দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আমার আজকের (রবিবার, ১৮ মার্চ ২০১৮) কলাম:

দায়-মুক্তি সনদ

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

গত ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যানে আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশে যাওয়ার পথে একটি মিছিল থেকে বাংলামোটর এলাকায় একটি মেয়েকে হেনস্তা করা হয়। মেয়েটির এই হেনেস্তা হওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে, মোবাইলে ভিডিও করেছে; কিন্তু কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। অবশ্য এগিয়ে আসাটা ঝুঁকিপূর্ণ হতো; একটি নিরীহ মেয়েকে ক্ষমতাসীন দলের দলবদ্ধ লোকজন দ্বারা হেনস্তা করার সময় উদ্ধারে এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাওয়া লোক বা লোকদের জীবন বিপন্ন হয়ে যেতে পারতো। মিছিলের লোকেরা তখন একটি মেয়েকে হেনস্তার করার জোশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিল। মিছিলের সকলে তখন এক একজন আলেকজান্ডার, চেঙ্গিস খান, সুলতান মাহমুদ, মানসিংহ, মুসোলিনি, হিটলার—অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা তখন তাদের। এসব হালাকু খাঁ’দের অপকর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস কারো থাকার কথা নয়। তবুও মেয়েটির ভাগ্য ভালো—এইরূপ নৈরাশ্যজনক অবস্থায় একজন দুঃসাহসী পুলিশ মেয়েটিকে রক্ষা করে বাসে তুলে দেয়।

মানুষের মনে আজকাল প্রশ্নও জাগে না যে, দিনে-দুপুরে এমন অসভ্য কাণ্ড করার দুঃসাহস হয় কী করে। প্রশ্ন করে না এ কারণে যে, যুগ যুগ ধরে এ ধরনের দলবদ্ধ আক্রমণ দেখে দেখে লোকজন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বখাটেরা মা মানে না, বাপ মানে না—মানে শুধু দলের নেতা আর পুলিশ রিমান্ডকে। এদের বোন বা আত্মীয় মেয়ের দিকে কেউ তাকালে তাকানো চোখ নিমিষেই উপড়ে ফেলবে। এদের মা-বোন ছাড়া এরা অন্য সব মেয়েকে সম্ভোগের সামগ্রী মনে করে। বিএনপি’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মতিন সাহেবের আমল থেকেই দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাস্তানদের উৎপাত বেড়েছে; দলবদ্ধ হয়ে কিছু কিশোর-যুবক হন্তদন্ত হয়ে চলাফেরা করে; বর্গীর মতো এদের আচরণ, এরা নবীন, প্রবীণ কাউকে ধর্তব্যের মধ্যেই ধরে না। বিবেচ্য ক্ষেত্রে মিছিলটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের; ক্ষমতাসীন দলের দলবদ্ধ মিছিল তো অপ্রতিরোধ্য শক্তিশালী, এরা ভয় পাবে কেন। হয়তো এরা ছিল ঢাকা শহরের কোন একটি পাড়ার মাস্তান; তাদের মাস্তানির দম্ভ জাহির করার মানসে রাস্তায় একটি অসহায় মেয়েকে হেনস্তা করা তো তাদের জন্য কোন দুঃসাহসিক কাজ ছিল না, বরং মাস্তানী না করলেই সবাই তাদের নপুংসক ভাবতো। যুগে যুগে সব আমলে দলীয় ছত্রছায়ায় এরা মহাশক্তিধর গ্ল্যাডিয়েটর— রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রশিক্ষিত ক্রীতদাস। মাঝে মাঝে পদমর্যাদার জন্য দলীয় নেতাদের অপদস্থ করলেও এরা আবার নেতাদের নির্দেশে প্রাণও দিতে পারে। এইসব দুর্বৃত্ত গ্ল্যাডিয়েটরের সৃষ্টি শুধু কোন একটি যুগে বা কোন একটি শাসনামলে হয় না, সব যুগে সব শাসনামলে এরা জন্মলাভ করে। এরা সব শাসনামলেই প্রশ্রয় পেয়ে থাকে। এরা প্রেম-পিরিতির ধার ধারে না, নারীর সম্মতির তোয়াক্কা করে না, এদের কাছে নারী শুধুই ভোগের বস্তু। সম্মতি নিয়ে ভোগ করার ক্ষেত্রে এদের পৌরুষত্বে আঘাত লাগে; তাই এরা ধর্ষণে বিকৃত আনন্দ পায়।

