উপসম্পাদকীয়, দৈনিক সংবাদ [ঢাকা, রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮]
কিশোর মাস্তান
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখের সংবাদ পত্রিকার খবর হচ্ছে, রাজধানীতে কিশোর অপরাধ বাড়ছে, গ্রুপে গ্রুপে দ্বন্দ্বে খুনোখুনি হচ্ছে, দক্ষিণখানে মেহেদী হত্যায় ৮ কিশোর গ্রেফতার। পত্রিকায় প্রায়ই দেখি, রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় টিনএজ বখাটেদের জ্বালায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে; তাদের ভয়ে কেউ টুঁ শব্দটি করতে পারছে না, প্রতিশোধ গ্রহণের ভয়ে কেউ থানা পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে না। এদের উৎপাত বেড়ে যায় ঈদ-পার্বণে। অনেকদিন পূর্বে পত্রিকায় দেখেছিলাম, সীমান্ত পথে প্রচুর ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র আসছে। পুলিশের ধারণা এ সব ক্ষুদ্র অস্ত্র কিশোর অপরাধীরা বেশি ব্যবহার করছে। পাড়ার বড় মাস্তানরা এসব রিভলবার, পিস্তল চাঁদাবাজি করতে কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছে। বড় মাস্তানের সহযোগী হিসেবে এই কিশোরেরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় এ সব ক্ষুদ্র অস্ত্র দেদার ব্যবহার করছে। চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধীরা চেকপোস্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। পাড়ার ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে বীরত্ব দেখাচ্ছে। এ বছরের সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এদের অস্ত্রের মহড়া আরও বেড়ে যেতে পারে। কম বয়সী এই কিশোরেরা প্রথম প্রথম দল বেঁধে পাড়ার রাস্তায় বিনা কারণে খুব দ্রুত চলাফেরা করে; রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইলে বা নিজেদের মধ্যে কথা বলে, হাসাহাসি করে। এভাবে কিছুদিন চলাফেরা করে এলাকায় নিজেদের গ্যাং-গ্রুপের সক্রিয়তা ও অস্তিত্ব জাহির করে। এই উঠতি টিনএজাররা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে যে কোন অপরাধ করছে। এই উঠতি গ্যাং-গ্রুপের সদস্যদের জ্ঞান-গরিমা কম বলে হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধেও এরা বিচলিত হয় না; কোমরে অস্ত্র থাকায় চলাফেরা-কথাবার্তায় ড্যামকেয়ার ভাব পরিলক্ষিত হয়।
এই কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপ আছে; গ্রুপগুলোর নাম অদ্ভুত—সেভেন স্টার, কিংস অব উত্তরা, গ্যাং অব নিউ স্টার, বিগ বস গ্রুপ, ব্ল্যাক ওয়ার্ল্ড, দাদা বয়েজ, অল টাইম কিং, ঢাকাইয়া গ্যাংস্টার, পাওয়ার বয়েজ, ডিসকো বয়েজ, নাইন স্টার, নাইন এমএম, সেভেন এমএম, নাইন স্টার, পাওয়ার বয়েজ, ডার্ক শ্যাডো, সেভেন এমএম ইত্যাদি। বহুদিন আগে উত্তরায় কিশোর আদনান কবিরের হত্যার পর পক্ষ-বিপক্ষ আবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের সগৌরব অস্তিত্বের ঘোষণা দিয়েছিল। হকিস্টিক হাতে নীল রঙের পোশাকে খুনিরা সবাই নাকি ফেসবুকে গ্রুপ ছবি পোস্ট করে আদনানকে হত্যা করার জন্য বের হয়। আবার আদনানের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর আবার একজন নাকি পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়েছে, ‘ভাই, তোর খুনিগো বাইরে কইরা জবাই দিমু’। বহুদিন ধরে এই কিশোরদের মারদাঙ্গা উৎপাত উত্তরাবাসী সবার নজরে এলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে বাইরে ছিল। এই উদাসীনতা কেন? তারা সম্ভবত অপেক্ষা করছিল একটি লাশের।
