আজকের (রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮) দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আমার কলাম।

‘ফেইক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ড সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পৃথিবীর পাঠক, দর্শক ও শ্রোতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, এবিসি নিউজ, সিএনএন, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, টাইম ম্যাগাজিন, নিউজউইককে সবচেয়ে ‘অসৎ এবং ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প ‘ফেইক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’-২০১৭ ঘোষণা করেছেন। ভুয়া ও অপসাংবাদিকতার মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ও টিভি নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে

প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কথা বলে তিনি তার স্বভাবসুলভ আচরণের বহির্প্রকাশ ঘটান। তাই বলে ট্রাম্পের মতিভ্রম হয়েছে বলা যাবে না। তিনি যেদিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন সেদিন থেকেই তার আচরণে মুহাম্মদ তুঘলকের পাগলামী দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষিত জনতা তার এই পাগলামিকেই ভোট দিয়েছে; মনোনয়ন পেলে হয়তো আবারও তিনি জিতবেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছরের শাসনামলে তার সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মিডিয়ায় বিরূপ সমালোচনায় অতিষ্ঠ হয়ে ট্রাম্প এমন অদ্ভুত পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তার বিজয়ের পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার অভিযোগ নিয়ে গদিতে বসার প্রথম দিন থেকেই এফবিআইয়ের তদন্ত শুরু হয়। নারীঘটিত নতুন নতুন অভিযোগ প্রায় প্রতিদিন উঠছে। রিপাবলিকন পার্টির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে যে সব নেতিবাচক খবর প্রচার হয়েছে তার ৯০ শতাংশ পক্ষপাতমূলক, অসততাপূর্ণ এবং পুরোপুরি ভুয়া।

ট্রাম্পের জয়লাভের পরদিন নিউইয়র্ক টাইমসে অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগমানের লেখায় উল্লেখ ছিল, ‘ট্রাম্পের জয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে’। কিন্তু তার এই ভবিষ্যদ্বাণী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হয়নি। কারণ ট্রাম্পের বিগত এক বছরের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি উচ্চ মাত্রার প্রবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত। বিগত ১৭ বছরে তার আমলে বেকারের হার সবচেয়ে কম। তার অন্যতম সাফল্য হচ্ছে, কর সংস্কার। পল ক্রুগমানের আগাম উক্ত সতর্কবাণী তাই ট্রাম্পের প্রতি বিদ্বেষমূলক বিবেচনা করে তাকে একটি ‘ফেইক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে।

ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী সমাবেশে গণজোয়ার ছিল না মর্মে সংবাদ পরিবেশনের জন্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা ‘ফেইক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে। কোন সমাবেশে কত লোক হয়েছে তা কেউ গণনা করে লিখে না; তাই সংখ্যা নিরূপণে মতভেদ হতেই পারে। আমাদের দেশেও পছন্দ ও সমর্থন অনুযায়ী সভা-সমাবেশে জনতার উপস্থিতি নিয়ে এক এক মিডিয়া এক এক রকম সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বাংলাদেশে বিভিন্ন নির্বাচনী জনসমাবেশে দলভেদে জনতার ছবি দেখানোর ক্ষেত্রেও কারসাজি পরিলক্ষিত হয়। তাই ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর ক্ষেত্রেও পক্ষপাতমূলক খবর পরিবেশনার অভিযোগ তোলা যেতে পারে, কিন্তু ভুয়া বলা ঠিক হয়নি।

ট্রাম্পের অদ্ভুত আচরণ মিডিয়াসহ অনেককে ক্ষেপিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পও এত ক্ষেপেছেন যে, এবিসি নিউজ-এর সাংবাদিক ব্রায়ান রসকে তার দেওয়া একটি ভুয়া খবর শুধরে নিতে বাধ্য করা ছাড়াও তার কাজ থেকে তাকে চার সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড থাকতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের নেপথ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও রাশিয়ার কলাকৌশল থাকার খবরটিকে ট্রাম্প মারাত্মক ধাপ্পাবাজি ও ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে একে ‘ফেইক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’-এর নিমিত্তে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ না হওয়ায় সত্যাসত্য এ মুহূর্তে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

