আজকের (রবিবার, ১০ জুন ২০১৮) দৈনিক সংবাদে উপসম্পাদকীয় বিভাগে প্রকাশিত আমার লেখা:

মরণনেশা ইয়াবা

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর দেড় শতাধিক লোক ইতোমধ্যে ক্রসফায়ারে মৃত্যুবরণ করেছে। টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর পর বিভিন্ন মিডিয়ায় মাদক নির্মূলে অবলম্বিত ব্যবস্থাদি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। ক্রসফায়ারে মৃত এ কাউন্সিলর কয়েকবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত হওয়া বা মাদক ব্যবসার কোন অভিযোগ নেই বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হচ্ছে। এক পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাদক ব্যবসায়ীদের যে পরিমাণ সম্পদ থাকার কথা কাউন্সিলর একরামুলের তেমন কোন সম্পদ নেই। তারপরও যদি তিনি মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন সে জন্য তার অপরাধের কারণে জনগণও দায়ী। জনগণ মাদকাসক্ত, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, মাস্তান, সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাতদের ভোট দেয় কেন? অথবা ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি এমন কাজ করবে কেন যাতে ক্রসফায়ারের মধ্যখানে পড়ে যেতে হয়?

অভিযান শুরুর পর মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। ক্রসফায়ারের ভয়ে মাদকাসক্ত ও ছোটখাটো মাদক বিক্রেতারা গা ঢাকা দিয়েছে। অন্যদিকে মাদক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে যারা কারাগারে আছে তারা এখন আর জামিন চায় না। আমাদের দেশে অপরাধের সঙ্গে অপরাধীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করা সব সময় সহজ হয়ে উঠে না। দুর্বৃত্তরা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে মারামারি, কাটাকাটি করলেও ব্যবসার স্বার্থে বেশিরভাগ সময় জোটবদ্ধ থাকে। তাই সাধারণ লোকের পক্ষে এদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে গেলে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক সহায়তা পাওয়া গেলে জনগণ কিছুটা সাহসী হয়ে উঠতে পারে। সভা, সেমিনারে যতই সবক দেওয়া হোক না কেন, পুলিশ এখনও নিরীহ মানুষের নিকটজন হয়ে উঠতে পারেনি। পুলিশ যত অপরিহার্য হোক না কেন, কেউ ঠেকায় না পড়লে সাধারণত পুলিশদের মানুষ এড়িয়ে চলে। অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান একবার বলেছিলেন, ‘আমার ওপর যত আঘাতই আসুক না কেন, আমি পুলিশের ধারেকাছেও যাব না’।

মাদক সেবন বা মাদকের ব্যবসা অন্য যে কোন অপরাধের চেয়ে বেশি মারাত্মক। মাদকের যথেচ্ছ ব্যবহারে একটি জাতি নির্জীব, নিস্তেজ, নিথর হয়ে যেতে পারে। মাদকসেবীরা শুধু নিজের দেহকে নির্জীব ও দুর্বল করে না, বোধশক্তিকেও মেরে ফেলে। মাদকাসক্তরা মাদকের জন্য যে কোন অপকর্ম করতে পারে। সন্তানেরা মাদকাসক্ত হলে মা-বাবাকে নিয়মিত মাদক কেনার অর্থের জোগান দিতে হয়; না দিলে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি করবেই। অর্থ জোগানে অস্বীকৃতির জন্য মাদকসেবীদের অনেকে নিজের মা বা বাবাকেও খুন করে। ডিএমপি কমিশনার তাই বলেছেন, ‘আর কোন ঐশী সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না’। হতাশা থেকে মাদক সেবনের শুরু হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। কিন্তু হতাশার সৃষ্টি হয়নি এমন ব্যক্তি পৃথিবীতে বিরল। মাদকসেবীদের সঙ্গ ও মাদকের সহজলভ্যতা উচ্ছল যুবকদের মাদক সেবনে উৎসাহিত করে থাকে। আমাদের যুবক বয়সে গাঁজা ছাড়া আর কোন মাদকের কথা শুনিনি। এক সময়ের কাশির ওষুধ ফেনসিডিল এখন আমাদের দেশে মাদক হিসেবে যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সেনাদের চাঙ্গা করতে যে ইয়াবা ট্যাবলেট অফিসিয়ালি সরবরাহ করা হতো এখন তা আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের অন্যতম মাদক। জাগা থাকার মহৎ উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডের ট্রাক ড্রাইভারেরাও ইয়াবা সেবন করত।

সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের ঘরে ঘরে মাদকের ছোবল হয়েছে। ইত্তেফাকের ভাষ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ৪৬২ কোটি টাকার ইয়াবা প্রতিদিন সেবন করা হচ্ছে; টাকাটা যাচ্ছে মায়ানমারের ঘরে। মাদকবিরোধী অভিযানে হাজারে হাজারে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীর খবর শুনে জানতে ইচ্ছে করে, এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চুপ ছিল কি? বেআইনি কাজ প্রতিরোধ করা, বেআইনি কাজে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত কাজের অন্তর্ভুক্ত; ঘোষণা দিয়ে অভিযানে নামার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করার কথা নয়। একবার ২০০৩ সনে এক সহকর্মীর সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে অদ্ভুত এক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করি; পাঁচশত টাকার নোটকে বিড়ির মতো ভাঁজ করে তারের মাথায় বেঁধে জেলের ভেতরে পাচার করছে এক যুবক। পুলিশ ধমক দিলে পাচারকারীর বক্তব্য, ‘টাকা তো আমার লোক খাবে না, খাবেন আপনারা’। পাচার করা টাকা নাকি জেলখানায় মাদক কেনায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে পুলিশেরও বিপরীত যুক্তি রয়েছে। ‘সংবাদে’র সম্পাদকীয় তথ্য অনুযায়ী ২০১১ সন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৫ লাখ ২৪ হাজার ১০৩ জন মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে; কিন্তু মাদক কারবারীরা সহজে শুধু জামিন পাচ্ছে না, দেদারছে বেকসুর খালাসও পেয়ে যাচ্ছে। মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী জামিন পেয়ে আবার একই অপরাধ করে যাচ্ছে। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে কয়েকবার গ্রেফতার করার পর পুলিশেরও হয়তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আর আগ্রহ থাকে না। অন্যদিকে জামিনযোগ্য অপরাধের জামিন হতেই পারে। এছাড়া অভিযুক্ত মাত্রই অপরাধী নয়; শত্রুতাবশত অন্যকে ফাঁসানোর জন্য নিজের হাত-পা কাটার কাহিনী ছোটকাল থেকে শুনে আসছি। নিজের সন্তানকে হত্যা করে অন্যকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়। তাই মানুষকে বিনা অপরাধে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি বিচারকেরাও চায় না। কিন্তু প্রলম্বিত বিচার প্রক্রিয়ায় আস্থা না থাকায় অপরাধীকে কেন প্রকাশ্যে গুলি করে মারা হয় না সে ব্যাপারে অনেককে আক্ষেপ করতেও দেখা যায়। তাই গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না বলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও বন্ধ হয় না। প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় অপরাধ দমন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিকল্প পন্থা হিসেবে ক্রসফায়ার ঘটছে।

কোন সন্ত্রাসী, জঙ্গি, মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসায়ীকে র‌্যাব বা পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর একই অপরাধে তার অন্য সহযোগীকে গ্রেফতার অভিযানে যাওয়ার পর পুলিশ বা র‌্যাব আক্রান্ত হলে দু’পক্ষের বন্দুকযুদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক এবং দুই দিকের ক্রসফায়ারে এক বা একাধিক লোক মারাও যেতে পারে। কিন্তু ক্রসফায়ারের একই গল্প একই ধাঁচে শুনতে শুনতে মানুষ ত্যক্ত-বিরক্ত। ক্রসফায়ারকে যুক্তিসঙ্গত করার কোন প্রয়াস কারো মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দেড়শ’ বছর পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র উপন্যাস লিখতে গিয়ে পাঠকের কাছে উপন্যাসের কাহিনীকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য তিনি তার সম্মুখে একজন প্রশ্নকর্তা কল্পনা করে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। ক্রসফায়ারের দুর্বল ব্যাখ্যা দেখে হাজার হাজার বছর পূর্বে সক্রেটিসের বলা একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে, ‘আমি যে কিছু জানি না তা আমি জানি, ওরা যে কিছুই জানে না তা কিন্তু তারা জানে না’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অ্যালকোহল ব্যতীত ফেনসিডিল, মরফিন, ইয়াবা, গাঁজা, মারিজুয়ানা, হিরোইন, আফিম সবই মাদক।

মাদকাসক্ত ব্যক্তির হতাশা, দুশ্চিন্তা, অবসাদে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও স্মরণশক্তি হ্রাস পাওয়া ছাড়াও আত্মবিশ্বাসের অভাবে এদের মধ্যে জন্ম নেয় নেতিবাচক মনোভাব, পলায়নবৃত্তি, সহিংস আচরণ, আত্মহত্যার মনোবৃত্তি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি হারিয়ে অল্প বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। জীবনের প্রতি মায়া হারিয়ে মাদকাসক্তরা অনিরাপদ যৌনাচারে লিপ্ত হয়। মাদকে আক্রান্ত মস্তিষ্ক স্বাভাবিক কাজ করে না বলে মাদকাসক্তরা নানা অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে। নেশা গ্রহণকারীদের অকালমৃত্যু অনিবার্য; মৃত্যুর পূর্বের জীবনে থাকবে খাদ্যে অরুচি, অস্পষ্ট কথাবার্তা, ঘোলাটে চোখ, হাত-পায়ের কাঁপুনি, খিঁচুনি, খিটখিটে মেজাজ, ঝিমুনি ইত্যাদি।

