উপসম্পাদকীয়
‘সংবাদ’-এর বয়স ৬৭ বছর
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
[ঢাকা, রবিবার, ২৯ জুলাই ২০১৮]
সতের জুলাই তারিখের ‘সংবাদ’ পড়তে গিয়ে দেখলাম, সংবাদ পত্রিকাটি ৬৮ বছরে পা দিয়েছে। একটি পত্রিকার টিকে থাকার জন্য ৬৮ বছর সত্যিই দীর্ঘ সময়। সংবাদ পত্রিকার আগে আলাদা একটা মান ও ওজস্বিতা ছিল। এখন মনে হয় কালের বিবর্তনে পাঠকের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। আগে সমাজ ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা সংবাদ পড়তো। কোন বাসায় ড্রয়িং রুমে সংবাদ দেখলে বুঝতাম, পাঠক জ্ঞানী-গুণী ও সমাজসচেতন ব্যক্তি। সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদে যাদের একটু দরদ ছিল তারা সংবাদ পড়তো। পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়, অত্যাচারের সঠিক তথ্য পাওয়া যেত এ সংবাদে। কোন ব্যক্তির হাতে এ পত্রিকাটি দেখলে তার প্রতি সমীহ জাগতো। সমাজের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এ পত্রিকা। ধর্মের নামে অধর্মের এবং উৎপীড়নের বিরুদ্ধে কলম ধরতো এ পত্রিকার কলামিস্টেরা। দরবার-ই-জহুরের লেখক জহুর হোসেন চৌধুরী এবং বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তার লেখক আবু জাফর শামসুদ্দীন সংবাদ পত্রিকাটিকে বোদ্ধা পাঠকদের নিকট জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। এদের মতো কলামিস্ট এখন খুব কম দেখা যায়। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘গাছপাথর’ও সংবাদের ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল। দরবার-ই-জহুর এবং বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তার লেখক বহু আগে প্রয়াত হয়েছেন।
শুনেছি, কয়েকটি পত্রিকা ব্যতীত অন্য পত্রিকাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন দিতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে। জনপ্রিয় অনেক কলামিস্ট দীর্ঘদিন সম্মানী না পেয়ে আমাদের মতো পাঠকদের পছন্দনীয় পত্রিকায় কলাম লেখা অব্যাহত রাখতে পারেননি। পারার কথাও নয়, তাদেরও সংসার আছে, এ সংসার চালাতে তাদেরও কিছু টাকার দরকার হয়। আর্থিকভাবে দুর্বল পত্রিকাগুলো শখের বশে লেখা থেকে মানসম্পন্ন লেখা বেছে নিয়ে পত্রিকার পাঠকদের পরিবেশন করছে। এতে পত্রিকায় একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিপুলসংখ্যক টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিকশিত হওয়ার কারণে বেসরকারি বিজ্ঞাপন থেকে সংবাদপত্রের আয় কমেছে। প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তির অভাবে কিছু পত্রিকা আমাদের দেশে লোকসান দিলেও পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে মুদ্রিত পত্রিকা বিনামূল্যেও বিতরণ করা হয়। বাস স্টপেজ বা ট্রেন স্টেশনে রেখে যাওয়া বিনামূল্যের পত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান শিরোনামে চোখ বুলিয়ে যাত্রীরা আবার তা ডাস্টবিনে রেখে গন্তব্যস্থলে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে চলে যায়।
মুক্তবাজার অর্থনীতির ফর্মুলা অনুযায়ী কোন ব্যবসা লাভ করতে না পারলে তার অবসান হওয়ার কথা। কিন্তু তা আমাদের দেশের পত্রিকার ক্ষেত্রে হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারণ পত্রিকাকে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুললেও তারা আবার তাদের অন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবেও পত্রিকাকে ব্যবহার করছে। আমার কাছে পত্রিকা পাঠকের কোন পরিসংখ্যান নেই; ধারণা করছি, সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সন বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ থাকায় পাঠকের সংখ্যা বাড়লেও মুদ্রিত পত্রিকার পাঠকসংখ্যা কমেছে। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, একদিকে মুদ্রিত পত্রিকার পাঠকের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে পত্রিকার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পত্রিকার মালিক হওয়ার মধ্যে একটা আনন্দ আছে, অহংকার আছে, এর মাধ্যমে পত্রিকার মালিকের সামাজিক মর্যাদা বেড়ে যায়। দেশের অনেক ধনী ব্যবসায়ী তাই লোকসান দিয়েও পত্রিকার মালিক হচ্ছেন।
