দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (রোববার, ০৬ অক্টোবর ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।

জুয়ার আসর ক্যাসিনো

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

প্রথম পর্ব

সেন্ট্রাল ব্যাংকিং কোর্সে যোগদানের জন্য ১৯৮৯ সনে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল; ওখানকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের মালয়েশিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনে নিয়ে যায়। ওই সব দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গ্যান্টিং হাইল্যান্ড। এ পর্যটনকেন্দ্রটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে ক্যাসিনো। এছাড়া সমতলভূমি থেকে প্রায় তিন হাজার ৮০০ ফুট উপরে গ্যান্টিং হাইল্যান্ডে রয়েছে চারটি পাঁচ তারকা হোটেল, অত্যাধুনিক রেস্টুরেন্ট, ডিসকো বার, ম্যাসাজ সেন্টার, থিম পার্ক, শপিং সেন্টারসহ বিনোদনের সব ব্যবস্থা। ওখানে মেঘ গায়ের ওপর দিয়ে বয়ে যায়, মেঘকে স্পর্শ করার আনন্দ অপরিসীম; গরমের দিনে মেঘের স্পর্শে ভিজতে ভিজতে আমরা সবাই আনন্দে লাফাচ্ছিলাম। গ্যান্টিং হাইল্যান্ডে বিদেশিদের ক্যাসিনোতে প্রবেশের অনুমোদন রয়েছে; মালয়েশিয়ান ব্যতীত আমরা সব প্রশিক্ষণার্থী পাসপোর্ট দেখিয়ে ক্যাসিনোতে প্রবেশ করলাম। শত শত পর্যটক ক্যাসিনো খেলছেন; অনেকে নেশায় বুঁদ হয়ে আরামে বসে ঝিমুচ্ছেন। মালয়েশিয়ার মুসলমানেরা ধর্মপ্রাণ হলেও গোঁড়া নন; ওখানে যে কোন দোকানে মদ কিনতে পাওয়া যায়। মদ কেনা বা খাওয়ার জন্য ওখানে কোন লাইসেন্স লাগে না। মালয়েশিয়া জানে, হালাল পর্যটনকেন্দ্রে কোন মুসলমান পর্যটক যায় না। রোজার মাস ব্যতীত অন্যান্য সময়ে থাইল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের জন্য হোটেলে রুম খালি পাওয়া যায় না। থাইল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে মালয়েশিয়া পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানা ব্যবস্থা অবলম্বন করছে। এক্ষেত্রে দুবাই, মরক্কো, মরিশাস অনেক এগিয়ে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অভিপ্রায়ে রাজধানী কুয়ালালামপুরের সর্বত্র পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় ম্যাসাজ পার্লার, ডিসকো সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। রাত নামলেই অনেকে ছুটে যায় নিয়ন লাইটের ম্যাসাজ পার্লার ও ডিসকো সেন্টারে। ক্লাসের লেকচারে ডিসকো সেন্টারের উল্লেখ করা হলেও অফিসিয়ালি তারা আমাদের কোন ডিসকো সেন্টারে নিয়ে যায়নি। তুরস্কের প্রশিক্ষণার্থী সেন্ট্রাল ব্যাংকার মরিয়ম গ্যান্টিং হাইল্যান্ডের ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে যে টাকা পেয়েছিল তা ডিসকো সেন্টারে গিয়ে ব্যয় করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। ডিসকোতে ঢুকতে কোন টিকিট না থাকায় বিয়ার খেয়ে সবাই মরিয়মের টাকার শ্রাদ্ধ করে।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনোর অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়েছে। সাম্প্রতিককালের এই অভিযান না হলে সাধারণ মানুষেরা ‘ক্যাসিনো’ কী তা জানতো না। স্পোর্টিং ক্লাবগুলো গড়ে উঠেছিল হকি, ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল ইত্যাদি খেলাকে কেন্দ্র করে; এসব ক্লাবের পরিচালনায় থাকতেন অবসর নেয়া খেলোয়াড়, ক্রীড়ামোদী ক্লাব সমর্থক ও ক্রীড়ানুরাগী বিশিষ্টজনেরা, এরা সাধারণত রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। এখন এ ক্লাবগুলো পরিচালনা করে রাজনৈতিক কর্মী ও অস্ত্রধারী মাস্তানেরা। ক্লাবের পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য পুরোনো স্পোর্টিং ক্লাবগুলোতে হাউজিসহ জুয়ার প্রচলন বহু পূর্ব থেকেই ছিল। জন্ম থেকেই প্রতিটি ক্লাবে তাস খেলা হয়; তাস খেলায় হারজিতের সঙ্গে অর্থের সংশ্লেষ থাকে, তাসের বোর্ড থেকে তোলা চাঁদা, হাউজি এবং ক্রীড়ানুরাগী সম্পদশালীদের অনুদানই ছিল ক্লাবের মুখ্য আয়। কিন্তু এখন ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলার আর্থিক সহায়তার জন্য জুয়া নয়, জুয়া খেলার আয়োজন করাই হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্লাবের মুখ্য কাজ। আরামবাগ, ফকিরেরপুলে অবস্থিত ক্লাবগুলোর পাশ দিয়ে ভয়ে বহু বছর চলাফেরা করিনি। আশির দশকে আমি বহু বছর আরামবাগ, ফকিরেরপুলে মেসে কাটিয়েছি; তখনও সব মাস্তানকে ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে হাউজি এবং তাস খেলা থেকে চাঁদা নিতে দেখতাম। গ্রাম, শহরে আয়োজিত মেলায়ও জুয়া খেলার প্রবর্তন ছিল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সর্বোচ্চ চার আনার বাজিতে তাস খেলেছি; পয়সা সংশ্লিষ্ট না থাকলে কেউ খেলায় সিরিয়াস হয় না। ঘোড়দৌড় পাকিস্তান আমলে আমাদের দেশে জুয়া খেলার জন্য জনপ্রিয় ছিল। বস্তিবাসীর আস্তানার সম্মুখে এখনও খোলা জায়গায় বসে মাদকসেবনকারীদের প্রকাশ্য দিবালোকে জুয়া খেলতে দেখা যায়। এখন ক্যাসিনো নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য এবং সংবাদপত্রগুলোর সংবাদ পরিবেশনের ব্যাপ্তি দেখে মনে হচ্ছে, মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে জুয়া খেললে কোন আপত্তি নেই, কিন্তু আধুনিক উপকরণ দিয়ে খেলা যাবে না।

