উপসম্পাদকীয়, দৈনিক সংবাদ ঢাকা, রবিবার, ০৬ জানুয়ারী ২০১৯

মজুরিবিহীন সাংবাদিক

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

উত্তরবঙ্গের একজন স্বনামধন্য কলাম লেখকের সঙ্গে কিছুদিন পূর্বে পরিচয় হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার এককালের সহকর্মী আশুতোষ সাহা আমাকে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। পত্রিকায় এখন তার লেখা দেখি না কেন জিজ্ঞেস করায় তার উত্তর ছিল, ‘বিনে পয়সায় আর কত লিখবো?’ তিনি আরও জানালেন, যে পত্রিকায় যেদিন লেখেন সেই পত্রিকার সেই সংখ্যাটির সৌজন্য সংখ্যা দেওয়ার তাগিদও পত্রিকার ব্যবস্থাপকদের নেই। তিনি একটু ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বললেন, ‘আমি কেন কলাম লেখা বন্ধ করেছি সে ব্যাপারেও পত্রিকার জানার কোন আগ্রহ নেই।’ এমন একজন সুপরিচিত কলাম লেখকের এমন অবহেলা আমাকে বিস্মিত করেছে। মনে হয়েছে, নিশ্চয়ই প্রচুর লেখকের আবির্ভাব হয়েছে; পত্রিকা অফিসে এত লেখা জমা হচ্ছে যে, কারটা বাদ দিয়ে কারটা ছাপা হবে তা নিয়েই সম্পাদকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থার উদ্ভব হলে পয়সা দিয়ে লেখা কেনার দরকার কী? সম্প্রতি একটি পত্রিকা অফিসে আমার উল্লিখিত কলাম লেখক যোগ দিয়েছেন।

বাংলাদেশের পত্রিকা নিয়ে সংসদে তথ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ঢাকা শহর থেকে প্রতিদিন ১৪৬টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। আরেক লেখায় দেখলাম, ঢাকা থেকে ৪৭০টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। অনলাইন সংবাদপত্রের হালনাগাদ কোন তথ্য কোথাও পাইনি; তবে অনলাইন পত্রিকা হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ২০১৮টি আবেদন পাওয়া গেছে মর্মে সংসদে তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে সারা দেশে নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৩০২৫টি; এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১১৯১টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ১১৭৫টি, পাক্ষিক ২১২টি, মাসিক ৪০৪টি ইত্যাদি। অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৪৫টি। প্রদত্ত পরিসংখ্যান শুধু ধারণা নেয়ার জন্য, তাই সত্যাসত্য যাচাই করার প্রচেষ্টা নিইনি।

সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা নিয়ে প্রচুর বই আমার মেজ ভাই মহিউদ্দিন আহমেদের বুক শেলফে দেখেছি। সমাজে সাংবাদিকদের মর্যাদা দেখে আমার ভাই আমাকে জার্নালিজম নিয়ে পড়তে পরামর্শ দিয়েছিলেন; কিন্তু পড়া হয়ে ওঠেনি। আমার জীবনের প্রথম চাকরি ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশীর পত্রিকায় একজন রিপোর্টার হিসেবে; চরমপত্রের এম আর আক্তার মুকুল প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে আমাকে নির্বাচন করলেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় কোরাইশী ভাই ছিলেন না। চাকরির প্রথম দিন তার সঙ্গে দেখা করলে তিনি সরাসরি বলে দিলেন, এক বছর শিক্ষানবিস থাকতে হবে এবং কোন বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। সম্প্রতি নানা ঘটনায় সাংবাদিক পেশার প্রতি আমি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছি। সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন যা জনগণের নিকট ‘টাঁকশাল’ নামে সমধিক পরিচিত, একটি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ১০ করদাতার মধ্যে একটি হওয়ার গৌরব লাভ করে কয়েকবার। টাঁকশালের নির্বাহী প্রধান হিসেবে আমাকে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্যামেরাম্যান আমার নিকট বকশিশ চাইলো; বিনিময়ে আমাদের ক্রেস্ট গ্রহণের দৃশ্যটি তাদের টিভি চ্যানেলে দেখানো হবে মর্মে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। একটি ইফতার পার্টিতে একজন গণ্যমান্য লোকের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম; গণ্যমান্য ভদ্রলোক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বাসনা পোষণ করেছিলেন। বিভিন্ন মিডিয়ার ক্যামেরাম্যানেরা আগাম খবর রাখে; এরা ভদ্রলোকের কাছ থেকে যেভাবে টাকা নিল তাতে আমার লজ্জা হচ্ছিল। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু ক্যামেরাম্যান এবং রিপোর্টারকে কিছু প্রার্থীর তরফ থেকে যেভাবে বকশিশ দিতে হয়েছে তা বর্ণনা করাও লজ্জার। প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন ছাপানোর জন্য, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার প্রচারের জন্য ক্যামেরাম্যান ও রিপোর্টারদের প্রার্থীর সঙ্গে দরাদরি করতে দেখেছি। এসব দরাদরিতে নির্বাচনী এলাকা বা ঢাকা শহরের রিপোর্টারদের কোন পার্থক্য দেখিনি। আরও অনেক অনৈতিক ঘটনা দেখেছি, কিন্তু কোন প্রামাণিক দলিল আমার কাছে নেই।

