উপসম্পাদকীয়, দৈনিক সংবাদ, ঢাকা, রবিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৮।

যুদ্ধের অস্ত্র ধর্ষণ

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

এ বছর ৩৩১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মনোনয়নের মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন নাদিয়া মুরাদ এবং ডেনিস মুকওয়েগে। সংঘাত, সংঘর্ষ, যুদ্ধের সময় ধর্ষণকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের স্বীকৃতিস্বরূপ এ নোবেল পুরস্কার। নাদিয়া মুরাদ একজন ইরাকি রমণী; তাকে ২০১৪ সালে আইএস বা ইসলামিক স্টেটের উগ্রপন্থীরা ধর্ষণ করে। মেয়েরা ধর্ষিত হয়নি এমন একটি যুদ্ধও ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কিন্তু ইয়াজিদি নারীদের ওপর এ ধর্ষণ ছিল পরিকল্পিত; একটি ধর্মগোষ্ঠীকে অপমানিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এ ধর্ষণ চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে ডা. মুকওয়েগে কঙ্গোর একজন ধাত্রীবিদ্যা বিশারদ; তিনি কঙ্গোতে তার সহকর্মীদের নিয়ে হাজার হাজার ধর্ষিতা নারীর চিকিৎসা করেছেন।

আইএস বা ইসলামিক স্টেট অকস্মাৎ ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তারপর সৌদি আরব, ইরান, তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় দেশসহ কয়েকটি দেশ একযোগে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। সেই যুদ্ধ চলার সময় নয়-দশ বা এর বেশি বয়সী মেয়েদেরসহ নাদিয়া মুরাদকে ইসলামিক স্টেটের উগ্রপন্থী মুসলমানরা বন্দুকের মুখে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তিন মাস আটকে রাখে এবং যৌন-দাসী হিসেবে ব্যবহার করে। এমনকি তারা প্রবীণ মহিলাদেরও ছাড়েনি। নাদিয়ার মাও প্রবীণ ছিলেন। তার মাসহ পরিবারের সদস্যদের কোথায় নিয়ে কী করেছে, তার খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি। তবে যুদ্ধ শেষে তাদের গ্রামে গণকবর দেখা গেছে।

যুদ্ধের প্রথমদিকে আইএস-খেলাফতিরা দ্রুতগতিতে ইরাক ও সিরিয়ার একটি বিস্তৃততর এলাকা দখল করতে সমর্থ হয়। আইএসদের সমর্থনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে মুসলমান ইরাক ও সিরিয়া গমন করায় আইএসের শক্তি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। অন্যদিকে যুদ্ধে পরিশ্রান্ত আইএসদের মনোরঞ্জনের জন্য, তাদের যৌনক্ষুধা মেটানোর উদ্দেশ্যে অনেক অবিবাহিত যুবতী মুসলমান রমণী পাশ্চাত্য থেকে ইরাক ও সিরিয়ায় গমন করে। যৌনক্ষুধা মেটানোর জন্য স্বেচ্ছায় মেয়েরা আইএসদের কাছে ধরা দিলেও এমন মেয়ের সংখ্যা পর্যাপ্ত ছিল না। এ অবস্থায় নিজ দেশের মেয়েদেরও তারা যৌনদাসী বানিয়ে অস্ত্রের মুখে রাত-দিন ভোগ করেছে। উত্তর ইরাকের একটি ক্ষুদ্র অংশে ‘ইয়াজিদি’ নামে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বাস। তাদের বক্তব্য মতে, সারা পৃথিবীতে এ সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা আট লাখ; কিন্তু অনেকের মতে তাদের লোকসংখ্যা ছয় বা সাত লাখের বেশি হবে না। ইয়াজিদিদের বসতি এলাকা দখল করেই আইএসের উগ্রপন্থীরা শুরু করে খুন, ধর্ষণ, লুটপাট। এরপর তারা ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের যুবতী-নারী, তরুণী, কিশোরীদের তুলে নিয়ে যায়। তুলে আনার সময় গাড়িতে আইএসদের আচরণ সম্পর্কে নাদিয়া বলেন, ‘পুরো রাস্তায় ওরা আমাদের বুকে হাত দিচ্ছিল, দাড়ি ঘষছিল আমাদের গালে।’

আইএসদের শিবিরে নিয়ে যতদিন ভালো লেগেছে ততদিন নিজেরা ইয়াজিদি মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, পরে তাদের যৌনদাসী হিসেবে সৌদি আরব, তিউনেসিয়া থেকে আগত ধনী লোকদের কাছে দেহ বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। ধর্মে মানুষ বেচাকেনা নিষিদ্ধ না হওয়ায় গরু, ছাগল বিক্রির হাটের মতো নাদিয়াসহ বহু মেয়েকে বিক্রির জন্য একটি হাটে নেয়া হয়। ওই হাটে মেয়েদের কেনার জন্য ক্রেতার কোন অভাব ছিল না। মোটা, কুৎসিত এক ক্রেতা নাদিয়ার পেটে সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকা দিয়ে তার পছন্দের বার্তা জানিয়ে দেয়। লোকটি ক্রয় করেই নাদিয়াকে টেনেহিঁচড়ে কাছেই একটি সিঁড়ির তলায় নিয়ে চেপে ধরে ধর্ষণ করে। নাদিয়ার দলে তার চেয়ে কমবয়সী তার তিন ভাইঝিও ছিলেন।

