দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।
ভাগ্যবান প্রেসিডেন্ট এরশাদ
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
নব্বই একানব্বই সনে আমি বাংলাদেশ ব্যাংক, বগুড়া অফিসে কর্মরত ছিলাম; সিরাজগঞ্জ থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি জেলা কৃষিঋণ কমিটির সভায় আমাকে যোগ দিতে হতো, জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাগুলো হতো জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে। একানব্বইর শুরুতে এমন একটি সভায় যোগদানের লক্ষ্যে রংপুর বাসস্টেশনে পৌঁছি; বাসস্টেশন থেকে ডিসি অফিসে যাওয়ার জন্য রিকশায় চেপে বসলাম। কতদূর যাওয়ার পর বাঙালির স্বভাবসুলভ আচরণ শুরু করলাম; রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনাদের এরশাদের খবর কী?’ মৌচাকে যেন ঢিল মারলাম; ক্ষেপে সে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করা শুরু করে দিল। সে বললো, ‘এরশাদের মতো এমন একজন জনদরদী, ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ষড়যন্ত্র করে ওরা জেলে আটক করে রেখেছে, আল্লাহ বিচার করবেন’। ‘তিনি ধর্মপ্রাণ হলেন কী করে, তার বাসায় তো মদ পাওয়া গেছে’— আমার এমন কথা শুনেই সে বললো, ‘জানেন, প্রায় প্রতিদিন মদ নিয়ে আমার রিকশায় লোক উঠে, কই তাদের নিয়ে তো কেউ কিছু বলে না’। আরেকটু বাজিয়ে নিতে গিয়ে বিপদে পড়লাম। ‘তিনি তো বহু মহিলা নিয়ে মৌজ করেছেন’— এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে রিকশাওয়ালা রাস্তার মাঝখানে থেমে গেল, বলল, ‘এমন মৌজ রাজা, বাদশাহরা একটু আধটু করে থাকে, আপনি আমার রিকশা থেকে নামুন, আপনাকে নেব না’। মহাবিপদ, ডিসি অফিস তখনও কয়েক কিলোমিটার দূরে। প্রখর রোদে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত, খালি একটি রিকশাও আর পাইনি। পরে রংপুরে যতবার গিয়েছি, প্রেসিডেন্ট এরশাদের বিপক্ষে আর একটি কথাও বলিনি।
সারা বাংলাদেশের লোক এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রাম করলেও রংপুরের লোকেরা ছিল তার পেছনে সংঘবদ্ধ। জেলখানায় আবদ্ধ এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দুই দুইবার জয়লাভ করেন। এই রংপুরকে অবলম্বন করে এরশাদ তার মৃত্যু পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে দোর্দণ্ড প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে দাবার গুটির চাল দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিজীবনে ধর্মপ্রাণ মুসলমান হওয়ার আগ্রহের ঘাটতি থাকলেও ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের গুটি হিসেবে ব্যবহারে তার প্রচেষ্টার কমতি ছিল না। দেশে-বিদেশে মেয়েঘটিত বদনাম এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত এরশাদ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ চেষ্টায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সন্তুষ্টি বিধানে কারো দাবি না থাকা সত্ত্বেও ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন, রাজনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবে জেনারেল এরশাদ ইসলামকে যত্রতত্র ব্যবহার শুরু করেন। তার এই অপকর্মের কারণে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র হারিয়ে যায়; তখন জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ এরশাদের এই ভণ্ডামির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। শুধু ক্ষমতার লালসায় তার আমলে রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বেড়ে যায়। জেনারেল এরশাদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক ধর্মীয় কাজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— রাস্তার ধারে মিনারের আদলে দেয়াল নির্মাণে বাড়ির মালিককে বাধ্য করা; বিভিন্ন ট্রাস্ট গঠন করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি উপাসনালয়ের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা অকাতরে দান করা; উপাসনালয়ের বিদ্যুৎ, পানির বিল মওকুফ করে দেওয়া ইত্যাদি। যে মসজিদে জুমার নামাজ পড়বেন বলে মনস্থির করতেন সেই মসজিদে গিয়ে বলতেন, ‘গত রাতে এ মসজিদে নামাজ পড়বো বলে স্বপ্নে দেখেছি’। মানুষ তার এমন কথায় হাসাহাসি করত, কারণ কয়েকদিন পূর্ব থেকেই ওই মসজিদের আশেপাশে সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দাদের চলাফেরা করতে সবাই লক্ষ্য করেছেন। