দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (রোববার, ২৩ জুন ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।

অভিবাসী ও উদ্বাস্তু

জিয়াউদ্দীন আহমেদ।

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হলো। ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বের জনসংখ্যা একশ’ কোটিতে পৌঁছতে সময় নিয়েছিল দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার বছর। এরপর দুইশ’ বছর পার না হতেই এখন সাতশ’ কোটির বেশি। দুই পায়ে ভর দিয়ে চলাচলকারী মনুষ্যজাতির কাছে পাঁচশ’ বছর পূর্বেও পৃথিবীর বহু ভূমি অনাবিষ্কৃত ছিল; অদম্য আগ্রহে মানুষ বিভিন্ন ভূমিতে পদার্পণ করে বসতি স্থাপন করল। বাহুবলে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অভিবাসী মানুষের পদচারণায় ভূমিতে আগে থেকে বসবাসকারীরা লোকগুলো হয়ে গেল আদিবাসী। আদিবাসী মানে অনগ্রসর মানবগোষ্ঠী। বসতি স্থাপনকারী অভিবাসীরাই হয়ে গেল দেশের মালিক। দেশের মালিক হয়ে এই অভিবাসীরা এখন তাদের দেশে যাতে আর কোন মানুষ আসতে না পারে সেজন্য নতুন নতুন কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করছে। মানুষের কর্তৃত্বের অবারিত ক্ষমতায় পশু, পাখিও নিজের জায়গায় থাকতে পারছে না। ক্রমবর্ধমান মনুষ্যজাতির বসতি স্থাপনের কারণে বনজঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে, পশুদেরও নিজের জায়গা মানুষকে ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র গিয়ে উদ্বাস্তু হতে হচ্ছে।

প্রকৃতির বিরূপ আচরণেও অনেক মানুষকে নিজের জন্মস্থান ছেড়ে দিয়ে উদ্বাস্তু জীবন মেনে নিতে হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লাখ লাখ লোক তাদের বসতভিটা ছেড়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তনে সমুদ্রে পানির উচ্চতা আরও বেড়ে গেলে অনেক দেশ পানির নিচে চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে; তখন কোটি কোটি মানুষকে উদ্বাস্তু হতে হবে। নদীর ভাঙ্গনে এখনও আমাদের দেশে বহু লোক প্রতিবছর উদ্বাস্তু হচ্ছে। কর্ণফুলী জলবিদ্যুতের জন্য তৈরি করা কাপ্তাই বাঁধের কারণে ডুবে যায় পাহাড়ি এলাকার উর্বর জমিগুলো, রাজার রাজপ্রাসাদসহ পাহাড়ি মানুষগুলোর ভিটেমাটি; উচ্ছেদের শিকার হয় লক্ষাধিক পাহাড়ি মানুষ, কিছু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পাড়ি দেয় সীমানার ওপারে। প্রকৃতির বিরূপ আচরণে পশু, পাখিদেরও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে হয়; সাইবেরিয়া ও শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল উড়ে লক্ষ লক্ষ পাখি আমাদের দেশেও কয়েক মাসের জন্য আস্তানা গাড়ে; এরাও উদ্বাস্তু।