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কভার করতে গিয়ে কয়েকজন নারী সাংবাদিক নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। মাওলানা-আলেমদের সমাবেশে বেগানা বেপর্দা মেয়েদের ঘোরাফিরা করা, ফটো তোলা নাজায়েজ বলে মহিলা সাংবাদিকদের পেটানো হয়েছে; কিন্তু জয় বাংলার আদর্শের সৈনিকেরাও কি মেয়েদের অবাধ চলাফেরা পছন্দ করে না? এমন নারী নিপীড়ন পহেলা বৈশাখে টিএসসি এলাকায়ও হয়েছিল; তখন কতজন কত রং-বেরঙের কথা উচ্চারণ করেছে। রং-বেরঙের কথা না বলে তখন দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হলে দ্বিতীয়বার একই ঘটনা করতে দুর্বৃত্তরা হয়তো ভয় পেত।

মেয়েটি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষোভে এদেশ ত্যাগের কথা বলেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আছে যেখানে গভীর রাতেও মান-সম্মান নিয়ে মেয়েদের একাকী চলাফেরা করা সম্ভব। তাহলে দেশে থাকবে কারা? রাজনীতিবিদ, নেতা, পাতিনেতা, ডাকাত, ঘুষখোর, ধর্ষক, যৌন নির্যাতক, খুনি, মাস্তান, বদমাশ, প্রতারক আর নারীবিদ্বেষীরা? মিছিলের এতগুলো বদমাশ হাত যখন মেয়েটির শরীরে গিয়ে পড়েছিল তখনকার সেই মেয়েটির অসহায় অবস্থা কি কল্পনা করা যায়? এমন বিপর্যয়কর অবস্থা শুধু ভিকটিমদের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব, অন্যদের পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব নয়। কলেজে পড়ুয়া একটি মেয়ে, যে এখনো কিশোরীর স্বভাবসুলভ উচ্ছ্বাসে লাফালাফি করে, জগৎ-সংসারের কোন জটিলতা যাকে এখনো স্পর্শ করেনি, মা-বাবা যাকে সংসারের সব দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত রেখে পৃথিবীর শুধু সুন্দর রূপের কাহিনী বলেছে—সেই মেয়েটি এমন বীভৎস নোংরামির অভিজ্ঞতা নিয়ে অরক্ষিত দেশে থাকবে কেন? তবে মেয়েটি খুব সাহসী—আত্মঘাতী হওয়ার ন্যাকামি করেনি।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস; নারী দিবসের আগের দিন এই ঘটনাটি ঘটে। ফেসবুকে প্রায় সকল বন্ধুরা নারী দিবসে নারীদের বন্দনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছে; সম্ভবত অপদস্থকারী দুর্বৃত্তরাও নারী বন্দনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছে। এমন ভণ্ডামি সমাজের প্রায় প্রতিটি শ্রেণির মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। আমরা সাধারণ লোকেরাও কখনো কখনো এই দুর্বৃত্তদের পক্ষে থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের যে দল ছাত্রীদের নাজেহাল করেছে সেই দলই ছাত্রীদের ভোটে জিতেছে। মাঝে মাঝে হলগুলোতে নিজেরা যেভাবে মারামারি করে, বাইরে থেকে লোক অপহরণ করে জিম্মি করে রাখে তাতে মনে হয় ওই হলগুলো আলাদা রাষ্ট্র।