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মীদের সন্তুষ্ট করতেও প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন; মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বলে থেমে থাকেননি, তাদের ভাতা বাড়িয়েছেন। একদিকে ধর্মের তোষণ, অন্যদিকে সংস্কৃতির লালন। একদিকে রোববারের স্থলে তিনি শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা দিয়ে সহি মুসলমান হিসেবে নিজেকে ভোটারদের কাজে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে জন্মাষ্টমীর দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করে সংখ্যালঘুদের আস্থাভাজন হওয়ার প্রয়াস নিয়েছেন, পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে বাঙালিদের হৃদয় জয় করতে চেয়েছেন। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের অসমাপ্ত কাজসমূহ সমাপ্ত করা ছাড়াও শহীদ মিনারকে নতুন আঙ্গিকে সজ্জিতকরণসহ বীরশ্রেষ্ঠ ও ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রত্যেককে ১টি করে পাকাবাড়ী নির্মাণ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের সন্তুষ্ট করতে নির্মাণ করেছেন মুজিবনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ক্রীড়ামোদীদের মন পেতে গড়ে তোলেন বিকেএসপি।
‘জনগণের ডাকে সাড়া দিয়ে’ এরশাদ ১৯৮২ সনে সামরিক শাসন জারি করে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন; আবার জনগণের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ১৯৯০ সনে ক্ষমতাচ্যুত হন। মধ্যখানে ৯টি বছর ক্ষমতায় থেকে অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন, অনেক কিছুকে কলুষিত করেছেন। তার আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সকাল ১০টার মধ্যে ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হওয়ার চিত্র দেখেছি; অবশ্য ভোটারবিহীন ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট কাস্টিং-এর মহড়া শুরু হয় জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ, না ভোটের সময় থেকে। কোন কোন ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট কাস্টিং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রীত্বের ৯ মাস’ বইটিতে আতাউর রহমান খান নির্বাচনে কারচুপি সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, উপজেলা নির্বাচনে ধামরাই উপজেলায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন তার ছেলে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য প্রেসিডেন্ট এরশাদের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে হারিয়ে দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে।
ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে উল্টাপাল্টা কাজগুলোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট এরশাদ অনেক উন্নয়নমূলক কাজও করেছেন। উন্নয়নের দশক ঘটা করে উদযাপন করেছিলেন পাকিস্তানের সেনা শাসক আইয়ুব খান। উন্নয়নের এমন একটি ঢেউ জনগণ লক্ষ্য করেছিল এরশাদের জমানায়। তার আমলে একদিকে দুর্নীতির ছড়াছড়ি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, অন্যদিকে দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নয়নের জোয়ারে জনগণ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। এ ব্যাপারে এরশাদের একটা অহঙ্কারও জন্মেছিল; তিনি বলতেন, ‘যে দিকে তাকাবেন আমার উন্নয়নের ছোঁয়া অনুভব করতে পারবেন’। প্রশস্ত রাস্তায় ঝাঁকুনি ছাড়া বাসে চড়ে নগরবাড়ী থেকে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর গিয়েছি অনায়াসে; বাসের সম্মুখে মরীচিকা জ্ঞানে চিকচিক পানির অস্তিত্ব দেখতে পেয়েছি মসৃণ রাস্তায় মনের ভুলে। বড় বড় সেতু তৈরি করে ফেরি ব্যবস্থার অবসান ঘটানো ছাড়াও ঢাকার অনেকগুলো নতুন রাস্তার সৃষ্টি তার একনায়ক শাসনের কারণেই সম্ভব হয়েছিল। সরকারি সুবিধাদি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শাসনক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে তিনি মহকুমাগুলোকে জেলা এবং থানাগুলোকে উপজেলায় উন্নীত করেন। বন্যার পানি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে তিনি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেন। ঢাকা বন্যা নিরোধ বাঁধ নির্মাণ করায় বন্যার পানি থেকে ঢাকা শহর রক্ষা পাচ্ছে। তার তৈরি করা কয়েকটি সড়ক ও উদ্যানের নাম কাব্যিক মনের পরিচয় বহন করে—প্রগতি সরণি, মুক্তি সরণি, বিজয় সরণি, পান্থপথ, সোনারগাঁ জনপথ, পথকলি, গুচ্ছগ্রাম, চন্দ্রিমা উদ্যান ইত্যাদি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোথাও এক হাঁটু, কোথাও এক কোমর বন্যার পানি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে ছুটে গিয়েছেন তিনি; ‘তোমাদের পাশে এসে বিপদের সাথী হতে আজকের চেষ্টা অপার’—এ গানের রচয়িতা নিয়ে যত মতভেদ থাকুক না কেন, বন্যা এলে গ্রামের মানুষ এখনও এ গান ও এরশাদকে স্মরণ করে।
