দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।

ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

দ্বিতীয় পর্ব

কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পাচ্ছে, প্রচার পাওয়াটা স্বাভাবিকও। বাংলাদেশের একজন পীর কাশ্মীরি মুসলমান ভাইদের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করার বাসনা ব্যক্ত করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও অনেকে কাশ্মীর নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন, কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর ভারতীয় সেনাদের নির্যাতনের ভিডিও (অধিকাংশ ভিডিও কাশ্মীর ও ভারতীয় সেনার নির্যাতন সংশ্লিষ্ট নয়) দরদ দিয়ে প্রচার করছেন। কিন্তু যারা এমন প্রচার করছেন তারা মুসলমান কর্তৃক মুসলমানদের ওপর নির্যাতন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, এরা কাশ্মীরের মুসলমানদের স্বায়ত্তশাসনের রক্ষাকবচ ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(এ) ধারার পক্ষপাতী, কিন্তু নিজ দেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীর স্বায়ত্তশাসনের ঘোরবিরোধী। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ব্রিটিশ ভারতের সাম্রাজ্যভুক্ত হলে এ অঞ্চলের ভৌগোলিক স্বাতন্ত্র্য, অধিবাসীদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো ও জীবনধারা লক্ষ্য করে ব্রিটিশ সরকার সমতল এলাকার জেলাসমূহের জন্য প্রণীত আইন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োগ না করে এই এলাকার শাসনের জন্য ১৯০০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি প্রণয়ন করে। কিন্তু এই স্বাতন্ত্র্য অধিকার পাকিস্তান আমল থেকে খর্ব হতে থাকে; তবে সবচেয়ে চরম ও অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ গৃহীত হয় ১৯৭৯ সালে যখন সরকার এক গোপন সার্কুলারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৪ লক্ষাধিক দরিদ্র বাঙালিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এনে জমির মালিকানা দিয়ে পুনর্বাসিত করে। কাশ্মীরি মুসলমানদের মতো পার্বত্য অধিবাসীরাও বিক্ষুব্ধ হয়, সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। পাহাড়িদের সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ করার চেষ্টা সব সরকারের আমলে করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয় ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এই চুক্তির ঘোর বিরোধিতা করতে শুরু করে। বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তো ক্ষোভে এই মর্মে বলা শুরু করেছিলেন যে, শান্তিচুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত বাংলাদেশের ওই এলাকাটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আমাদের মতো এই মতাদর্শের লোকেরাই আজ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের রক্ষাকবচ ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(এ) ধারা বাতিলের ঘোর বিপক্ষে।

যে বাঙালিরা আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাশ্মীরিদের জন্য অশ্রু বিসর্জন করছেন তাদের কখনও চীনের উইঘুর বা ইয়েমেনে সৌদি বোমায় নিহত নিরীহ সাধারণ লোক ও শিশুদের হত্যায় বিগলিত হতে দেখা যায়নি। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থী যুবকেরা কোটাপ্রথা বাতিলের জন্য রাস্তায় নেমেছিল এবং তাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকৃত হওয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটাপ্রথা বাতিল করা হয়। জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরাও তখন যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, কোটাপ্রথা বৈষম্য তৈরি করে, মেধাবীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়। এই কোটাপ্রথা বিরোধীদের অনেকে আজ কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধার কোটা রাখার পক্ষে সোচ্চার। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন সম্বলিত বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাকে পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র হিসেবে যারা আখ্যায়িত করেছিলেন তাদের অনেকে আজ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন অবসায়নের অভিযোগে ভারতকে অভিযুক্ত করছেন। কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হওয়ায় যে পাকিস্তান আজ মোদিকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করছে সেই পাকিস্তানই বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবি নস্যাৎ করতে ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, পাকিস্তানের বেলুচদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমাতে পুলিশ, সেনা দিয়ে পেটাচ্ছে। সম্প্রতি বেলুচিস্তানে জুমার নামাজ চলাকালীন শক্তিশালী বোমা হামলায় ৫ জন নিহত হয়, বেলুচিস্তানের একজন স্বাধিকারপন্থী জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ভারতও শান্তিতে নেই, ভারতের নাগাল্যান্ডও নিজেদের স্বাধীন পতাকা উড়িয়েছে ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে।

