দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (ঢাকা, রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯) উপসম্পাদকীয়

নানা সংকটে পাকিস্তান

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

চলতি মাসের ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সীমান্তের কাছে আত্মঘাতী হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের ২৭ সদস্য নিহত হয় এবং পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-আল আদল হামলার দায় স্বীকার করে। অন্যদিকে একদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’-এর হামলায় দেশটির বিশেষায়িত বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের ৪০ সদস্য নিহত হয়েছে। ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’ এ হামলার দায় স্বীকার করার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে চলছে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে চরম মূল্য দিতে হবে মর্মে ইরান এবং ভারত থেকে পাকিস্তানকে শাসানো হচ্ছে।

পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এখন মারাত্মক আর্থিক সংকটে। ক্ষমতায় এসেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন যে, দেশের আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। পাকিস্তানের চরম আর্থিক সংকটের কারণে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজ মুখে বলে যাচ্ছেন, দেশ চালানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা সরকারের কোষাগারে নেই। ৪৬ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোর নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাকিস্তানের এমন আর্থিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। এ প্রকল্পের আওতায় উচ্চগতির একটি বুলেট ট্রেন চালু করার কথা ছিল এবং ইমরান খানের দল নির্বাচনী ইস্তেহারে বুলেট ট্রেন প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। পাকিস্তানের অ্যাসেম্বলিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুলেট ট্রেন চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পাকিস্তান সরকারের হাতে নেই; ধারকর্জ করে বুলেট ট্রেন চালু করা হলেও জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সেই ট্রেনের টিকিট কাটার মতো যাত্রী পাওয়া যাবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর সন্ত্রাসবাদে মদতদানের অভিযোগে আফগানিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের সহায়তায় ২০০১ সালে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধের দেড় যুগ পার হয়ে গেলেও আফগানিস্তান থেকে তালেবান নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। যে তালেবানেরা আমেরিকার সৃষ্টি সেই তালেবানেরাই বুমেরাং হয়ে আমেরিকাকে আক্রমণ করার পাশাপাশি পাকিস্তানকেও আধা তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করে ছেড়েছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত আত্মঘাতী বোমার আঘাতে মৃত্যুর মিছিলের রোমহর্ষক ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য অবলোকন করে কোন সুস্থ বিদেশি এখন আর পাকিস্তানমুখী হতে চায় না। এ দেশটির ভাবমূর্তি এত তলানিতে নেমেছে যে, কারও পাসপোর্টে পাকিস্তানের ভিসা থাকলে অন্য কোন দেশ সেই পাসপোর্টে ভিসা দিতে চায় না। সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে পাকিস্তান এখন একটি অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিগণিত হয়েছে।

বিদেশি অনুদান ও ঋণ পাকিস্তানের উন্নয়ন বাজেটের বিরাট অংশ পূরণ করে থাকে। ২০০১ সনে আফগানিস্তান আক্রমণের জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে প্রচুর আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বিদেশি অনুদানের টাকা দিয়ে জঙ্গিদের দমনের পরিবর্তে তাদের লালন করার অভিযোগ পাকিস্তান খণ্ডাতে না পারায় আমেরিকার অনুদান ও ঋণ সহায়তা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। পাকিস্তান তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা না করায় ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের ঋণ বন্ধ করার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এসব জঙ্গিদের সমর্থন দিচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকেই অভিযোগ করে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। জঙ্গি গ্রুপগুলোকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন গত বছর পাকিস্তানকে ৩০ কোটি ডলার অর্থ সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। পাকিস্তান থেকে আরও ৫০ কোটি ডলারের একটি সাহায্য ইতঃপূর্বে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। দেশটির ঋণ শোধ করার সামর্থ্য নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। ঋণে ডুবে থাকা পাকিস্তান নিয়মিত ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে পারছে না। শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মতো পাকিস্তানও চীনের ঋণের ফাঁদে পা দিয়ে আর্থিক সংকটে নিপতিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের ঋণে তৈরি প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে শ্রীলঙ্কা পরবর্তীতে প্রকল্পগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ঋণের জন্য আইএমএফের কাছেও বহুবার ধরনা দিয়েছে পাকিস্তান। আইএমএফের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিপক্ষে আমেরিকা কলকাঠি নাড়ছে; চীনের বিপুল অঙ্কের দেনা শোধ করতে আইএমএফের দ্বারস্থ হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাধার কারণে এ ঋণ গ্রহণ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইএমএফ থেকে নেয়া কোন অর্থ দিয়ে পাকিস্তান যাতে চীনের ধার পরিশোধ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনিটরিং করছে। পাকিস্তানের অর্থসংকট এমন চরমে পৌঁছেছে যে, চুক্তিবদ্ধ হয়েও আমেরিকার কাছ থেকে তারা এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কিনতে পারছে না।