বর্তমানে প্রায় সাত কোটি লোক উদ্বাস্তু হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। রিফিউজি বা উদ্বাস্তু হচ্ছে তারা যারা নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করে ভিন্ন একটি দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। মাতৃভূমিতে জীবনের প্রতি হুমকি এলে প্রতিটি মানুষ বাঁচার তাগিদে দেশান্তর হয়ে থাকে। উদ্বাস্তুদের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে ১৯৫১ সনে রিফিউজি কনভেনশনে ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি আইন করা হয়। এই আইন বলে কোন দেশে আশ্রয় নেয়ার পর কোন উদ্বাস্তুকে জোর করে তার নিজের দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না। এই আইনের কারণে অনেক রোহিঙ্গাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ও সিরীয় উদ্বাস্তু নিয়ে পৃথিবীব্যাপী মারাত্মক সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। ২০১১ সন থেকে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি আরব দেশে উদ্বাস্তু হয়ে সিরীয়রা আশ্রয় নিলেও তা আলোড়ন তুলতে পারেনি; এরা যখনই ইউরোপমুখী হয়েছে তখনি হৈচৈ শুরু হয়ে গেল। সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মুসলমানেরা উদ্বাস্তু হয়ে বসবাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর চেয়ে ইউরোপের দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ধর্মের ভ্রাতৃত্ববোধ এদের নিকট মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মানবিকতাবোধ। অথচ ইংরেজ শাসন ও তাদের প্রণীত আইন, কানুনের বিরুদ্ধে গিয়ে মুসলমান ধর্মবেত্তাগণ ভারতবর্ষকে এক সময় ‘দারুল হরব’ ঘোষণা করেছিলেন। দারুল হরব দেশ মানে, যে দেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শাসক, মানুষ প্রণীত আইনকানুন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, সহজে ধর্ম পালন করা সম্ভব হয় না। দারুল হরব দেশ থেকে আরেকটি দারুল ইসলাম দেশে চলে যেতে মুসলমানদের প্রতি ধর্মে নির্দেশনা রয়েছে। অথচ সারা দুনিয়ার মুসলমান নিজ দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বা অভিবাসী হওয়ার অদম্য বাসনায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে ভিড় না করে আমেরিকা ও ইউরোপের খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশগুলোতে নাগরিকত্ব লাভের প্রত্যাশায় ছুটছে। ভালোভাবে বেঁচে থাকার তাগিদে খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশে গিয়ে স্থায়ী বাসিন্দা হতে মুসলমানদের এখন আর ধর্মীয় বিধিবিধানের নিষেধাজ্ঞা প্রতিবন্ধক নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ রক্তপাত আর গৃহযুদ্ধ শরণার্থী সংকট তৈরি করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি লোক মধ্যপ্রাচ্যের ভীতিজনক পরিবেশ থেকে ইউরোপের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এসব শরণার্থীর মধ্যে ৪০ লক্ষাধিক গেছে শুধু সিরিয়া থেকে। এছাড়াও লক্ষ লক্ষ লোক সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, সুদান, তিউনিশিয়া থেকে ইউরোপে পাড়ি দিয়েছে। গাদ্দাফিকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় লিবিয়া থেকে বহু লোক ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অনুপস্থিতিতে ইউরোপে পালিয়ে গেছেন। ইরিত্রিয়ার হাজার হাজার লোক নিজ দেশের সহিংসতা, জঙ্গিবাদ ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজের দেশ ত্যাগ করছে। উপজাতীয় বিভেদ ও উগ্রপন্থী ধর্মান্ধ সশস্ত্র বোকো হারামের সহিংসতা থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্য নাইজেরিয়া থেকে শরণার্থীরা ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছে। সোমালিয়া থেকে ইউরোপ অভিমুখে শরণার্থীদের বের হওয়ার মূল কারণ, ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদের সঙ্গে সরকারের সংঘর্ষে উৎসারিত জননিরাপত্তার অভাব।

