দৈনিক সংবাদের প্রকাশিত আমার আজকের (রবিবার, ০৬ মে ২০১৮) কলাম

উপসম্পাদকীয়

নির্মম নিষ্ঠুরতা

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

বেশ কিছু দিন পূর্বে ফেসবুকে কয়েকদিন ধরে সালোয়ার-কামিজ পরা একটি মেয়ের মৃতদেহ সম্ভবত উপুড় হয়ে রাস্তা বা ক্ষেতের আইলের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকদিন পর জানা গেল, ওই মৃতদেহটি চৌদ্দ বছর বয়সী হবিগঞ্জের বিউটি আক্তারের; বিউটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে তার বাবা সায়েদ আলী সরাসরি জড়িত। হত্যার কিছুদিন পূর্বে একই গ্রামের বাবুল নামে জনৈক বিবাহিত যুবকের প্রেমের অভিনয় বুঝতে না পেরে বিউটি ঘরছাড়া হয়ে একত্রে অজ্ঞাত স্থানে বাবুলের সঙ্গে রাত কাটায়; পরে বাবুল বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় বিউটিকে দূরবর্তী গ্রামে নানীর বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে আত্মীয় ও প্রতিবেশী ময়না মিয়ার প্ররোচনায় বাবা সায়েদ আলী মেয়েকে হত্যা করার ব্যাপারে মনস্থির করে। ময়না মিয়ার প্ররোচনা দেওয়ার প্রধান কারণ তার স্ত্রী ইউপি নির্বাচনে মহিলা কোটায় মেম্বার পদে ধর্ষক বাবুলের মার কাছে পরাজিত হওয়ায় তার ভেতরে ক্ষোভ কাজ করছিল। বিউটিকে হত্যা করে হত্যার দায় বাবুল ও নির্বাচনে জয়ী বাবুলের মার ওপর চাপানোর দুরভিসন্ধিতে সম্মতি জানিয়ে বিউটিকে হত্যায় রাজি হয়ে গেল তার বাবা। আয়োজিত সালিসে উপস্থিত থাকার আবশ্যকতার কথা বলে রাত প্রায় সাড়ে ১২টায় সায়েদ আলী বিউটিকে তার নানীর কাছ থেকে বের করে কিছুদূর এনে ময়না ও ভাড়াটিয়া খুনির হাতে তুলে দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। ময়না বিউটিকে জাপটে ধরে রাখে, আর দশ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ ভাড়াটিয়া খুনি বিউটির গলা ও পেটে ছুরি চালাতে থাকে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাড্ডার সাতারকুলে এমন আরেকটি ঘটনায় পিতা জাহিদের নির্দেশে ভাড়াটে খুনি মজিদ ১২ বছরের কিশোর সন্তান আউসারকে তাদের বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে ডেকে নিয়ে প্রথমে পানিতে ডুবিয়ে এবং পরে ছুরিকাঘাত করে খুন করে।

