দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (রোববার, ০২ জুন ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।

নরেন্দ্র মোদির জয়

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪৯টি আসন পেয়েছে; অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পেয়েছে ৮২ আসন, এমজিবি এবং অন্যান্য দল পেয়েছে যথাক্রমে ১৫টি এবং ৯৬টি আসন। বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ৩০৩টি আসন এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে ৫২টি আসন। লোকসভায় বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেতে কংগ্রেসের প্রয়োজন ছিল ৫৫টি আসন; কংগ্রেস তাই গতবারের মতো এবারও এককভাবে সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে পারল না। গতবারের চেয়ে কংগ্রেস এবার ৯টি আসন বেশি পেয়েছে। অনেকের ধারণা ছিল, মোদির বিজেপি জিতলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কষ্ট হবে, কংগ্রেস ও তাদের জোট এবং মমতা ব্যানার্জি মোদিকে সরকার গঠনে বিপদে ফেলে দিতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে, মোদির বিজেপি গতবারের চেয়েও ২১টি আসন বেশি পেয়েছে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট ভারতীয় সংসদের প্রতি পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিয়ে আমরা সবাই দীর্ঘ মাসাধিক কাল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, এপ্রিলের ১১ তারিখে যে নির্বাচন শুরু হয়েছে তার ফলাফল ঘোষণা করা শুরু হয় ২৩ মে থেকে; এতদিন কাস্টিং ভোটগুলো কোথায় কার তত্ত্বাবধানে ছিল, কাস্টিং ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে কিনা এসব নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। ৯১ কোটি ভোটারের জন্য ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, মমতা ব্যানার্জি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে প্রদত্ত ভোটের নিরাপত্তা বিধানে তার কর্মীদের সতর্ক থাকতে বললেও ভোটের পর এ ব্যাপারে কোন উচ্চবাচ্য করছেন না। ভারতের নির্বাচন কমিশনও মমতা ব্যানার্জির ইভিএমবিষয়ক অভিযোগের ব্যাপারে কোন গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ব্যতীত প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দল বিগত নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন প্রবর্তনের ঘোরবিরোধী ছিল; তবুও বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে কয়েকটি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট নেয়া হয়েছে, ওই আসনগুলোর ক্ষেত্রে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা বিচারে মনে হয়েছে ইভিএম ভোট জালিয়াতি রোধে কিছুটা হলেও সক্ষম।

পৃথিবীব্যাপী এখন উগ্র জাতীয়তাবাদের রমরমা অবস্থা। বিগত কয়েক বছরে ইউরোপে উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান হয়েছে। মুসলিম জিহাদিদের এলোপাতাড়ি আক্রমণে বিধ্বস্ত ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের ডানপন্থি শক্তির উত্থান দিনদিন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত মুসলিম সদস্য রাশিদা তালেব ও ইলহান ওমর নিয়মিত বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। পৃথিবীর সর্বত্র ধর্মাশ্রয়ী এ লোকগুলো নিজেদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের অহঙ্কারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিকৃষ্ট প্রাণী বলে মনে করে থাকে।

ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে ভারতেও হিন্দুত্বের জাগরণ ঘটেছে। নরেন্দ্র মোদি ধর্মের মোহজাল সৃষ্টি করে নির্বাচনে জিতলেও তিনি চতুর এবং বুদ্ধিমান। ভারতীয় সংবিধানে বিধৃত ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে তিনি একটি কথাও বলেননি, তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও কোন উচ্চবাচ্য করেননি। কিন্তু নির্বাচনী পোস্টারে ব্যবহার করেছে রামের ছবি। গোমাতা রক্ষার আন্দোলনে মোদি দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন, যেমন নীরব ছিলেন গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। নীরবতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা যা বোঝার তাই বুঝে যায়। ভোটের জন্য সম্প্রদায়বিদ্বেষী কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানেও বিজেপি ছিল তৎপর; কখনও বাঙালি খেদাও, কখনও রামরাজত্ব কায়েমের ঘোষণা, কখনও মোদির মায়ের গোমাতা সেবার প্রদর্শনী দ্বারা মোদির হিন্দুত্ববাদের মাহাত্ম্যের প্রচার, কখনও রামমন্দির পুনর্নির্মাণে উচ্চারিত প্রত্যয়ে জনগণের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টির অপকৌশল ছিল দৃষ্টিগ্রাহ্য রাজনৈতিক ভণ্ডামি। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে মানসিকভাবে দুর্বল করে রাখার এ অপকৌশল পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রয়োগ করা হয়।

কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ধর্ম; কারণ ধর্ম দুর্দমনীয়। সাধারণ জনগণের ওপর ভারতে ধর্মের প্রভাব অপ্রতিরোধ্য। জয়ললিতা সিনেমায় দেবীর চরিত্রে অভিনয় করতেন বলে তামিলনাড়ুতে তিনি হয়ে উঠেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তামিলনাড়ুর ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির দায়ে কারাবরণ করলেও তার মৃত্যুতে বহু ধর্মান্ধ ব্যক্তি আত্মহত্যাও করেছে। ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এ একজন অভিনেত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, একটি সিরিয়ালে তিনি দেবীর অভিনয় করেন বলে রাস্তায় দেখা হলেই অনেকে হাঁটু গেড়ে তাকে দেবীজ্ঞানে ভক্তি করে থাকে। বিজেপির এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি রামমন্দির স্থাপনে হিন্দু জাতীয়তাবাদের জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে অযোধ্যার দিকে ‘রথযাত্রা’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। মোদি ও তার দলের লোকেরা গেরুয়া পোশাক পরে সাধারণ ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের মধ্যে একটি ধর্মীয় জাগরণ সৃষ্টি করতে পেরেছেন, মোদি নির্বাচনের সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাম ও তার রাজত্বের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনার স্লোগান ব্যবহার করেছেন। নরেন্দ্র মোদির জনসম্মোহনী আবেশ সৃষ্টিতে গেরুয়া পোশাক আর ধর্মীয় আবেগ তৈরির ক্যারিশমার কাছে রাহুল মার খেয়েছেন। শুধু ধর্মীয় কারণে ২০১৪ সনের নির্বাচনে দেওয়া মোদির প্রতিশ্রুতি কতটুকু পূরণ হয়েছে সে ব্যাপারে ধর্মান্ধ লোকেরা ভ্রূক্ষেপ করেনি। ধর্মের বাইরে পরাজয়ের যে কারণটি উল্লেখযোগ্য তা হচ্ছে, রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতারা বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দল গড়ে তোলেন; এর ফলে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাংগঠনিক শক্তির বিলুপ্তি ঘটে। রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াংকা গান্ধীর নিরলস প্রচারেও কংগ্রেসের সর্বভারতীয় বৈশিষ্ট্য আর ফেরত আসেনি। হেরে যাওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, বিজেপির অভিবাসনবিরোধী স্লোগানের বিপক্ষে মমতা ব্যানার্জির উচ্চকণ্ঠ ভারতীয় হিন্দুদের একতাবদ্ধ করেছে। বিজেপি বলেছে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুরা হচ্ছে ‘শরণার্থী’ আর মুসলমানেরা হচ্ছে ‘অনুপ্রবেশকারী’—এমন বিদ্বেষপূর্ণ স্লোগান এখন আর নিন্দনীয় নয়। পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির মুসলিম-তোষণনীতি ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দুদেরও বিজেপির দিকে ঠেলে দিয়েছে। যে আসনে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, এমনকি রাহুল গান্ধীও বারবার জিতেছেন সেই আমেথিতে রাহুল এবার হেরে গেছেন।

ভারতের অধিকাংশ লোক চেয়েছ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন কঠোর মনোভাবের প্রধানমন্ত্রী, যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাকিস্তানকে শায়েস্তা করা যাবে। তারা চেয়েছে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী যার নেতৃত্বে ভারতে হিন্দু রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে, তারা চেয়েছে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী যার দাপটে ভারতের অন্য ধর্মাবলম্বীরা ম্রিয়মাণ থাকবে, তারা চেয়েছে এমন একটি দল ক্ষমতায় থাকবে যারা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীর জয়গান গাইবে। তারা দেখেছে, পাকিস্তানের সহায়তায় কাশ্মীরের মুসলমান জিহাদিরা রাজধানী দিল্লি আক্রমণ করে তছনছ করে দিতে পারে; তারা দেখেছে, কাশ্মীরের একজন আত্মঘাতী মুসলমান জেহাদি নির্বিচারে ৪০ জন রিজার্ভ পুলিশ মেরে ফেলতে পারে। ভারতীয় অধিকাংশ মানুষ চায়, জেহাদিদের সহায়তাকারী পাকিস্তানকে ইসরাইলের মতো সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে শায়েস্তা করা হোক। মোদি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে জেহাদি আক্রমণে সহায়তা করার জন্য পাকিস্তানকে শাস্তি দিয়েছে, বিভক্ত কাশ্মীরের ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ অতিক্রম করে পাকিস্তান সীমানার ৮০ কিলোমিটার ভেতরে বিমান হামলা চালিয়ে জইশ-ই-মোহাম্মদের ৩০০ সদস্যকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে। পাকিস্তান ফেরত আক্রমণ করার সাহস করেনি। কংগ্রেসের তুলনায় প্রতিরক্ষা নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিজেপির অবস্থান অধিকতর আগ্রাসী। এগুলোও ভোটারদের বিজেপির প্রতি আগ্রহান্বিত করে তুলেছে।

