আজ [রবিবার, ০৩ জুন ২০১৮] দৈনিক সংবাদের উপসম্পাদকীয় বিভাগে প্রকাশিত আমার কলাম:
মা’দের গর্ভধারণ
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
বিশ্বের নারী সমাজের জন্য অপমানজনক একটি খবর পড়ে মনে হয়েছে, শিক্ষা নিলেই মানুষ সভ্য হয় না। বর্বর স্বভাবটি সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ১০ বা ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিজের বসতভিটা ছেড়ে এরা শখ করে বাংলাদেশে পাড়ি দেয়নি; মায়ানমার সরকারের লেলিয়ে দেওয়া সেনাদের নিষ্ঠুর নির্যাতনে নিজের জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। গুলি করে যাদের মেরে ফেলা হয়েছে তারা এক অর্থে শরণার্থী শিবিরের দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৭১ সনে ভারতে এমন শরণার্থী শিবিরে বসবাসের অভিজ্ঞতা বাঙালির রয়েছে। একটি ছোট্ট কুঠরিতে মা-বাবা, ভাইবোন সবাই মিলে বসবাস ও রাত্রিযাপনের দুঃসহ স্মৃতি এখনও এক কোটি বাঙালির জীবিত সদস্যের জন্য পীড়াদায়ক। ঝড়, বৃষ্টি মায়ানমারের এই আশ্রিত মানুষগুলোর দৈনন্দিন জীবনকে আরও অসহনীয় করে তুলছে। গত্যন্তর না থাকায় পরিবেশ-পরিস্থিতি মেনে তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
যতই দিন যাচ্ছে ততই আশ্রিত মেয়েদের জীবনে নেমে আসছে আরেকটি মহাদুর্যোগ। মায়ানমারের সেনা ও দুর্বৃত্তদের ধর্ষণে গর্ভে জন্ম নেয়া শিশুগুলোর ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় অত্যাসন্ন। অবৈধ গণধর্ষণের বৈধ সন্তানগুলোর পৃথিবীতে আগমন গর্ভধারিণী মাও পছন্দ করছে না। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কেউ এই সন্তানদের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয় না। এদিক থেকে পাশ্চাত্য অনেক বেশি সংবেদনশীল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জন্ম নেয়া এমন শিশুদের তারা দত্তক নেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে।
মায়ানমারের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড ও পুলিশ সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে বন্দুকের মুখে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করেছে। মায়ানমারের সেনাবাহিনী প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে শুধু ধর্ষণ নয়, কোন কোন ক্ষেতে মেয়েদের যৌনাঙ্গ কেটে দিয়েছে। অনেকে মা, স্ত্রী, বোনকে চোখের সামনে যৌন সহিংসতার শিকার হতে দেখেছে। ধর্ষিত মেয়েদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, অধিকাংশ ধর্ষক সামরিক পোশাকেই ছিল। যে সব ধর্ষক সামরিক পোশাক পরিহিত ছিল না তাদের আবার সেনাদের সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা ঘরে ঘরে ঢুকে রোহিঙ্গা তরুণীদের ওপর চালায় পাশবিক অত্যাচার। শরণার্থী শিবিরের এক নারী অকপটে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাকে তার ওপর পাশবিক নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করেছে। মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে স্বামীকে বেঁধে ফেলার পর স্বামীর সম্মুখেই ওই নারীকে সাতজন সেনা ধর্ষণ করে; ধর্ষণের সময় স্বামী গুঁজে দেওয়া কাপড় আলগা করে চিৎকার করতে শুরু করলে তার বুকে গুলি করে এক সেনা। এ সময় আরেক সেনা তার স্বামীর জিহ্বা কেটে দেয়। সেনারা চলে যাওয়ার পর ওই নারী এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিলে প্রতিবেশীও তাকে ধর্ষণ করে।