দৈনিক সংবাদ, উপসম্পাদকীয় (ঢাকা, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯)

শরণার্থী শিবিরে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, অস্কারজয়ী এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে সম্প্রতি কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরগুলো সফর করেন। পরিদর্শনকালীন তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে একান্তে আলাপ করেন, মায়ানমার সেনাদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার কাহিনী শোনেন, ধর্ষিত নারীদের নীরব করুণ কান্নায় আবেগায়িত হন। ঢাকায় এসে জাতিগত নিধনের শিকার এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা’। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি কোন দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান না হলেও তার পরিচিতি ও গুরুত্ব অনেক সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে বেশি। তার একটি বক্তব্য জনমনে যে কোন ক্ষমতাধর শাসকের হুকুমের চেয়ে বেশি আবেদন সৃষ্টি করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মায়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে নিজ ভূমি আরাকানে তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। মায়ানমার সরকারের কাছে তার এ বক্তব্যের গুরুত্ব না থাকলেও তার এ ভ্রমণে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের প্রতি নতুন করে সবার আবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে।

উদ্বাস্তুবিহীন পৃথিবী কখনোই ছিল না, এখনও নেই। কেউ স্বেচ্ছায় জন্মস্থান ত্যাগ করে, কেউ উচ্ছেদ হয়ে বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। আদিকাল থেকেই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতে নিরীহ মানুষগুলো শুধু প্রাণ বাঁচাতে বাস্তুচ্যুত হয়ে অজানা, অচেনা জায়গায় আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চিত জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মানুষ একস্থান থেকে অন্যস্থানে গিয়ে বাঁচার অবলম্বন খুঁজে নিয়েছে। অতিরিক্ত ঠান্ডায় খাবারের অভাব থেকে বাঁচার তাগিদে পরিযায়ী পাখিগুলো হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এক রাষ্ট্র থেকে অন্য রাষ্ট্রে চলে যাচ্ছে। ইতিহাসে বীর নামে অভিহিত শাসকেরাও জনপথ ধ্বংস করে নিরীহ মানুষদের বাস্তুচ্যুত করেছে। ফিলিস্তিনিরা ১৯৪৮ সন থেকেই উদ্বাস্তু। ইসরাইল এই সভ্য জগতেও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইহুদিদের ডেকে নিয়ে বসতি তৈরি করে দিচ্ছে। নদী ভাঙনে আমাদের কত লোক, কত পরিবার যে নিজেদের জন্মস্থান চিরতরে হারিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। উদ্বাস্তু হলেও প্রতিটি লোকের একটি জন্মভূমি আছে, প্রতিটি লোক কোন না কোন ভূখণ্ডের নাগরিক। কিন্তু রোহিঙ্গারাই পৃথিবীতে একমাত্র জনগোষ্ঠী যাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি নেই; মায়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে মেনেই নিচ্ছে না। বাপ, দাদা ও তাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে যে রাষ্ট্রে তারা বসবাস করে আসছে সেই রাষ্ট্র তাদের স্বীকার করছে না। পৃথিবীর বহু দেশে নির্ভেজাল আদিবাসীর অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বহু দেশ রয়েছে যেখানে অন্য স্থান থেকে লোক গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে। মায়ানমারের কথামতো আরাকানের মুসলমানেরা ব্রিটিশ আমলে আমাদের এই অঞ্চল থেকে গিয়ে বসতি স্থাপন করলেও তারা শতাব্দীব্যাপী ওখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। শতাধিক বছরের বেশি সময় ধরে যারা আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে, যাদের বাপ-দাদার জন্মও আরাকানে তারা আজও আরাকানের লোক হয়ে উঠতে পারলেন না, মায়ানমার তাদের ঠেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিল।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালায়; অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় দুর্দশার সঙ্গে একাত্তরে আমাদের শরণার্থী জীবনের দুর্গতির মিল রয়েছে। অশীতিপর এক প্রবীণ রমণী সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না—রাস্তার কাদার মধ্যে দু’হাতে ভর দিয়ে তার দেহটি টেনে টেনে ভারতে পালানোর কষ্টকর চেষ্টা করে যাওয়ার দৃশ্য আমরা সম্ভবত ‘স্টপ জেনোসাইড’-এ দেখেছি। চলাফেরা করতে পারেন না এমন প্রবীণ মাকে খারির ওপর বসিয়ে মাথায় করে দৌড়াতে দেখেছি এক সন্তানকে। শিশু সন্তানের কান্না পাশ দিয়ে যাওয়া পাক সেনাদের কানে যাতে প্রবেশ না করে সেজন্য পাট ক্ষেতে লুকিয়ে থাকা মা মুখ চেপে ধরে নিজ শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে নিজের অজান্তে মেরে ফেলার বাস্তব ঘটনাও বাঙালি প্রত্যক্ষ করেছে একাত্তরে। শুধু রাজাকার আর পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচা ও বাঁচানোর তাগিদে এমন সংবেদনশীল প্রয়াস। মার সম্মুখে মেয়েকে, ছেলের সম্মুখে মাকে, স্বামীর সম্মুখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছিল পাক বাহিনী। গনিমতের মাল বলে বাঙালি নারীদের ধর্ষণকে ধর্মমতে হালাল বলার লোকের অভাব তখনও ছিল না। একই কাহিনী, একই ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে; পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, নদ-নদী পার হয়ে আরাকানের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা বৃষ্টি উপেক্ষা করে মায়ানমার সেনাদের হাত থেকে প্রাণ আর ইজ্জত বাঁচানোর তাগিদে বাংলাদেশের দিকে ছুটে এসেছেন।

