আজকের (রবিবার, ২৭ মে ২০১৮) দৈনিক সংবাদের উপসম্পাদকীয়তে প্রকাশিত আমার লেখা:
উপসম্পাদকীয়
পানি বিদ্যুৎ গ্যাস
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
মোবাইলে এতক্ষণ ধরে কী লিখো? বউয়ের ঝাঁঝালো কণ্ঠস্বরে লেখার খেই হারিয়ে ফেললাম।
পত্রিকার জন্য কলাম লিখছি।
কার জন্য লেখো?
কেন, পাঠকদের জন্য।
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো বন্ধ কর। এসব বুদ্ধিজীবীর কাজে আমাদের কোন উপকার হবে না।
আজ তোমার হঠাৎ কী হলো?
পারলে ওয়াসাকে লেখ।
এতক্ষণ পর বুঝলাম গিন্নির অভিযোগ কোথায়। ব্যাংকের ঋণ নিয়ে পশ্চিম রামপুরার ওমর আলী লেনে ৩০ ফুট গর্তের মধ্যে দুই কাঠার ওপর একটি বাড়ি বানিয়েছি। বাসার সামনের রাস্তা সরু, রিকশা আর সিএনজি যাতায়াত করতে পারে। তাতে আমার কোন দুঃখ নেই, বরং এ বাড়ি বানিয়ে আমার একটা অহংবোধ হয়েছিল। আমি গ্রামের এক গরিব শিক্ষকের সন্তান; পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করার সুবাদে ঋণের সুবিধায় আমি প্রথম ঢাকা শহরে একটি বাড়ির মালিক হই। আমার অন্যান্য ভাইরা আমার চেয়ে ভালো পজিশনে চাকরি করেছেন। এতদসত্ত্বেও আমি প্রথম বাড়ির মালিক হওয়ায় একটা অহংকার তো হতেই পারে। কিন্তু এই অহংকার যে আমাদের সংসার জীবনে দুর্ভোগ বহন করে আনবে তা বুঝিনি।
যেদিন বাড়ি করে বসবাসের আনন্দ নিয়ে বাসায় উঠেছি সেদিন থেকে দুটো মোটরপাম্প আমাকে চালু রাখতে হয়েছে। ওয়াসার মেইন লাইন থেকে পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিজার্ভ ট্যাঙ্কে পানি পড়ে জমা হওয়ার কথা, কিন্তু তা কখনো দেখিনি। সবার বাড়িতে দুটো করে পাম্প—একটি মেইন লাইন থেকে পানি টেনে এনে রিজার্ভ ট্যাঙ্কে ফেলে, অন্যটি ছাদের ওপর রক্ষিত ট্যাঙ্কে পানি তোলার জন্য। মেইন লাইন থেকে পাম্প দিয়ে পানি টানা আইনবিরুদ্ধ; কে কার কথা শুনে। পানি সরবরাহের কর্তৃপক্ষ ওয়াসাও এ ব্যাপারে একদম নিশ্চুপ। অবশ্য নিশ্চুপ না থেকেও উপায় নেই, সরব হলে জনঅসন্তোষ দেখা দেবে।
এ বেআইনি কাজটা করে ভাড়াটিয়া সবাইকে পানি দিতে পারলে বাড়ির জনঅসন্তোষ থেকে আমি অন্তত বাঁচতে পারতাম। আমরা তিন তলায় থাকি; সকাল থেকে সকাল পর্যন্ত আমি আর আমার স্ত্রী পানির জন্য যুদ্ধ করে থাকি। এক সকাল থেকে আরেক সকাল পর্যন্ত আমরা পালাবদল করে নিচে যাই পানি টানার পাম্প স্টার্ট দিতে। পাম্প স্টার্ট দেওয়ার একটা সুইচ তিন তলায়ও আছে, কিন্তু নিচে গিয়ে পাম্পে পানি না দিলে লাইনের পানি পাম্পে ধরে না। এতেও আমাদের কোন ক্ষোভ নেই; কিন্তু প্রতি আধঘণ্টা পরপর পাম্প স্টার্ট দিয়ে ২৪ ঘণ্টা পাম্প চালিয়ে ভাড়াটিয়াদের কয়েক বালতি পানি দেওয়া সম্ভব হয়। ভাড়াটিয়াদের চিৎকার আর অসংলগ্ন কথা মাঝে মাঝে কানে ভেসে আসে। ভাড়াটিয়াদের