আমি টাঁকশালে চাকরিরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের বহু ফোন পেয়েছি; সন্ত্রাসীদের ধারণা, যেখানে টাকা মুদ্রিত হয় সেখানকার কর্মচারী বা কর্মকর্তারা ইচ্ছামতো টাকা বাসায় নিয়ে যেতে পারে। এ কারণেই বোধ হয় টাঁকশালের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিকট টাকা চেয়ে সন্ত্রাসীদের অবিরত ফোন আসত। এ সব ফোনে আমরা প্রায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সাংবাদিক নামে টাকা চেয়ে যখন ফোন করত তখন খুব অস্বস্তি লাগতো। যুগান্তর পত্রিকার এক রিপোর্টার ফোন করে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চেয়ে আমাকে ফোন করে বলে যে, ‘আপনি টাকা খেয়ে অনেক চাকরি দিয়েছেন, আমার দুজনকে চাকরি দেন অথবা টাকা দেন।’ তখন আমি বললাম, ‘একটি পরীক্ষাও আমি নিইনি, পরীক্ষা নিয়েছে তৃতীয় কোন প্রতিষ্ঠান, তথ্য-প্রমাণাদি থাকলে তাদের সঙ্গে কথা বলুন।’ কথা প্রসঙ্গে তাকে জানালাম যে, যুগান্তর পত্রিকার সোহরাব হাসান কিন্তু আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সোহরাবের নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে তার ধমকানো বন্ধ হয়ে যায়, আমি যাতে তাকে না বলি সেজন্য অনুনয়-বিনয় করা শুরু করে। এমন অভিজ্ঞতা আরও আছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, বহু পত্রিকার অনেক রিপোর্টারকে কোন বেতন-ভাতাদি দেওয়া হয় না এবং তাদের এভাবেই মস্তানি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। স্ব-স্ব পত্রিকা অফিসও এ ব্যাপারে অবহিত রয়েছে বলে অনেকে বলে থাকেন।

তাহলে ওয়েজ বোর্ড কাদের জন্য? যেখানে রিপোর্টারদের বেতন দেয়াই পত্রিকার পক্ষে সম্ভব হয় না, সেখানে ওয়েজ বোর্ড গঠন করে নতুন বর্ধিত বেতন স্কেল তৈরি করার জন্য সাংবাদিকরা এত চাপাচাপি করে কেন? অফিসে বসে যারা কাজ করেন শুধু তাদের জন্য? রিপোর্টারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে কি না, আমার জানা নেই। নিয়োগের পর তাদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের কোন ব্যবস্থা আছে কি না, তাও জানি না। হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধে সাংবাদিকদের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ একবার উল্লেখ করেছিলেন।