স্বেচ্ছায় না গেলে কোন শরণার্থীকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জোর করে তাড়ানো যায় না। আরাকান এখনও রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য নিরাপদ বিবেচনা করা হচ্ছে না। শরণার্থী ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি সম্পাদিত হওয়া সত্ত্বেও কোন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় মায়ানমারে ফেরত যেতে চাচ্ছে না, মায়ানমার সরকার যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি না করায় জাতিসংঘও শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিপক্ষে কথা বলে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অভিমত হচ্ছে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল এখনও তৈরি করতে পারেনি। মায়ানমার সেনা দ্বারা ধর্ষিত এক শরণার্থী মহিলা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে বলেছেন, নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে তাকে আরাকানে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে বাংলাদেশে গুলি করে মেরে ফেলা হলে তা অনেক শ্রেয় হবে। কয়েক বছরে দশ লাখ শরণার্থী বিশ লাখে উন্নীত হবে। বিগত দেড়, দুই বছরে শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। মায়ানমার সেনাদের ধর্ষণের কারণে কত শিশুর জন্ম হয়েছে তার পরিসংখ্যান কোথাও পাইনি। এরা পরিবার-পরিকল্পনা বোঝে না, মানে না। আরও বিপদ হচ্ছে, অতি সম্প্রতি মায়ানমার সেনাদের নির্যাতনে আরাকানের বৌদ্ধ ও উপজাতির লোকেরাও আবার বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসছে। আতাউল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসার আক্রমণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে বলে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে। তবে আরসা হিন্দু নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী তারা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় শুধু সেখানকার শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, অন্য কোন জাতি বা ধর্মগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়।