বাংলাদেশের পত্রিকা নিয়ে সংসদে তথ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ঢাকা শহর থেকে প্রতিদিন ১৪৬টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। আরেক লেখায় দেখলাম, ঢাকা থেকে ৪৭০টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। অনলাইন সংবাদপত্রের হালনাগাদ কোন তথ্য কোথাও পাইনি; তবে অনলাইন পত্রিকা হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ২০১৮টি আবেদন পাওয়া গেছে মর্মে সংসদে তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে সারা দেশে নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৩০২৫টি; এরমধ্যে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১১৯১টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ১১৭৫টি, পাক্ষিক ২১২টি, মাসিক ৪০৪টি ইত্যাদি। অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৪৫টি। প্রদত্ত পরিসংখ্যান শুধু ধারণা নেয়ার জন্য, তাই সত্য সত্য যাচাই করার প্রচেষ্টা নিইনি। দেশের এমন অসংখ্য সংবাদপত্রের সবগুলো পাঠকের নিকট সমাদৃত নয়। পাঠকও নানা মতের বিধায় তাদের চাহিদার মধ্যেও বিরাট পার্থক্য দেখা যায়। রুচির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সংবাদপত্রই একজন পাঠক বেছে নিয়ে পড়তে চাইবে।
সংবাদের মতো প্রগতিশীল কিছু পত্রিকার লোকসান দিয়ে হলেও টিকে থাকা দরকার। আদর্শভিত্তিক লেখক ও পাঠকের কোন মাধ্যম না থাকলে তারা যাবে কোথায়? পক্ষাবলম্বন করে হোক অথবা নিরপেক্ষভাবে হোক, পত্রিকার ধর্ম হচ্ছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। প্রতিবাদের গুরুত্ব সব সময় কোন একটি পত্রিকার পাঠকের সংখ্যার ওজন দিয়ে বিচার্য হয় না। মতিয়া চৌধুরী যখন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন তখন তার জনসভা আয়োজনে শিঙ্গা ফুঁকানো বহু কর্মীর মধ্যে হতাশা দেখেছি। একজন কর্মী হতাশ হয়ে বলেছিল, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুধু বিবৃতি দেওয়ার লোকও দিন দিন কমে যাচ্ছে’। তদ্রূপ পাঠকের সংখ্যা কমে গেলেও এখনও সংবাদ বোদ্ধা মহলে ভিন্ন মাত্রায় বিবেচিত হয়ে থাকে। কোন হীনউদ্দেশ্য সাধনে স্বাধীনতার পক্ষের এই পত্রিকার সুনির্দিষ্ট কোন ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ প্রতিষ্ঠান নেই। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রতিপক্ষ ও প্রতিপক্ষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে। এটা যেন পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়ে জাতে উঠার মতো। পারমাণবিক বোমার অধিকারী হলে দুই প্রতিপক্ষ পরস্পরকে আক্রমণ করতে ভয় করে। তাই অনেক ব্যবসায়ী আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্যও পত্রিকার মালিক হয়েছেন।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে দুই পাতার সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেঙ্গল গেজেট’ দিয়ে ভারতবর্ষে প্রথম সংবাদপত্রের আবির্ভাব। তারপর ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের বাংলা মাসিক পত্রিকা দিগ্দর্শন, রাজা রামমোহন রায়ের সংবাদ কৌমুদী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা সাপ্তাহিক সোমপ্রকাশ, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদপ্রভাকর, কংগ্রেসের সহযোগী দ্য স্টেটসম্যান, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া ও অমৃতবাজার, মুসলিম লীগের সমর্থক আজাদ, ইত্তেহাদ ও মর্নিং নিউজ, শেরে বাংলার নবযুগ, নজরুলের ধূমকেতু, বামপন্থি রাজনৈতিকদের দৈনিক ইনসাফ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ১৯৪৯ সনে পাকিস্তান অবজারভার এবং পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাকিস্তান আমলে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য মর্নিং নিউজ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়, আর ভাষা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য পাকিস্তান অবজারভার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৫৪ সনের প্রাদেশিক নির্বাচনে নুরুল আমিনের এই ‘সংবাদ’ও মুসলিম লীগকে সমর্থন করত; অন্যদিকে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক ছিল যুক্তফ্রন্টের একনিষ্ঠ সমর্থক। ইত্তেফাক ও সংবাদ পরিবর্তিত ব্যবস্থাপনায় সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগকে, অন্যদিকে পাকিস্তান অবজারভার ও মিল্লাত একে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টিকে সমর্থন করত। মওলানা ভাসানী কর্তৃক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠিত হলে দৈনিক সংবাদ তখন আওয়ামী লীগকে সমর্থন করত।
আজকাল অনেক পত্রিকার নামের নিচে লিখা থাকে ‘একটি নিরপেক্ষ জাতীয় দৈনিক’। সত্যিকার অর্থে মনের কোন রঙ লাগানো ছাড়া সংঘটিত ঘটনাগুলোর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাকেই আমরা নিরপেক্ষ খবর পরিবেশনা বলে বুঝে থাকি। খবর পরিবেশনায় পরিবেশকের প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, রাগ, অনুরাগ, দ্বেষ, বিদ্বেষ মিশে গেলে পত্রিকার আর নিরপেক্ষতা থাকে না। সংবাদপত্র পাঠককে শুধু সংঘটিত ঘটনার হুবহু খবর পরিবেশন করে না, সম্পাদকীয় ও পর্যালোচনামূলক কলামে সম্পাদক এবং লেখকের নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে জনমত গঠনের চেষ্টা করে থাকে। পর্যালোচনামূলক কলামগুলো সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব; লেখক