একাত্তরে বাংলাদেশকে পাকিস্তান হানাদারের দখল থেকে মুক্ত করতে প্রাণবাজি রেখে যে ২০৩ জন নারী লড়াই করেছেন তাদের মধ্যে একজন তারামন বিবি বীরপ্রতীক। কুড়িগ্রামের তারামন বিবি কিছুদিন আগে বিজয় মাসের পহেলা তারিখে ৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে তারামন বিবিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, এখানে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাকে আবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু যক্ষ্মা দীর্ঘদিন ধরে তার শরীরে বাসা বেঁধেছিল বলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। ফলে শত চেষ্টা করেও তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পিতৃহীন তারামন বিবির বয়স ছিল মাত্র তেরো বা চৌদ্দ। সহায়-সম্বলহীন সংসারে সাত ভাইবোনকে নিয়ে জীবিত মায়ের পক্ষে দু’বেলা ভাত জোগানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচারে বাঙালি হত্যায় চারিদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এ আতঙ্কে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছেন। তারামন বিবিরাও পাশের অন্য এক ইউনিয়নে গিয়ে আশ্রয় নেয়। খাবারের সংস্থান না থাকা অবস্থায় তারামন বিবি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি যুদ্ধ ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করে দেওয়ার প্রস্তাব পায়। এ ক্যাম্পে রান্না করার ফাঁকে ফাঁকে তারামন বিবিকে অস্ত্র পরিষ্কারের দায়িত্বও দেওয়া হয়। অস্ত্র পরিষ্কারে কৌতূহল এবং বিভিন্ন বিপদে তার সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে তার ধর্মপিতা মুহিব হাবিলদার তারামন বিবিকে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। স্টেনগান চালনায় পারদর্শী হয়ে তিনি বিভিন্ন গেরিলা অপারেশনে অংশ নিতে শুরু করেন। এছাড়াও পাকিস্তানি সেনাদের খবর সংগ্রহের নিমিত্তে গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে তিনি ভিক্ষুক, পাগল, পঙ্গু, ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পের কাছাকাছি অবস্থান করেছেন বহুবার। তারামন বিভিন্ন গাছে উঠে দূরবীন দিয়েও পাকিস্তানি সেনাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতেন। দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য কলাগাছের ভেলা নিয়ে বা সাঁতরিয়ে তারামন বিবি কখনও কখনও পাড়ি দিয়েছেন বিভিন্ন নদ-নদী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধারা বহু অপারেশনে শত্রু পাকিস্তানিদের নির্মূল করতে সমর্থ হয়েছিল।
স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসম সাহসিক অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করে। খেতাব দেওয়া হলেও তারামন বিবির অবস্থান সম্পর্কে পরবর্তী বহু বছর কেউ কিছুই জানত না, কেউ খোঁজও নেয়নি।
১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বিমল কান্তির প্রচেষ্টায় তার সন্ধান মেলে। খোঁজ পাওয়ার পর কয়েকটি নারী সংগঠন তাকে ঢাকায় নিয়ে এলে সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে বীরত্বের সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
চিকিৎসক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলেন বীরপ্রতীক প্রাপ্ত আরেকজন নারী মুক্তিযোদ্ধা। কিশোরগঞ্জের মেয়ে সিতারা বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সিতারা বেগম ও তার বড় ভাই মেজর এটিএম হায়দার মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ভারত চলে যান। স্বাধীনতাযুদ্ধে স্প্লিন্টারে আঘাতপ্রাপ্ত ও গুলিবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে যে সব চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল তার একটিতে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে ড. সিতারা বেগম ডাক্তারি করেছেন। ১৯৭৫ সালে তার মুক্তিযোদ্ধা বড় ভাই মেজর হায়দার খুন হলে ডা. সিতারা বাংলাদেশ ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি যে অবদান রেখেছিলেন তার স্বীকৃতিস্বরূপ সিতারা বেগমকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী খাসিয়া কন্যা কাঁকন বিবিকে তাদের বাঙ্কারে ধরে নিয়ে যায়; দিনের পর দিন ধর্ষণসহ অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে পরে তাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে রণাঙ্গনে মুক্তিবাহিনীর হয়ে গুপ্তচরের কাজ শুরু করেন। গুপ্তচরের কাজ করতে গিয়ে কাঁকন আবার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। আবার তার ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন—আবার ধর্ষণ। রাজাকারেরা তাকে বিবস্ত্র করে গরম লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে মৃত ভেবে অজ্ঞান অবস্থায় দূরবর্তী স্থানে ফেলে রেখে আসে। কাঁকন বিবি সুস্থ হয়ে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্পে ফেরত এসে অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণ নেন। এখন থেকে তিনি গেরিলা যুদ্ধ ও গুপ্তচর উভয় কাজই শুরু করেন। একটি সম্মুখযুদ্ধে তার দেহে কয়েকটি গুলি বিদ্ধ হয়; এমন প্রায় বিশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাঁকন বিবির খোঁজ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আর কেউ নেয়নি। রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর ধর্ষণ আর নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে কাঁকন বিবি বহু বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে পত্রিকায় কাঁকন বিবিকে নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ‘বীরপ্রতীক’ উপাধিতে ভূষিত করে এক একর খাস জমি প্রদান করেন; সিলেটের মেয়র বদর উদ্দিন কামরান তার ওই জায়গায় একটি ঘর নির্মাণ করে দেন।
কাঁকন বিবিকে দেওয়া শেখ হাসিনার ঘোষিত খেতাবের গেজেট নাকি এখনও হয়নি। ভালো কাজ নিষ্পন্নে বিধি-নিষেধের ইয়ত্তা থাকে না। আমার মেজ ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ লন্ডনে পাকিস্তান দূতাবাস ত্যাগ করে ট্রাফালগার স্কোয়ারে স্থাপিত মঞ্চে হাজার হাজার প্রবাসী বাঙালির মুহুর্মুহু স্লোগান আর করতালির মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের আনুগত্য স্বীকার করেন। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুকে তিনি ৮ জানুয়ারি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। মুক্তিযুদ্ধ করে তার বিনিময়ে কোন প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছিল না বলে তিনি চাকরিতে দুই বছরের এন্টি ডেটেড সিনিয়রিটি, মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট, ভাতা অথবা কোন সুযোগ-সুবিধা কখনো নেননি। সচিব হয়ে অবসরে গেলেও তিনি এখন শুধু সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দিয়ে সংসার চালান; কিন্তু এই টাকা থেকেও তিনি গ্রামের তালিকাভুক্ত কিছু নিঃস্ব পরিবারকে মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। তার কয়েকজন বন্ধু তাকে মুক্তিযোদ্ধা-ভাতা নিয়ে আরও অধিকসংখ্যক নিঃস্বকে সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দেন। মেজ ভাইয়ের নিকট যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য মনে হওয়াতে তিনি সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেন; কিন্তু সার্টিফিকেট পেতে তাকে বহু মাসব্যাপী অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অনুষ্ঠানে বর্তমান মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী ও মেজভাই একই মঞ্চে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির আসন গ্রহণ করেন; সেই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাদের অবলম্বিত বিলম্ব প্রক্রিয়ার কথা স্বীকার করেন এবং তাকে দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তারপরও মেজ ভাইকে বহুদিন বহুজনের মাধ্যমে তদবির করতে হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে ইতঃপূর্বে মুক্তিযোদ্ধা কূটনৈতিকদের যে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আমার মেজ ভাই ছিলেন অন্যতম। আবু সাঈদ চৌধুরীর নির্দেশ মেনে মেজ ভাই লন্ডনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করে গেছেন। ট্রাফালগার স্কোয়ারে হাজার হাজার বাঙালির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের আনুগত্য স্বীকার করার কথা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব পশ্চিম’ বইটিতে উল্লেখ রয়েছে। এতদসত্ত্বেও কয়েক বছর দৌড়াদৌড়ি করার পর কিছুদিন আগে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। ঠিক এমন আমলাতান্ত্রিক ঘোরপ্যাঁচে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও কাঁকন বিবির বীরপ্রতীক খেতাব আর গেজেটে উঠেনি। সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের এই কাঁকন বিবিও এ বছর মার্চে ইন্তেকাল করেছেন।