২০০৪ সনে যখন র‌্যাব সৃষ্টি হয় তখন সমাজের সর্বস্তরের লোক খুশিতে আটখানা; পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছিল। বিএনপির আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রথম র‌্যাব সৃষ্টি হয়। সন্ত্রাসী দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর ছিলেন। তার শাসনামলে তার দলের সন্ত্রাসীরাই ক্রসফায়ারে বেশি মারা গেছে। বিএনপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুল মতিন সন্ত্রাসীর লালন-পালন করে দেশটাকে নরকে পর্যবসিত করে তুলেছিলেন; পরবর্তীতে বিএনপির আমলে ক্রসফায়ারে সন্ত্রাসীরা মারা না গেলে এতদিনে বাংলাদেশ মাস্তানদের জন্য অভয়াশ্রমে পরিণত হতো। শুধু গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে নয়, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও ক্রসফায়ারে পাঁচ শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। ক্রসফায়ারে সন্ত্রাসীর মৃত্যুসংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ জনতা সব আমলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করেছে, এখনও করে। লাগাতার খুনের আসামি যখন জামিনে মুক্ত হয়ে সমাজে বুক ফুলিয়ে দম্ভ দেখায় তখন অসহায় প্রতিটি মানুষ মনে মনে ‘মাসুদ রানা’, ‘দস্যু বনহুর’ বা ‘সিক্স মিলিয়ন ডলারম্যান’ হয়ে এইসব মুক্ত সন্ত্রাসীদের নিজ হাতে খুন করার কথা ভাবে। মানুষের এই উৎসবে ভাটা পড়ে তখনই যখন নিরীহ, নিরাপরাধ ব্যক্তিরা ক্রসফায়ারে বলি হয়।

আমার মেজো ভাই জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব; তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও। প্রায় ১৫ বছর পূর্বে অবসর নেয়ার পর তিনি ঢাকার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রায় ১৫০০ কলাম লিখেছেন। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে অনেকদিন কাজ করেছেন। তার কাছে শোনা ইন্দোনেশিয়ার একটি ঘটনার সঙ্গে আমাদের মাদকবিরোধী অভিযানে সংঘটিত ক্রসফায়ারিংয়ের কিছুটা মিল আছে। প্রেসিডেন্ট সুকর্ণের পতনের পর সুহার্তো ক্ষমতায় আসেন। তার ক্ষমতায় আসার অল্পদিন পরে এক ভোরে জাকার্তার রাজপথে ৬০০ লোকের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও হত্যাকারীকে এবং কেন এতগুলো লোককে একত্রে হত্যা করা হলো কেউ তার কুলকিনারা উদ্ধার করতে পারেনি। বহুদিন পর সরকার থেকে বলা হলো যে, ‘ছয়শত মাস্তান ও দুর্বৃত্তের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি থাকতে পারে না’।

ইন্দোনেশিয়ার মতো আরেকটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে ফিলিপিন্সে। রদ্রিগো দুতের্তে মাদকাসক্ত বা মাদক পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য ‘ডাভাও’ শহরের মেয়র ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন যে, দেশের প্রচলিত আইনে এই মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিচার সম্ভব নয়। তিনি শুরু করলেন ক্রসফায়ার। দেশের সচেতন ব্যক্তি ও মানবাধিকার কর্মীরা সভা-সমাবেশ আর বিবৃতি দিয়ে হইচই শুরু করে দিল। রদ্রিগো ওদের চিৎকারে কান দিলেন না। কয়েক মাসের মধ্যেই তার শহরে অপরাধ একেবারেই কমে গেল। শহরের মানুষ স্বস্তি পেল। কিন্তু রদ্রিগোর ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঢেউ আছড়ে পড়তে লাগলো। তিনি ভ্রূক্ষেপ করলেন না, সাহস করে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হয়ে গেলেন। বুদ্ধিজীবী আর মানবাধিকার কর্মীরাও তার বিরুদ্ধে প্রচারে নামলো, কিন্তু তিনি নির্বাচনে জিতে গেলেন। বুদ্ধিজীবী আর মানবাধিকার কর্মীরা দেশের জনগণকে বোকা, মূর্খ ইত্যাদি বলে অভিহিত করতে লাগলো। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই তিনি পুনরায় দেশব্যাপী মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারকারীদের ক্রসফায়ারে দিতে বলেছেন। তিনি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন যে, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের প্রশ্রয় দিয়ে দেশের স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com