ধর্ষণের এমন পালাবদল সহ্য করতে না পেরে বহু ইয়াজিদি নারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। জঙ্গিদের অদ্ভুত ধর্মদর্শন হচ্ছে—ধর্ষণের আগে সংশ্লিষ্ট নারীকে অজু ও প্রার্থনা করিয়ে নেয়া হতো। অন্যান্য মেয়েদের মতো নাদিয়া আত্মহত্যার কথা একবারও ভাবেননি; কিছুদিন পর তার কাছে ধর্ষণের যন্ত্রণা গতানুগতিক মনে হয়েছে। তবে নাদিয়াও অবিরত ধর্ষণ থেকে বাঁচার জন্য পালানোর চেষ্টা করে একবার ধরাও পড়েছেন। ধরা পড়ার পর তার ওপর নেমে আসে গণধর্ষণ। পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়লে গণধর্ষণ করা হবে মর্মে আইএসদের একটি অলিখিত আইন ছিল। এমন গণধর্ষণের শিকার হয়েও নাদিয়া পালিয়ে মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা ছাড়েননি; একদিন পালানোর সুযোগ পেয়েই তিনি সাহস করে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে পালিয়ে অন্ধকারে এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন; আশ্রয়দাতা নাদিয়াকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের দখল এলাকার বাইরে পৌঁছে দেন। অতি কষ্টে শেষপর্যন্ত ২০১৫ সনে নাদিয়া জার্মানির একটি শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় পান।

নাদিয়া বিভিন্ন মিডিয়ায় বহুবার সাক্ষাৎকার দিয়ে জঙ্গিদের নির্বিচারে গণহত্যা ও গণধর্ষণের বর্ণনা দিয়েছেন। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, জনে জনে বিরক্তিকর ও অপমানজনক এসব কাহিনী নিজমুখে বর্ণনা না করে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে একটি বই লেখা অনেক শ্রেয় হবে। জীবনের এমন মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীকে জানাতে তাই লিখলেন, ‘দ্য লাস্ট গার্ল’ যা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়। শুধু বই লিখে তিনি বসে থাকেননি, নির্বিচারে সংঘটিত বিভিন্ন ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘নাদিয়াস ইনিশিয়েটিভ’ সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গিয়ে নিজের জীবন এবং ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। নিজের দেহের ওপর আইএস সুন্নি মুসলমানদের লালায়িত বীভৎস ধর্ষণের কথা গোপন না করে নাদিয়া যে ঝুঁকি নিয়েছেন, সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তারই স্বীকৃতি এ নোবেল পুরস্কার। ত্রিশ বছর বয়সী মানবাধিকারকর্মী আবিদ সামদিন পঁচিশ বছর বয়সী জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত নাদিয়াকে বিয়ে করার ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছেন।

ইসলামিক স্টেট বা আইএস সুন্নিদের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের প্রতি নির্মম হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে—মুসলমানদের মধ্যে শিয়া, সুন্নি উভয় সম্প্রদায় ইসলামের পঞ্চম খলিফা মুয়াবিয়ার ছেলে ইয়াজিদকে পছন্দ করে না। অনেকে ইয়াজিদি নাম শুনেই মনে করে থাকে এরা বোধহয় ইয়াজিদির (এজিদ) বংশধর। আমাদের নবী করিম (সা.)-এর নাতি ইমাম হোসেনের হত্যাকারী ইসলামের ষষ্ঠ খলিফা ইয়াজিদ সুন্নি ও শিয়া উভয় সম্প্রদায়ের মুসলিমদের কাছে ঘৃণিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এজিদের সঙ্গে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের কোন সম্পর্ক নেই। এতদসত্ত্বেও নামের সঙ্গে মিল থাকায় এদের প্রতি লালিত ঘৃণা থেকে যুদ্ধের সুযোগে আইএসের মুসলমানরা ইয়াজিদি সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সর্বাত্মক নির্যাতন করে।