মেয়েটির উপর যা করা হয়েছে তা ‘যৌন হয়রানি’; একটি মেয়ের সম্মতি ছাড়া গায়ে হাত দেওয়া, কাপড় ধরে টানাটানি করা, কটূক্তি করা ইত্যাদি যৌন হয়রানির অন্তর্ভুক্ত। এই শব্দযুগল আজকাল প্রায়ই শুনা যায়। এক সময় ছিল কিছু শব্দ উচ্চারণই করাই লজ্জাজনক ছিল। যৌন-বিদ্যা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বহু বিশেষজ্ঞ বহুদিন ধরে বলে আসছেন। কারণ এ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানের অভাবে কিশোর-কিশোরীরা ভুলপথে পরিচালিত হয়ে থাকে; যৌন হয়রানিতে আক্রান্ত হয়েও নিজেকে অপরাধী ভেবে বিষয়টি গোপন রাখে; অপদস্থ হয়ে লজ্জায় সর্বদা ম্রিয়মাণ থাকতে হয়। লজ্জাবনত না থেকেও উপায় নেই, কারণ সমাজ যৌন হয়রানির ভিকটিমকে অপাঙ্ক্তেয় করে রাখে বলে ভিকটিমও সব কিছু ঢেকে রাখে। আর এই সুযোগটিই নিয়ে থাকে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তরা জানে, লোকলজ্জার ভয়ে ভিকটিম যৌন হয়রানির কথা প্রকাশ করবে না। প্রকাশ করা যায়ও না; প্রকাশ করলে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের নিকট শুধু হেয় হয়ে জীবন কাটাতে হয়। সবাই কিছুদিন পর বলতে শুরু করে, 'নিশ্চয় মেয়েটিরও কোন দোষ ছিল'। স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়াতে আরেকটি কৌশল এখন এই লম্পটেরা নিয়ে থাকে; যৌন হয়রানির ছবি তুলে তা সংরক্ষণ করে এবং মাঝে মাঝে তা প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভিকটিমের উপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তবে যে বিষয়টি নিয়ে এক সময় ভয় আর লজ্জায় কথাই বলা যেত না এখন তা নিঃসংকোচে বলার একটু একটু সাহস হচ্ছে।

পাশ্চাত্যে চলাফেরা যত খোলামেলাই হোক না কেন ওখানে সেক্স-ওয়ার্কারেরও একটা সম্মান আছে। ওখানে পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া অবাধ মেলামেশা কল্পনাও করা যায় না। পাশ্চাত্যে যৌন হয়রানির বিষয়টি প্রকাশের কারণে ভিকটিমকে লজ্জাজনক অবস্থায় পড়তে হয় না বলে অনেক মেয়ে এই যৌন হয়রানির অপব্যবহার করে থাকে। বর্তমানের যৌন ঘটনা ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর জন্য চেপে যায় এবং সময়মতো তা কাজে লাগায়। বিশেষ করে কোন ব্যক্তির কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তি দ্বারা অতীতে সংঘটিত যৌন হয়রানির বিষয়টি প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়াও বিরোধী দল বা বিরোধী পক্ষ এগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে থাকে। পাশ্চাত্য যৌন অপরাধ নিয়ে মাতামাতি না করলেও দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর যৌন অপরাধ জনগণ সহজভাবে গ্রহণ করে না। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যৌন বিচ্যুতি তার দুর্বল ব্যক্তিত্বের বহির্প্রকাশ বলে মনে করা হয়। যৌন হয়রানির কথা প্রকাশ হওয়ার পর বহু মন্ত্রী, এমপি বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। মনিকার সাথে বিল ক্লিনটনের মন দেওয়া-নেয়ার বিষয়টি সিনেট বা কংগ্রেসের নিকট মুখ্য বিচার্য ছিল না, মুখ্য বিষয় ছিল একজন প্রেসিডেন্ট অসত্য বলছেন কি না। অসত্য বলাটা ওই সকল দেশে মহাপাপ; আবার সত্য বললে বউ ও সন্তানের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার নিকট প্রধান বিবেচ্য বিষয় পারস্পরিক বিশ্বস্ততা। আবেগঘন মুহূর্ত বা বেসামাল অবস্থায় সামান্যতম যৌন বিচ্যুতি হলেও তা অকপটে পাশ্চাত্যের লোকেরা একে অপরের নিকট স্বীকার করে। যৌন হয়রানি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও হতে পারে।