কিশোর মাস্তানদের প্রথম ও প্রধান শখ একটি মোটরসাইকেল; এক এক মোটরসাইকেলে কমপক্ষে তিন জন করে চড়বে আর বিকট শব্দে হর্ন বাজাতে বাজাতে প্রচণ্ড গতিতে চালিয়ে পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করাবে। বড় ভাইদের হালচাল ও বেপরোয়া চলাফেরার অপ্রতিরোধ্য গতি লক্ষ্য করে ছোট ভাই কিশোরেরা বেপরোয়া হওয়ার প্ররোচনা পেয়ে থাকে। প্রচণ্ড ক্ষমতাধর এই গ্যাং কিশোরদের আত্মসম্মানবোধ এত তীব্র যে, কারো সামান্যতম প্রতিবাদে ক্ষেপে গিয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নির্বিশেষে সবাইকে চড়-থাপ্পড় মেরে সবার সামনে অপমান করতে একটু দ্বিধা করে না। সমবয়সী কিছু কিশোর মিলে হম্বিতম্বি করার এই কালচার এক সময় আরও খারাপ ছিল। কিছুদিন ধরে কিছুটা কমলেও এখন আবার বাড়ছে।
আমরাও কিশোর বয়সে দল বেঁধে চলাফেরা করতাম। স্কুল বন্ধ থাকলে আমরা বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অভিভাবকদের ফাঁকি দিয়ে ভর দুপুরে খেলাধুলার জন্য বেরিয়ে পড়তাম।
গ্রামে থাকতাম বলে যেখানে যত দূরেই যাই না কেন সবাই চিনত। আমরা হকিস্টিক দেখিনি, পিস্তলের নামও ভালো করে জানতাম না। আমাদের মধ্যে ঝগড়া হলে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি হতো; আবার পরদিন সব ভুলে একত্রে খেলতাম। দল বেঁধে আমরা পাড়া-প্রতিবেশীর বাগানের ফল চুরি করতাম। খেলাধুলা করতে গিয়েও অভিভাবকদের বকুনি খাওয়ার ভয়ে থাকতাম। কিন্তু এখন পাড়া বা মহল্লার মুরব্বি বা গুরুজনদের কিশোর মাস্তানরা থোড়াই কেয়ার করে; সবার সম্মুখে অবলীলায় সহিংসতায় মেতে ওঠে। সব সময় সর্বত্র তারা অভিনব কায়দায় চমক সৃষ্টি করতে পছন্দ করে।
উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত—সব বিত্তের ছেলেদের এই মাস্তানিতে দেখা যায়। কোন কোন কিশোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাঁচার প্রয়োজনে মাস্তানদের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। স্কুল, কলেজ বা কোন কাজ না থাকলে এদের সময় কাটানোর একটিই পথ এবং তা হচ্ছে দল বেঁধে মাস্তানি করা, চলার পথে মেয়েদের বিরক্ত করা। অনেক সময় পরিবার থেকে বঞ্চনা পেয়েও অনেক কিশোর মাস্তানির দলে ভিড়ে যায়। পরিবার বা সমাজে অচ্ছুত, অবহেলিত একজন কিশোর মাস্তানদের দলভুক্ত হয়ে বীরত্ব জাহিরের একটা সুযোগ পেয়ে যায়; রাস্তা-ঘাটে তাকে যখন সবাই সমীহ করতে থাকে তখন সে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে থাকে। এদের দাপট দেখানোর অহংবোধ এত বেশি যে, সামান্য কারণে এরা যে কাউকে খুন করতে পারে, সামান্য ঝগড়া রূপ নেয় খুনাখুনিতে। আজকাল এরা গোপনে মাদক সেবন করে না, রাস্তায় সবার সম্মুখে নির্লিপ্তভাবে সেবন করে থাকে। অন্ধকারে ঘুপচি মেরে খাওয়ার চেয়ে তীব্র আলোতে সবার সম্মুখে মাদক সেবন করা অনেক নিরাপদ ও অহংবোধের।
আমাদের মতো যারা প্রায় বস্তি এলাকায় বসবাস করি তাদের জীবনে অহরহ মাস্তানের উৎপাত রয়েছে। এই মাস্তানেরা তাদের অপারেশনে শিশুদেরও নিয়োজিত করে থাকে। অপারেশনের স্থান থেকে আধা কিলোমিটার ব্যাপী শিশুদের চেকপোস্ট হিসেবে নিয়োজিত রাখে; শিশুদের কেউ সন্দেহ করে না বলে এরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের আগমন দূর থেকে মাস্তানদের মোবাইলে জানিয়ে দিয়ে থাকে। পুলিশের আগমন টের পেলে বড় মাস্তানরা অস্ত্রটা তাদের নিয়োজিত শিশুদের কোমরে গুঁজে দিয়ে ধীরে ধীরে এলাকা ত্যাগ করে। তাদের নিয়োজিত শিশুগুলোকে এসব কাজে স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয়। বস্তির এই শিশুরা একটা চকোলেট বা এক প্যাকেট বিস্কিট পায়।
