটি জন্ম থেকে অন্ধ এক ছেলে ও এক মেয়েকে দান করা হয়েছে—তাদের একজন পটুয়াখালীর ও অপরজন মানিকগঞ্জের বাসিন্দা। মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারী বিদগ্ধজন আরজ আলী মাতুব্বর, ড. আহমদ শরীফ, ড. নরেন বিশ্বাস, ওয়াহিদুল হক, গায়ক সঞ্জীব চৌধুরী, ফয়েজ আহমদসহ বাম চিন্তাধারার আরও অনেক মানুষ মানবজাতির কল্যাণে মরণোত্তর দেহ দান করে গেছেন। এটিএন নিউজের জ্যেষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপক আঁখি ভদ্র, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচও মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা অনিল বিশ্বাস, লোকসভার সাবেক স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রমুখ চিকিৎসাবিজ্ঞানের হিতার্থে মরণোত্তর দেহ দান করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিবর্জিত কৃষক আরজ আলী মাতুব্বর মেডিকেলের ছাত্রদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে মরণোত্তর দেহদান করে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। ১৯৮১ সালে তার মৃত্যুর প্রায় চার বছর পূর্বে দেহদানের তিনি যে লিখিত অছিয়ত করে গেছেন তা তখন অনেক সংস্কারমুক্ত শিক্ষিত মানুষের কল্পনারও অতীত ছিলো; তিনি অছিয়তনামায় লিখেছেন—‘আমি আমার মৃতদেহটিকে বিশ্বাসীদের অবহেলার বস্তু ও কবরে গলিত পদার্থে পরিণত না করে তা মানবকল্যাণে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’ কয়েক দিন পূর্বে বারডেম হাসপাতালে দেহ দান করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত, ব্লগার লেখক অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায়।
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোকের কিডনি বিকল হচ্ছে। বিকল কিডনির উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে কিডনি সংযোজন। কিডনি সংযোজন জীবনরক্ষাকারী ও গ্রহণযোগ্য চিকিৎসাপদ্ধতি। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় কিডনি সংযোজনের ব্যবস্থা রয়েছে। সমগ্রুপের কিডনি না হলে প্রতি বছর বিশ বা পঁচিশ হাজার টাকার ওষুধ খেতে হয়। তবে প্রতিস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত কিডনির সংকট থাকায় অধিকাংশ কিডনি রোগী ডায়ালিসিস করে বেঁচে আছেন। আমাদের দেশে ডায়ালিসিস ব্যয়বহুল ও কষ্টকর। আমার এক ক্লাসমেট সপ্তাহে তিনবার ডায়ালিসিস করে বেঁচে আছে, সে ছিলো সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বহু বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরি করার সুবাদে ভালো হাসপাতালে কম খরচে সে এখন ডায়ালিসিস করার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতি ডায়ালিসিসে কমপক্ষে তিন হাজার টাকা খরচ হলেও তার মাসে ব্যয় হয় ছত্রিশ হাজার টাকা। কোন মধ্যবিত্ত লোকের সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস করার সামর্থ্য থাকার কথা নয়। অনবরত ডায়ালিসিসের প্রভাব অনেক সময় দেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে এবং পরিশেষে কিডনি ট্র্যান্সপ্ল্যান্টই হয় একমাত্র ভরসা। প্রতিটি মানুষের দুইটি করে কিডনি আছে, একটি কার্যক্ষম থাকলে আরেকটি কিডনির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু নিজের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে কেউ নিকটতম স্বজনকেও সহজে একটি কিডনি দিতে চায় না। এমনকি অধিকাংশ লোক মরণোত্তর কিডনি দানেও ইচ্ছুক নয়। বিশ্বে প্রতিবছর যে ১০ লাখ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় তার মধ্যে ৬০ শতাংশ জীবিত ব্যক্তির এবং ৪০ শতাংশ মৃত ব্যক্তির।
মরণের পর ছয় ঘণ্টার মধ্যে মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কমপক্ষে চৌদ্দটি অঙ্গ নিয়ে জীবিত রোগীর শরীরে বিকল অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যায়। জন্মগত ছাড়াও দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রচুর মানুষের অঙ্গহানি ঘটে, অনেক সময় বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থেই ডাক্তারেরা রোগীর বিষাক্ত অঙ্গ কেটে ফেলেন। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির কারণে উন্নত দেশগুলোতে নিয়মিত কিডনি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, অগ্নাশয়, অস্থি, চক্ষু, অন্ত্র, যকৃতসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এক দেহ থেকে অন্য দেহে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। উক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য, এগুলোর কার্যক্ষমতা হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে জীবনাবসান অবধারিত। কুসংস্কার বা ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও চাহিদা মোতাবেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উন্নত দেশগুলোতেও পাওয়া যায় না। ইউরোপ-আমেরিকায় দান করা অঙ্গ বিতরণের জন্য তালিকা তৈরি করা হয়—তালিকার অনেকে প্রতীক্ষায় দিন গুনতে থাকেন কখন প্রত্যাশিত অঙ্গটি পাওয়া যাবে। তালিকার ত্রিশ-চল্লিশ শতাংশ লোক কখনো প্রত্যাশিত অঙ্গ না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলাদেশে শুধু সমাজের কুসংস্কার এবং ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতাই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের প্রধান বাধা নয়, আইনের জটিলতাও অনেকাংশে দায়ী। বিদ্যমান আইনে কোনো মৃতদেহ ২৪ ঘণ্টার আগে বেওয়ারিশ ঘোষণা করা যায় না, অথচ চোখের কর্নিয়া, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করতে হয় মৃত্যুর ৬ ঘণ্টার মধ্যে। তাই বেওয়ারিশ লাশ থেকে কোন বেনিফিট পাওয়া যাচ্ছে না। অঙ্গ সংগ্রহ ও সংযোজনে নানাবিধ জটিল আইন-কানুনে নির্ধারিত জেল, জরিমানার ভয়ে এতদিন যাবৎ মানুষ বাঁচার তাগিদে ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অঙ্গ সংযোজনের চিকিৎসা নিয়েছে। অবশ্য অঙ্গ সংযোজনে চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় অভাবও এর জন্য দায়ী। আবার বাংলাদেশে মৃত্যুর আগে কেউ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের অঙ্গীকার করলেও মারা যাওয়ার পর তার স্বজনদের অধিকাংশ এ ব্যাপারে আগ্রহী হয় না বলে মৃত্যুর সংবাদটিও জানায় না।
[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com