উপসম্পাদকীয়, দৈনিক সংবাদ, ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮

সৌদিদের হামবড়া ভাব

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

বিশ্বে নিয়মিত কত ঘটনাই না ঘটছে। আমাদের ধারণা, তথ্যের অবাধ প্রবাহে কোন অপকর্ম লুকানো আগের মতো এখন আর সম্ভব হয় না। কিন্তু হরেক রকমের মিডিয়া থাকা সত্ত্বেও সংঘটিত সব খবর পাওয়া তত সহজ নয়। এখনও শত শত ঘটনা লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘটছে এবং সংঘটিত সব ঘটনা আলোকিত জগতে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এসব ঘটনার সত্যাসত্য উদ্ধারে অভিজ্ঞ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকদেরও গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়া যে বিষয়টি নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে তা হলো সাংবাদিক জামাল খাশোগির মুহূর্তে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সৌদি আরব বলছে, খাশোগি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন সত্য, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার বেরিয়ে গেছেন। অন্যদিকে তুরস্ক বলছে, খাশোগিকে কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে।

সৌদি আরব যে খাশোগিকে একজন বিপজ্জনক ব্যক্তি বলে গণ্য করেছে, সেই খাশোগি এক সময় সৌদি রাজতন্ত্রের উপদেষ্টা ছিলেন। জামাল খাশোগি পরবর্তীতে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের বিভিন্ন নীতি ও কর্মের ঘোর বিরোধী হয়ে উঠেন এবং একপর্যায়ে সরকারের অবাধ ক্ষমতা ও নানা কাজের কঠোর সমালোচনা শুরু করেন। যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান সৌদিদের জীবনে নানা ইতিবাচক সংস্কারের পথনির্দেশক হলেও তার বা রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোন সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। গারদের ভেতর ঢুকিয়ে সমালোচনার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুবরাজ সিদ্ধহস্ত। ক্ষমতা পেয়েই সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছিলেন। তখন অনেকে ধারণা করেছিলেন, যুবরাজ এসব ধরপাকড় করে তার বিরোধীদের একটা সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন। সমালোচকের ভাগ্যের পরিণতি জানতেন বলে জামাল খাশোগি ২০১৭ সালে সৌদি আরব ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানে স্বেচ্ছা-নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। আমেরিকায় গিয়েও তিনি সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে ওখানকার বিখ্যাত পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লেখা শুরু করেন।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুরস্কে আসেন সাংবাদিকতার দায়িত্ব নিয়ে। এই তুরস্কে রয়েছেন তার প্রেমিকা ও বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিস। খাশোগির আরেক বউ ছিলেন সৌদি আরবে; তিনি যে তাকে তালাক দিয়েছেন সেই তালাক সংশ্লিষ্ট প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহের নিমিত্তে খাশোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে আসেন। এই প্রত্যায়নপত্র পাওয়ার পর তিনি তার তুর্কি বান্ধবী হাতিস চেঙ্গিসকে বিয়ে করার মনস্থ করেন। ওই প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহার্থে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তাকে দুই দিন যেতে হয়েছিল। সৌদি সরকার তার উপর নজর রাখছিল বলে প্রথম দিন বিদায় করে দিয়ে কনস্যুলেট অন্য আরেকটি নির্ধারিত দিনে যেতে বলে দেয়। দ্বিতীয় দিন তার সঙ্গে তার বাগদত্তা প্রেমিকাও ছিলেন; কিন্তু বাগদত্তাকে কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশ করতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। যুক্তিসঙ্গত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও খাশোগি কনস্যুলেট থেকে ফেরত না আসাতে বাগদত্তার মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বান্ধবী হাতিস চেঙ্গিস দুপুর ১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কনস্যুলেটের বাইরে খাশোগির জন্য অপেক্ষা করে পরদিন সকালবেলা আবার কনস্যুলেট খোলার সময় উপস্থিত হন; কিন্তু খাশোগিকে বের হতে তিনি দেখেননি।