আমাদের গলিতে প্রায় ১৫ বছর আগে একবার একটি কিশোর গ্যাং তাদেরই দলভুক্ত একজনকে অসহনীয় নির্যাতন করে; ছেলেটিকে শুইয়ে ইট দিয়ে আঘাত করে হাত-পা ভেঙে দেয়। পরে জানা গেল, গ্যাং-এর সর্দারের নির্দেশ সত্ত্বেও ছেলেটি তাদের একটি অপারেশনে অংশ না নিয়ে মারাত্মক অপরাধ করেছে। পাড়ার কারো ফোন পেয়ে পুলিশ আসে, কিন্তু কারো মুখ থেকে একটি কথাও বের হয়নি। এক বুড়িমাকে পেয়ে পুলিশ সংগঠিত সন্ত্রাস সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িমা পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। অবোধ বুড়িমা। পুলিশ স্থান ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে মাস্তানরা এসে বুড়িমাকে নির্মমভাবে পেটালো, চিৎকার করে বুড়িমা কত সাহায্য চাইল—আমরা সবাই দরজা-জানালা বন্ধ করে থাকলাম।
পাড়ার দুয়েকজন মাস্তানের সঙ্গে অন্য পাড়ার মাস্তানের মিলে গ্যাং তৈরি করে থাকে। এদের এড়িয়ে চলারও কোন উপায় থাকে না; বাসার সম্মুখে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়।
কোন লোক ক্রসফায়ারে মারা গেলে অথবা সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গুলিবিদ্ধ হলে পুলিশের তরফ থেকে একটি কমন বিবৃতি হচ্ছে, ‘মৃত লোকটি এলাকার সন্ত্রাসী ছিল, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল, তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা ও দশটি চাঁদাবাজির মামলা আছে’ ইত্যাদি। অদ্ভুত লাগে, এমন একটি অপরাধী মরার আগে বাইরে থাকলো কীভাবে? হতে পারে, জামিনে বেরিয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে কিছু বলা নিষিদ্ধ। তাহলে সাক্ষী দিয়ে বা প্রতিবাদ করে বুড়িমার মতো কেউ মার খাওয়া ডেকে আনতে আগ্রহী হবে না।
পত্রিকা খুললেই শুধু নিষ্ঠুরতার খবর; আমরা ভাগ্যবান যে, বেশিরভাগ শিশু-কিশোরেরা পত্রিকা পড়ে না। কিন্তু আজকাল শিশু, কিশোর, যুবক, যুবতীরা ইন্টারনেটের বদৌলতে জঘন্য হিংস্র ঘটনা অবলীলায় দেখে থাকে। আমাদের দেশে অপরাধ করার পর অপরাধীকে ধরার চেষ্টা করা হয়।
অপরাধীকে ধরে তার বিচার নিয়ে যতটা কসরত, অপরাধ রোধের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণে ততটা প্রয়াস দেখা যায় না। কিন্তু উন্নত দেশগুলো পুরনো অপরাধীদের ডাটাবেস সংরক্ষণ করে এবং তাদের উপর নজর রাখে। আমাদের দেশে এমন কোন ডাটাবেস আছে কি না আমার জানা নেই।
ঢাকা শহরে পাড়ায় পাড়ায় এই কম বয়সী কিশোরেরাই নির্ভীক চিত্তে সব অঘটন ঘটাচ্ছে। পরিবার বা সমাজের অবহেলা এদের মারমুখী হতে সহায়তা করে থাকে। অপরাধ করার পর বড় ভাইদের অবাধ চলাফেরা শিশু-কিশোরদের অপরাধোত্তর শাস্তির ভীতি থাকে না এবং সন্ত্রাস করে ইনডেমনিটি পাওয়ার অহংবোধের প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকে কোন দুর্বলের ওপর নির্যাতন করে। পাড়ার কিশোর মাস্তানদের এই নিষ্ঠুর আক্রোশগুলো ঘটতে ঘটতে সবার কাছে এক সময় স্বাভাবিক বলে মনে হতে থাকে। নিম্নবিত্তের শিশুরা বেশিরভাগ সময় রাস্তায় সময় কাটায় বলে মাস্তানদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পায়। এই শিশুগুলোর মাস্তানির প্রথম ছবক হয় রাস্তার নিরীহ কুকুর-বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের মধ্য দিয়ে। রাস্তায় কুকুর দেখলেই এরা তাদের লক্ষ্য করে ঢিল মারে অথবা লাঠি দিয়ে বাড়ি মারে। খেলাচ্ছলে এই এনিমেল এবিউজ তাদের এক সময় হিংস্র করে তোলে।
