মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২২ সনের বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিসেস’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি বছর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করার ব্যাপারে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক এই বার্ষিক রিপোর্টে পৃথিবীর ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চলের স্থানীয় মানবাধিকারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিগত প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এই ধরনের রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে। রিপোর্টে ২০২২ সনের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৮ সনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম হয়েছে, স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া হয়েছে, সভা-সমাবেশে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনীর নির্যাতন ও দুর্নীতিকে দায়মুক্তি দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, মিডিয়ায় সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সীমাহীন ক্ষমতা ইত্যাদি ইত্যাদি।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন রিপোর্টকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘অযৌক্তিক’, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে ‘ত্রুটিপূর্ণ’, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ও তার দপ্তরকে খাটো করার কারণে রিপোর্টের সমালোচনা করেছেন। ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, পৃথিবীর কোন দেশের গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত নয় এবং ত্রুটিমুক্ত নয় বলেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো তার পরাজয়কে মেনে নেননি, আমেরিকার নির্বাচন স্বচ্ছ ছিল না বলেই ট্রাম্পের সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিল আক্রমণ করে তছনছ করে দিয়েছিল। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন আমেরিকায় প্রতিনিয়ত গুলি করে মানুষ মারা হয়, তবুও তাদের মানবাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন সরকার মার্কিন সরকারের মানবাধিকার রিপোর্ট গ্রহণ করেনি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি— সব সরকারই বাস্তবতাবিবর্জিত বলে রিপোর্টের বক্তব্য নাকচ করেছে। সরকার মুখে মুখে নাকচ করলেও ভেতরে ভেতরে আমেরিকার কাছে জবাবদিহি করে থাকে, উত্থাপিত অভিযোগ নিরসনের চেষ্টা করে।

মার্কিন রিপোর্ট বলছে, সরকার থেকে চাপ না থাকলেও অনেক মিডিয়া ভয়ে বা বিজ্ঞপ্তির সুবিধা নিয়ে সেলফ সেন্সরশিপে চলে গেছে। কিন্তু এত ভয় এবং লোভ থাকলে সাংবাদিকতা না করে ব্যবসা করা ভালো। রিপোর্ট যাই বলুক না কেন, মত প্রকাশে বাংলাদেশের মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে; টকশোগুলো তার প্রমাণ। বিরোধী দলের নেতানেত্রীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ বা সেমিনার-কর্মশালায় যেভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার তাতে মনে হয় না সরকার কখনো তাদের বাক্‌স্বাধীনতায় বাধা দিয়েছে। বিরোধী দলের বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় গুরুত্বসহকারে প্রচারিতও হচ্ছে, সরকার বাধা দিলে তা প্রচারিত হতে পারত না। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিজিটাল আইনটি ক্রমবর্ধমানভাবে দেশের বাইরে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগটি অসত্য নয়, যারা বিদেশে বসে সরকারের বিরুদ্ধে সত্য-মিথ্যা প্রচার করছে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের হেনস্তা করার বালখিল্যতা এই সরকার দেখিয়েছে। তবে দেশের বাইরে থেকে যারা সরকারের সমালোচনা করছেন তারা তা উলঙ্গ ও অশ্লীল ভাষায় করছেন; এগুলো কোন সুষ্ঠু সমালোচনা নয়, খিস্তিখেওর।