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা কখনো কখনো রোহিঙ্গা নারীদের তাদের ক্যাম্পে আটকে রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেছে। আশ্রয় শিবিরের এক রোহিঙ্গা নারী জানিয়েছে, তাকে ৪৫ দিন সেনা ক্যাম্পে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর দীর্ঘদিন কোন চিকিৎসা না দেয়ায় ধর্ষিত নারীদের দেহে এখনও ক্ষতচিহ্ন, আঘাত ও কামড়ের দাগ দৃশ্যমান। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেন বলেন, ‘মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নারীদের ওপর দলে দলে নির্দেশ দিয়ে ধর্ষণ চালিয়েছে’। সেনারা আবার বন্দুকের মুখে রোহিঙ্গা তরুণীদের তাদের মা-বাবা, স্বামীর সম্মুখ থেকে দূরে জঙ্গলে নিয়ে সারারাত ধর্ষণের পর গুলি করে মেরে মাটিচাপা দিয়ে দিয়েছে; কেউ নির্মম ভাগ্যের দায় নিয়ে বেঁচেও গিয়েছে। এই বেঁচে থাকা রমণীরা এখন বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে সন্তানসম্ভবা। আশ্রয় শিবিরে এদের দুর্বিষহ করুণ অবস্থা বর্ণনাতীত। ধর্ষণের দুঃসহ স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্ত তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের সহযোগী আধা-সামরিক বাহিনীগুলোর সদস্যরা সরকারি হিসেবে ২ লাখ, বেসরকারি হিসেবে প্রায় ৪ লাখ বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করে। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রদত্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার নারী পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের হাতে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়। পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন শুধু বাংলাদেশে করেনি, বহু নারীকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানি সেনাদের মতো ‘কমফোর্ট ওম্যান’ হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। যারা দেশে ছিল মুক্তিযুদ্ধ শেষে অধিকাংশ স্বামী তাদের পরিত্যাগ করেছে এবং আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
ধর্ষিত নারীদের সম্মান জানানোর মহৎ উদ্দেশ্য তাদের উপাধি দেওয়া হয় ‘বীরাঙ্গনা’। ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিটি পরবর্তীতে নেতিবাচক অর্থ বহন করতে শুরু করে; এই শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারো কারো কাছে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার চিত্র মনে ভেসে উঠে। কারণ মুক্তিযুদ্ধে এদের অবদান ধর্ষণের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়ে। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এদের মুক্তিযোদ্ধা নামে অভিহিত করার পক্ষে অনেকবার বক্তব্য দিয়েছেন; তার বক্তব্য হচ্ছে, শত্রুর গুলির আঘাতে যুদ্ধে অঙ্গ না হারালেও তারা মুক্তিযোদ্ধা; কিন্তু যে নারীরা পাকিস্তানি সেনাদের পাশবিক নির্যাতনে একটি অঙ্গ হারালো তাদের কেন মুক্তিযোদ্ধা বলতে পারব না? কেউ কেউ এদের ‘মুক্তিমাতা’ বা ‘বীরমাতা’ অভিধায় ডাকার পক্ষে মতামত দিয়েছে। কিন্তু যে নামেই ডাকা হোক না কেন ধর্ষণের অপমান ঢাকার মতো কোন উপাধি আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। বুদ্ধিমতী অনেকে এই ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধি এড়িয়ে সমাজ থেকে লুকানোর চেষ্টা করেছেন। রাষ্ট্র তাদের যেভাবেই সম্মানিত করুক না কেন সমাজে যে তারা অপাঙ্ক্তেয় এই বোধশক্তি অনেকের ছিল। এ পুরুষের সমাজে পুরুষের সতীত্বের কোন বালাই নেই, ধর্ষক অতি সহজে পরিবার ও সমাজে মিশে যেতে পারে; কিন্তু একজন রমণীর শুদ্ধ সতীত্ব ধর্ষকও প্রত্যাশা করে। ধর্ষিত মেয়েদের সমাজ মনে করে এরা পতিত এবং করুণাপ্রার্থী। তবে সমাজের বেশিরভাগ লোক মনে করে এরা নষ্ট মেয়ে। পাকিস্তানি ‘ধর্মীয় ভাইদের’ যৌন লালসা মেটানোর এ অবাঞ্ছিত অপমান বহন করার দুঃসহ যাতনা একমাত্র ভুক্তভোগীই উপলব্ধি করতে পারে। তাই ‘বীরাঙ্গনা’ যে সব সময় তাদের সম্মান দিয়েছে তা নয়, এই উপাধি তাদের যৌন সহিংসতার যে যাতনা বারবার তার পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে।
পাকিস্তানিদের হাতে বাঙালি রমণীর, সার্বদের হাতে বসনিয়ার মুসলমান নারীর, মায়ানমারের সেনাদের হাতে রোহিঙ্গা মেয়েদের লাঞ্ছিত হওয়ার মধ্যে শুধু সেনাদের যৌন লালসা মেটানোর লক্ষ্য ছিল না, লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতি, বসনিয়ার মুসলমান ও রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে নির্মূল করা, অপমান করা, মা-বোনদের গর্ভবতী করা। একবার নয়, একজন নয়, উপর্যুপরি ধর্ষণ, গণধর্ষণে ক্ষুব্ধ হয়ে যাতে কেউ আত্মহত্যা করতে না পারে সেজন্য পাকিস্তানি সৈন্যরা ক্যাম্পে মেয়েদের উলঙ্গ করে রাখতো, মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল যাতে সিলিংয়ে ঝুলে মরতে না পারে। তবুও পাকিস্তানি সেনাদের অমানুষিক যৌন সহিংসতায় অনেক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
পাকিস্তানিদের প্রতি জন্মানো ঘৃণা থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচ হাজার জন সরকারিভাবে গর্ভপাত করিয়েছিলেন। তবে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের আগে দেড় লক্ষাধিক নারীর ভ্রূণ দাই, হাতুড়ে ডাক্তার ও স্থানীয় ক্লিনিকে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে নষ্ট করা হয়েছে বলে এক জরিপের তথ্য থেকে জানা যায়। অবৈজ্ঞানিক পন্থায় গর্ভপাত করানোর কারণে বহু নারী সারা জীবনের জন্য প্রজনন ক্ষমতা হারান। জারজ পাকিস্তানি ধর্ষকদের সন্তান রাখার ইচ্ছে কোন পতিতারও ছিল না। কিন্তু যে সব ক্ষেত্রে গর্ভপাত করানো সম্ভব ছিল না সে সব ক্ষেত্রে জন্ম হওয়া শিশুকে দত্তক নিয়েছে পাশ্চাত্য; এক্ষেত্রে ত্রাণকর্ত্রী ছিলেন মাদার তেরেসা। মাদার তেরেসার উদ্যোগে অনেক শিশুকে কানাডা, নরওয়ে প্রভৃতি দেশে পাঠানো হয়। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রধান এমএ হাসানের মতে, ধর্ষিতা নারীদের মধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার গর্ভধারণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