যে দলই ক্ষমতায় আসে সে দলের অঙ্গসংগঠনের মাস্তানদের খুন, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, হত্যা, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, মাস্তানি ইত্যাদিতে এত বেপরোয়া হয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে এদের এসব কাজে সাহস জোগানোর লোক থাকে। এ অরাজকতার বিস্তৃতি শুধু শহরে নয়, গ্রাম-গঞ্জসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলের আন্দোলন, সংগ্রাম ও অরাজকতা রোধে এদের কাজে লাগানো হয় বলে কেন্দ্রীয় নেতারা এ সব লালিত নেতাকর্মীদের অপরিচ্ছন্ন কার্যক্রম দেখেও না দেখার ভান করেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট এ লোকগুলোকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সমীহ করে থাকেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এদের একটি অলিখিত হার্দিক সম্পর্ক গড়ে উঠে বিধায় অবৈধ পথে অর্জিত অর্থ ভাগ-বাটোয়ারায় কোন সমস্যা হয় না।

জুয়া খেলা নাকি শুরু হয়েছে প্রায় দুই হাজার বছর আগে। ক্যাসিনোর জগৎ নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক সিনেমাও। ১৬৩৮ সনে ইতালির ভেনিসে সর্বপ্রথম জুয়ার মাধ্যমে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয়। ইংল্যান্ড ও আমেরিকাতেও জুয়া খেলা বেশ প্রাচীন। ১৯৩১ সনে আমেরিকার নেভাদা রাজ্যে সর্বপ্রথম সরকার অনুমোদিত ক্যাসিনো গড়ে উঠে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুয়ার আসরটি বসে আমেরিকার লাসভেগাস সিটিতে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে ক্যাসিনো আছে, জুয়া খেলার অনুমোদনও দেওয়া হয়। ইউরোপ ছাড়াও এশিয়া মহাদেশে নেপাল, চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়ায় জমজমাট ক্যাসিনো খেলা চলে। অধিক সম্পদশালী লোকদের চিত্তবিনোদনের জন্য এই ক্যাসিনোগুলো গড়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্যাসিনোর ব্যবসায় প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার লেনদেন হয়। যারা ক্যাসিনোতে যায় তাদের বেশিরভাগের উপার্জন অবৈধ; অবৈধ না হলে প্রতিদিন হাজার হাজার, লাখ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে টিকে থাকার কথা নয়। তবে বৈধ টাকার মালিকেরাও বিনোদনের জন্য জুয়া খেলতে ক্লাবে যান। দুয়েকজন জুয়া খেলায় জিতলেও অধিকাংশরাই হারে। জুয়া খেলায় যত বেশি লোক অংশগ্রহণ করবে ক্লাবের মালিকদের ততই লাভ। ফিলিপিন্সে এক সময় ক্যাসিনোগুলো মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাবহির্ভূত ছিল, এখনও আইনের আওতাবহির্ভূত কিনা জানা নেই; তবে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৪৬ মিলিয়ন ডলার ক্যাসিনোতে ঢোকার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হয়ে যাওয়া এ টাকার গতিবিধি আর উদ্ধার করা যায়নি।

