বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার জুলাই মাস থেকে দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু করেছে। এই লোডশেডিং হওয়ার কথা সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা; কিন্তু লোডশেডিং-এর ক্ষেত্রে এখন কোন নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না, বর্তমানে প্রতিদিন অনেকবার লোডশেডিং হচ্ছে। শীতকাল না আসা পর্যন্ত এই অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। তবে এত ঘনঘন লোডশেডিং হওয়া সন্দেহজনক; অবশ্য সাবোটেজ হচ্ছে কি না তা মনিটর করার সক্ষমতাও বিদ্যুৎ বিভাগ হারিয়ে ফেলেছে। দুঃখজনক হচ্ছে, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের থাকা সত্ত্বেও জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, থাকতে হচ্ছে অন্ধকারে, সইতে হচ্ছে অসহনীয় গরম। সরকার ইচ্ছে করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কারণ বিশ্ববাজারের গ্যাস এবং ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্যাস এবং ডিজেলভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগের তুলনায় এখন ডিজেলের আন্তর্জাতিক দর দ্বিগুণেরও বেশী। আর দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে ৭৩ শতাংশই হচ্ছে ডিজেল। গত বছরের জানুয়ারি মাসে যে জ্বালানি তেলের গড় দর ছিল প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার, সেই জ্বালানি তেলের দাম একই বছরের সেপ্টেম্বরে গিয়ে দাঁড়ায় ৮৫ ডলারে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলার পৌঁছে যায়।

বেশী দরে গ্যাস বা ডিজেল ক্রয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। সরকার লস বা ভর্তুকি না দিয়ে প্রকৃত মূল্যে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে ইউনিটপ্রতি খরচ হবে দ্বিগুণের চেয়েও বেশী এবং জিনিসপত্রের দাম হবে আকাশচুম্বী। অবশ্য সরকারের লসের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেকের অভিমত, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ খাতে শুধু দুর্নীতি কমানো হলেই বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে। যে পরিমাণ বিদ্যুতের হিসাব পাওয়া যায় না তা 'সিস্টেম লস' হিসেবে হালাল হয়ে যায়। তিতাস প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘুষ নাকি ‘ওজনে মেপে’ নেন। গ্যাস চুরি নির্বিঘ্ন রাখতেই নাকি প্রিপেইড মিটার বসানোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মোট ব্যবহৃত গ্যাসের ১৬ শতাংশ গ্যাসকে আবাসিকে ব্যবহার দেখানো হয়, কিন্তু ব্যবহৃত হয় মাত্র ৮ শতাংশ, বাকি ৮ শতাংশ চুরি। বাসা-বাড়িতে গ্যাস লাইন সংযোগ না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের পর তিতাস অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তারা অবৈধ সংযোগ দেওয়া শুরু করে, তারা অবৈধ সংযোগের গ্রাহকদের নিশ্চিত করে যে, সকল অবৈধ সংযোগ বৈধ করা হবে। সত্যিই তাই হল, তিতাসের বোর্ড ২০১৮ সনে প্রায় ৭ লাখ অবৈধ সংযোগ বৈধ করেছে। মাঝে মাঝে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মহড়াও চলে। যারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তারাই আবার ঘুষ নিয়ে সংযোগ স্থাপন করে দেয়, এই সংযোগ স্থাপনে কোন গোপনীয়তা নেই। যারা সংযোগ দেয় তাদের কোন শাস্তি হয় না।

