দেশের বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘পদ্মা সেতু’র শুভ উদ্বোধন হয়েছে ২৫শে জুন, ২০২২ তারিখে; উদ্বোধন করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘পদ্মা সেতু’ উদ্বোধনের সাথে সাথে বাঙালি জাতির স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা, আগ্রহ, দৃঢ়তা এবং দূরদর্শী পরিকল্পনায় আজ জাতির স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করেছে। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ ছিল কঠিন। ২০১১ সনের এপ্রিলে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি হওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় দুর্নীতির অভিযোগ এনে ২০১১ সনের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করে এবং ২০১২ সনের ২৯ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণচুক্তি বাতিল করে। পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক অস্বীকৃতি জানানোর সাথে সাথে অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও এই প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ালে জাতির সম্মুখে এই ‘পদ্মা সেতু’র নির্মাণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিশ্বব্যাংকের এমন নাটক মঞ্চস্থ না হলে ২০১৩ সনেই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারত, ৯ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হতো না এবং এত বিপুল ব্যয়েরও প্রয়োজন হতো না।

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য বিপ্লব ঘটবে, দেশের সর্বত্র পণ্য পরিবহণ সহজতর ও দ্রুততর হবে, দ্রুততর পরিবহণ ব্যবস্থায় দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক সমাজ অধিকতর কৃষি উৎপাদনে উৎসাহী হবে, সম্প্রসারিত ব্যবসা-বাণিজ্যের বদৌলতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের জীবনমান সমৃদ্ধ হবে, নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, দেশের জিডিপি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে, বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, দেশের দারিদ্র্য হার হ্রাস পাবে। এগুলো হলো প্রত্যাশা—পদ্মা সেতু জনগণের মনে প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা না থাকলে বড় কিছু করা যায় না। বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২-৭৩ সনে মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, সেই বাজেট এবার হয়েছে ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। বিরাট বিরাট বাজেট করার কৃতিত্ব সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের, তিনি কিছু অর্থনীতিবিদের তীব্র সমালোচনার মুখেও বিপুল অঙ্কের বাজেট তৈরি করে গেছেন। বাস্তবতার সাথে সঙ্গতি নেই উল্লেখ করে বিরোধী দল বাজেটের বিশালতা নিয়ে উপহাস করেছে। কিন্তু বড় বড় বাজেট দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেও সক্ষম হয়েছে।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। দেশের দীর্ঘতম ‘পদ্মা সেতু’ নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ১৯৯৮-৯৯ সনে সেতু নির্মাণের প্রাক্‌-প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয় এবং ২০১১ সনে সেতুর ডিজাইন প্রণয়ন কাজ সম্পন্ন হয়। বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য দাতা সংস্থা অর্থায়ন করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ২০১২ সনের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজস্ব তহবিল দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১৪ সনের ২৬ নভেম্বর মূল সেতুর কাজ শুরু হয়, কোভিড-১৯ অতিমারির আঘাতে বিপর্যস্ত ও স্তব্ধ পৃথিবীর স্থবিরতায় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশান কোম্পানি লিমিটেড’। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার, প্রস্থ ১৮.১০ মিটার এবং ভায়াডাক্টসহ সেতুর দৈর্ঘ্য ৯.৮৩ কিলোমিটার। স্টিল এবং কংক্রিট দ্বারা নির্মিত দুই স্তরবিশিষ্ট এই সেতুর উপরের স্তরে রয়েছে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরে রয়েছে একটি রেলপথ। দেশের বৃহৎ তিনটি নদ-নদী পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার অববাহিকায় মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা নদীর বক্ষে স্থাপিত ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪২টি পিলারের উপর পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। নদীশাসনের কাজে ৩০ লাখ বালুর বস্তা নদীর তলদেশে ফেলতে হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ৫ কোটি ডলারের তদারকি কাজ পাওয়ার জন্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে কারিগরি কমিটির মূল্যায়নে যে শর্ট লিস্ট তৈরি করা হয় তাতে কানাডার এসএনসি লাভালিন ছিল। এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে মর্মে অভিযোগ উত্থাপন করে বিশ্বব্যাংক সেতু নির্মাণের জন্য প্রতিশ্রুত অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনাল কানাডার এসএনসি-লাভালিনের কাছে ১০ শতাংশ অর্থ কমিশন চেয়েছিল। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া ও প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধির মাধ্যমে লাভালিনের কাছে ঘুষ চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন এবং সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পাশাপাশি তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। দুদক তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট কিছু পায়নি, আমাদের অনেকের ধারণা ছিল, দুদক সঠিকভাবে তদন্ত করেনি। কানাডার পুলিশ তাদের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়েরে দুহাইম, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করায় আমাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। কানাডার আদালতে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়; কিন্তু সব সন্দেহের অবসান হয় যখন কানাডার আদালত দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ বছরের বেশি সময়ের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলা খারিজ করে দেয়; আদালত রায়ে উল্লেখ করে যে, মামলায় প্রদত্ত তথ্য অনুমানভিত্তিক, গালগল্প এবং গুজবের বেশি কিছু নয়। এতে হার হয়েছে বিশ্বব্যাংকের, তাদের ভূমিকা হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ; অন্যদিকে জয় হয়েছে বাংলাদেশের, উজ্জ্বল হয়েছে আমাদের ভাবমূর্তি। বিশ্বব্যাংক এমন অপরিপক্ক কাজের জন্য লজ্জিত—এই কারণেই সম্ভবত বিশ্ব