কোন ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত, জোরপূর্বক তার সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হওয়াই ধর্ষণ। ধর্ষকের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এক এক জনের এক এক কারণ প্রতিপন্ন হয়েছে; আর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ছাড়া আমরা বুঝি, যৌন বাসনা অবদমনের অক্ষমতা। যথাযথ শিক্ষা-দীক্ষা নিয়ে সভ্য সমাজে বসবাস করার কারণে ইচ্ছা জাগলেই কেউ বিয়েবহির্ভূত যৌনাকাঙ্ক্ষা মেটাতে পারে না। অতৃপ্ত যৌনাকাঙ্ক্ষা যখন আদিমতায় ভরে উঠে তখন ধর্ষণের মতো বর্বর পন্থা ঘটানো হয়। যারা নারীদের ঘরের বাইরে আসা পছন্দ করে না তারা পুরুষের ঝাঁপিয়ে পড়া বর্বর স্বভাবকে দায়ী করে না; দায়ী করে নারীর পরিধেয় বস্ত্রকে। তাদের অভিযোগ, স্বল্পবসনা রমণী ধর্ষকদের প্রলুব্ধ করে। তাদের অভিমত হচ্ছে, রাস্তা-ঘাট, মাঠ-প্রান্তর সর্বত্র পুরুষের যৌনাকাঙ্ক্ষা ২৪ ঘণ্টা থাকবেই এবং তা অবদমনের দায়িত্ব পুরুষের নয়, তখন ধর্ষণ করতে না পারলে সে পুরুষের অশান্ত দেহ ক্ষিপ্ত হয়ে হয়তো এই অমানুষদের একজনকে খুন করে ফেলতো। আমার পরিচিত একজন তো বলেই দিয়েছেন, আগুনে পতঙ্গ ঝাঁপ দেবেই। ধর্ষণ যদি শুধু প্রলুব্ধজাত হয়ে থাকে তাহলে শুধু স্বল্পবসনা যুবতী নারীরাই ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা; কিন্তু বাস্তবে এই পতঙ্গ ধর্ষকেরা সুযোগ পেলে শিশু এবং বয়স্ক নারীদের ওপরও ঝাঁপ দিচ্ছে। তেঁতুল দেখলেই যাদের লালা পড়তে থাকে তাদের লালা উৎপাদনকারী অঙ্গটি কেটে নেয়া দরকার। কারণ ধর্ষণ হলো সচেতনভাবে সম্পাদিত একটি অপকর্ম, অপরাধ। কোন সুস্থ মানুষ ধর্ষণ করে আনন্দ পাওয়ার কথা নয়; এই অসুস্থ লোকগুলোকে বাঁচানোর তাগিদে যে মেয়েদের পোশাককে দায়ী করা হয় তা কিন্তু নয়, তাগিদ আছে সুস্থ নারীদের ঘরে আবদ্ধ রাখা। যৌনাকাঙ্ক্ষা ক্ষুধা, তৃষ্ণার মতো সহজাত প্রবৃত্তি; ক্ষুধা মেটানোর জন্য চুরিকে জায়েজ বলতে কাউকে শুনিনি। ক্ষুধার্ত ব্যক্তি দোকানে সাজিয়ে রাখা উপাদেয় খাদ্য দেখলেই ছিনিয়ে নেয়ার কথা; দোষ তো খাদ্যের সুশ্রী বিন্যাস। ছিনিয়ে নিয়ে খাবার গ্রহণে ক্ষমতার দাপট রয়েছে বলেই সম্মতিবিহীন যৌনক্রিয়ায় ধর্ষকেরা ক্ষমতা জাহির করার সুযোগ পায়।
ইরাকে আবু গারিব কারাগারে মহিলা কারাবন্দীদের যে মার্কিন সেনারা ধর্ষণ করেছে তাদের বিচার হয়েছে, জেল হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বুশসহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষমা চেয়েছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানি সেনারা কোরিয়া ও চীনের নারীদের যৌনদাসী বানানোর জন্য কোরিয়া ও চীনের কাছে জাপান ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। কিন্তু মায়ানমার এবং পাকিস্তান লাখ লাখ রোহিঙ্গা ও বাঙালি মা-বোনকে ধর্ষণের জন্য ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা উক্ত দেশ দুটি গণধর্ষণের কথা স্বীকারই করে না। পাকিস্তানিরা যুদ্ধে ‘গণিমতের মাল’ হিসেবে মেয়েদের ভোগ করেছে—জায়েজ ক্রিয়ায় তাই ক্ষমা চাওয়ার কোন তাগিদ তাদের মধ্যে নেই। মায়ানমারের সেনা তো বলেই দিয়েছে, রোহিঙ্গা রমণীরা চেহারা-সুরতে আকর্ষণীয় নয় বলে তাদের কোন সেনা কোন রোহিঙ্গা মেয়েকে ধর্ষণ করেনি।
[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com