যেভাবে দেখেন ও উপলব্ধি করেন সেভাবে পরিবেশন করেন বলে পাঠকদের মতের সঙ্গে গরমিল হতেই পারে। এক্ষেত্রে পত্রিকাকে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। তবে কোন একটি মতাদর্শের লেখা অবিরত ছাপা হলে পাঠক সহজেই পত্রিকার প্রকৃতি চিহ্নিত করতে পারে। আমরা আগের অনুচ্ছেদে দেখেছি, পত্রিকাগুলোর মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের গুণগান গেয়ে থাকে। পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত অনেক পত্রিকার চরিত্রও তাই। লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাটির ৬৪ শতাংশ পাঠক কনজারভেটিভ পার্টি সমর্থন করে। আমেরিকার নির্বাচনেও কোন কোন পত্রিকা ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে, আবার কোন কোন পত্রিকা রিপাবলিকান পার্টিকে সমর্থন দিয়ে থাকে।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বা সরকারের ধরন যেমনই হোক না কেন পত্রিকাবিহীন রাষ্ট্র এখন আর নেই। তবে সরকারভেদে পত্রিকায় লেখার স্বাধীনতা ভিন্নতর হয়ে থাকে। পশ্চিমের দেশগুলোতে লেখা ও বলার স্বাধীনতা অফুরন্ত। শুধু বলা বা লেখা নয়, স্বাধীনতা উপভোগের মাত্রাও ভিন্নতর। আমাদের দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলে অনেকে তার প্রিয় দেশের পতাকা বাড়ির ছাদে টাঙিয়ে আনন্দ পেয়ে থাকে; অন্য দেশের পতাকা নিয়ে এ প্রীতি কঠোর হস্তে দমন করার প্রচেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছিল। অথচ আমেরিকায় একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে তার দেশের একটি পতাকা ছিঁড়ে ফেলার অপরাধে মামলা হলে আদালত রায়ে বলেছিল যে, কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হয়ে নিজের অধিকারভুক্ত পতাকা ছিঁড়তে পারবে, পোড়াতে পারবে, কিন্তু অন্যের অধিকারভুক্ত পতাকার ওপর কোন ক্ষোভ প্রকাশ করা যাবে না। নাগরিকদের মতো, ক্ষোভ, দুঃখ প্রকাশের এমন স্বাধীনতা পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখা যায়। আমাদের দেশে সংসদ কার্যকর না থাকলে অথবা বিরোধী দলের ভূমিকা যুৎসই না হলে সংবাদপত্র বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে থাকে। সংবাদপত্র শুধু বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে না, বিরোধী দলের সমালোচনাও করে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির লোকগুলো অন্যত্র নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিকার না পেয়ে অনেক সময় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রত্যাশায় ছুটে আসে প্রেসক্লাব বা পত্রিকা অফিসে। তাই সংবাদপত্রকে লড়াই করতে হয় নানাবিধ শক্তিধরের সঙ্গে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি জনমত। এ জনমত সৃষ্টির ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের উপজীব্য বিষয়বস্তুর মধ্যে কোন সীমা নির্ধারণ সম্ভব নয়। সমাজে বিরাজমান খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, কুসংস্কার, দোররা মারা, ফতোয়াবাজি, বলাৎকার, চাঁদাবাজি, অপচিকিৎসা, যৌতুক, বাল্যবিয়ে, বহুবিয়ে, প্রতারণা, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অবিচার, অনাচার, অত্যাচার, নির্যাতন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিপনা, নিপীড়ন, হিংস্রতা, মানবতার লাঞ্ছনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, পাহাড়ধস, নদীভাঙন, বন্যা, খরা ইত্যাদি নেতিবাচক বিষয় ছাড়াও লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, আবিষ্কার প্রভৃতি ইতিবাচক বিষয়গুলো প্রতিদিনের খবরের কাগজে উঠে আসে।
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে, সেখানে দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যায় কম। সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার এমন প্রত্যাশার মাঝে কোন কোন সংবাদপত্রের অপসাংবাদিকতা এবং কিছু সাংবাদিকের পুলিশি আচরণে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিশ্বস্ততা নষ্ট করে দেয়। শক্তিশালী গণমাধ্যমটির অপব্যবহার করে পাকিস্তান আমল থেকে পরিবেশিত উসকানিমূলক খবর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সংবাদপত্রের কাটতি বাড়াতে অনেক সময় পত্রিকাগুলো জেনেশুনে অপসাংবাদিকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকে; অনেক সময় আবার আর্থিক দীনতা কেটে উঠার আশায় সাংবাদিকেরা ভুয়া ও সম্মানবিনাশী খবর পরিবেশনের হুমকি দিয়ে থাকে। পত্রিকা প্রকাশে এমনতর নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আজ পর্যন্ত ‘সংবাদ’ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায় করেনি, অন্যায়ের সঙ্গে আপসও করেনি। তাই ‘সংবাদ’ তার কর্ম দিয়ে জনগণের মাঝে বেঁচে থাকুক, এই প্রত্যাশা করছি।
[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com