দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আমার আজকের উপসম্পাদকীয়।

ইমেজ সংকটে ব্যাংক

| ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯

বিগত ২০ বছর ধরে ব্যাংকিং সেক্টরে চিহ্নিত ঋণখেলাপি ও অর্থ তছরুপকারীদের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়াও ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত ও বিদ্যমান অনিয়ম, দুর্নীতি নিরূপণে কমিশন গঠনের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে আদালত রুলও জারি করেছে। সরকারের কোন সেক্টরে যখন স্বাভাবিক ম্যাকানিজমে কাজ হয় না, অধঃপতন রোধ করার ক্ষেত্রে কারও কোন মাথাব্যথা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না, দৃশ্যমান অনিয়মে সবাই অভ্যস্ত হতে হতে নিয়মাচার প্রতিষ্ঠায় কারও মাথাব্যথা থাকে না তখন বোধহয় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে অনিয়ম আর অপরাধের প্রতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি ফেরাতে এমন রুল জারি করে থাকে।

বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত দেশের ব্যাংকিং খাত। বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের পাল্লা ভারী হলেও ব্যাংকিং জগতের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর্থিক খাতে সংঘটিত কতগুলো নেতিবাচক ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হলমার্ক, ক্রিসেন্ট গ্রুপ, বিসমিল্লাহ কেলেঙ্কারি ব্যাংকিং জগতের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। সমসাময়িক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, পুঁজিবাজার ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির ঘটনা যুক্ত হওয়ার কারণে ব্যাংকের শুধু ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, জনগণের মধ্যে ব্যাংকের ক্ষেত্রে আস্থাহীনতা এবং উৎকণ্ঠাও সৃষ্টি হয়েছে। সোনালী ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের তরফে অনেক কাজ করে থাকে বলে এই ব্যাংকটিকে স্বাভাবিক কারণেই মরতে দেওয়া হয় না। জালিয়াতি, অর্থ তছরুপ, ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনা অতীতে যে হয়নি তা কিন্তু নয়; অতীতে তা গোপনে নিয়মিত করে জালিয়াতির অর্থ ফেরত পাওয়ার আইনগত ভিত্তি তৈরির ব্যবস্থা করা হতো। জনগণের আস্থা ধরে রাখার স্বার্থে পর্দার অন্তরালে এসব জালিয়াতি নিয়মিত করার ব্যবস্থা করা পছন্দনীয় না হলেও এর অপরিহার্যতা কর্তৃপক্ষ নীরবে স্বীকার করে নিত।

বাজারে একটি কথা শোনা যায় যে, কোন কোন ব্যাংকের ভঙ্গুর অবস্থার সুযোগে পাকিস্তানি আমলের মতো ব্যাংকের মালিকানা আস্তে আস্তে মুষ্টিমেয় কয়েকজন সম্পদশালী লোকের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। আর্থিকভাবে শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা বদলের পর এ ব্যাংকও আর্থিক সংকটে পড়ছে বলে পত্রিকায় দেখলাম। এখন নাকি এ ব্যাংক অর্থের অভাবে ঋণ কার্যক্রম সংকুচিত করে আনতে বাধ্য হচ্ছে। ২০০৫ সনে আমি বাংলাদেশ ব্যাংক, বগুড়া অফিসে জিএম হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন এ ব্যাংকের অনেকগুলো গ্রাহক সমাবেশে যোগ দিয়েছিলাম, তাদের গ্রুপভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণগুলোর আদায় ছিল প্রায় শতভাগ। কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও এমন গ্রুপের সদস্য হয়ে ঋণ নিতে দেখেছি। আমি ২০০১-০২ সনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক উন্নয়ন বিভাগে কর্মরত ছিলাম, ক্যামেল রেটিং-এ তখন বেসিক ব্যাংকের অবস্থা ছিল ‘শক্তিশালী’। সরকারি খাতের ব্যাংক হয়েও বেসিক ব্যাংকের এত ভালো অবস্থা আমাদের বিস্মিত করত। এমন একটি শক্তিশালী ব্যাংক এখন মুমূর্ষু। কোনো রকম বাছ-বিচার ও সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই খুশি মতো ঋণ দেওয়ার কারণে নাকি এক সময়ের সবচেয়ে লাভজনক সরকারি মালিকানাধীন এ ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে। আমার ধারণা, এ ব্যাংকটির এই অবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অনেকাংশে দায়ী। এ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ঘাঁটাতে ভয় পেত; এমনকি কিছু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ হাসিলেও ওই ব্যাংকের লোকজনদের ব্যবহার করত। বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন একজন জেনারেল ম্যানেজার বলেই বেড়াতেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরদের নিয়োগ তারাই দিয়ে থাকেন। এ ভদ্রলোক হঠাৎ আমাকে ফোন করে একদিন জানালো যে, ‘স্যার আপনি ডেপুটি গভর্নর হবেন না, কে ডেপুটি গভর্নর হবেন তা আমরা ইতোমধ্যে ঠিক করে ফেলেছি’। আমি আশ্চর্যও হইনি, তার কথার সত্যাসত্য বিচার করতেও যাইনি; বরং তাদের আচরণ দেখে আমরা সবাই তাদের হম্বিতম্বি বিশ্বাস করতে থাকি। ফারমার্স ব্যাংক তো শুরু করার আগেই মরে গেল। সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বাঁচিয়ে না রাখলে আরও অনেক ব্যাংকই মরে যেত; বাঁচিয়ে রাখার বিভিন্ন কলাকৌশল বর্ণনা করতে গিয়ে একটি সেমিনারে বিদেশি ব্যাংকারদের আমি হতভম্ব করে দিয়েছিলাম। তাদের কথা হচ্ছে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কোন প্রতিষ্ঠানকে জোর করে জীবিত রাখা নীতিবিরুদ্ধ। আমাদের দেশে ব্যাংকের মালিক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালক পর্ষদের অপরাধের জন্য কোন ব্যাংক ডুবতে বসলে তাকে ভাসিয়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার।

খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। খেলাপি ঋণের এ ব্যাপ্তি ও প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় অংকের ঋণ জালিয়াতি ব্যাংকের ইমেজ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে, সারা ব্যাংকিং সেক্টরকে একটি ইমেজ সংকটে ফেলেছে। মন্দ ঋণ বাড়লে প্রভিশন বাড়ে, প্রভিশন বাড়লে ব্যাংকের আয় হ্রাস পায়, আয় হ্রাস পেলে ঋণের মূল্য বা সুদের হার বেড়ে যায় এবং ব্যাংকের ঋণ প্রদানের সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে পড়ে। আবার খেলাপি হওয়ার ভয়ে বিনিয়োগ হ্রাস পেলে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধিও কমে যায়। তবে ঋণ নিলে খেলাপি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়; আমরা ব্যক্তিগত হাওলাত নিয়েও অনেক সময় তা নির্ধারিত তারিখে নানা কারণে পরিশোধ করতে পারি না। ব্যবসা বা শিল্প-কারখানায় নানা ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে, ঝুঁকি তৈরি হলে প্রত্যাশিত আয় বাধাগ্রস্ত হয়, আয় বাধাগ্রস্ত হলে গৃহীত ঋণ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। তবে কিছু ঋণগ্রহীতা সুদ মওকুফ পাওয়ার প্রত্যাশায় ঋণ নিয়ে নয়-ছয় করে থাকে। প্রভাবশালী কিছু ঋণগ্রহীতার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ না করে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার ব্যবস্থা তৈরি করে নগদ টাকা হাতে রাখার সুযোগ পায়। একবার ঋণ পরিশোধ হয়ে গেলে আবার ঋণ প্রাপ্তি সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ বলে ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধে সচরাচর আগ্রহান্বিতও হন না।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালক পর্ষদ গঠনে সরকারের ভূমিকা মারাত্মকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই থাকবে—এটা অস্বাভাবিক নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে দক্ষ, অভিজ্ঞ, ব্যাংকিং জ্ঞানে সমৃদ্ধ, সৎ ও কর্মঠ দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হলে সমালোচনা কম হতো; এগুলো বিবেচনা না করে শুধু দলীয় লোকের পরিচয়ে নিয়োগ দেওয়া হলে ব্যাংকিং সেক্টরের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা যাবে বলে মনে হয় না। প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর পরিচালক পর্ষদ গঠিত হয় মালিকদের নিয়ে। এসব ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পর্যন্ত প্রায় সবাই পরিচালকদের মর্জিমত কাজ করতে বাধ্য থাকেন। কাকে ঋণ দিতে হবে, কাকে দেওয়া যাবে না শুধু এমন নির্দেশনা নয়, কাকে পদোন্নতি দিতে হবে সে নির্দেশও আসে পরিচালকদের নিকট থেকে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর যেমন মন্ত্রণালয়ের প্রভাব, তেমন প্রভাব রয়েছে প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের। বাজারে এমন একটি ধারণা বিরাজ করছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফোন করলেই প্রাইভেট ব্যাংকগুলো সমীহ করে থাকে। কথাটা সম্পূর্ণ সত্য নয়; কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সব বিভাগের গুরুত্ব ও প্রভাব প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর ওপর সমভাবে নেই। ব্যাংক উন্নয়ন বিভাগ বা অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন আমি প্রায় ২০০টি নববর্ষের শুভেচ্ছা কার্ড পেয়েছিলাম; অথচ উচ্চতর পদে প্রাইভেট ব্যাংকের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কহীন অন্য বিভাগে বদলি হওয়ার পর পরের বছর পেয়েছিলাম মাত্র দুটি। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বহাল হতে কিছু কর্মকর্তা যেমন তৎপর থাকে, ঠিক তেমনি ব্যবসায়ীরা এ বিভাগগুলোতে নিজেদের লোক বসাতে সচেষ্ট থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অগাধ সম্পদের মালিক হলে সমাজে প্রভাবশালী হওয়া যায়; প্রভাবশালী হলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া সহজ। এ পৃষ্ঠপোষকতা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় থাকবেই, কারণ গণতান্ত্রিক ভোটে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এ পৃষ্ঠপোষকতা সম্ভবত মাত্রা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে অনেকই বলাবলি করেন যে, অমুক বড় কর্মকর্তা অমুক ব্যবসায়ীর লোক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইমেজ নষ্ট হওয়া শুরু হয়েছে ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের পর থেকে। তখন থেকেই ডেপুটি গভর্নর হওয়ার জন্য প্রার্থীদের অনেকে ব্যবসায়ীদের কাছে ধরনা দিতে শুরু করে। বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে পদোন্নতি পেয়ে সচিব, সিনিয়র সচিব হতে পারলে নিচু পদমর্যাদার ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন করপোরেশনে নির্বাহী প্রধান নিয়োগেও সার্চ কমিটি নেই; এমনকি গুরুত্বপূর্ণ পদ গভর্নর নিয়োগেও সার্চ কমিটি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইমেজ তলানিতে নামে তখন যখন সবাই বলাবলি করতে থাকে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব বণ্টনেও নাকি প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা হস্তক্ষেপ করে থাকেন। হয়তো এসব কথা অতিরঞ্জিত, অসত্য; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকে গেলেই শোনা যায় কোন কর্মকর্তা কোন ব্যবসায়ীর লোক। ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভাগে যখন ওই চিহ্নিত কর্মকর্তাদের বহাল করা হয় তখন সবার রটনা বাস্তবতায় নিশ্চিত হয়।