১৯০১ সনে সর্বপ্রথম ঢাকার রাস্তায় বিদ্যুতের বাতি জ্বলে। ১৯৪৭ সনে ব্রিটিশেরা যখন ভারতবর্ষ ত্যাগ করে তখন সারা পূর্ব পাকিস্তানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো মাত্র ২১ মেগাওয়াট। স্বাধীন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতটি বেশী অবহেলিত ছিলো বিএনপি'র শাসনামলে। বিদ্যুৎ ঘাটতির অসহনীয় অবস্থা থেকে দেশবাসীকে পরিত্রাণ দেওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সনে ক্ষমতায় এসেই কুইক রেন্টাল কেন্দ্র থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান করে। জনগণকে বিএনপি'র আমলে রেখে যাওয়া লোডশেডিং-এর ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে তাৎক্ষণিক রক্ষা করতে ব্যয়বহুল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যতীত অন্য কোন পথ খোলা ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীকালে এতগুলো নতুন বৈদ্যুতিক প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পরও কেন কুইক রেন্টাল কেন্দ্র থেকে বেশী দরে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে তার কোন যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা এখনো জনগণ পায়নি। আরও একটি বিষয় সরকারের ব্যাখ্যা করা দরকার এবং তা হচ্ছে সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর না করে এত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ কেন উৎপাদন করতে যাচ্ছি। আরেকটি ব্যাখ্যা খুবই জরুরি—বিদ্যুৎ সরবরাহ না নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কেন ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে গচ্চা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জনগণের মনে উত্থিত বিভিন্ন প্রশ্নের টেকনিক্যাল উত্তর বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় দিচ্ছে না।

গ্যাস এবং জ্বালানি তেলের এমন সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে। পরিবেশ দূষণে কয়লার ভূমিকা থাকায় কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ রয়েছে। আমাদের দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরি হচ্ছে বলে পরিবেশবিদগণ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এখন মনে হচ্ছে, সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্যে পর্যাপ্ত ভিন্নতর উৎস না থাকায় কয়লা আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অন্যতম প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আমাদের দেশে যে ৫টি কয়লাখনি রয়েছে সেগুলো থেকে কয়লা উত্তোলন করা হলে তা দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। কিন্তু কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া-পদ্ধতি নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ থাকায় এবং সর্বজনগ্রাহ্য একটি উত্তোলন-পদ্ধতি উদ্ভাবনের প্রত্যাশায় দেশের কয়লা উত্তোলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না।

আমাদের নিজেদের পর্যাপ্ত গ্যাস থাকলে বিদেশের উপর জ্বালানি তেলের জন্য এত বেশী নির্ভরশীল থাকতে হতো না। বিএনপি’র অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ধারণা ছিল, দেশ গ্যাসের উপর ভাসছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, মাটির নিচে থাকা গ্যাসের মজুত বেশী নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে গ্যাসের উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও তা দেশের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে পারছে না, বিদেশ থেকে প্রচুর গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। কারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় গ্যাস উৎপাদ বৃদ্ধি করেও চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অবশ্য গ্যাস আবিষ্কার ও উত্তোলনে আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান পর্যাপ্ত নয়, গভীর সমুদ্রে গ্যাসের অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বাংলাদেশের কোন সামর্থ্য নেই। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে। ইউরোপের প্রতিটি দেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে; শুধু রেশনিং নয় কোন কোন দেশে লোডশেডিংও হচ্ছে। শীঘ্র এই সংকট থেকে উত্তরণের কোন সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ সহসা থামছে না, বরং স্থায়ী রূপ ধারণ করছে। রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি প্রদেশকে ইতোমধ্যে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করেছে; গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে এই অন্তর্ভুক্তির কথা রাশিয়া বললেও জাতিসংঘসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