দশ লাখ শরণার্থীকে বসতি স্থাপনের জায়গা দেওয়ার মতো পতিত জমি বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশ এমনিতেই পৃথিবীর একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিগণিত; চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইল এলাকায় ষোলো কোটি লোকের বাস। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন-জঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে, নদ-নদী, পুকুর, জলাশয়, ফসলি জমি সব ভরাট হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির গড়ে তোলার কারণে লাখ লাখ গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে, রোহিঙ্গাদের সস্তা শ্রমের কারণে স্থানীয়রা কাজ হারাচ্ছে, পর্যাপ্ত কাজের অভাবে রোহিঙ্গারা মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতায় খুন-অপহরণ ইত্যাদি অপরাধ বাংলাদেশে বিস্তৃত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা আমাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে বাঙালিদের চাকরির জায়গা সংকুচিত করে দিচ্ছে, বাঙালির নামে আইনবহির্ভূত কাজ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাওয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের সৌদি আরব বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় এখনো সতেরশ’ ডলারে সীমাবদ্ধ, এখানে উৎপাদিত ফসল এখানকার অধিবাসীর জন্য পর্যাপ্ত নয়, এখানকার লোকেরা অন্য দেশে সস্তা শ্রম বিক্রি করে আয় করে পরিবারের সদস্যদের কোনমতে বাঁচিয়ে রেখেছেন। জীবনমান উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি লোক সীমাবদ্ধ সম্পদ দিয়ে জীবনমরণ সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত দশ লাখ লোকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা চাট্টিখানি কথা নয়।

রাখাইন রাজ্যটি আমাদের কাছে আরাকান হিসেবে সমধিক পরিচিত। এক সময় চট্টগ্রাম এ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশ লাখ আরাকানি রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশই মুসলমান এবং বাকিরা হিন্দুধর্মাবলম্বী।

পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ব্রিটিশ আমলে এরা মুসলিম লীগ গঠন করেছিল; কিন্তু মি. জিন্নাহ তাদের এমন আবেদন নিয়ে মাথা ঘামাননি। ব্রিটিশদের করা জাতিগোষ্ঠী তালিকায় রোহিঙ্গাদের নাম না থাকায় মায়ানমার সরকার এ বদমাইশি কাজে লাগিয়ে বিদেশি আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্বসহ রাষ্ট্রের শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধা থেকে রোহিঙ্গাদের বঞ্চিত করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে; চীন ও রাশিয়ার ভেটো প্রদানের আশঙ্কায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থায়ী সমাধান বা মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাশিয়ার অভিমত হচ্ছে, এ সংকটের জাদুকরী বা রাতারাতি কোন সমাধান নেই। খাদ্য সমস্যা ছাড়াও দীর্ঘদিন বাংলাদেশে এদের অবস্থান থাকলে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ক্ষমতা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং দানশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যে উদ্বুদ্ধ করা। শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার জন্য জোলি বিশেষভাবে সমাদৃত। নিগৃহীত এ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে ফেরত যাওয়া ও নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব সে ব্যাপারেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন।

একাত্তরে জর্জ হ্যারিসনের মতো একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা তার একটি উদ্যোগই যথেষ্ট। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা পৃথিবীর নিগৃহীত মানব ও এতিমদের কল্যাণে দান করেছেন। তিনি কম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া ও ভিয়েতনামের এতিমখানা থেকে দত্তক নিয়েছেন তিন শিশুকে। মিডিয়া জগতে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির উপস্থিতির গুরুত্ব বোঝার জন্য সামান্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট; জোলির প্রথম কন্যা জন্ম নেয়ার সংবাদ ও তার প্রথম ছবিটি প্রচারের জন্য জোলি ও তার স্বামী পিট উত্তর আমেরিকা স্বত্বের জন্য পিপল ম্যাগাজিনের কাছে ৪১ লাখ মার্কিন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী স্বত্বের জন্য ব্রিটিশ ম্যাগাজিন হ্যালোর কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেন। পুরো অর্থ তারা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে দেন। পরে জন্ম নেয়া তার যমজ সন্তানের প্রথম ছবিটি উক্ত দুটি ম্যাগাজিনের নিকট ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দাতব্য সংগঠন জোলি-পিট ফাউন্ডেশনে দান করে দেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তার স্ট্যাটাস ইতোমধ্যে লাখ লাখ লোক দেখে রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা ও মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। গত বছর জাতিসংঘের শিশু তহবিলের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন মুম্বাইয়ের অভিনেত্রী, সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। বিশ্বনন্দিত এমন তারকাদের আগমনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরও বেশি করে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ নিজ ভূমিতে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত চাপ সৃষ্টি করা জরুরি।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com