কাশ্মীরের ২০% চীন দখল করে রাখলেও মুসলিম উম্মার অংশীদারগণ চীনের দখলের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেন না। এখানে মুসলিমপ্রীতি যতটুকু কাজ করে তার চেয়ে বেশি কাজ করে পাকিস্তানপ্রীতি ও ভারত বিরোধিতা। পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের গভীর সম্পর্ক থাকায় চীনপন্থী রাজনৈতিকরাও ঘোর ভারতবিরোধী। সাম্যবাদের রাজনীতি করলেও এরা ভারতবিরোধী মৌলবাদের সঙ্গে প্রায়ই সমমর্মিতা পোষণ করেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও এরা চীনের নীতির অনুসারী—চীন যে দেশকে সমর্থন দেবে বাংলাদেশের চীনপন্থীরাও সেই দেশের শুধু গুণ দেখে, দোষ খুঁজে পায় না। সাম্রাজ্যবাদ আমেরিকাকে ছাড়তে না পারার কারণে সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করে কাগমারি সম্মেলন ও আওয়ামী মুসলিম লীগ ত্যাগ করে মওলানা ভাসানী ন্যাপ তৈরি করেন, কিন্তু চীনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি আবার সামরিক জান্তা আইয়ুব খানকে সমর্থন করেন। চীন কাশ্মীর বিরোধে বরাবরের মতো পাকিস্তানের পক্ষে থাকবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে; অথচ এই চীন তার নিজ দেশে মুসলিম উইঘুরদের অবরুদ্ধ রেখে দিয়েছে বহু বছর ধরে। যারা মুসলিম উম্মার কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন তারা হয়তো পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুখে অতি সম্প্রতি শুনেছেন, চীনে ২০ লাখ উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতনের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। কাশ্মীর উত্তপ্ত হলে ভারত-পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব যতটা প্রকাশ পায়, সেই তুলনায় চীনের কাশ্মীর দখলের কথা আলোচনায় আসে না। কাশ্মীর ইস্যুতে আমাদের দেশের কিছু মুসলিম ভারতের সমালোচনা করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাদের দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে ভূষিত করছে। নরেন্দ্র মোদিকে আরও যেসব মুসলিম দেশ নিজেদের দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেছিল সেই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন।

ভারত তো এতদিন জম্মু ও কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিল, এখন কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু কাশ্মীরের দখল করা পাকিস্তান ও চীনের অংশে কতটুকু স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন আছে তা কি আমরা কখনও খোঁজ নিয়েছি? পাকিস্তান তাদের দখলে রাখা কাশ্মীরের নাম দিয়েছে ‘আজাদ কাশ্মীর’; কিন্তু এই স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম কী, কবে কোন নির্বাচনে তিনি জিতেছেন, সেখানে কয়টি রাজনৈতিক দল আছে, এই দেশ জাতিসংঘের সদস্য কিনা, পৃথিবীর কোন দেশ আজাদ কাশ্মীরকে স্বীকৃতি দিয়েছে কিনা ইত্যাদি নিয়ে মুসলিম উম্মার কোন মুসলমান খোঁজ নিয়েছেন বলে মনে হয় না। আমরা অনেকে দ্বিচারী মনোভাবে সিক্ত; বাংলাদেশের কট্টর মুসলমানেরা ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের স্বার্থে সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করে, কিন্তু নিজ দেশে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম রাখার পক্ষে জান কবুল পণে জিহাদি। একইভাবে ভারতের কট্টর হিন্দুরা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাইলেও নিজ দেশে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠাতায় বদ্ধপরিকর। এমন দ্বিচারিতায় কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সুদূরপরাহত।

