আজকের (রবিবার, ২০ মে ২০১৮) দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আমার কলাম:

উপসম্পাদকীয়

স্নাইপার-লক্ষ্যভেদী বন্দুক

-জিয়াউদ্দীন আহমেদ

স্নাইপার এমন একটি বন্দুক যা দিয়ে টেলিস্কোপের সহায়তায় প্রায় তিন কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করা সম্ভব। একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের একমাত্র হাতিয়ার ছিলো থ্রি নট থ্রি। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তৎকালীন ক্যাপ্টেন শহিদুল ইসলাম আমাদের জিএম হাট হাইস্কুলের মাঠে আমাদের গেরিলা হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন; হাতে থাকতো রাইফেল আকারের বাঁশের লাঠি। তখন তার কাছে শুনেছিলাম, পিস্তল বা রিভলবার দ্বারা পঁচিশ গজের ভেতরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যায়। স্নাইপার বা একে-৪৭ রাইফেলের নাম তখনো শুনিনি। এই স্নাইপার বন্দুকটি এখন শুধু সেনারা ব্যবহার করে না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর লোকরাও ব্যবহার করে থাকে। দেশের অভ্যন্তরে আন্দোলন, সংঘাতে জনতার মিছিলকে দূরবর্তী স্থান থেকে প্রতিহত করতেও পুলিশ এই অস্ত্রটি ব্যবহার করে থাকে। আইএস-ও এই রাইফেল ব্যবহার করেছে। এক আইএসকে ২.৪ কিলোমিটার দূরে টার্গেট করে এক ব্রিটিশ সেনা; গুলি ছোড়ার পর আইএস যোদ্ধাকে আঘাত করতে সময় লেগেছে মাত্র তিন সেকেন্ড। মাঝে মাঝে হলিউডের বিভিন্ন সিনেমায়ও এই রাইফেলের ব্যবহার দেখা যায়। আমেরিকায় আলু-পটলের মতো অস্ত্র কেনা যায়; উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে অনেকে দূরবর্তী স্থান থেকে টার্গেট করে লোক মারার জন্য টেলিস্কোপ সংবলিত স্নাইপার বন্দুক ব্যবহার করে। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকালে সংঘটিত বিক্ষোভে এই স্নাইপার বন্দুক দিয়ে সম্প্রতি ইসরাইলি সেনারা আটান্ন জন ফিলিস্তিনে হত্যা করেছে।

জেরুজালেমে ১৪ মে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধন করেছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প। আমন্ত্রিত ছিয়াশি দেশের মধ্যে তেত্রিশটি দেশের প্রতিনিধি দূতাবাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। ইসরাইল ব্যতীত অন্য কোন দেশের সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান যোগ না দিলেও গুয়েতেমালা ও প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প্পকে অনেকে ভারসাম্যহীন রাজনৈতিক ব্যক্তি বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করে থাকেন। আমেরিকাকে শ্রেষ্ঠ করার স্লোগান দিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাকে বদ্ধপরিকর মনে হচ্ছে। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্বিমত পোষণকারী তার বহু সহকর্মীকে তিনি অবলীলায় বরখাস্ত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার বেপরোয়া প্রধানমন্ত্রী কিম জং উন ট্রাম্পের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লাফালাফি করে এখন বিনা শর্তে বশ্যতা স্বীকার করে নিচ্ছে। সিরিয়ায় ঘোষণা দিয়ে মিসাইল ছোড়ার কয়েক ঘণ্টা পূর্বে রাশিয়া নিক্ষিপ্ত মিসাইল আকাশে ধ্বংস করা ছাড়াও যে সকল নৌবহর থেকে মিসাইল ছোড়া হবে তাদেরকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হবে মর্মে হুমকি দিয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জনপ্রিয় টুইটারে প্রত্যুত্তরে লিখেছিলেন, যাচ্ছি, পারলে ঠেকান। জেরুজালেমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থাপনের যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে দিয়েছিলেন তা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন করে ছাড়লেন।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা এই শহরটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের কাছে জেরুজালেমের আলাদা মর্যাদা রয়েছে।