যুগে যুগে রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষ নিগৃহীত হয়ে স্বদেশের ভূমি পরিত্যাগ করে দেশান্তর হয়েছে। ভারতবর্ষ বিভাজনে প্রায় দেড় কোটি লোককে মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে পাকিস্তান আর ভারতে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এরূপ বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুতি পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি। বাস্তুচ্যুতরা কখনো মূল জনস্রোতে মিশতে পারে না—এখনও এরা ঘটি, বাঙ্গাল, বিহারী নামে পরিচিত। ভারতের বিহার প্রদেশ থেকে আগত বিহারিরা পাকিস্তানের করাচিতে প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে বসবাস করলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আগত বিহারীদের অবস্থা এখন করুণ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এরা বাংলাদেশের আনুগত্য স্বীকার করেনি, করেছে পাকিস্তানের। কিন্তু পাকিস্তান এদের নিচ্ছে না; ফলে দীর্ঘ আটচল্লিশ বছর তারা বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়ে জীবন-যাপন করছে। ১৯৭১ সনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ও এদেশে তাদের দোসরদের অমানুষিক অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ১ কোটি লোক উদ্বাস্তু হয়ে দীর্ঘ নয় মাস অসহনীয় দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করেছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জার্মানির নাজিবাদের আধিপত্যে ইহুদিরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের বাপ-দাদার বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। যুদ্ধোত্তর এই ইহুদিরা পাশ্চাত্যের প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্যালেস্টাইনদের উচ্ছেদ করে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের তৈরি করে সেখানে তাদের বসতি স্থাপন করে। ১৯৪৮ সনে ইসরাইল হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা নিজভূমিতে পরবাসী, ইসরাইলের অনুগ্রহে বেঁচে আছে। ইহুদিদের উচ্ছেদ অভিযানে ফিলিস্তিনিরা উদ্বাস্তু হয়ে পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েও এই ফিলিস্তিনিরা কোন একটি নির্দিষ্ট দেশে অধিককাল থাকতে পারছে না, ইসরাইলের বোমা হামলার ভয়ে মুসলমান দেশগুলোও তাদের দেশ থেকে ফিলিস্তিনিদের বারবার তাড়াচ্ছে। লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ লোক উদ্বাস্তু হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে, জাপান, জার্মানি এবং পার্শ্ববর্তী দেশ, চীন, মালয়েশীয়া ও থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছিল।

ইউরোপে যাওয়ার বাসনায় ভাঙা নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সমুদ্রবক্ষে হাজার হাজার লোকের সলিলসমাধি হয়েছে। ক্ষুধাক্লিষ্ট, অসহায়, নিঃস্ব মানবগোষ্ঠী শত বিপদসঙ্কুলেও নিজ দেশ ছাড়ছে; মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের গহীন বনে অভিবাসন প্রত্যাশীদের গণকবরের সন্ধান পাওয়ার মর্মান্তিক চিত্র ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখানো হয়েছে। মেক্সিকো থেকে লোকদের আগমন ঠেকাতে আমেরিকা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করছে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী মায়ানমারে রাষ্ট্রীয় মদদে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সৃষ্টি করেছিল এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কেউ সমুদ্রপথে, কেউ নদীপথে, কেউ হেঁটে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিতাড়িত প্রায় এগার লক্ষ রোহিঙ্গা রাষ্ট্রবিহীন ছিন্নমূল মানবসন্তান হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তু হয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের ছোট একটি ভূখণ্ডে ষোলো কোটি মানুষের বাস; বাঙালিরা যেখানে জীবিকার সন্ধানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈধ-অবৈধ উপায়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছে সেখানে মায়ানমারের এগার লক্ষ মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা কত কঠিন তা সহজে অনুমেয়।

২০১৫ সালে গ্রিসের উপকূলে চার বছরের সিরীয় শিশু আয়লানের পড়ে থাকা মৃতদেহ মানবাধিকার সচেতন ইউরোপকে উদ্বাস্তু গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কিন্তু উদ্বাস্তুরা মাঝে মাঝে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়ে থাকে। আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ছে; মায়ানমার থেকে ইয়াবা নামক মাদক আনা ছাড়াও এদের অনেকে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে মিশে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে, বিদেশে এদের সকল অপকর্মের জন্য বাংলাদেশ ও বাঙালির বদনাম হচ্ছে। জার্মানিতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপানে কিছু মাতাল মুসলমান নতুন বছর উদযাপনের দিন স্থানীয় মহিলাদের ওপর হামলে পড়েছিল—অনেকের অন্তর্বাস টেনে ছিঁড়ে ফেলা ছাড়াও দেহের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে হাত রেখে উল্লাস করেছিল। এ ঘটনার পর জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের প্রতি আগের সহমর্মিতাবোধের স্থলে এখন বৈরী মনোভাবের জন্ম হয়েছে। ইউরোপের যেসব দেশের সরকারপ্রধানেরা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছেন এখন তারা দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন। ইউরোপের জনগণ শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ইউরোপের জনগণ মনে করছে, ভিন্ন সংস্কৃতির এসব শরণার্থীর কারণে তাদের দেশের জনমিতিক ভারসাম্য বিপন্ন হবে।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com