জামাল খাশোগিকে পরিকল্পনা করে সৌদি কনস্যুলেটে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করছে তুরস্ক। সৌদি আরব তুরস্কের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলছে, খাশোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তারা তার সম্পর্কে আর কিছু জানে না। কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ দিতে বললেও সৌদি আরব তাতে সম্মত হচ্ছে না। তুরস্কের বক্তব্য হচ্ছে, খাশোগির বেরিয়ে যাওয়ার সত্যতা সিসিটিভি ক্যামেরায় দৃশ্যমান হওয়ার কথা, কিন্তু সৌদি আরব প্রমাণ হিসেবে তা উপস্থাপন করছে না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তার দেশে এমন একটি অযাচিত ঘটনায় প্রায় ক্ষেপে উঠেছেন; তার অভিমত হচ্ছে, খাশোগিকে কনস্যুলেটের ভেতর খুন করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে সৌদি সরকার জড়িত। কিছুদিন পূর্বে সৌদি আরব থেকে তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তুরস্কের অভিযোগ। তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অবিরত দাবি করে যাচ্ছে যে, খাশোগিকে নির্যাতন করে শুধু হত্যা করা হয়নি, তার দেহ টুকরা টুকরা করে কেটে গোপনে কূটনৈতিক মিশন থেকে বাইরে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। তাদের ধারণা, দেহের হাড় কাটার ব্যাপারে অভিজ্ঞ লোকও ওই ১৫ সদস্যের মধ্যে সৌদি আরব থেকে আনা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তুরস্কের প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে বাদশা সালমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে ফোন করে তার রাগ প্রশমনের চেষ্টা করেছেন। তুরস্ককে তোষামোদ করে সৌদি বাদশাহ তুরস্ককে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে অভিহিত করে তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্টও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এখনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো ইউটার্ন বক্তব্য দেননি।

সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে তল্লাশি চালানোর অনুমতি চেয়ে প্রথমদিকে তুরস্ক সৌদি আরবের অনুমতি পায়নি; সারা বিশ্বের উদ্বিগ্ন মানুষ, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিবাদ লক্ষ্য করে সৌদি আরব পরিশেষে তুরস্ক ও সৌদি আরবের যৌথ তল্লাশিতে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, সৌদি আরবের দাবির সত্যতা প্রমাণের নিমিত্তে তারা রয়টার্সের সাংবাদিকদের কনস্যুলেট ঘুরিয়ে দেখায়। যৌথ তল্লাশির পর তুরস্ক বলছে যে, খাশোগিকে কনস্যুলেটের ভেতর খুন করার আলামত তারা পেয়েছে। সত্য ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রমাণিত কোন তথ্য বা স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে নানা কাহিনী প্রচারিত হতে থাকে। আল জাজিরার সংবাদে একবার বলা হলো যে, প্রচণ্ড চাপের মুখে সৌদি কর্তৃপক্ষ খাশোগি হত্যার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করতে যাচ্ছে। সিএনএনও অনুমানভিত্তিক একই খবর প্রচার করেছে বলে পত্রিকায় দেখলাম। একটি মিডিয়া এখন বলছে যে, সৌদি আরব খাশোগির হত্যাকাণ্ডের যুৎসই ও বিশ্বাসযোগ্য একটি ম্যানুফেকচার্ড ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে যাচ্ছে; ব্যাখ্যাটি হতে পারে এমন—যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগিকে আটক করে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছিলেন; কিন্তু সৌদি আরব থেকে আগত লোকেরা জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাকে ভুল করে হত্যা করে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম প্রথম বলতে থাকেন যে, সৌদি সরকার এ খুনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। এখন কিন্তু ট্রাম্পের সুর একটু ভিন্নতর; তিনি এখন বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে খুনি দুর্বৃত্তদের হাত আছে। এ মন্তব্য করার পূর্বে ট্রাম্প অবশ্য সৌদি বাদশা ও যুবরাজ সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে কিছুটা ধারণা পেয়েছেন। তারা নাকি ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, খাশোগির নিখোঁজ বা হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। ট্রাম্প তাই সৌদি আরবের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করতে হবে এমন নীতি তিনি মানেন না। সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বরাবরই ভালো। আমেরিকা সমর্থন পরিহার করলে সৌদি আরব কয়েক দিনও টিকতে পারবে না বলে ট্রাম্প কিছুদিন পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন। সৌদি আরবকে শক্ত কথা বলে হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ব্যবসা হারানোর মতো এত বোকা নন ট্রাম্প।

জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি রাজতন্ত্রের সমালোচনাকারীরা দেশের বাইরেও নিরাপদ নয় বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মন্তব্য করেছে। ইউরোপের অধিকাংশ লোক মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সৌদি যুবরাজের হাত রয়েছে। এ মাসেই সৌদি আরবে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন হওয়ার কথা; মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও অনেক বিনিয়োগ কোম্পানি সম্মেলনে যোগ দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরব ও তুরস্ক ভ্রমণ করেছেন। মার্কিন প্রশাসন সৌদির পক্ষে থাকলেও রিপাবলিকান সংসদ সদস্যদের অনেকে এ হত্যাকাণ্ডে সৌদি সরকারের হাত রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। সৌদির একনিষ্ঠ সমর্থক মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সৌদি যুবরাজকে ‘বিষাক্ত চরিত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর জামাল খাশোগি যে হত্যার শিকার হয়েছেন তার পক্ষে আরেকটি প্রমাণ একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছে; পত্রিকার বক্তব্য হচ্ছে, মৃত্যুর আগে জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড সংঘটনের মুহূর্তে জামাল খাশোগি নিজের হাতে পরা অ্যাপল ওয়াচের অডিও রেকর্ড অন করে রেখেছিলেন এবং তা কনস্যুলেটের বাইরে অপেক্ষমাণ বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিসের কাছে রেখে যাওয়া তার নিজের আইফোন ও অ্যাপলের আইক্লাউডের মাধ্যমে পাঠাতে পেরেছিলেন। পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হত্যার পর খাশোগির হাতের অ্যাপল ওয়াচ শনাক্ত করতে পারার পর হত্যাকারীরা প্রথমে সেটি নানা পাসওয়ার্ড দিয়ে আনলক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে পরিশেষে খাশোগির আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে লক খুলে কয়েকটি অডিও ফাইল মুছে দেয়; অবশ্য সব তথ্য নষ্ট করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে অ্যাপল ওয়াচে লক-আনলকের ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করে না বলে জানা যায়।

খাশোগির এমন নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোন ভৌতিক ব্যাখ্যা আজকাল কেউ গ্রহণ করবে না। অন্য দেশ থেকে বিরুদ্ধবাদীকে ধরে নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ইতোপূর্বেও ঘটেছে। ম্যানুয়েল নরিয়েগা ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত পানামার সামরিক শাসক ছিলেন। স্বার্থের দ্বন্দ্বে ১৯৮৯ সনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে পানামা থেকে ধরে আমেরিকায় নিয়ে যায়। মাদকদ্রব্য পরিবহন, ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা আদায় এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তার বিচার হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়; ফ্রান্সেও তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অ্যাডলফ আইকম্যানের কথা আমরা সবাই জানি। তিনি ছিলেন হিটলারের নাৎসি বাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং তিনি নির্বিচারে ইহুদি হত্যার জন্য দায়ী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি বাঁচার জন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। ১৯৬০ সালে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাকে আর্জেন্টিনা থেকে অপহরণ করে ইসরাইলে নিয়ে যায়। বিচার করে ইসরাইল তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। ধন-সম্পদের কারণে সৌদি আরবের একটু হামবড়া ভাব আছে। সৌদি আরবের রাজা-বাদশাহরা ইহুদি, নাসারাদের দেশে অহরহ ভ্রমণ করেন, এমনকি ভারতেও পদার্পণ করতে কার্পণ্য করেননি। কিন্তু বাংলাদেশে সৌদি আরবের কোন রাজা-বাদশাহ নাকি আজ পর্যন্ত আমাদের অগণিত আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও আসার গরজ বোধ করেননি। দরকার হলে আমাদের ডেকে নিয়ে যান। এরা যে এখনও তাঁবু সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি, তার স্বাক্ষর প্রতি মুহূর্তে তাদের জীবনধারায় অঙ্কন করে যাচ্ছে। বিমান এবং বিমানবন্দরে এদের আচরণ উগ্র। আমার কূটনৈতিক ভাইয়ের কাছে শোনা একটি ঘটনা এমন—বিমানে আমার ভাই প্রক্ষালন কক্ষে যাওয়ার পর এক সৌদি যাত্রী প্রক্ষালন কক্ষের দরজা পেটাতে থাকে। আমার ভাই দরজা খুলে দরজা পেটানোর কারণ জানতে চাইলে সৌদি যাত্রী বলে যে, ‘তুমি বের হও, আমি যাব’। অদ্ভুত আচরণ, এমন আচরণ কোন সভ্য লোক করবে না। আমার ভাই তাকে বললেন, ‘আমি তোমাদের অভিধায় মিসকিন নই, আমার প্রয়োজন শেষ হলে আমি বের হব, এমন অভব্য আচরণ কখনও আর করবে না।’ খাশোগিকে নিয়ে সৌদি আরব কী করেছে তা এখনও ধোঁয়াশা। এর জন্য তাদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান কত ক্ষতি হবে, তা অগ্রিম আন্দাজ করা কঠিন।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com