ব্যাংক বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রকল্পে আগের চেয়ে বেশি সহায়তা দিচ্ছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার পূর্বে দুর্নীতির চিত্র ধরা পড়ে গেলে দুর্নীতি করার কোন সুযোগ থাকার কথা নয়, এই অবস্থায় দুর্নীতির ছিদ্র বন্ধ করা খুব কঠিন ছিল বলে মনে হয় না। কারণ তখন পর্যন্ত পদ্মা সেতু নির্মাণের কোনো ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি, কোনো চুক্তি সই হয়নি, কোনো অর্থও ছাড় করা হয়নি। দ্বিতীয়ত সর্বনিম্ন দরদাতার নিকট থেকে ঘুষ পাওয়া তত সহজ নয়, এসএনসি লাভালিন ছিল সর্বনিম্ন দরদাতা। হতে পারে বিশ্বব্যাংকের পছন্দের কোন দরদাতা ছিল, কারণ বিশ্বব্যাংক নন-রেসপন্সিভ একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে রেসপন্সিভ করার জন্য নাকি পীড়াপীড়ি করছিল। অবশ্য এটাও হতে পারে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হোক, বিশ্বব্যাংক তা চায়নি। এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস্তবায়িত সকল প্রকল্প নিশ্চয়ই দুর্নীতিমুক্ত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এমন আচরণের পেছনে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকতে দেওয়া হয়নি বলে ড. ইউনুস নাকি সরকারের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছেন। কথাটার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা সহজ নয়। তবে ৬৫ বছর বয়স পার হওয়ার পরও ড. মুহাম্মদ ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকার আগ্রহ নিয়ে মামলা করেছিলেন, ড. কামাল হোসেনের মতো ঝানু উকিল ড. ইউনুসের পক্ষে লড়ার পরও তিনি হেরে যান। কারণ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশী বয়সের কেউ সরকারি চাকরি করতে পারেন না। তাকে সরকারের তরফ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের এডভাইজার হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা গ্রহণ করেননি।

পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর এর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে, কেউ কেউ পদ্মা সেতুর সাথে ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর ব্যয়ের তুলনা করে দুর্নীতির উল্লেখ করছেন। যারা বেশী ব্যয়ের কথা বলছেন তারা কেউ কিন্তু দুই সেতুর টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর কথা বলছেন না। দ্বিতল বৈশিষ্ট্যের কারণে পদ্মা সেতুর খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশী। পদ্মা সেতুতে সড়ক ও রেলপথ ছাড়াও আছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন। পদ্মা একটি তীব্র খরস্রোতা নদী; নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নদীশাসন ও নির্মাণকাজ অত্যন্ত কঠিন ছিল। দুটি সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় সমান—ভূপেন হাজারিকা সেতুর দৈর্ঘ্য যেখানে ৯.১৫ কিলোমিটার সেখানে ভায়াডাক্টসহ পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯.৮৩ কিলোমিটার। ভূপেন হাজারিকা সেতুর প্রস্থ ৪২ ফুট, আর পদ্মা সেতুর প্রস্থ প্রায় ৬০ ফুট, প্রায় দেড় গুণ। ভূপেন হাজারিকা সেতুর পাইল লোড নেয়ার ক্ষমতা মাত্র ৬০ টন, পদ্মা সেতুর পাইল লোড ৮২১০ টন। ভূপেন হাজারিকা সেতুর একটি পিলারের ওজন ১২০ টন, অন্যদিকে পদ্মা সেতুর পিলারের ওজন ৫০ হাজার টন। পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো সেতুতে পাইল এত গভীরে প্রবেশ করাতে হয়নি। পদ্মা সেতুর পাইলের গভীরতা একটি ৪০ তলা ভবনের সমান। পদ্মা সেতুর পাইলিং-এ যে হাতুড়ি ব্যবহৃত হয়েছে তেমন শক্তিশালী হাতুড়ি পৃথিবীর আর কোন সেতু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়নি। পদ্মা সেতুতে ১৬ কিলোমিটার জুড়ে নদীশাসনে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, ভূপেন হাজারিকা সেতুর নদীশাসনে কোন খরচই হয়নি। পদ্মা সেতুতে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত যে মিহি সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়েছে তা পৃথিবীর আর কোন সেতুতে অদ্যাবধি ব্যবহৃত হয়নি। করোনার কারণে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ায় ডলারের সাথে টাকার অমূল্যায়নে টাকার হিসাবে নির্মাণ খরচ বেশী প্রদর্শিত হচ্ছে। তারপরও মূল সেতুতে খরচ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের খরচ বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি। যে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ দিয়ে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে গেল ২০১১ সনে সেই বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন ছিল ৩০০ কোটি ডলার, প্রতি ডলার বর্তমান বিনিময় মূল্য ৯০ টাকা করে ধরা হলে সেতুর নির্মাণ খরচ দাঁড়ায় ২৭ হাজার কোটি টাকা।

পৃথিবীতে পদ্মাসেতুর চেয়েও দীর্ঘতর সেতু রয়েছে, আমি নিজেই এই সেতুর চেয়ে আরও দীর্ঘতর ও দৃষ্টিনন্দন সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করেছি; কিন্তু সেই সেতুগুলো পার হওয়ার সময় গৌরব বোধ করিনি, কারণ সেগুলো আমাদের সেতু নয়, পদ্মাসেতু আমাদের। নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদ বার বার বলছিলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেহায়েতই আবেগতাড়িত এবং বাস্তবতাবিবর্জিত। অর্থনীতিবিদদের ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ব্যতীতও যে দেশের দীর্ঘতম এবং ব্যয়বহুল একটি সড়ক সেতু বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে হতে পারে তা প্রমাণ করে দিলেন দৃঢ়চেতা, অকুতোভয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; এই সেতু নির্মাণ করে তিনি জাতির মর্যাদাকে সমুন্নত রাখলেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি আজ গর্ব করে বলতে পারছে, ‘আমরাও পারি’।