ধর্ম যখন মুখ্য হয় তখন দেশের অর্থনীতি বা সরকারের দুর্নীতির নিয়ে জনগণ মাথা ঘামায় না। মোদি গতবারের নির্বাচনে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি মতো বেকার সমস্যার কোন সমাধান করতে পারেননি, বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেও কোন পদক্ষেপ নেননি, ব্যাংকনোট পর্যাপ্ত মুদ্রণ না করেই উচ্চ মূল্যমানের নোট বাতিল করায় নোটের অভাবে বহুদিন মানুষ স্বাভাবিক লেনদেনও করতে পারেনি। কংগ্রেস ও তাদের জোট এগুলো নিয়ে নির্বাচনে অনেক উত্তেজক বক্তব্য রেখেছে—কাজ হয়নি। মোদি জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে ‘চৌকিদার’ বলে নির্বাচনে প্রচার করেছেন; অন্যদিকে বিরোধী দল ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ বলে চিৎকার করলেও জনগণ তাকে পাত্তা দেয়নি। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর এখন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হচ্ছে—ভারত প্রথম এবং তাতে রামরাজত্ব চাই। হিন্দুরা দেখছে, সারা পৃথিবীতে আত্মঘাতী মুসলমানের আক্রমণ দিন দিন বাড়ছে, শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু হয়েও মুসলমানরা নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতে পেরেছে। তাই ধর্মনিরপেক্ষতা এখন অধিকাংশ হিন্দুর পছন্দনীয় নীতি নয়। তারা দেখতে পাচ্ছে, পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল হিন্দুরাষ্ট্র, পাকিস্তান হচ্ছে ইসলামিক রিপাবলিক, বাংলাদেশে ইসলাম ‘রাষ্ট্রধর্ম’। ঘাস খেয়ে ভারতের বিরুদ্ধে এক হাজার বছর যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ভুট্টোও পাকিস্তানের নির্বাচনে জিতেছিলেন, পরে ধর্মের জিকির তুলে জেনারেল জিয়াউল হক তার শাসনক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু না হলে পাকিস্তানে যতটুকু গণতন্ত্র আছে তাও থাকতো কিনা সন্দেহ। নামাজরত মুসলমানদের গুলি করে মারার পর নিউজিল্যান্ডে মসজিদে নামাজ হয়েছে পুলিশ প্রহরায়; বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় পুলিশ প্রহরায়। তারপরও বলা হয়, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তাই বাম রাজনীতির জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিও এখন আর জনগণকে আকৃষ্ট করে না। কারণ বাম রাজনীতির ধারক বাহকদেরও ভোটের প্রয়োজনে ধর্মের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে দেখা যায়। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ধর্মের যে মোহজাল বিজেপি বিস্তার করেছিল তা ছিন্ন করার ক্ষমতা বিরোধী জোটের হয়নি। এ মোহজাল জাগরুক রাখতে মোদি নির্বাচনকালীন আরেকটি সূক্ষ্ম কৌশল খেলিয়েছেন। মোদি অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল দিয়ে আকাশে ঘূর্ণায়মান স্যাটেলাইট ধ্বংস করে আকাশযুদ্ধে আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের পরেই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। ‘কালি’ নামের এই মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম লেজার অস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর। ভারতের জনগণ দেখল, মোদির নেতৃত্বে ‘ভারতই প্রথম’।

বিজেপি একটি ক্যাডারভিত্তিক দল; এই দলটি ক্ষমতায় থাকাকালীন মধ্যপন্থি অবস্থান নিলেও সম্পর্ক রাখে ধর্মান্ধ ও উগ্র বা কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে, এক্ষেত্রে বিজেপি’র কোন রাখঢাক নেই। অচিরে ভারত বিশ্বের পঞ্চম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। গত বছরে ভারতীয় কোম্পানিগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার; দেশটির গড়পড়তা প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি। মানুষ বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে সভ্যতার অহঙ্কারও করে; কিন্তু সেই অহঙ্কারের সঙ্গে অভিবাসনবিরোধী চিন্তা এবং ধর্মজাত উগ্র জাতীয়তাবাদ বেমানান। ধর্ম আর ভোটের রাজনীতির কারণে বিশ্বে মানুষে মানুষে বিভাজনের গভীরতা দিন দিন বাড়ছে, ধর্মনিরপেক্ষ মমতা ব্যানার্জিকে হেয় করে ডাকা হচ্ছে ‘মমতাজ বেগম’। অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী নেতাদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত না হলে মানুষ নামে অমানুষের ভিড় পৃথিবীতে বাড়তে থাকবে, শুধু ধর্মের ভিন্নতার কারণে একই স্রষ্টার সৃষ্ট সংখ্যালঘুদের নিজ দেশে পরবাসী হয়ে থাকতে হবে। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে তাই কোটি কোটি ডিমবালক উইল কনোলির জন্ম হোক।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com