গালমন্দ শুনতে আমাদের কোন আপত্তি নেই, কারণ তারা ভাড়া দিয়ে আমাদের বাড়িতে থাকে; পানি, গ্যাস না পেলে দুয়েকটা কটুকথা বলার অধিকার তাদের থাকতেই পারে। পানির সঙ্গে গ্যাসের স্বল্পতা ভাড়াটিয়াদের রাগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু পানি সহজলভ্য না হওয়ার জন্য সব ভাড়াটিয়া একযোগে যখন আমাদের দায়ী করে তখন আমাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ওয়াসার ওপর। ওয়াসা পানি দেয় না বললে অসত্য বলা হবে; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুয়েক ঘণ্টা লাইনে পানি থাকে; কিন্তু কোন বাড়িওয়ালা ঘুমায় না, কখন পানি পাওয়া যাবে। আমার বাড়িটি পশ্চাতে বলে আমার বাড়ি পর্যন্ত পানি সব সময় পৌঁছে না, সামনের বাড়িওয়ালারা কাড়াকাড়ি করে পানি নিয়ে যায়।
আমরা কারবালায় আছি। আবু সুফিয়ানের পুত্র মুয়াবিয়া এবং মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদ সম্পর্কে যত বাজে বিশেষণ আছে তা সাধারণ মুসলমানেরা প্রয়োগ করে থাকে; ইয়াজিদ ছিল মদে আসক্ত, অত্যাচারী, সম্পদ লুণ্ঠনকারী, ভোগবিলাসী, লম্পট ইত্যাদি। এর একমাত্র কারণ ইয়াজিদের সেনাবাহিনী কারবালার মরুভূমিতে ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার সঙ্গী-সাথীদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দেয়। পানির অভাবে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর তাঁবুতে হাহাকার পড়ে যায়, ছোট শিশুরা মূর্ছা যায়। শিশুপুত্র আসগরকে কোলে নিয়ে তৃষ্ণার্ত ইমাম হোসাইন ফোরাত নদীর দিকে অগ্রসর হলে ইয়াজিদ বাহিনীর নিক্ষিপ্ত তীরে আসগর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এবং অবসন্ন হোসাইন তাঁবুর সামনে বসে পড়লে এক মহিলা তাকে এক পেয়ালা পানি এনে দেন; কিন্তু পানি পান করার পূর্ব মুহূর্তে ইয়াজিদের সৈন্য সীমারের তরবারির আঘাতে হোসাইনের মস্তক শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়—পানি আর খাওয়া হয়নি। কারবালায় পানির হাহাকার নিয়ে মর্মন্তুদ ঘটনা সম্পর্কে জানে না এমন মুসলমান খুব কম। ঘটনার সত্য-অসত্য বিচারের দায়িত্ব ঐতিহাসিকদের, আমার মতো তৃষ্ণার্ত ভুক্তভোগীদের নয়; আমার পানি চাই।
সারা রাত যুদ্ধ করে যতটুকু পানি পাই তা আবার দুর্গন্ধযুক্ত; তাতেও আমাদের আপত্তি নেই। পানি হলেই হলো। অন্যদিকে বাড়িওয়ালারা পানির সন্ধানে মাটি খুঁড়ে যেভাবে নিজেরা পাইপে সংযোগ বদলাচ্ছে তাতে স্যুয়ারেজ লাইনের পানি খাবারের পানির সঙ্গে মেশার জন্য ওয়াসাকে দায়ী করা যায় না। কিন্তু ইত্তেফাকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে মনে হলো দুর্গন্ধময় পানির জন্য ওয়াসাই দায়ী। কারণ পানির এ দুর্গন্ধ শুধু আমাদের লাইনে নয়, ঢাকা শহরের বহু জায়গায় রয়েছে বলে দৈনিক ইত্তেফাকের উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আমার এক ভাড়াটিয়ার স্ত্রী বেশ মুখরা। পানির স্বল্পতার অভিযোগ ছাড়াও ভদ্রমহিলা পানিতে কেঁচো থাকার কথা উল্লেখ করলেন। অভিযোগ শুনেও না শোনার ভান করে ছিলাম, কারণ আমার ধারণা এ কেঁচো আমাদের রিজার্ভ ট্যাঙ্কে জন্মেছে। কিন্তু ইত্তেফাকের উক্ত প্রতিবেদনে ওয়াসার পানির সঙ্গে কেঁচো ও পোকামাকড় পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ রয়েছে। পৃথিবীর কোন উন্নত দেশে এমন কেঁচোপূর্ণ পানি সরবরাহ করলে জরিমানা দিয়ে এতদিনে ওয়াসা দেউলিয়া হয়ে যেত।
যতটুকু জানতে পেরেছি, ১৮৪৭ সন থেকে খাজা আবদুল গণি কর্তৃক নির্মিত চাঁদনিঘাট পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মাধ্যমে ঢাকা শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ শুরু হয়। ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সনে, আমার জন্মের পরে। আমি ঢাকায় আসি ১৯৭৪ সনে। ঢাকায় আসার পর থেকেই জেনে আসছি, এই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শহরে বসবাসকারী মানুষগুলোর পানির চাহিদা মেটাতে পারছে না। পানি শোধনাগারের ক্ষমতা যে বাড়ানো হয়নি তা কিন্তু নয়; কিন্তু মানুষের বসতি ঢাকা শহরে যেভাবে বেড়েছে পানির শোধন ও সরবরাহ সে পরিমাণে বাড়ানো হয়নি। কেন চাহিদার অনুযায়ী পানির উৎপাদন ও সরবরাহের পরিকল্পনা নেয়া হয়নি তা আমার কাছে কখনো বোধগম্য হয়নি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে একশ’ বা দুইশ’ বছর পূর্বে রাস্তাঘাট বা অন্যান্য ক্ষেত্রে যে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা আজও উপযোগী ও পর্যাপ্ত বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের সম্পদ সীমিত; কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে নিজস্ব অর্থায়নে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে। পানির ক্ষেত্রেও একটা মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে; মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৯২ একর জায়গায় ৩ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পদ্মা-যশলদিয়া পানি শোধনাগারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে প্রতিদিন ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দেওয়া ওয়াসার পক্ষে সম্ভব হবে। কিন্তু এত দেরিতে কেন? বাজেটের আকার তো স্তম্ভিত হওয়ার মতো; ৭৫০ কোটি টাকার বাজেট এখন ৪ লাখ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। তাহলে জনসেবা সম্পৃক্ত পানি সরবরাহে সরকারের এত পশ্চাৎ ভাবনা কেন?