শেখ আবদুল্লাহর মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ এখন আর কাশ্মীরে নেই। প্রবীণ মুসলমানদের মধ্যে এখনো অনেকে ভারতে কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করেন। কিন্তু কাশ্মীরে ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষের বয়স এখন ৩০-এর নিচে। এই তরুণদের অবস্থান কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে বলেই তারা ভারতের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না; ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ৬০%-এর অধিক ভোট পড়লেও কাশ্মীরে ভোট কাস্ট হয়েছে মাত্র ৩০%। ৩৭০ ও ৩৫(এ) অনুচ্ছেদ বাতিল করার কারণে ভারতের সমর্থক প্রবীণ মুসলমানগণও তরুণদের পক্ষে চলে যেতে পারে। এই অনুচ্ছেদ দুইটি বাতিলের কারণে তরুণদের আইন অমান্য ও সহিংস কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সান্ধ্য আইন শিথিলতায় কাশ্মীরের মুসলমানেরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছে, স্কুলের ছাত্রীদেরও নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে ঢিল ছুড়তে দেখা যাচ্ছে। এভাবে রাস্তা-ঘাট, দোকানপাট, টেলিফোন, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ভারতের ফৌজি টহল, তল্লাশি চালিয়ে, সান্ধ্য আইন দিয়ে দীর্ঘদিন একটি রাজ্য পরিচালনা করা সম্ভব নয়; যেদিন সান্ধ্য আইন তুলে নেয়া হবে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে সেই দিন থেকেই মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ, ঢিল ছোড়া শুরু হবে। পাকিস্তানও বসে নেই, ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি জনগণকে উজ্জীবিত রাখার সকল দৃশ্য, অদৃশ্য কৌশল বাস্তবায়ন করতে থাকবে। কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য সব কিছু করবেন মর্মে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। পাহাড়-পর্বত ও বরফাচ্ছাদিত এলাকার কারণে যোগাযোগ স্থাপন দুরূহ বলে সমস্যাসঙ্কুল জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত লাইন অব কন্ট্রোলের দৈর্ঘ্য ৭৪০ কিলোমিটারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না। ইতোমধ্যে কাশ্মীর স্বাধীন করতে মুজাহিদদের যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছে আল কায়েদা। পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধ করার জন্য আইএস এবং আল কায়েদা দুই পক্ষেরই নতুন সদস্য দরকার। আল কায়েদা ও আইএস কাশ্মীরের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে এ রাজ্যের যুবকদের দলে টানতে চাইছে।

পাকিস্তান ও চীন তাদের দখল করা অংশ না ছেড়ে শুধু ভারতের দখল করা অংশের স্বাধীনতা চাইলে তা কখনও ফলপ্রসূ হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে দেশ দুইটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি মূলত ধর্ম ও কাশ্মীরনির্ভর; ধর্ম এবং ভারত অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধারের কথা যে দল যত বেশি বলবে সেই দল নির্বাচনী প্রচারণায় তত বেশি বাহবা পেয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য উগ্র ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের গতানুগতিক ভারতবিরোধী প্রচারণায় এবার যোগ দিয়েছে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক ইনসাফ পার্টি। তেহরিক ইনসাফ পার্টি গত নির্বাচনে উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে কাশ্মীর পুনরুদ্ধারের জেহাদি ঘোষণা ও ভারতবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আশানুরূপ ফল পেয়েছে। মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জম্মু-কাশ্মীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও অতীতের নির্বাচনে ইস্যুটির তেমন প্রভাব ছিল না। এই বছরের লোকসভার নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের কাশ্মীরকেন্দ্রিক ভুল নীতির সমালোচনা করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি বেশ সুবিধা পেয়েছে। উগ্র হিন্দুরা মোদির এই চমক দেওয়া ইস্যু লুফে নিয়েছে। বিগত নির্বাচনে মোদির বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণায় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিজেপির গেরুয়া পোশাক ও রামরাজত্ব কায়েমের আদর্শিক প্ররোচনায় ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবোধ গভীরতর হচ্ছে। বিজেপি, শিবসেনা এবং আরএসএসের মতো কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী দলগুলোকে ক্রমান্বয়ে ভারতের সাধারণ মানুষ অধিক হারে গ্রহণ করছেন। তাই মনে হয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে ফায়দা লোটার জন্য পাকিস্তান ও ভারতের উগ্রপন্থী দলগুলো কাশ্মীর ইস্যু জিইয়ে রাখবে, মীমাংসা করবে না।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com