সাংবাদিকতায় পেশাগত প্রতিকূলতা অন্য যে কোন পেশার চেয়ে বেশি। অস্থিতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সাংবাদিকদের অনেক প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দায়িত্ব পালন করতে হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের জিম্মি করে অত্যাচার করার সত্যিকারের ঘটনাগুলোকে অভিনয় করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে মাঝে মাঝে দেখানো হয়। যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনারা কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন পিছু হটতে হবে তা তারা জানে। প্রতিরক্ষার নানা কলাকৌশল সেনাদের রপ্ত থাকে বলে প্রতিটি যুদ্ধে সেনার চেয়ে বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয় অনেক বেশি। বিরোধী দুইপক্ষের গোলাগুলির ছবি তোলাসহ যুদ্ধের প্রতিক্ষণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায় অভিজ্ঞতা লাভের স্বার্থে যুদ্ধক্ষেত্রে নিরস্ত্র অবস্থায় সাংবাদিকদের অবস্থান করা বর্ণাতীত ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সাংবাদিকদের আটক করে শিরশ্ছেদের ভিডিও জগৎবাসীকে দেখিয়ে ভীতি সৃষ্টি করে থাকে। শুধু জীবনের ঝুঁকি নয়, একটি মানসম্পন্ন প্রতিবেদন তৈরি করতে একজন সাংবাদিককে তার মেধা, যোগ্যতা ও সততার পরীক্ষা দিতে হয়। এত প্রতিকূলতায় মেধা, যোগ্যতা থাকলেও আর্থিক দীনতায় সাংবাদিকরা সৎ থাকতে পারছে না।

দেশে কতজন লোক পত্রিকা পড়ে সে ব্যাপারে প্রকৃত চিত্র কোথাও দেখলাম না। আজকাল ছাত্রছাত্রী বা যুবকদের মধ্যে খুব কমসংখ্যক পত্রিকা পড়ে, কোন সংবাদ জানতে হলে নেট ঘেঁটে জেনে নেয়। অফিসে বড় বড় কর্মকর্তাদের বেশি দামি ইংরেজি ম্যাগাজিন অফিসের পয়সায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে; কেউ কি হিসাব করে দেখেছে, যত কর্মকর্তাকে ‘ইকোনমিস্ট’ ম্যাগাজিনটি দেওয়া হয় তত সংখ্যক ম্যাগাজিন বাংলাদেশে আদৌ আমদানি হয় কি না? অনেক পত্রিকা আছে যেগুলো শুধু সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেওয়ার জন্য যত সংখ্যক দরকার তত সংখ্যক মুদ্রণ করা হয়। আমি এর বিপক্ষে নই। কয়েকটি পত্রিকা ব্যতীত প্রতিটি পত্রিকায় লোকসান হচ্ছে, তারপরও পত্রিকা বন্ধ হচ্ছে না। কারণ কিছু শিক্ষিত যুবক ভদ্রজনোচিত একটা পেশায় নিয়োজিত থেকে আমলা, কামলা, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার সুযোগ পেয়ে থাকে। সাংবাদিকদের সাধারণত কেউ চটায় না, পুলিশের পর সবাই সাংবাদিকদের ভয় করে। কারণ একবার চরিত্র হনন করে লেখা হলে প্রতিবাদ শতবার করলেও তা মোছে না। দেশের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাগুলো পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করে, পরে অন্য বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। অফিস-আদালতে কাজ করতে গেলে ভুল-ভ্রান্তি হবেই এবং সৎ লোকদের শত্রু আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়। তাই কোন অপরাধ না করলেও ভুল প্রতিবেদনেও অফিস-আদালত বা ব্যবসা সংশ্লিষ্ট সবার অন্তরাত্মা কাঁপে। সাংবাদিকদের ক্ষ্যাপিয়ে কারও পক্ষে কোন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন সম্ভব নয়।