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গড়ে উঠা হেমায়েত বাহিনীর আওতাধীন ৩৫০ জন নারী মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার আশালতা বৈদ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ক্লাসমেট। আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করার কাহিনী আমরা জানি। বরিশালের করুণা বেগম অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন, স্বরূপকাঠির বীথিকা বিশ্বাস এবং শিশির কণা গ্রেনেড চার্জ করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের গানবোট, পুরুষের পোশাক পরে যুদ্ধ করেছেন চুয়াডাঙ্গার আলেয়া বেগম। এছাড়াও পুষ্পরানী শুল্কবৈদ্য, মালতী রানী শুল্কবৈদ্য, হীরামণি সাঁওতাল, ফারিজা খাতুন, সাবিত্রী নায়েক, রাজিয়া খাতুন, বানু মিতিল, রওশন আরা, শিশির কণা, মৃণালিনী ওঝাসহ ২০৩ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন, শত্রুর অবস্থান জানার জন্য রেকি করেছেন, বিভিন্ন ছদ্মবেশে শত্রুর গতিবিধির সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, সুইসাইড স্কোয়াড হিসেবে শত্রুদের আঘাত করেছেন, গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, রাইফেল-এলএমজি চালিয়ে শত্রু নিধন করেছেন।
মাতৃভূমির মুক্তি সংগ্রামে ত্রিশ লাখ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, দুই লাখ মা-বোনকে দিতে হয়েছে ইজ্জত। যারা পাকিস্তানি মুসলমান সৈনিকের ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তারা কি মুক্তিযোদ্ধা নন? কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন জানতে চেয়েছেন, ‘যুদ্ধে কোন অঙ্গ হারিয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়, সম্ভ্রম হারানোর মতো একটি স্পর্শকাতর অঙ্গ হারিয়ে রমণীরা মুক্তিযোদ্ধা নয় কেন?’ ধর্ষিত মেয়েরা মুক্তিযোদ্ধা অভিধায় ভূষিত না হওয়ায় যুদ্ধে শেষে পরিবার বা সমাজ তাদের অনেককে গ্রহণ করেনি; বরং পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের যৌন নির্যাতনে সম্ভ্রম হারানোর কারণে নারীদের সমাজচ্যুত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাওয়ার সুযোগটিও তারা হারিয়েছিলেন। এ অবস্থায় পরিচিতজন থেকে দূরে অপরিচিত জায়গায় অনেকে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, আস্তানা তৈরি করতে হয়েছিল রেললাইনের ধারে সরকারের খাস জমিতে গড়ে উঠা বস্তিতে। তবে সাহসী দু-একজন সম্ভ্রম হারানো নারী সমাজ ও পরিবারের ঘুণে ধরা মূল্যবোধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। পাকিস্তানি হায়েনারা চট্টগ্রামের শিক্ষক রমা চৌধুরীর সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিল; রমা চৌধুরী তার লেখা ‘একাত্তরের জননী’ বইটি রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে বিক্রি করেছেন আর স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজের অবদানের কথা রাস্তার জনতাকে অকুণ্ঠচিত্তে জানিয়ে গেছেন। সম্ভ্রম হারানো খুলনার ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীও ছিলেন ব্যতিক্রম; তিনিই একমাত্র রমণী যিনি সর্বত্র নিজেকে প্রকাশ্যে বীরাঙ্গনা বলে পরিচিত করাতেন। এ দু’জনও ইহকাল ত্যাগ করেছেন সম্প্রতি।
মুক্তিযোদ্ধা ও সম্ভ্রম হারানো নারীদের দুর্গতির জন্য শুধু সমাজকে দোষ দিয়ে লাভ নেই; রাষ্ট্রের শাসকের যখন বদল ঘটে তখন তাদের মতাদর্শের আলোকে পরিবার ও সমাজের মূল্যবোধেরও পরিবর্তন হয়। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এক সময় সমাজে এমন অবস্থা বিরাজ করছিল যে, কেউ প্রকাশ্যে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতেও বিব্রত বোধ করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তখন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের হাসি-ঠাট্টা করতে শুনেছি। অবশ্য সব সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অথর্বতার কারণে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে এখনও ভিক্ষা করতে হয়, রিকশা চালিয়ে, ঠেলাগাড়ি ঠেলে, কামলা দিয়ে জীবন নির্বাহ করতে হয়। এটা জাতির জন্য লজ্জাকর। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধারা আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। শেখ হাসিনার সরকার সম্ভ্রম হারানো অনেক রমণীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে তাই বীর প্রতীক তারামন বিবি বলেন, ‘যে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যুদ্ধে গেলাম সেই বঙ্গবন্ধু কন্যারে আরেকবার না দেইখা মরলে শান্তি পামু না। আমার এহন শেষ ইচ্ছা শেখ হাসিনারে আরেক নজর দেইখা শান্তিতে মরতে চাই।’