ইসলামের তৃতীয় পবিত্র মসজিদ ও প্রথম কিবলা আল-আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাসসহ মুসলিমদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এছাড়াও শবে মেরাজের রাতে এখান থেকেই আসমানে যাত্রা করেছিলেন মহানবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এই জেরুজালেমে রয়েছে ইহুদিদের ‘টেম্পল মাউন্ট’; তাই তাদের নিকট এই শহরটি পবিত্র। আর এই শহরেই যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার কারণে জেরুজালেম খ্রিস্টানদের নিকটও পবিত্র। এই জেরুজালেমের দখল, পুনর্দখল নিয়ে যত যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে এবং যত লোক মারা গিয়েছে তা আর কোথাও হয়নি। তিন ধর্মাবলম্বীর নিকট পবিত্র হওয়ার কারণে চূড়ান্ত সমঝোতার আগে জেরুজালেমে ইসরাইলের রাজধানী স্থানান্তরে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সম্মত ছিলেন না। ১৯৮০ সনে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করলেও আমেরিকা এতদিন স্বীকৃতি না দেয়ায় ইসরাইল তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে রাজধানী স্থানান্তরের সাহস করেনি। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সত্তর বছর পর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিল। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরাইলের সমঝোতার ফর্মুলায় পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করার দাবি ছিল ফিলিস্তিনিদের। ইসরাইল পুরো জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী করে ফেলায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সমঝোতার পথ কিছুটা রুদ্ধ হয়ে গেল।

গত ডিসেম্বর মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন এবং সেখানে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর হবে মর্মে নিশ্চিত করেন। এই ক্ষেত্রে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিরোধিতা করলেও ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত থেকে একটুও সরেননি। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে প্রদত্ত আমেরিকার স্বীকৃতি প্রত্যাহার বিষয়ক একটি প্রস্তাবের পক্ষে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট হলে পক্ষে ভোট পড়ে ১২৮টি এবং বিপক্ষে পড়ে শুধু ৯টি। কিন্তু সাধারণ পরিষদের কোন সিদ্ধান্তের পরিপালন কোন সদস্য দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়; তবে এতে বিশ্বজনমত সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু বিশ্বজনমত নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কখনো কেয়ার করেছে বলে মনে হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট সরকার প্রধানদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি থেকেও সরে এসেছেন। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু ভেটো ক্ষমতার অধিকারী কোন একটি দেশকে নিজের পক্ষে রাখা সম্ভব হলে নিরাপত্তা পরিষদে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া কোনভাবেই সম্ভব হয় না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিপক্ষে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হলে প্রস্তাবের পক্ষে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪টি রাষ্ট্র ভোট দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ক্রমহ্রাসমান অবস্থায় জেরুজালেমে রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ায় তার জনপ্রিয়তা আবার তুঙ্গে উঠে গেছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের রাজনীতির খেলা একরকম; জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য বা জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য জাতির অনুভূতির অনুকূল সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশায় প্রত্যেক সরকার অকস্মাৎ একটি অঘটন ঘটনার জন্ম দিয়ে থাকে। মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের নিকট পবিত্র এই জেরুজালেম শহরটির পূর্বাংশ ইসরাইল দখল করেছে ১৯৬৭ সালে; অথচ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত ৩০০০ বছর ধরেই জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী ছিল এবং এটি কখনোই আর কারো রাজধানী ছিল না।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো ডোনাল্ড ট্রাম্পও মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে যে ভূমি ইসরাইলিরা দখল করেছে তার যে কোন স্থানে রাজধানী স্থাপনের অধিকার ইসরাইলের রয়েছে। দূতাবাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঠানো ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। নিজের রাজধানী নির্ধারণ করার অধিকার তার আছে। কিন্তু বহুদিন আমরা এই সুস্পষ্ট বিষয়টির স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছি।’ এতদসত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত অন্য কোন দেশ তাদের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেনি, যদিও জেরুজালেমে অনেকে দেশের কনস্যুলেট রয়েছে।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা ডিসেম্বর মাস থেকে রাস্তায় নেমে অবিরত বিক্ষোভ করছে; ইসরাইলি সেনারাও স্নাইপার বন্দুক দিয়ে প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের উপর গুলি ছুড়ছে। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা স্নাইপার ও স্নাইপার বন্দুকের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ ‘ইন্তিফাদা’ আন্দোলন করে যাচ্ছে। ইন্তিফাদার সঙ্গে যোগ হয়েছে ভূমি দিবসের বিক্ষোভ। ১৯৭৬ সন থেকে এই দিবসটি বাস্তুহারা ফিলিস্তিনিরা আন্দোলন, বিক্ষোভের মাধ্যমে পালন করে আসছে। নিজের বসতভূমি হারিয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নির্বিশেষে সকল ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে। জেরুজালেমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থাপনের দিন প্রায় লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইসরাইলি সেনাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ফিলিস্তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে ইসরাইলি সেনা মুখপাত্রের সবক হচ্ছে, ‘সত্যিকারের নারী হিসেবে কেবল তাদেরই শ্রদ্ধা করা যায়, যারা ঘর সামলান আর সন্তানদের দেখাশোনা ও যত্নআত্তি করেন... ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিতদের মধ্যে নারীত্বের বৈশিষ্ট্য কোথায়?’