সমাজ পচে গেছে। একজন লোক কোন পেশায় থেকে কত টাকা বেতন পাচ্ছেন তা কেউ বিচার করে না, কীভাবে একজন এত বিত্তবৈভবের মালিক সেটা নিয়ে আজকাল কেউ চিন্তিতও নয়। বরং যার টাকা আছে তাকে সমাজে বিচার ব্যবস্থায় ডাকা হয়, বিয়েশাদী ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত চেয়ার, টেবিলে বসার ব্যবস্থা করা হয়। বিনা বেতনে খাটিয়ে নেয়া সাংবাদিকরা সমাজের এ চরিত্র ভালোভাবে অবলোকন করে টাকা আয়ের পথ নিজেরা বের করে নিচ্ছেন। কারণ তাদেরও সংসার আছে, ছেলেমেয়ে আছে, ছেলেমেয়ের স্কুল আছে, বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকতে হয়। তাই তাদের ক্ষেত্রেও বিচ্যুতি স্বাভাবিক বলে সবাই মেনে নিয়েছে। অথচ এই সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত ন্যায়-নীতির গুণগান গেয়ে রিপোর্ট লিখতে হয়। আমার মেজভাই তার অসংখ্য কলামে লিখেছেন, দেশের সংসদ যখন কাজ করে না, ফরিয়াদ জানানোর যখন কোন স্থান খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন মানুষ ছুটে আসে সাংবাদিকদের কাছে; প্রতিকার পাওয়ার শেষ ভরসা পত্রিকা অফিসে, প্রেসক্লাবে। কিন্তু প্রেসক্লাবের চত্বরে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে হলেও নাকি মিষ্টি বিতরণের প্রয়োজন হয়; কথাটি আমার বিশ্বাস হয় না। আমাদের দেশে আর্থিক মানদণ্ডে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা নিরূপিত হয় বিধায় সাংবাদিকতা পেশায় সব সময় সততা খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে তাই সংবাদপত্রের ব্যাপক প্রসার ঘটার পরও সাংবাদিকদের আর্থিক অসচ্ছলতায় দুর্নীতির অনুপ্রবেশে অপসাংবাদিকতার দাপট ও দৌরাত্ম্য রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অবৈতনিক কিংবা শৌখিন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী থাকতে পারে। অনেক তরুণ আজকাল মূল পেশার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করে থাকে শুধু সামাজিক মর্যাদা লাভের প্রত্যাশায়। কিন্তু এই মর্যাদাপূর্ণ পেশাটিকে মজুরিবিহীন কিছু সাংবাদিক অপসাংবাদিকতায় লিপ্ত হয়ে ভূলুণ্ঠিত করে তুলেছে। পুঁজিপতি ব্যবসায়ীদের হাতে পত্রিকা বা কোন মিডিয়ার মালিকানা থাকার মধ্যে কোন অপরাধ নেই; কিন্তু পুঁজি ও পুঁজিপতির স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি মিডিয়া হাতে রাখার অপরিহার্যতা যখন বিবেচিত হয় তখন বোঝা যায় পুঁজির অপব্যবহার ও দৌরাত্ম্য। কোন গণমাধ্যম যখন তার কর্মীদের অপকর্মের আধার ও আশ্রয়স্থল হিসাবে বিবেচিত হয় তখন অযোগ্য, অদক্ষ সাংবাদিক ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতে সাহসী হয়ে উঠে এবং সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করে তোলে। সর্বত্র প্রবেশের অবাধ স্বাধীনতা এদের অনেককে বেপরোয়া করে তোলে। ক্ষমতাশালী অপকর্মের হোতাদের সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক থাকায় অনেক সাংবাদিকের ড্যামকেয়ার হাবভাব দৃষ্টিকটু, মিডিয়ার প্রতিনিধি হয়ে মিডিয়াকেও নীচুতায় নামিয়ে দেয়, ভীতি সৃষ্টি করে অবৈধ অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে ক্যামেরা নিয়ে ঘোরাঘুরি করে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী ও পদস্থ সরকারি কর্মচারীর অফিসে। সৃজনশীল সাংবাদিকতায় যথোপযুক্ত আর্থিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। অবশ্য নির্মোহ, নির্লোভ ব্যক্তি সব পেশাতেই আছে; সাংবাদিকতায়ও আছে। এদের সংখ্যা কম হলেও এদের জন্য সাংবাদিকতা এখনও সমাজে একটি আদর্শস্থানীয় পেশা।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com