দুনিয়ার সর্বত্র বিপদের আশঙ্কা থাকলেও সন্তান তাদের মা-বাবার আশ্রয়ে নিশ্চিত নিরাপদ বোধ করে। বুদ্ধিমত্তার জন্য শুধু মানুষের মধ্যে নয়, এ নিরাপত্তা বোধ পশুর বাচ্চারাও অনুভব করে। গৃহকর্মী শিশুরা আরাম-আয়েশে অন্যের কাছে প্রতিপালিত হয়েও বিপদ দেখলে মাকে ডাকে। বিক্রি করা বা দত্তক নেয়া মানব শিশুর বিদেশে অঢেল ধনসম্পদের মধ্যে বড় হওয়ার পরও মা-বাবার খোঁজে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আসার বহু ঘটনা ঘটেছে। প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত মা-বাবার ওপর এমন নির্ভরশীলতা সীমাহীন। অভাবের তাড়নায় উপায়ন্তর না দেখে অনেক মা-বাবা নিজেরা আত্মহত্যা করার পূর্বে নিজের সন্তানদেরও খুন করে। বাবার কাছে সবচেয়ে প্রিয়বস্তু শিশু ইসমাইলকে কোরবানির জন্য গলায় ছুরি চালানোর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বহু বছর পূর্বে বাংলাদেশেও একজন বাবা তার শিশু সন্তানকে কোরবানি দিয়েছিল। অন্যদিকে একজন কুচক্রীর স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে বিউটিকে খুনির হাতে তুলে দিয়ে দূর থেকে মেয়ের গলায় ছুরি চালানো দেখেছে বাবা সায়েদ আলী। ছুরিকাঘাতে বিউটির নাড়িভুড়ি বের হয়ে যায়; বাবা দশ ফুট দূর থেকে তা দেখে মেয়েকে বাঁচানোর কথা চিন্তা না করলেও মেয়ে বিউটি তখনও হয়তো মনে করেছে, তার জন্মদাতা বাবা সায়েদ আলী জীবন দিয়ে হলেও তাকে ময়না ও ভাড়াটিয়া খুনি থেকে বাঁচাবে। কিশোর আউসারও হয়তো মজিদের হাতে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ভেবেছে, তার বাবা তাকে রক্ষা করবে, সে প্রাণে বাঁচবে।

এই খুন পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে ‘অনার কিলিং’ নয়; ক্ষমতার লড়াইয়ে রাজা, বাদশাহ, সম্রাটদের ন্যায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর এক ধরনের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। ইউপি নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ধর্ষণকারী বাবুল ও নির্বাচনে বিজয়ী বাবুলের মাকে শাস্তি প্রদানের ষড়যন্ত্র। এমন নিষ্ঠুরতা আমরা বিভিন্ন যুগে রাজা, বাদশাহ, সম্রাটদের মধ্যেও দেখি। রাশিয়ার জার চতুর্থ ইভান যিনি নৃশংসতার জন্য ‘ইভান দ্য টেরিবল’ নামেও সমধিক পরিচিত ছিলেন তিনি তার খামখেয়ালিপনা, ক্রোধ ও নৃশংসতার বশবর্তী হয়ে অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ ও নিজ পুত্রকে হত্যা করতেও দ্বিধা করেননি। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের ওয়ালেশিয়া রাজ্যের যুবরাজ তৃতীয় ভ্লাদ তার বন্দীদের সঙ্গে নিয়ে খেতে বসে খাবার টেবিলেই তাদের মেরে তাদের রক্তে রুটি ভিজিয়ে খেতেন।

ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুঘল সম্রাট চেঙ্গিস খান একজন নির্মম ও রক্তপিপাসু বিজেতা ছিলেন। রাজ্য দখল করেই সেখানে ধ্বংসলীলা চালিয়েছেন এবং নিষ্ঠুরভাবে লোকজনদের খুন করেছেন। তুর্কি-মোঙ্গল সেনাধ্যক্ষ তৈমুর লং দেশ দখল করেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সেখানকার জনপদগুলোকে বিরানভূমিতে পরিণত করতেন। কথিত আছে, সিমেন্ট, বালি, পানির সঙ্গে ইটের বদলে জীবিত মানুষ ব্যবহার করে তার নির্দেশে আফগানিস্তানে একটি টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ইরানের বিদ্রোহের শাস্তি হিসেবে ৭০ হাজার ইরানির মাথার সমন্বয়ে মিনার তৈরি করেছিলেন। এই তৈমুর লংয়ের পুত্র বাবর, তার পুত্র হুমায়ুন, তার পুত্র আকবর, আর আকবরপুত্র জাহাঙ্গীর বা সেলিম।

মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট জাহাঙ্গীর তার পিতা আকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। আবার জাহাঙ্গীরও প্রথম বছরেই তার বড় ছেলে খসরুর বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে বাবা জাহাঙ্গীর ছেলে খসরুকে অন্ধ করে দেন। সম্রাট শাহজাহানও তার যৌবনে পিতা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে শাহজাহান তার বড় ভাই খসরুকে খুন করেন। শাহজাহানও পুত্র আওরঙ্গজেবের হাতে আগ্রা ফোর্টে আমৃত্যু বন্দী অবস্থায় জীবন-যাপন করতে বাধ্য হন; আওরঙ্গজেব সেখানে পানি সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, প্রেমঘটিত কারণেও পিতা-পুত্রের শত্রুতা মুঘল সাম্রাজ্যে লেগেই ছিল। আনারকলি সম্রাট আকবরের হেরেমের এক সুন্দরী নারী; আকবর ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন আনারকলি। আনারকলির রূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত ছিলেন পিতা আকবর ও তার পুত্র জাহাঙ্গীর দু’জনই। নর্তকী আনারকলি আবার আকবরের উপপত্নীও ছিলেন এবং আনারকলির গর্ভে আকবরের ঔরসে দানিয়েল নামে এক সন্তান ছিল। সম্রাট আকবর আনারকলির প্রতি এতই মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন যে, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আনারকলির প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। তাই সম্রাট আকবর আনারকলিকে লাহোরে জীবন্ত সমাধিস্থ করেছিলেন। ১৩ বছর বয়সী সম্রাট আকবরের অভিভাবক বৈরাম খানের সঙ্গে সম্রাটের প্রেয়সী সালমার বিয়ের প্রস্তাবে আকবর সম্মতি দিলেও বিয়ের তিন বছর পর বৈরাম খান আততায়ীর হাতে খুন হন; বৈরাম খান নিহত হওয়ার পরপরই সম্রাট তার প্রেয়সীকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলেন। অন্যদিকে আকবরের সন্তান জাহাঙ্গীর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই তার প্রেমিকা মেহেরুন্নিসার স্বামী শের আফগানকে গুপ্তঘাতক দিয়ে হত্যা করে মেহেরুন্নিসাকে পত্নী করে ঘরে তোলেন।

সম্রাট শাহজাহান ও স্ত্রী মমতাজের গর্ভজাত চার সন্তান দারা, সুজা, মুরাদ ও আওরঙ্গজেবের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে সংঘটিত সংঘর্ষ ইতিহাসখ্যাত। ধর্মের পরাকাষ্ঠা, সুচতুর আওরঙ্গজেব শুধু তিন ভাইকে হত্যা করেননি, পিতা শাহজাহানকেও মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আটকে রেখেছিলেন। দীর্ঘ ১২ বছর আটক থাকা অবস্থায় সম্রাট শাহ্জাহান বহুবার ছেলে আওরঙ্গজেবের সঙ্গে দেখার করার বাসনা ব্যক্ত করলেও আওরঙ্গজেব একবারের জন্যও পিতার সঙ্গে দেখা করেননি। ধর্মপ্রাণ আওরঙ্গজেব প্রথমে ছোট ভাই মুরাদকে নর্তকী দিয়ে শরাব পান করিয়ে মাতাল করান, পরে সহজে বন্দী করে প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্য ভাই দারা ও তার দ্বিতীয় পুত্রকে নাস্তিকতার অভিযোগ তুলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে শিরশ্ছেদ করেন। দারার অন্য আরেক ছেলেকেও বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়। সিংহাসনের শেষ প্রতিযোগী সুজা আওরঙ্গজেবের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আরাকানের মগ রাজার আশ্রয়ে থাকাকালীন আরাকানের মগদের হাতে নিহত হন।

জ্যেষ্ঠ ভাই দারা শিকোহর শিরশ্ছেদের সময় আনন্দে উদ্বেলিত আওরঙ্গজেব সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। আওরঙ্গজেব তার ভাই এর হত্যা উপভোগ করতে উৎসবের আয়োজন করেন। দারা সব ধর্ম ও সব শ্রেণির মানুষের নিকট জনপ্রিয় ছিলেন; এ জনপ্রিয়তাকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে আওরঙ্গজেবের নির্দেশে দারার বিচ্ছিন্ন মাথা দিল্লির রাস্তায় রাস্তায় ঘোরানো হয়, পরে সোনালি কাপড়ে মুড়িয়ে বাক্সে ভরে পিতা শাহজাহানের কাছে পাঠানো হয়। শাহজাহান নৈশভোজে বসে পাঠানো বাক্স খুলতেই প্রিয় সন্তানের মাথা দেখে অসুস্থ হয়ে মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান।