পাকিস্তানের আর্থিক সঙ্গতি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও; এ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে এখন আছে মাত্র আট বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে মজুতে থাকা এ আট বিলিয়ন ডলার দিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে। রফতানি বাড়ানোর তাগিদে পাকিস্তানি মুদ্রার বারবার অবমূল্যায়ন করেও ফলপ্রসূ হচ্ছে না। এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে পাকিস্তানি টাকার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা। বিদেশে কর্মরত পাকিস্তানিদের পাঠানো টাকার পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। চীন-পাকিস্তান করিডর নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিল মেটাতে পাকিস্তান সরকারের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাওয়ায় কার্যত ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বন্ধু মনোভাবাপন্ন দেশগুলোর কাছে ডলারের জন্য বারবার হাত পাততে হচ্ছে।

পাকিস্তানে দুর্নীতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি এত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে, দুর্নীতির কারণে নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে, নওয়াজ শরিফের দল ক্ষমতা হারিয়েছে। একদিকে তালেবান হামলা অন্যদিকে মার্কিন ড্রোন হামলা—এ দুই তরফের হামলায় দেশটি প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। আত্মঘাতী বোমা হামলায় মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাচ্ছে না। বোমা হামলায় নিহতদের কবর দিতে যারা যায় তারাও দ্বিতীয় বোমা হামলায় কবরস্থান থেকে আর ফেরত আসতে পারে না।

তালেবানদের প্রজ্বলিত আগুনের পাশাপাশি ধর্মান্ধতা পাকিস্তানের অবক্ষয়ের আরেকটি মুখ্য কারণ। বিদ্যমান ব্লাসফেমি আইনের অপব্যবহারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর জন্য পাকিস্তান নরক হয়ে উঠেছে। ব্লাসফেমির অভিযোগে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি আদালতে বেকসুর খালাস পেলেও ধর্মান্ধদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বিবি আসিয়াকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেকসুর খালাস দেওয়ার পরও তাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে সরকারি সুরক্ষা নিয়ে গোপন স্থানে বসবাস করতে হচ্ছে। কারণ কোর্টের রায় মানার মানসিকতা পাকিস্তানের কট্টর মাওলানা, মৌলভীদের কোনকালেই ছিল না, এখনও নেই। কট্টরপন্থিরা আসিয়া বিবির পক্ষে রায় প্রদানকারী বিচারকদের হত্যা করার ফতোয়া দিয়েছে। নির্দোষ আসিয়া বিবির পক্ষে কথা বলায় পাঞ্জাব প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর সালমান তাসিরকে তার দেহরক্ষী হত্যা করেছে। এমন হত্যাকারীদের পাকিস্তানিরা বীর উপাধিতে ভূষিত করে, ফুল ছিটিয়ে সংবর্ধিতও করে। ১৮ কোটি মানুষের এ দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পৃথিবীব্যাপী নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির মুখ্য কারণ এমন ধর্মান্ধতা।

পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর এমন বিরূপ আচরণের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এগিয়ে এসেছে সৌদি আরব। সৌদি আরব ইতোমধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যা পাকিস্তানের ইতিহাসে বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ। সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে করাত দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে লাশ গুম করার জন্য সৌদি আরব বিশ্ববাজারে কিছুটা কোণঠাসা। এ ঘটনার প্রতিবাদে সৌদি আরবে সম্প্রতি আয়োজিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে আমন্ত্রিত বহু দেশ যোগ দেয়নি; কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কারণে সৌদি আরব পাকিস্তানের ওপর যারপরনাই খুশি এবং এ খুশি থেকেই সম্ভবত এমন একটি বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের বেলআউট প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ব্যয় হ্রাস করে সরকারি কোষাগার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে তিনি বিলাসদ্রব্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার ক্রাইসিস মেটাতে বিদেশে গাধা রফতানি করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আটটি দামি মহিষ ২৩ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে বিক্রি করে সরকারের কোষাগার বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বুলেটপ্রুফ কয়েকটি গাড়িসহ ১০২টি গাড়ি ও ৪ হেলিকপ্টার বিক্রি করে দিয়েছেন। নওয়াজ শরিফ সরকার প্রতিজন হজযাত্রীকে ৪২ হাজার টাকা ভর্তুকি দিত, ইমরানের সরকার এই ভর্তুকি বাতিল করে দিয়ে সরকারের ৪৫০ কোটি টাকার বোঝা কমাতে সক্ষম হয়েছে। এমন ব্যবস্থাদি একটি দেশের আর্থিক সংকট মোচনে যথেষ্ট নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পাদিত বিনিয়োগ চুক্তি পাকিস্তানকে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করে দিয়েছে বলে মনে হয়।

পশ্চিম পাকিস্তানি শাসন ও শোষণে পূর্ব পাকিস্তান দীর্ঘকাল নিষ্পেষিত হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের রফতানি আয় দিয়ে তারা পশ্চিম পাকিস্তানে তিন তিনটি বিলাসবহুল রাজধানী গড়ে তোলে। জাঁকজমকপূর্ণ ও সৌন্দর্য বিচারে বিশ্বের ১০টি শীর্ষস্থানীয় রাজধানীর মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ তৃতীয়। স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তানিরা যে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল, যে বাংলাদেশকে আমেরিকার পররাষ্ট্র সেক্রেটারি হেনরি কিসিঞ্জার ব্যঙ্গ করে ‘বটমলেস বাস্কেট’ নামে অভিহিত করেছিল সেই বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে অনেকদূর অগ্রসর হয়ে গেছে। পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে পাকিস্তান শুধু সামরিক শক্তিতেই বাংলাদেশের চেয়ে অগ্রগামী, অন্য প্রায় সব ক্ষেত্রে পেছনে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পের মধ্যে অন্যতম। বর্ধিত জনসংখ্যার অভিশাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বর্তমানে ধান ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে চতুর্থ। বাংলাদেশিদের গড় আয়ু যেখানে ৭২.৫ বছর সেখানে পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৬.৪ বছর। পাঁচ বছরের নিচে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু পাকিস্তানে ৪৫ শতাংশ আর বাংলাদেশে ৩৬.১ শতাংশ। বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার ৩৭.৬ শতাংশ আর পাকিস্তানে ৮১.১ শতাংশ। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৭.৮%-এর বিপরীতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ৫.৮%। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেখানে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সেখানে পাকিস্তানের ৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫.৮ বিলিয়ন ডলারে আর পাকিস্তানের ২৪.৮ বিলিয়ন।

অদূর ভবিষ্যতে দুই রাষ্ট্রের উন্নয়নের ব্যবধান আরও বাড়বে যদি তারা সন্ত্রাস আর ধর্মান্ধতা থেকে সরে না আসে। বন্ধু দেশগুলোর বদান্যতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না, পাকিস্তানকে টিকে থাকতে হলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মদত দেওয়া বন্ধ করে বিশ্বের কাছে রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি বাড়াতে হবে।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

email: zeauddinahmed@gmail.com