ডিসেম্বর বিজয়ের মাস, এ বছর তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোটযুদ্ধ। সবাই এমপি হতে চান, আইনপ্রণেতা হতে আগ্রহী। আইন প্রণয়নের এ আগ্রহ আপাতদৃষ্টিতে নিষ্কলুষ। আইন প্রণয়নে প্রভাব, প্রতিপত্তি থাকার কথা নয়। আমাদের দেশে একজন এমপি শুধু আইন প্রণয়নের নিমিত্তে সংসদ ভবনে আবদ্ধ থাকতে লাখ লাখ টাকা খরচ করবেন বলে মনে হয় না। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অলিখিত প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট দেখানো ছাড়াও সব উন্নয়নমূলক কাজে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তিও ফেলনা নয়; উন্নয়নমূলক কাজে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকলে পরবর্তী নির্বাচনে তারা কী পুঁজি নিয়ে জনগণের দুয়ারে ভোট চাইবেন? আইন প্রণয়নে সংসদ ভবনে কার কতটুকু ভূমিকা—এ নিয়ে জনগণ কখনও মাথা ঘামায় বলে মনে হয় না। প্রভাব, প্রতিপত্তির মোহ কাটানো খুব কঠিন। ধর্মীয় রীতি পরিপালন করে আজকাল সালাম বিনিময় হয় বলেও মনে হয় না, এমপি হলে অবিরত সালাম নিতে হয়। শুধু এমপি বলি কেন, বড় কর্মকর্তারাও সালাম পাওয়ার প্রত্যাশায় মুখিয়ে থাকেন। অবশ্য ভোটের ময়দানে বিপরীত চিত্রও দেখা যায়, তবে তা স্থায়ী হয় শুধু এক মাস। এজন্যও অনেকে আজীবন প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সাত-আটবার এমপি হওয়ার পরও দলীয় নমিনেশনের প্রত্যাশায় দৌড়ঝাঁপ করতে থাকেন। একই লোক এতবার এমপি হলে অন্যরা রাজনীতি করার আগ্রহ পাবেন কেন? পৃথিবীর বহু দেশে একজন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুবারের বেশি প্রার্থী হতে পারেন না; আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, ‘আমার তৃতীয়বার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকলে আমিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতাম।’ আমাদের দেশে কোন কোন এমপি মৃত্যু পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার বাসনা করেন এবং এজন্য তার এলাকায় অন্য কাউকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠতে দেন না। দল থেকে মনোনয়ন না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দলকে তার গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন। আবার অনেকে মনোনয়ন না পেয়ে অন্য দলে যোগদান করে নির্বাচন করেন। অর্থাৎ নির্বাচন তাকে করতেই হবে। ক্ষমতা কাছাকাছি থাকার এ বাসনা সর্বদা নির্মল জনসেবার আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত নয়। দল থেকে নতুন কাউকে প্রার্থী করা হলে পুরাতন নেতারা গোপনে বিরোধী প্রার্থীর সহযোগিতা করে নতুন প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করেন এবং দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করে দলকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় তার প্রার্থী হওয়ার অপরিহার্যতা। জনগণও সম্পদশালী, ক্ষমতাবান, অভিজাতদের পছন্দ করে ভোট দিয়ে থাকে; নতুবা যারা শ্রমিক, কৃষক, মজুরের রাজনীতি করেন তারা ভোট পান না কেন? দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলেও জনগণ দুর্নীতিবাজদেরই ভোট দেয়। মনোনয়ন বাণিজ্যের কথাও মাঝে মাঝে শোনা যায়; কর্মহীন অনেক রাজনীতিবিদের আয় অনেক ব্যবসায়ীর চেয়েও বেশি—তবে আমার কাছে এ ব্যাপারে কোন তথ্য নেই।
এমন কূটকৌশলের মধ্যেও রাজনৈতিক দলগুলো প্রতি বছর জনপ্রিয় কোন ব্যক্তিত্বকে মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করে থাকে। এ ব্যাপার আওয়ামী লীগ সিদ্ধহস্ত। এর ফলে দলটির ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বেড়ে যায়, যুব সমাজ আওয়ামী লীগের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এবার এমন একটি চমক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং পেস বোলার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে মনোনয়ন দিয়ে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আগে মাশরাফি গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেছেন। এ সাক্ষাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিতও হয়েছে; এতে আওয়ামী লীগের ইমেজ তরুণদের মধ্যে বেড়েছে বলে মনে হয়। জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মাগুরা থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে খেলায় মনোনিবেশ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এতেও আওয়ামী লীগের ইমেজ বেড়েছে; জনগণ দেখেছে, জয়ের সম্ভাবনা থাকাটা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের একমাত্র নিয়ামক নয়। খেলা থেকে সাকিবের এখনও অবসর নেয়ার সময় আসেনি, অনেকদিন তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবদান রাখার সামর্থ্য রাখেন। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তাই তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পেস বোলার ও সেরা অধিনায়ক মাশরাফি। ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষ ২০০৬-তে মাশরাফি ছিলেন একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারী। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে মাশরাফির প্রার্থিতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে; লেখালেখি হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ কোন একটি দেশে মাশরাফির মতো ব্যক্তি অগণিত নয়। আর্জেন্টিনাকে পরিচয় করে দেওয়ার জন্য একজন ম্যারাডোনাই যথেষ্ট; বার্সেলোনাকে অনেকে চেনেন মেসির জন্য, নেইমার মানে ব্রাজিল আর ব্রাজিল মানেই ফুটবল। বাংলাদেশকে পরিচিত করার জন্য ক্রিকেট এবং মাশরাফির অবদান বাংলাদেশের অন্য যে কোন কৃতিত্বের চেয়ে বেশি। ১৯৮৯ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়ে মালয়েশিয়ানদের বোর্ডে ম্যাপ এঁকে আমাদের দেশের অবস্থান বুঝিয়েছিলাম। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ আরেকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের লোকজন চেনে না, বলতে হয়েছিল ভারতের পাশে, একাত্তর সালে লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। কিন্তু এখন চেনে; ক্রিকেটের জন্য। এতদসত্ত্বেও মাশরাফির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হচ্ছে, খেলায় ইতি না টেনে এক্ষুণি রাজনীতিতে নামা তার সুবিবেচক সিদ্ধান্ত নয়।
মাশরাফির অবস্থা সাকিবের মতো নয়। মাশরাফি টি-২০ ও টেস্ট খেলা থেকে আগেই বিদায় নিয়েছেন। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয়, মাশরাফি আস্তে আস্তে ক্রিকেট জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে মাশরাফির পক্ষে অধিককাল মাঠে থেকে পেস বল করাও সম্ভব নয়। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তার আরও আগেই অবসর নেয়া সমীচীন ছিল। তার দুই হাঁটুতে সাতবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। মনের জোর না থাকলে, দেশপ্রীতি না জাগলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে খেলার মাঠে থাকা যায় না।
রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে মাশরাফি যা বলেন—‘রাজনীতির তাড়না আমার ভেতরে ছিলই। কারণ, সব সময় বিশ্বাস করেছি, রাজনীতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন জোরালোভাবে সম্ভব নয়। ... এবার আমার সামনে সুযোগ এসেছে দেশের মানুষের জন্য কিছু করার। ... সময়ের ডাক শুনেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সময়ের কাজ সময়েই করা উচিত। ... বঙ্গবন্ধুকে দেখার সুযোগ হয়নি, কিন্তু তার কথা জেনে, উপলব্ধি করেই বেড়ে উঠেছি। ... মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পারিবারিকভাবেই আমার অস্থি-মজ্জায়, মননে-মগজে। ... এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন কাজ করছেন, তার সারথি হয়ে আমার এলাকার জন্য কিছু করতে চাই। ... ক্রিকেট খেলতে খেলতে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে যতটুকু সামাজিক কাজ করেছি, আমার মনে হয়েছে, সেইটুকু যথেষ্ট নয়। আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ খুঁজেছি সব সময় এবং রাজনীতি আমাকে সেই সুযোগটা করে দিচ্ছে।’
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার মাশরাফি সমর্থকদের কাছে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে সমধিক পরিচিত। ক্রিকেটের মাঠ ছেড়ে রাজনীতির মাঠে তার এ পদার্পণ অনেককে রাজনৈতিক কারণেই হতাশ করেছে। বাংলাদেশের জনতার অধিকাংশ দুটি ভিন্ন মতাদর্শে বিভক্ত; সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, নানাবিধ পেশাসহ সর্বত্র সমর্থনের বিভাজন দৃষ্টিকটু হিসেবে দৃশ্যমান। ক্রিকেট খেলায় একজন পাকিস্তানকে সমর্থন করলে আরেকজন ভারতকে, একজন ব্রাজিলের পক্ষে থাকলে আরেকজন আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকে, একজন আবাহনী হলে আরেকজন মোহামেডানের। কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে দল বেঁধে এ সমর্থনের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে। এ কারণেই মাশরাফির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে যারা বলছেন তাদের কিছু মতামত বিশ্লেষণ করে মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষরাই মাশরাফির প্রার্থিতার বিরুদ্ধে যুক্তি দিচ্ছেন বেশি। মাশরাফি যদি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ রাজনীতিতে যোগ দিতেন তাহলে হয়তো আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মাশরাফির প্রার্থী হওয়ার বিরুদ্ধে বলতেন। বাংলাদেশে রাজনীতির উলঙ্গ প্রীতি ও নেংটা কটূক্তির বন্যা দেখা যায় তখন যখন কেউ দলে থাকে এবং দল ত্যাগ করে। যখন দলের অন্তর্ভুক্ত থাকেন তখন তার একটি মন্দ দিকও দলের নেতাকর্মীদের চোখে পড়ে না; দল ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে হাজারও অভিযোগে অভিযুক্ত হতে থাকেন।