সংবাদের সত্যাসত্য বিচারের ক্ষমতা সবার থাকে না; অনেকের থাকলেও স্বার্থের অনুকূল ভুয়া খবর তারা সানন্দে গ্রহণ করে থাকে। তবে কিছুটা নিরপেক্ষ ব্যক্তি খবরের সত্যাসত্য নিরূপণে সতর্কতা অবলম্বন করলেও তেমন সচেতন লোকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এই বিবেচনায় ভুয়া খবর প্রচারে স্বার্থান্বেষীরা প্রলুব্ধ হয়। পাঠক, দর্শক বা শ্রোতা সচেতন না হলে ভুয়া খবরের প্রতিক্রিয়া মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে; তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না থাকায় সচেতন লোকেরাও এতে প্রভাবিত ও প্রতারিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি জার্মানিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও মার্কেলপন্থিরা ভুয়া খবরের প্রচারণায় ফলাফল পাল্টে যাওয়ার ভয়ে ভীত ছিল। সিরিয়ার দশ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া, একটি অনুষ্ঠানে জার্মান মেয়েদের সঙ্গে শরণার্থীদের অশোভন আচরণ নিয়ে ফেসবুক মার্কেল বিরোধী প্রচারণা শুরু করলে মার্কেল প্রশাসন ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণহীন তথ্য তুলে নিতে নোটিশ জারি করেছিল।

ডিজিটাল যুগে অনলাইন নিউজগুলো সহজলভ্য হলেও ভুয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য পরিবেশনার জন্য এগুলো ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে অভিযুক্ত হচ্ছে। দুঃখজনক হচ্ছে, ভুল সংবাদ প্রচারের পর মাফ চেয়ে পত্রিকা বেঁচে গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম আর পুনরুদ্ধার হয় না। তাই ব্যক্তি ভুয়া সংবাদ প্রকাশের আগেই আপস করতে বাধ্য হয়। অনেকের অলিখিত অভিযোগ হচ্ছে, কিছু পত্রিকায় নিয়োজিত রিপোর্টারদের বেতন-ভাতাদি দেওয়া হয় না বলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে রিপোর্টারদের অর্থ আদায়ের অনৈতিক কাজ সম্পর্কে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সম্যকভাবে অবহিত হয়েও চুপ করে থাকেন। তবে ভুয়া খবরের বিরতিহীন প্রচার যে কোন মিডিয়াকে পরিশেষে অবিশ্বস্ত করে তোলে। আমাদের দেশেও কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ভুয়া খবর দিয়ে বারবার ক্ষমা চাওয়ায় কারণে পরিশেষে পাঠককুলকে হারিয়েছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন অনেক অঘটন ঘটছে; এক স্থানের ঘটনা অন্য স্থানের, এক মানবগোষ্ঠীর সংবাদ অন্য মানবগোষ্ঠীর বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহরহ প্রচার হচ্ছে। কোন একটি সত্য ঘটনার স্থান, কাল, পাত্রের প্রাসঙ্গিকতা বদলিয়ে গোঁড়া, কট্টরপন্থি মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমর্থকরা ভুয়া খবর ও বিকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে থাকে। শুধু এ কারণে ভুয়া খবর একটি পক্ষের কাছে খুবই আদরণীয়।

ভীতি সঞ্চারক, উস্কানিমূলক কিংবা চরিত্র হননকারী খবরের প্রতীক্ষায় থাকে দলীয় সমর্থক ও ধর্মের অন্ধ ভক্তরা। ভুয়া খবরে বাংলাদেশে ইতোমধ্যে সংখ্যালঘুদের উপর কয়েকটি আক্রমণ হয়েছে। তবে অনেক সময় একটি সাধারণ সতর্কবাণীও অন্যের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য অথবা প্রতিপক্ষের সুনাম নষ্ট করার অভিপ্রায়েও ভুয়া খবর প্রচার করা হয়। পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তনের একটি ছবিকে আলেমদের উপর বর্তমান সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে কাবা শরিফের ইমামদের মানববন্ধন শিরোনামে প্রকাশ করায় বিচারের সম্মুখীন হয়েছিল একটি দলীয় পত্রিকা। একজন হিন্দু মেয়েকে মুসলিম জনতা মারধর করছে মর্মে অনলাইনে একটি ভিডিও ক্লিপ প্রচার করা হলে পরে প্রমাণিত হয় যে, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি ঘটেছিল মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায়।

ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ভুয়া খবর দ্বারা নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য জাহিরের প্রবণতা কারও কারও মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। চাঁদে প্রথম পদার্পণকারী নীল আর্মস্ট্রং এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানী সুনিতা উইলিয়ামসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের খবর ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে আমাদের অনেকে খুশি হয়েছিল। কিন্তু খবর দুটি ছিল ভুয়া। সুনিতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের একটি ভুয়া কারণও তখন প্রচারিত হয়; মহাশূন্যে অবস্থানকালে সুনিতা নাকি শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে যে দুটি স্থান দেখতে পান তা হলো পবিত্র কাবাঘর এবং মসজিদে নববী। মহাশূন্যে থাকাকালীন তিনি নাকি আজানের ধ্বনিও শুনতে পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে আর্মস্ট্রংয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুজবে যে ভুয়া তথ্যের অবতারণা করা হয়েছিল তা হলো— চাঁদের মাটিতে হাঁটার সময় তিনি নাকি এক অচেনা ভাষায় সুর সংবলিত কিছু শব্দমালা শুনতে পান। শ্রুত শব্দমালা সেই সময় তার বোধগম্য না হলেও পৃথিবীতে ফেরার পর মিসরে গিয়ে আজানের ধ্বনি শুনে তার মনে হয়েছে তিনি চাঁদে এই ধ্বনিই শুনেছিলেন। আরেকটি মনগড়া, বানানো গল্পও তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়; গল্পটি হচ্ছে, আমাদের নবী করিম (সা.)-এর করা চাঁদের দ্বিখণ্ডন তিনি নাকি চাঁদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত দেখতে পেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহান্বিত হন। কিন্তু বিশাল চাঁদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার সাধ্য নীল আর্মস্ট্রংয়ের যে ছিল না তা বোঝার ক্ষমতা ভুয়া খবর পরিবেশনকারীদের ছিল না। এইরূপ ভুয়া খবরের মন্দ কোন উদ্দেশ্য নেই, শুধু গর্বে উৎফুল্ল হওয়ার আনন্দ আছে।

ভুয়া খবরের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিশ্বস্ততা হ্রাস পাচ্ছে মর্মে পর্যবেক্ষণে পরিলক্ষিত হয়েছে। এজন্য ফেসবুকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে মর্মে মার্ক জাকারবার্গ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভুয়া ও উত্তেজক সংবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক বেশি উসকানিমূলক, ভুয়া ও পক্ষপাতমূলক সংবাদের দৌরাত্ম্য চলছে বিশ্বজুড়ে। তিনি আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনকারীদের নির্বাচন করবে ফেসবুক ব্যবহারকারীগণ; ফেসবুক ব্যবহারকারীগণই ঠিক করবেন, কোন সংবাদ প্রকাশক নির্ভরযোগ্য ও নিরপেক্ষ। কিন্তু এভাবে নিরপেক্ষ খবর পরিবেশনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কারণ সব মানুষ একই মতাদর্শে লালিত নয়। কেউ কেউ গুজব ও উত্তেজক সংবাদেই তৃপ্তি পায়।

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনেও ভুয়া খবর যে প্রচারিত হবে এবং অনেক অঘটনের জন্ম দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। অতি সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পূর্বে অসংখ্য ভুয়া ও উত্তেজক খবর প্রচারিত হয়েছে; স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা শব্দ সহকারে রাস্তা-ঘাট, বাস-ট্রেনে নিজে শুনেছে এবং অন্যকেও শুনিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ভুয়া অপপ্রচার রোধ করার ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভোটে সৎ লোক হারবে, মন্দ লোক জিতবে।

নাটক, উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে হাল্কা আমেজ এনে সমাজের অনাচারগুলোকে মনোগ্রাহী করে পরিবেশন করার নিমিত্তে ভাঁড়, কোরাস বা কৌতুক অভিনেতার আগমন ঘটানো হয়। ট্রাম্পকে যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন তিনি ব্যঙ্গ করে যে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তা কিন্তু মিডিয়ার দায়িত্ববোধ বাড়াতে সাহায্য করবে।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com