ইসলাম ধর্মের রীতিনীতির সঙ্গে ইয়াজিদিদের পালিত ধর্মের কিছুটা মিল থাকার কারণেও শিয়া, সুন্নি কোন মুসলমান এদের সহ্য করতে পারে না। ধর্মীয় গোষ্ঠী ইয়াজিদি সম্প্রদায় শয়তান মালিক তাউসের উপাসক। ইয়াজিদিদের শয়তান মালিক তাউসের সঙ্গে ইসলাম ধর্মে বর্ণিত শয়তানের আদমকে সেজদা না করার ঘটনার মিল রয়েছে। ইয়াজিদিদের মতে, শয়তান ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করে কোন অন্যায় করেনি; কারণ ঈশ্বরের বদলে অন্য কাউকে সেজদা করার ব্যাপারে ঈশ্বরেরই নিষেধ রয়েছে। তাদের মতে, আদমকে সেজদা না করার জন্য ঈশ্বর শয়তানকে শুধু তার অপরাধ ক্ষমা করেননি, প্রশংসাও করেছেন। ইয়াজিদিদের মতে, স্রষ্টা আদমকে সেজদা করতে বলে ফেরেশতাদের ইমান পরীক্ষা করেন এবং সেই ইমানি পরীক্ষায় শুধু মালিক তাউস উত্তীর্ণ হন। ইয়াজিদিদের বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা পুরো বিশ্বকে সৃষ্টি করার পর সাতটি পবিত্র আত্মার হাতে এর দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। এদের মধ্যে স্রষ্টার সবচেয়ে নিকটতম আত্মাটির নাম হলো মালিক তাউস। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম অনুসারে মালেক তাউস আসলে শয়তানের অপর নাম। ইমানি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ইয়াজিদিরা কিন্তু মালিক তাউসকে আর শয়তান হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ। তাদের মতে, মালিক তাউস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্রষ্টা নিজে জগৎ পরিচালনা না করে তার পরিচালনার দায়িত্ব মালিক তাউসের ওপর অর্পণ করেছেন। তাদের উপাস্য দেবতা এ মালিক তাউস অপর ছয়জন ফেরেশতার মাধ্যমে জগতের সব কিছু পরিচালনা করছেন। ইয়াজিদিরাও দিনে পাঁচবার প্রার্থনা করে; তবে দিনের সব প্রার্থনা সূর্যের দিকে ফিরে করা হয়। ডিসেম্বর মাসে তারা তিন দিন রোজা রাখে। খতনা দেওয়ার প্রথাও তাদের মধ্যে রয়েছে। বুধবার হচ্ছে তাদের পবিত্র দিন এবং শনিবার বিশ্রাম দিবস। এ ধর্মের প্রবর্তক হচ্ছেন শেখ আদি ইবনে মুসাফির। প্রত্যেক ইয়াজিদি তাদের জীবদ্দশায় একবার ইরাকে অবস্থিত শেখ আদির মাজারে সাত দিনের তীর্থ ভ্রমণে যায়। এ সময়ে তারা একটি ষাঁড় কোরবানি করে। আরবিতে লেখা তাদের দুটি ধর্মগ্রন্থ রয়েছে এবং ধর্মগ্রন্থ দুটি শয়তান মালিক তাউসের বাণী দ্বারা সমৃদ্ধ। তাদের ধর্মীয় প্রথাগুলো তাদের নিজস্ব ও মৌলিক হলেও তারা কোরআন এবং বাইবেল উভয় ধর্মগ্রন্থকে সম্মান করে থাকে।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এমন কতগুলো ক্ষুদ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে কিছু মুসলমানের আন্দোলন দেখা যায়; এদের অমুসলমান ঘোষণা করার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু সরকার কাউকে মুসলমান বা অমুসলমান ঘোষণার অধিকার রাখে কি না, আমার জানা নেই। পাকিস্তান সরকার একটি ধর্মগোষ্ঠীকে ইতোমধ্যে অমুসলমান ঘোষণা করেছে। ধর্মবিশ্বাস বিচার করে যখন ধর্ষকের ধর্ষণের প্রবৃত্তি জন্মায় তখন বুঝতে কারও কষ্ট হয় না যে, ধর্ষক ধর্মীয় উন্মাদনায় উন্মাদ। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নির্বিশেষে সব রমণীকে ধর্ষণ করলেও হিন্দু রমণীদের প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল সীমাহীন। মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ করেছে। সেনাদের এ ধর্ষণ শুধু যৌনক্ষুধা মেটানোর তাগিদে হয়নি; হয়েছে একটি জাতি, সম্প্রদায়কে কলুষিত ও অপমানিত করার জিঘাংসাজাত আক্রোশ থেকে। ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের প্রতি এমন নৃশংস আচরণের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে উগ্রপন্থী এক আইএসের উত্তর ছিল—‘ইয়াজিদিরা কাফের, তারা যুদ্ধের উচ্ছিষ্ট। ইয়াজিদিদের সমূলে উপড়ে দেয়াই আমাদের কাজ।’ যুদ্ধের উচ্ছিষ্ট বা গনিমতের মাল হিসেবে মেয়েদের গণ্য করার কারণেই পাকিস্তানি সেনারাও বাঙালি মেয়েদের ধর্ষণ করার মওকা পেয়েছিল। ধর্মের নামে যখন এমন বর্বর আচরণ হয় তখন মানবতা অস্ত্রের মুখে নিভৃতে কাঁদে, ভুক্তভোগীরা সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ করার পাশাপাশি মানুষের দরবারে ছোটাছুটি করতে থাকে। এমন একটি ছোটাছুটির জন্য নাদিয়া আজ নোবেল পুরস্কারে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে সমাদৃত।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com