জঙ্গিদের জঙ্গিপনায়ও শিশু-কিশোরদের বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় ১৪ বছরের এক কিশোর চাকু নিয়ে তেড়ে এসেছিল। নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম গোষ্ঠী তাদের যুদ্ধে শিশু-কিশোরদের মানববোমা হিসেবে ব্যবহার করছে।
জার্মানির এক সাপ্তাহিকীর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রায় পনের শত শিশুকে আইএস তাদের যুদ্ধে ব্যবহার করেছে। তখন আইএস কর্তৃক প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো কাপড়ে ঢাকা মাথা এবং সামরিক পোশাক পরিহিত দশ-এগার বছরের পাঁচ শিশু তাদের সম্মুখে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা কমলা রঙের পোশাক পরিহিত পাঁচ কুর্দি বন্দিকে গুলি করছে। এই শিশু-কিশোরেরা সম্পূর্ণ পরিস্থিতির শিকার কি না তাতে আমার সন্দেহ আছে। পারিবারিকভাবে লালিত আদর্শে উদ্বুদ্ধ হলে এ সকল আদর্শিক যুদ্ধে কোন প্ররোচনা ছাড়াই জড়িয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত গুলি করে মানুষ হত্যার রোমাঞ্চ তো আছেই। হিতাহিত জ্ঞান না থাকায় এরা অকম্পিত হাতে খুন করতে পারে। তবে অন্য ধর্ম, অন্য তরিকার মানুষদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির জন্য বয়সী লোকেরাই দায়ী।
যে কোন অপরাধের কার্যকর শাস্তি দিতে হবে খুব দ্রুত। আমাদের দেশে রোমহর্ষক কোন ঘটনা সংঘটনের পরপর খুব আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু অল্প কিছুদিন পর সব উবে যায়। একদিকে দীর্ঘ সময়ব্যাপী তদন্ত চলে অন্যদিকে আদালতে যাওয়ার পর কখন রায় হবে তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। কয়েক বছরের ব্যবধানে জনগণ যখন ঘটনাটি ভুলে যায় তখন অভিযুক্তদের ফাঁসি হলেও কোন প্রতিক্রিয়া হয় না; শাস্তির স্মৃতি বিলীন হয়ে যায় বলে সন্ত্রাসীরা শাস্তির ভয়াবহতা নিয়ে মোটেই ভীত হয় না। অপরাধের দ্রুত বিচারের আবশ্যকতা নিয়ে সভা, সেমিনারে যত বক্তব্য উচ্চারিত হয়েছে তা দিয়ে বই ছাপা হলে সেই বইগুলো দিয়ে একটি লাইব্রেরি গড়া যায়। দ্রুত বিচার ভবিষ্যতের অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখলেও দ্রুত বিচারের কোন পথ আজও উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি। শাস্তি প্রদানে দেরি হলে অপরাধ প্রবণ লোকদের ওপর এর প্রভাব আর থাকে না।
সভ্য জগতে জনসম্মুখে শাস্তি দেওয়ার রীতি নেই; থাকলেও তা কিছুদিনের মধ্য গতানুগতিক হয়ে যেত। সৌদি আরবে খোলা মাঠে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, কিন্তু তাতে অপরাধ ওই দেশ থেকে তিরোহিত হয়ে যায়নি। জনসম্মুখে শাস্তি দেওয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে দেখেছিলাম; দক্ষিণ আমেরিকা বা আফ্রিকার কোন একটি দেশে সংঘটিত ঘটনাটিতে দেখা যায় যে, সাইরেন বাজিয়ে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গাড়ি করে এসে জনসম্মুখে উপুড় হয়ে শুয়ে রাখা একটি লোকের পিঠের ওপর রাইফেল ঠেকিয়ে পাঁচ জায়গায় পাঁচটি গুলি করছে। শিশু ধর্ষণের কারণে জনসম্মুখে এই শাস্তি দেওয়া হয়। শাস্তি প্রদানের এমন ব্যবস্থা আমাদের দেশে চালু করা যাবে না। তবে জনগণকে সচেতন করতে বা অপরাধপ্রবণ মানুষদের মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় কঠোর ও দ্রুত শাস্তির ব্যাপক প্রচার খুব জরুরি।
[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
eauddinahmed@gmail.com