দুদকের চেয়ারম্যান ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়ী করেছেন। তার মতে, ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি রোধে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে যথাসময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অপরিহার্য। তফসিলি ব্যাংকগুলোর যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত কার্যক্রমের তথ্য দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে দিতে হয়। এসব বিবরণীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নিজের ঘরে বসেই নিয়মিত মনিটরিং করে থাকে। অফ-সাইট সুপারভিশন ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক সরেজমিনে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন করে থাকে। এসব নিয়মিত মনিটরিং ছাড়াও অভিযোগের ভিত্তিতে মনিটরিং করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আরেকটি বিভাগ আছে। অন্যদিকে প্রতিটি ব্যাংকে তাদের নিজস্ব নিরীক্ষা বিভাগ রয়েছে, এ বিভাগ নিয়মিত প্রতিটি ব্যাংক শাখা নিরীক্ষা করে থাকে। স্বাধীনতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা স্ব স্ব ব্যাংকের আর্থিক স্বচ্ছতার বিধানে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে গাফলতি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় দুর্বলতা। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্যের মাধ্যমে আর্থিক খাতের চিত্র পেয়ে থাকে। তথ্য ব্যবহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গড়িমসি বা ব্যর্থতা থাকলে তার দায় এড়ানো যাবে না।

নিরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা, মনিটরিং করার অক্ষমতা, অপরাধের শাস্তি না হওয়া, আর্থিক বিধিবিধানগুলো অনুসৃত না হওয়া, জবাবদিহিতার অভাব ইত্যাদি কারণে ঋণ বিতরণে অনিয়ম প্রশ্রয় পায়, জালিয়াতি লাগামহীন হয়ে পড়ে। স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত চরম ঝুঁকিতে পড়ে। অনৈতিক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের চাপ বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকলে তা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কোন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেই। ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতার স্থলে সুপারিশের ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া হলে সেই ঋণ খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ঋণ প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করার মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ ও দক্ষ মানবসম্পদ এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে রয়েছে; এ প্রজন্মের অনেকে পশ্চিমা বিশ্বে উচ্চতর লেখাপড়া শেষ করে গ্লোবাল করপোরেটগুলোর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে জেনেছে। এদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com