জেনারেল এরশাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয় পার্টি বিভিন্ন সময় আস্থার সংকটেও পড়েছে। এরশাদ ছিলেন ভীষণ আবেগী। সবার মন রক্ষা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কারো মন রক্ষা করা তার পক্ষে সম্ভব হতো না। আবেগ প্রবল হওয়ার কারণে তিনি তার কোন সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারতেন না; সকালে আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়ে বিকালে বিএনপি’র দিকে ঝুঁকে পড়তেন। তিনি উত্তরসূরি নির্ধারণ করতে গিয়ে প্রথমে জি এম কাদেরকে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে মাসখানেকের মধ্যেই জি এম কাদেরকে সরিয়ে স্ত্রী রওশন এরশাদকে তার পরবর্তী অবস্থানে নিয়ে আসেন; কিছুদিন পর আবার জিএম কাদেরকে তার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট এরশাদের এমনতর দোদুল্যমানতায় জাতীয় পার্টিতে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান তার অবর্তমানে কীভাবে নিরসন হবে তা আন্দাজ করাও কঠিন। জেনারেল এরশাদ তার বক্তব্য বা অবস্থান বারবার বদল করেছিলেন। ফলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। বারবার সিদ্ধান্ত বদলে অনাস্থার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন বলে কোন সমঝোতায় তার মতামতের গুরুত্ব স্থায়ী হতো না। আইয়ুব খানের আমলে টাকা নিয়ে বিডি মেম্বারগণ ফাতেমা জিন্নাহকে ভোট দিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ভোটের দুই দিন পূর্বে সব মেম্বারকে গোপনীয় স্থানে গুম করে রাখা হয়েছিল। এরশাদের অবস্থাও এমনি, প্রতিবার ভোটের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ ছিল।
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় দলই প্রেসিডেন্ট এরশাদ ও জাতীয় পার্টিকে সুনামের সঙ্গে জিইয়ে রেখেছে। যেসব কারণে এরশাদকে স্বৈরশাসক বলা হয় সেইসব কারণগুলোর অবসায়ন পরবর্তী শাসনামলে জনগণ দেখতে পায়নি। প্রতিটি নির্বাচনের পর যে দল সরকার গঠন করেছে অন্য দল তাদের সরকারকে বলেছে অবৈধ; অর্থাৎ আওয়ামী লীগের চোখে বিএনপি’র সরকার অবৈধ, বিএনপি’র চোখে আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ। ফলে স্বৈরশাসক এরশাদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর পার্থক্য জনগণ নির্ণয় করতে সমর্থ হয়নি।
একাত্তরে ছুটিতে রংপুর এসেও এরশাদ ছুটি কাটিয়ে আবার পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের নানাবিধ সুবিধা দিয়েও তিনি তার এই সুবিধাবাদী চরিত্রের কলঙ্ক অবলোপন করতে পারেননি। সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হলে জেনারেল এরশাদের সময় জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। যে এরশাদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েও স্বেচ্ছায় পাকিস্তান চলে যান তিনি আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত; অন্যদিকে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ যারা জীবন বাজি রেখে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তাদের মৃত্যু হয় ফাঁসির রজ্জুতে আর কবর হয় গোপনে সকলের অজান্তে।
যে একটি কারণে প্রেসিডেন্ট এরশাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল সেই কারণটি ছিল ওষুধনীতি প্রণয়ন; এই একটি কাজের জন্য ইতিহাসের ভালো পাতায় এরশাদের নাম লেখা থাকা বাঞ্ছনীয়। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সিলেটের তাজ ভাইয়ের বদৌলতে একটি মিলাদ মাহফিলে প্রেসিডেন্ট এরশাদের সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। ব্যক্তিগত আচার-আচরণে তিনি ছিলেন নিরেট ভদ্রলোক, বিনয়ী, নম্র। সারা পৃথিবীতে প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে ৬৫টি কাগজের টাকা ছাপানোর প্রেস আছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস বা টাঁকশাল। প্রেসিডেন্ট এরশাদের তৈরি করা টাকশালে আমি প্রায় দশ বছর প্রেষণ ও চুক্তিভিত্তিক চাকরি করেছি। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com