জ্বালানির সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। সমুদ্রতলে বসানো গ্যাস পাইপলাইনে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে ফুটো হয়ে যাওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের বাজারে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি সরবরাহের জন্য একটি পাইপলাইন রাশিয়া থেকে ইউক্রেন হয়ে বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে জার্মানি পর্যন্ত বসানো আছে। ইউক্রেনকে এড়িয়ে আরেকটি পাইপলাইন গত বছরে বসানোর কাজ শেষ হলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জার্মানি নতুন পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস নিতে অস্বীকৃত জানিয়েছে। এই পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও রাশিয়া তা গ্যাস দিয়ে ভরে রেখেছে। এই পাইপলাইনের পেছনে রাশিয়ার প্রায় ১০০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। সম্প্রতি এই দুইটি পাইপলাইনে ৩টি লিকেজ ধরা পড়েছে। এই ক্ষেত্রেও বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইউরোপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পাইপলাইন লিকেজ করার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করছে, অন্যদিকে রাশিয়া দায়ী করছে আমেরিকা এবং ইউক্রেনকে। এই পাইপলাইন দ্রুত মেরামত করা না হলে পাইপলাইনের ভেতরে থাকা গ্যাসের চাপ হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে লবণাক্ত পানি পাইপের ভেতরে প্রবেশ করবে এবং পাইপলাইন স্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে যাবে। মুশকিল হচ্ছে, গ্যাসের চাপ না কমা পর্যন্ত দুর্ঘটনার কাছে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এই শীতে ঘর-অফিস-আদালত গরম রাখার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের অনুসন্ধানে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এতে গ্যাস এবং জ্বালানি তেলের বাজারে আরেকটি বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

ইউক্রেনের চারটি প্রদেশকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করায় আমেরিকা এবং ইউরোপ রাশিয়ার উপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ার উপর যত বেশী নিষেধাজ্ঞা হবে, বিশ্ববাজার তত বেশী অস্থির হবে। ইতোমধ্যে ইউরোপে গ্যাসের দাম অনেক বেড়ে গেছে এবং অনবরত বাড়ছেই। বর্তমান দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রতি লিটার এলপিজি গ্যাস এবং ডিজেলের গড়পড়তা দর যথাক্রমে ৭৬ টাকা ও ১৩৬ টাকা। তবে এক দেশের সাথে আরেক দেশের দরের পার্থক্য ব্যাপক। ধনী দেশের তুলনায় উৎপাদনকারী এবং গরিব দেশগুলোতে গ্যাস ও জ্বালানি তেল দর অপেক্ষাকৃত কম। আলজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলায় ১ লিটার গ্যাসের দাম যথাক্রমে ৬.৪৯ টাকা ও ২৩.২৩ টাকা; অথচ একই গ্যাস সুইডেন ও সুইজারল্যাণ্ডে যথাক্রমে ১২২.৪৯ টাকা ও ১১৮.৬২ টাকা। হংকং এবং সুইডেনে ১ লিটার ডিজেলের দাম যথাক্রমে ২৭২ টাকা ও ২৪১ টাকা; অন্যদিকে ইরান এবং ভেনিজুয়েলায় এই দর যথাক্রমে ১.০৮ টাকা ও ১.৬০ টাকা। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তেল-গ্যাস সরবরাহে যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে শুধু অর্থনৈতিক বাজার নয়, বিশ্বে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডও বেড়ে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে ইউরোপ রাশিয়া থেকে গ্যাস ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে বন্ধ করে দিতে পারে। রাশিয়া গ্যাস বিক্রি করতে না পারলে গ্যাস নষ্ট করে ফেলবে। অতি সম্প্রতি ওপেক প্লাস-এর ২৪টি দেশ নভেম্বর থেকে জ্বালানি তেলের উৎপাদন দিনে দুই লাখ ব্যারেল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে জ্বালানির দাম আবার বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে দর ঠিক রাখতে আমেরিকাও নাকি এক সময় গমের বস্তা সাগরে ফেলে দিত। এই কুটিল খেলায় বিশ্ব বিপুল পরিমাণ সম্পদ হারাবে। রাশিয়া ইতোমধ্যে তাদের অতিরিক্ত গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা শুরু করেছে। ফিনল্যান্ডের কাছে একটি রাশিয়ান গ্যাস প্ল্যান্ট নাকি প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গ্যাস পোড়াচ্ছে। এইভাবে আধিপত্যকামী দেশগুলোর জ্বালানি মারণাস্ত্রে আমাদের মতো গরিব দেশগুলো ক্রমশ দেউলিয়ার পথে এগুচ্ছে।