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে মাশরাফি যথার্থভাবে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যশ থাকতে কীর্তন করতে হয়। বাংলাদেশের সমর্থকদের বেশি দিন বিশ্বাস করা যায় না। ভালো খেললে প্রশংসার বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়, একদিন খারাপ খেললে খেলোয়াড়ের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করা হয়। পেশাদার খেলা চালিয়ে যাওয়া অবস্থাতেই সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার উদাহরণ বিশ্বের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে মাশরাফি প্রথম নন। শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়াও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার আগেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তানের ক্রিকেট জগতের বহু তারকা রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন—শ্রীলঙ্কার অর্জুনা রানাতুঙ্গা, ভারতের মনসুর আলী খান পাতৌদি, নবজ্যোত সিং সিধু, বিনোদ কাম্বলি, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ও পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এছাড়াও নির্বাচনে লড়েছেন অভিনেত্রী মুনমুন সেন, সন্ধ্যা রায়, জয়া বচ্চন, দেবশ্রী, শতাব্দী রায়, তাপস পাল, দেব, ভারতীয় ফুটবলের সাবেক অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া, জাদুকর পিসি সরকার (জুনিয়র), কণ্ঠশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী, বাবুল সুপ্রিয়, কবীর সুমন, ভূপেন হাজারিকা। সাবেক ফুটবলার জর্জ উইয়াহ অতি সম্প্রতি লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। হলিউড অভিনেতা শোয়ার্জেনেগার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হয়েছেন দুইবার।
মাশরাফি বিন মুর্তজা ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন সাবেক ফুটবল তারকা সালাম মুর্শেদী, চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক, অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। আরও অনেক নায়ক-নায়িকা, অভিনেতা-অভিনেত্রী, খেলোয়াড় আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশী ছিলেন—অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, চিত্রনায়ক শাকিল খান, খলনায়ক মনোয়ার হোসেন ডিপজল, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, অভিনেত্রী শমী কায়সার, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, চলচ্চিত্র পরিচালক মাসুদ পথিক ও গীতিকার সুজন হাজং। বিএনপি থেকেও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন—কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মনির খান ও বেবী নাজনীন, চিত্রনায়ক হেলাল খান ও ফুটবলার আমিনুল হক। অভিনেতা সোহেল রানা এখন একজন প্রার্থী। রাজনীতির মাঠে হঠাৎ করে অবসরপ্রাপ্ত সচিব আসতে পারলে, ব্যবসায়ী আসতে পারলে সেলিব্রেটি নয় কেন?
মাশরাফির নেতৃত্বগুণ তো খেলার মাঠেই প্রতিষ্ঠিত। তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে সেরা অধিনায়কের তালিকাতেও পৌঁছে গেছেন। রমিজ রাজার মতে এশিয়ার সেরা ক্যাপ্টেন হচ্ছেন মাশরাফি। ক্রিকেট মাঠের এ নেতৃত্ব রাজনীতির মাঠেও প্রতিফলিত হবে। রাজনীতির মাঠে তিনিই বড় নেতা যিনি নেতৃত্ব দিয়ে মিশন বাস্তবায়নে জনমনে আন্দোলন সৃষ্টি করতে পারেন। নির্বাচনে নামার এ খবর তাই আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও উঠে এসেছে। তবে ভোটের সময় উৎফুল্ল হয়ে উঠলেও সারা বছর মানুষ রাজনীতির বিপক্ষে কথা বলে থাকেন। রাজনীতির প্রতি মানুষের এ বিমুখভাব ও নির্লিপ্ততা রাজনীতিতে অযোগ্য ও সম্পদশালী লোকের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনীতি বা এমপি পদ এখন অনেকাংশেই ব্যবসায়ী, গডফাদার, কালো টাকার মালিক ও নেতাদের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অনেক খুনি, সন্ত্রাসী, ড্রাগলর্ড বা তার নিকটাত্মীয় গডফাদারও নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। এবার তো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আর্মির মেজর যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন পাকিস্তানের পক্ষে তিনিও মনোনয়ন পেয়েছেন মহাজোটের সহযোগী একটি দল থেকে। এমনকি অনেকে নির্বাচিতও হয়ে যান। তবে প্রশাসনের আমলারা সুযোগ পেলে যেভাবে ক্ষমতার জাহির করে থাকে তা থামাতে পারে একমাত্র জ্ঞানী-গুণী রাজনীতিবিদেরা। তাই মাশরাফিদের মতো আরও নতুন মুখ নব উদ্দীপনা নিয়ে রাজনীতির মাঠে নেমে পুরনো অসৎ, রাজাকার, দুর্নীতিবাজদের হটিয়ে দেবে—এ প্রত্যাশা আমাদের সবার।