দেশের বাইরে অবস্থান করে যারা ইউটিউবে সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের সমালোচনায় তথ্যের চেয়ে আক্রোশ বেশি, সত্যের চেয়ে গুজব বেশি, তাদের উপস্থাপনায় থাকে কুৎসিত, কদর্য ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা। এগুলোও যদি বাক্‌স্বাধীনতার নামে চলতে দেওয়া হয় তাহলে বাক্‌স্বাধীনতার প্রতি মানুষের আর আস্থা থাকবে না। বাক্‌স্বাধীনতাও অবাধ নয়, প্রতিটি দেশে আইন দ্বারা রুদ্ধ। আমাদের মতো দেশে কঠোর কঠোর আইন প্রণয়ন করে বাক্‌স্বাধীনতা যেভাবে রুদ্ধ করা হয় উন্নত দেশে তা করা হয় না। পশ্চিমের দেশগুলোতে বাক্‌স্বাধীনতাকে সমধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়— জাতির পিতার বিরুদ্ধে কথা বলা যায়, পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের বিরুদ্ধে বলা যায়, জাতীয় পতাকার ডিজাইনে ব্রা এবং বিকিনি বানিয়ে অবাধে পরা যায়, ধর্মের বিরুদ্ধে বলা যায় ইত্যাদি। সম্প্রতি তুরস্কের বিরুদ্ধে সুইডেনের বিক্ষুব্ধ লোকজন কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে, সরকার বিক্ষুব্ধ লোকদের গ্রেফতার করেনি; কারণ সরকার তার নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। শুধু কোরআন নয়, কোন নাগরিক ইচ্ছে করলে নিজের বাইবেলও পুড়তে পারবে, কিন্তু অন্যের কাছ থেকে ছিনিয়ে এনে পুড়তে পারবে না। আমাদের কাছে ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো বাক্‌স্বাধীনতার পর্যায়ভুক্ত নয়। আমাদের দেশে আমরা শুধু সরকারের বিরুদ্ধে বলার জন্য বাক্‌স্বাধীনতা চাই, অন্যান্য ক্ষেত্রে নয়। বাক্‌স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মার্কিন রিপোর্ট তাই আমাদের দেশে পছন্দনিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্যতা পায় না।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রিপোর্টে যত অভিযোগই উত্থাপিত হোক না কেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাস দমনে এই প্রক্রিয়ার শাস্তি জনগণের সমর্থন পেয়েছে। বিরোধী দল বিএনপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন রিপোর্টের মতোই সোচ্চার, কিন্তু তাদের আমলেই র‍্যাবের সৃষ্টি এবং তাদের আমলেই সর্বপ্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২০০৪ সনে বিএনপি'র শাসনামলে র‍্যাব গঠিত হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে মরতে থাকে। তখন সন্ত্রাস নির্মূলের সাথে সাথে এলাকার জনগণ আনন্দে মিছিল করেছে, মিষ্টি বিতরণ করেছে। বিএনপি’র আমলে মানবাধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষ মাথা ঘামায়নি, কারণ সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি ছিল, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় ভুক্তভোগীরা ছিল অতিষ্ঠ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করার সাহস পেত না, কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মামলা করলেও কেউ ভয়ে সাক্ষী দিতে সাহস করত না। প্রলম্বিত বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা হারিয়ে এদেশের জনগণ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করেছে। ২০০৪ সনে বিএনপি র‍্যাব গঠন না করলে এতদিনে বাংলাদেশ নরকে পর্যবসিত হতো, আমেরিকার রিপোর্টে মানবাধিকার নিয়ে হয়তো ভিন্ন সুর শোনা যেত।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে মর্মেও রিপোর্টও উল্লেখ করা হয়েছে। দায়মুক্তি দেওয়ার রেওয়াজ শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর। বঙ্গবন্ধু, তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের হত্যাকারী সবাইকে দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছিল খোন্দকার মোশতাক, পরে বিএনপি’র আমলে এই অধ্যাদেশ ১৯৭৯ সনে সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ১৯৮২ সন থেকে ১৯৮৬ সন পর্যন্ত জারিকৃত সামরিক আইন, অধ্যাদেশ, বিধি-নির্দেশ ইত্যাদির বৈধতাদানের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ যা পরবর্তীকালে সংসদ অনুমোদন করে। ২০০৩ সনে বিএনপি’র আমলে পুনরায় ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ৫০ জনেরও বেশি লোক মারা যায়; বিএনপি সরকার তখন বলেছিল তারা সবাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সরকারের থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর যে চেহারা থাকে, বিরোধী দলে গেলে চেহারা রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায়— রূপের এই পরিবর্তন সব দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত বিধায় এই পরিবর্তন এক ভাগের চোখে কখনোই পড়ে না।