কেউ কেউ মনে করেন, প্রাচীন প্রস্তর যুগের আগেও জুয়া খেলার প্রচলন ছিল। অনেক জুয়াড়ি শুধু লাভবান হওয়ার জন্য জুয়া খেলেন না, অনেকের কাছে জুয়া একটি নেশা, একটা বিনোদন। এ অবস্থায় জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা জুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে সব হারাতে থাকে। জুয়ায় হেরে সব সহায়-সম্পত্তি বিজয়ীর হাতে তুলে দিয়েও জুয়া খেলায় অনেকে ক্ষান্ত দেয়নি, নিঃস্ব অবস্থায় নিজের বউকে বাজি ধরে হেরে যাওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বীর হাতে তাকে ধর্ষণের জন্য তুলে দিয়েছে। মহাভারতীয় যুগে জুয়াকে পাশা খেলা নামে অভিহিত করা হতো। পঞ্চপাণ্ডবের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সত্যনিষ্ঠ যুধিষ্ঠিরের জুয়া খেলার প্রতি প্রবল নেশা ছিল। তবে দক্ষ জুয়াড়ি ছিলেন না তিনি। এই জাতীয় লোক জুয়া খেলায় হেরেও আনন্দ পায়। তাই জুয়াড়ি শকুনির কূটচালের কাছে বারবার হারতে হয়েছে যুধিষ্ঠিরকে। হাতি-ঘোড়া, জায়গা-জমি, ধন-দৌলত, সোনা-দানা, রাজ্য সবকিছু হারিয়েও শেষ পর্যন্ত বাজি রেখেছেন তাদের পাঁচ ভাইয়ের ধর্মপত্নী দ্রৌপদীকে। খেলায় দ্রৌপদীকেও হারালেন। দুঃশাসন দ্রৌপদীকে তার অন্তঃপুর থেকে কেশ ধরে সভায় টেনে তাকে বিবস্ত্রা করার চেষ্টা করলে শ্রীকৃষ্ণ ধর্মের অবতার নিয়ে বস্ত্ররূপে দ্রৌপদীকে আবৃত করতে থাকেন। বস্ত্রহরণ থেকে দ্রৌপদীকে কৃষ্ণ রক্ষা করলেও পাশা খেলায় পুনরায় হেরে গিয়ে পাণ্ডবরা রাজ্য ত্যাগ করে বনবাসে যেতে বাধ্য হন। এটা হচ্ছে মহাভারতের কাহিনী। দুই বছর আগে ভারতের উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে স্ত্রীকে জুয়া খেলায় বাজি রেখেছিল এক স্বামী। বাজিতে হেরে যাওয়ায় জুয়া খেলার প্রতিপক্ষের হাতে স্ত্রীকে ধর্ষণ করার জন্য তুলে দিতে হয়েছিল। বাস্তব জীবন বড় নিষ্ঠুর, এখানে ভগবান কৃষ্ণ না থাকায় নিরীহ মহিলাটি ঐদিন গণধর্ষণ থেকে বাঁচতে পারেনি। সৌদি আরবের রাজপুত্র মাজেদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ মিশরে ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে গিয়ে ৬ ঘণ্টায় হেরেছিলেন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। সব সম্পদ হারিয়ে পরিশেষে তার ৯ বউয়ের মধ্যে জুয়ায় বাজি ধরে হারালেন পাঁচজনকে। মিসরে বউ বিক্রি করে টাকা ধার নেয়া আইনসিদ্ধও। কৌরবদের সঙ্গে পাশা খেলতে গিয়ে পঞ্চপাণ্ডব যেভাবে নিঃস্ব হয়ে শেষ মুহূর্তে তাদের স্ত্রী দ্রৌপদীকে বাজি ধরেছিলেন এ রাজপুত্রও বাজি ধরলেন পাঁচ বউয়ের ওপর। যুবরাজ পালিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়াতে মিসরের ক্যাসিনোর মালিক বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল। পণের ২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে বউদের ফেরত নেয়া হবে মর্মে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন ঘোষণা দিয়েছিল। বউদের ফেরত না নিলে ক্যাসিনো মালিক তাদের ইয়েমেনে নিলাম ডেকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নির্মলেন্দু গুণের ‘আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি ও অন্যান্য’ লেখা থেকে জানা যায়, আমেরিকায় ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে গিয়ে নির্মলেন্দু গুণ সর্বস্ব হারিয়েছিলেন; এ সর্বস্ব মানে মাত্র কয়েকশ’ ডলার। সঙ্গে থাকা সব ডলার খুইয়ে বাস ভাড়ার জন্য কয়েকশ’ মাইল দূরের তার এক আমেরিকান বন্ধুকে ফোন করে টাকা এনে বাসায় ফেরেন।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর হলো ক্রীড়াঙ্গন। ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলায়ও বাজি ধরা হয়। ভারতের আইপিএল নিয়ে জুয়ার আসর শুধু ভারতে নয় বাংলাদেশেও এ অভিশাপের ছোঁয়া লেগেছে। রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান আমলেও ঘোড়দৌড় হতো, বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘোষণা করার সময়েই রেস জুয়া বন্ধের কথা বলেছিলেন। পৃথিবীর বহু দেশে এখনও ঘোড়দৌড়ে অংশগ্রহণকারী ঘোড়ার ওপর বাজি ধরা হয়। ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলায় সাধারণ কতগুলো বিষয় নিয়ে বাজি ধরা হয়—ম্যাচের ফলাফল বাজি, কর্নার বাজি, গোল বাজি, ফাউল বাজি, ওভার বাজি, রান বাজিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়াবাজির ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। বড় বড় তারকা ফুটবলারের ওপরও বাজি ধরা হয়ে থাকে; তারা হলুদ বা লাল কার্ড পাবে কিনা, নেইমার কয়টি গড়াগড়ি খাবে, পেনাল্টি হবে কিনা, পেনাল্টি হলে গোল হবে কিনা ইত্যাদি বাজি থেকেই ম্যাচ ফিক্সিং হয়।

১৮৬৭ সনের ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য পাবলিক জুয়া আইন’-এ বলা আছে, ‘যে কোনো ঘর, স্থান বা তাবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোন সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যে কোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন’। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যে কোনো সময় তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের দেশে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ হলেও জুয়ার সরঞ্জামাদির আমদানি সম্ভবত নিষিদ্ধ নয়। তাই হয়তো অনেকে ঘোষণা দিয়েই ক্যাসিনোর সরঞ্জামাদি আমদানি করেছে।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com