জাহেলি যুগে সামাজিক স্বীকৃতি না থাকায় আরবে নাকি কন্যাসন্তানের পিতা হওয়ার বিষয়টি ছিল লজ্জা ও অপমানের। অমঙ্গলের প্রতীক মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে সমাজে পিতার মুখ দেখানো কঠিন হয়ে দাঁড়াত। এ লজ্জা আর অপমান থেকে নিজেকে বাঁচাতে আপন কন্যাসন্তানকে জীবন্ত পুঁতে রাখতে দ্বিধা করত না পিতারা। কন্যাসন্তানের জীবন্ত কবর দেওয়া সমাজে বৈধতা পেত। কিন্তু বর্তমান সভ্য সমাজে কিশোর সন্তান আউসারকে বলি দেওয়ার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা তো খুঁজে পাচ্ছি না।

জাহেলি যুগে না হয় বাবার কাছে মেয়ে সন্তানের গুরুত্ব ছিল না, কিন্তু তাই বলে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত বর্তমান সমাজেও মেয়েদের গুরুত্ব থাকবে না, এটা মানা কঠিন। সত্যিকার অর্থে ধর্ম এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষগুলো যতই গলা ফাটাক না কেন, সমাজে এখনও মেয়েদের সমগুরুত্ব নেই। মেয়ে স্বামীর বাড়ি চলে যাবে বলে ঘরে বাতি জ্বালানোর জন্য পুত্রসন্তান চাই। পুত্রসন্তান না থাকলে বিপদে-আপদে গভীর রাতে ঘরের বাইরে ছুটবে কে—এই ভাবনাও মা-বাবার মাথায় ঘুরতে থাকে। পাশ্চাত্যে এক্ষেত্রে খুব সমস্যা হয় না। কারণ একটা বয়সে সন্তানেরা এমনিতেই পিতা-মাতার সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে না। ঐসব দেশে প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে সরকার; সিনিয়র সিটিজেনদের সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে জীবন-যাপনে প্রবীণদের অন্যের সহায়তার খুব প্রয়োজন হয় না। বিপদে পুলিশকে ফোন দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে রাষ্ট্রের ভূমিকা ভিন্ন—বউ নিয়ে নিরিবিলি কোথাও বসলে পুলিশ এবং মাস্তান দুই তরফ থেকে সওয়াল-জবাবের সম্মুখীন হতে হয়। গভীর রাতে মেয়েদের বের হওয়াটাকে সমাজ, মাস্তান, পুলিশ কেউ সহজে গ্রহণ করে না। তাই পুত্রসন্তান দরকার; এই পুত্রসন্তান ধর্ষক হলেও বাবুলের মতো মানিয়ে নিতে সবাই অভ্যস্ত। কিন্তু মেয়ে সন্তান ধর্ষিতা হলেই মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবার মাথা হেট হয়ে যায়। ধর্ষিতা মেয়ের প্রতি মা-বাবার আর কোন আবেগ থাকে না—২৪ ঘণ্টা ধর্ষিতা মেয়ের মৃত্যু কামনা করা হয়। মেয়ে আত্মহত্যা করলে মা-বাবা বেঁচে যায়; আত্মহত্যা না করলে বিউটির মতো বাবা নিজের মেয়েকে খুনির হাতে কৌশলে তুলে দিয়ে হত্যার সংবাদ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আউসারের সম্ভবত বোন নেই, বোন থাকলে সম্ভবত তার বাবা তাকে টার্গেট করত না।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com