মিছিলের সংশ্লিষ্ট দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা জরুরি। আমাদের দেশে দুইটি বড় রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জনশ্রুতি হচ্ছে, নিজের দলের কেউ অপরাধ করলে একটি দল অপরাধীকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ছেড়ে দেয়; আরেকটি দল নিজ দলের কোন অপরাধীকে ধরেই না। দলীয় ছত্রছায়া দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তপনার সাহস জোগায়। সরকারি দল করলে তো দায়মুক্তির সনদ পেয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রাষ্ট্র থেকে এমন একটি দায়-মুক্তির সনদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোন দায়-মুক্তি সনদই যে চিরস্থায়ী নয় তা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার পর প্রমাণিত হয়েছে। ঠিক তেমনি দলীয় কর্মীদেরও কৃত অপরাধ থেকে স্থায়ীভাবে দায়-মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই কথাটি উপলব্ধি করার মতো ক্ষমতা না থাকায় এ অঘটনগুলো ঘটে।

জনসভা এলাকায় ঘটনাটি না ঘটায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, এর দায় দলের নয়, সরকারের ওপর বর্তাতে পারে। আমাদের মতো সাধারণ লোকের কাছে বড় বড় নেতাদের বক্তব্য মাঝে মাঝে বিদঘুটে মনে হয়। জনগণ যে তাদের বক্তব্য মূল্যায়ন করে এ বিষয়টি বোধ হয় তাদের ধারণায় থাকে না। তিনি বা তার দল দায়টা নেবে কেন? অনেক পরিবারে মা-বাবার পক্ষেও সন্তানদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এজন্য এসব বদমাইশির জন্য কেউ কখনো দল বা সরকারকে দায়ী করেও না। দলগুলোই বরং পরস্পরকে বিনা কারণে দায়ী করে মানুষদের বোকা বানানোর অপচেষ্টা করে। যে বা যারা বদমাইশি করে তাদের প্রতিটি কাজ প্রতি মুহূর্তে মনিটর করা কোন দল বা সরকারের সাধ্য নেই। 'এমন ঘটনা ঘটেনি, ঘটলেও এরা আমাদের দলের নয়; এরা অনুপ্রবেশকারী'—এসব না বললেই জনগণ সরকার বা দলের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না, দায়ও চাপাবে না। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, কোন দলের পক্ষেই দলের সব কর্মীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। যতক্ষণ দেশ ও দলের পক্ষে একনিষ্ঠ থাকবে ততক্ষণ কর্মী দলের সম্পদ; আর যখনই দুর্বৃত্তপনায় মেতে উঠবে তখনই সেই কর্মী দলের জন্য দায়। এই দায় দল নেয় বলেই দল সমালোচিত হয়। রাজনীতি নিয়ে খেলা শুধু নেতারা করে না, কর্মীরাও করে। ঘটনাটা নিয়ে মেয়েটার একটা স্ট্যাটাস নিয়ে ফেসবুকে অনেকে রাজনীতির খেলা শুরু করায় মেয়েটি তার পাবলিক স্ট্যাটাসকে বদলিয়ে ‘অনলি মি’তে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে।

বিবেচ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন, ইতোমধ্যে মেয়েটির বাড়ি গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার খোঁজ-খবর নিয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমন বক্তব্য শুনতে শুনতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাওয়াতে এসব আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে ভরসা পায় না। এক্ষেত্রে সবার শেষ ভরসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; নিশ্চয়ই দুর্বৃত্তরা দায়মুক্তি সনদ পাবে না। বদমাইশদের আশ্রয়, প্রশ্রয় না দিয়ে শীঘ্র আইনের আওতায় নিয়ে এলে বাকবিতণ্ডার প্রয়োজন হবে না, দল এবং সরকারের ওপর জনগণের আস্থাও দুর্বল হয় না। সর্বশেষে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই যিনি কতগুলো হায়না থেকে মেয়েটিকে রক্ষা করার সাহস দেখিয়েছেন।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com