ঢাকা ওয়াসা নাকি বর্তমানে দৈনিক ২১০ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ১৯৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৫৩৯টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ৮৭ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি এবং ৪টি পানি শোধনাগারের সহায়তায় ১৩ শতাংশ ভূপৃষ্ঠস্থ পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। শতকরা হিসাব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তবে এটা নিশ্চিত যে, আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। পানি সরবরাহে বিপর্যয় ঘটে তক্ষুণি যখন ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। উদ্বৃত্ত পানি সরবরাহের জন্য মজুত থাকে না বলে কয়েকটি গভীর নলকূপের জেনারেটর বিদ্যুতের অভাবে বন্ধ থাকলে পানি সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক জেনারেটরে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুবিধাদি না থাকায় সেগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। আজকাল লোডশেডিংও ঘন ঘন হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে এত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও এত ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ স্পষ্ট নয়। সরবরাহ লাইনের মেরামতের জন্য কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ না থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু পরিকল্পনা করে অঞ্চলভেদে নিয়মিত লোডশেডিং কেন হচ্ছে তা জনগণের নিকট পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
৩৫ শতাংশ সিস্টেম লস দিয়ে ওয়াসা যে এখনও টিকে আছে তাই আশ্চর্য। এই ৩৫ শতাংশের কিছু পরিমাণ পানি হয়তো রাস্তার নিঃস্ব লোকেরা ব্যবহার করে থাকতে পারে। রাজধানীর ৪৩০টি বস্তিতে পানির বৈধ সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে ৮টি এনজিওর সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার একটি চুক্তি হয়েছে। খুব ভালো উদ্যোগ; এতদিন ওয়াসার লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে বস্তিবাসীদের পানি পেতে খুব কষ্ট হতো। পানির লাইনে লিকেজ হলে শীঘ্রই তা মেরামত হয় বলে মনে হয় না। গ্রাহকের মিটার নষ্ট হলে ওয়াসা দ্বিগুণ টাকা আদায় করে থাকে। মিটার অনেক সময় ওয়াসার লোকেরাও নষ্ট করার জন্য কাজ করে বলে মনে হয়; নষ্ট মিটার প্রতিস্থাপনে গ্রাহকের হয়রানি চরম পর্যায়ে পৌঁছে। অবৈধ সংযোগ তো আছেই। ওয়াসা নিয়ে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে মিরপুরের কিছু অংশকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার আহ্বান জানান। গণশুনানির শুরুতে ওয়াসার কর্তাব্যক্তিরা একটি নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করেছিলেন। ভুক্তভোগী নামে ওয়াসার নিয়োজিত কিছু লোক কোন অভিযোগ উত্থাপন না করে ওয়াসার কর্মকর্তাদের প্রশংসা করা আরম্ভ করলে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়।
ঢাকা শহরে পানি সরবরাহে কোন সমস্যা নেই, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে মর্মে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমেও পানির কোন সমস্যা হবে না। আমরা যে পানি পাচ্ছি না তাকে তিনি প্যাকেট সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাহলে তো আমরা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীতে পড়ে গেলাম; এ পকেট সমস্যা সমাধানে চাপ সৃষ্টি করার মতো ক্ষমতা বা জনবল তো আমাদের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, রমজান মাসে পানি সমস্যা থাকবে না। অদ্ভুত দেশ, অদ্ভুত আমলা; রমজান মাসে পানি সমস্যার সমাধান করা গেলে বাকি ১১ মাস করা যাবে না কেন? কোন অভিযোগ থাকলে তা হেল্পলাইন ‘ওয়াসা লিংক’-১৬১৬২-তে ফোন করলেই তার সমাধান হবে বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন। আমি ২২ মে সোমবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চেষ্টা করেছি; প্রতিবারই উত্তর আসে, ‘এই নম্বরটি বর্তমানে খালি আছে’।
পানির অপচয় রোধে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর সব পানির পাইপলাইন পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যে ডিটেইলড মিটারড এরিয়া পদ্ধতি চালু করার পদক্ষেপ নিয়েছে তার পঞ্চাশ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে জানা যায়। এতে সিস্টেম লস উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের এলাকায়ও রাস্তা গর্ত করে পাইপ ফেলেছে প্রায় দুই মাস পূর্বে; কিন্তু যারা কাজ করেছে তাদের আর দেখা নেই, এরা গর্তও পূরণ করছে না, সংযোগও দিচ্ছে না। বর্ষায় জনগণের চলাফেরায় দুর্গতির শেষ নেই। আমাদের পাশের গলির সাংবাদিক পরিচয়ে এক ভদ্রলোক তার বাসার সম্মুখ দিয়ে আসা ওয়াসার লাইনের সঙ্গে অন্য কোন লেনের পাইপের সংযোগ দিতে দেবেন না। ‘সাংবাদিক’ বললে নাকি ওয়াসার লোকজন ভয় পায়। আইনানুযায়ী গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণে কোন ব্যক্তির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অধিকার থাকার কথা নয়।
সংসদ নির্বাচন অত্যাসন্ন। জনগণের দৈনন্দিন কাজে অপরিহার্য পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের অনবচ্ছিন্ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা পূরণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।
[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com