সাতান্ন জাতির ইসলামী সম্মেলন সংস্থা জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদ করেছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস খোলার এ কার্যক্রমকে মার্কিন প্রশাসনের অবৈধ সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করছে ওআইসি। বৈঠক করে লিপিবদ্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন প্রতিবাদ অতীতে বহুবার করা হয়েছে। অর্থহীন এসব প্রতিবাদের কোন গুরুত্ব ইসরাইলের কাছে কখনো ছিল না, এখনো নেই। ডিসেম্বর মাসে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান ও দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষিত হলে তুরস্কসহ অনেক মুসলিম দেশ খুব হম্বিতম্বি করেছিল। বিগত পঞ্চান্ন বছর ধরে দেখে আসছি, প্রায় প্রতিদিন শুক্রবারের জুম্মার নামাজে ফিলিস্তিনিদের জন্য দু’হাত তুলে দোয়া করা হচ্ছে। আজও তার কোন ব্যতিক্রম দেখা যায় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধনের দিনকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী উদযাপনের দিবস হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর ফিলিস্তিনির অসহায় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একে ‘শতাব্দীর চপেটাঘাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। জেরুজালেমে দূতাবাস খোলার দিনকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মহালজ্জার দিন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এই ‘চপেটাঘাত’ ও ‘মহালজ্জা’ কার?

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি টুইটারে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত লাখ লাখ আরব, মুসলিম ও খ্রিস্টানকে বিক্ষুব্ধ করে তুলবে’। কিছুদিন আগে সৌদি আরবে অবস্থান করে তিনি একটি হাস্যকর নাটক করেছেন। মুসলমানেরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ১৯৪৮ সন থেকে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসরাইলকে প্রতিহত করার কোন লক্ষণ মুসলিম উম্মার মধ্যে কোন কালেই দেখা যায়নি; বরং নিজেদের মধ্যে মারামারি লেগেই আছে। ইরানের তরফ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। এমন সব বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুসলিম দেশগুলোর নিকট থেকে শুনে আসছি। এখনো সিরিয়ায় অবস্থানরত ইরানি সেনা ও স্থাপনার উপর ইসরাইল বিমান হামলা করে যাচ্ছে এবং আরও হামলা হবে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলি সেনার বর্বর হত্যাকাণ্ডে নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করা হয়েছে তুরস্ক থেকে। নিজেদের মধ্যে অনৈক্য বজায় রেখে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সরব হওয়ার প্রত্যাশা করা তুরস্কের আরেকটি ভাঁওতাবাজি। পাকিস্তান নাকি এখনো দৃঢ়ভাবে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আছে। কিন্তু ইসরাইলের হামলা প্রতিহত করার ক্ষমতা কোন মুসলিম দেশের এখনো হয়নি, অদূর ভবিষ্যতে হবে কি না জানি না।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com