আওয়ামী লীগ আমলে হত্যাকাণ্ডসংশ্লিষ্ট কোন দায়মুক্তি আইন করা হয়নি, তবে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে করেছে। তারপরও মার্কিন রিপোর্টে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়মুক্তি দেওয়ার উল্লেখ থাকায় ধারণা করা যায় যে, আওয়ামী লীগ আমলে যে সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে তাদের তদন্ত ও বিচার দৃশ্যমান নয়। এটা অনস্বীকার্য যে, আইন করে অভিযুক্ত কারও বিচার আদালতে নিষিদ্ধ করা সংবিধানবিরোধী এবং বর্বরোচিত অপকীর্তি। বড় ধরনের অপরাধকে ধামাচাপা দিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি না করার কৌশল হিসেবেই দায়মুক্তি অধ্যাদেশ ও আইন করা হয়ে থাকে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রোধে আওয়ামী লীগ সরকার সম্প্রতি সতর্ক হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে; বলা হয়েছে যে, ২০২১ সনের তুলনায় ২০২২ সনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম নাটকীয়ভাবে কমেছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রায় সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকার কথা প্রতি বছরের মতো এবারের রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতা হ্রাস করতে হলে সংবিধানের সংশোধন দরকার। আজ পর্যন্ত কোন দল ক্ষমতায় গিয়ে তা করেনি।

২০১৮ সনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি মর্মে রিপোর্টে বলা হয়েছে। সুষ্ঠু যে হয়নি তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে শক্তিশালী বিএনপি এত কম আসন পেত না এবং পরাজিত প্রার্থীরা এত কম ভোটে পরাজিত হতো না। এই একটি কারণে আওয়ামী লীগের নৈতিক শক্তি কম; শুধু নেতা নয়, সমর্থকদেরও এই অভিযোগ বিনা প্রতিবাদে হজম করতে হয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় থাকার মধ্যে তৃপ্তি ও সাহস থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে আমেরিকার নৈতিক শক্তিও সবল নয়; কারণ তারাও তাদের স্বার্থে স্বৈরশাসককে সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রাখে। মিশরে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকারকে সমর্থন দিয়েছে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মুসলিম দেশ শাসন করেন রাজা-বাদশাহ, ঐ সকল দেশে নেই নির্বাচন, নেই গণতন্ত্র; কিন্তু সেই দেশগুলো আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সাংবাদিক খাসোগীকে করাত দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মানবাধিকারের কথা ভুলে গিয়ে সৌদি আরবের সাথে ৪ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে সৌদি যুবরাজকে খাসোগী হত্যার জন্য অভিযুক্ত করে প্রথম প্রথম পাত্তা দেননি, কিন্তু পরবর্তীকালে নিজ স্বার্থে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ জানাতে জো বাইডেন ছুটে গিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজের কাছে।

বাংলাদেশ সরকার সহসা এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি যার জন্য বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে, রিপোর্টে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে তা অনেক আগে থেকেই ঘটে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের প্রত্যক্ষ মদদে প্রতিষ্ঠিত র‍্যাব জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও হঠাৎ তারা আমেরিকার রোষানলে পড়ার কারণ বাংলাদেশকে রাজনৈতিক চাপে রাখার কৌশলও হতে পারে। সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের একপ্রকার টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশের নির্বাচন বা গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে ইতঃপূর্বে কখনো এত সরব ছিল না। আমেরিকার নীতি হচ্ছে ‘হয় বন্ধু, নতুবা শত্রু’। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ইউক্রেনের পক্ষে আমেরিকার গৃহীত সকল পদক্ষেপে বাংলাদেশের শর্তহীন সমর্থন থাকলে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে এত কড়া রিপোর্ট হতো না। চীনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রভাব সংকুচিত করার নানা ফন্দি আঁটছে আমেরিকা, তাই চীনের সাথে সুসম্পর্ক রাখাও আমেরিকা পছন্দ করছে না।

শেখ হাসিনাকে মনে রাখতে হবে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, মিশরের জামাল নাসের, ভারতের ইন্দিরা গান্ধী, বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান, লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি বা ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের মতো জাতীয়তাবাদী নেতাদের আমেরিকা কখনোই পছন্দ করেনি। তাই আওয়ামী লীগকে মনে রাখা দরকার, আমেরিকার কথামতো না চললে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করেও ক্ষমতায় টিকে থাকা সহজ হবে না। শান্তিবাহিনীতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপ, জাপান সব আমেরিকার হাতে। একাত্তরে যে আমেরিকা ‘জয় বাংলা’র বিরোধিতা করেছিল সেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আমাদের ৫২তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা শেষ করেছেন ‘জয় বাংলা’ বলে। আমেরিকা পারে না এমন কোন কাজ নেই।