আমার ধারণা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হয়েছে। রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে ইউক্রেন নিয়ে ভেতরে ভেতরে যত কূটনৈতিক কথা হয়েছে সব কিছুতে রাশিয়ার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে রাশিয়াকে অবহেলা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে যুদ্ধের উত্তাপ সৃষ্টি করে ইউক্রেন আক্রমণ করতে রাশিয়াকে প্রলুব্ধ করা হয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ ইউক্রেন ২০০৮ সনে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আগ্রহ জানিয়ে আবেদন করেছিল। ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করা হবে না এমন একটি আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি পেলে রাশিয়া হয়তো ইউক্রেন আক্রমণ করত না, কিন্তু আমেরিকা এমন সমঝোতার ধারেকাছেও যায়নি। আমেরিকা চেয়েছে ইউক্রেনকে বলির পাঁঠা করে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে এমনভাবে দুর্বল করে দেওয়া যাতে রাশিয়া আর কখনো আমেরিকার প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা চিন্তাও না করে। ইউক্রেনকে বাঁচানো নয়, রাশিয়ার অর্থনীতি পঙ্গু করাতেই মনোযোগ বেশি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

ছয় দশক পূর্বে কিউবায় যেমন আমেরিকা তাদের অনুগত শাসক চেয়েছিল আজ ঠিক তেমনি রাশিয়াও ইউক্রেনে জেলেনস্কির স্থলে রাশিয়ার প্রতি অনুগত প্রেসিডেন্ট চাচ্ছে। ১৯৫৯ সনে অভ্যন্তরীণ বিপ্লবে বাতিস্তা সরকারের পতন হলে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে রাশিয়া-সমর্থিত সাম্যবাদী সরকার কিউবায় প্রতিষ্ঠিত হয়। রাশিয়ার সাথে কিউবার মৈত্রী স্থাপন আমেরিকা সহ্য করতে পারেনি বলে আমেরিকা ১৯৬১ সনে দেশত্যাগী কাস্ত্রোর বিরোধীদের দিয়ে কিউবা আক্রমণ করায়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বেশ কয়বার কিউবায় আক্রমণ করার উদ্যোগও নিয়েছিল এবং ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য ৬৩৮ বার চেষ্টা করেছে। আমেরিকার আরও ভয়ঙ্কর আক্রমণের আশঙ্কা করে কিউবা রাশিয়ার সামরিক সহায়তা কামনা করলে রাশিয়া কিউবায় পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। বাড়ির কাছে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করায় আমেরিকা ক্ষেপে যায়, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কিউবা আক্রমণের হুমকি দিয়ে কিউবার চারদিকে নৌঅবরোধ সৃষ্টি করেন এবং তাদের সেনাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেন। রাশিয়া তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র তুলে নিতে সম্মত হয়। রাশিয়া মিসাইল সরাতে সম্মত না হলে আমেরিকা নিশ্চয়ই ইউক্রেনের মতো কিউবা আক্রমণ করত।

কিউবা মধ্য আমেরিকার দেশ, ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী দেশ নয়, আমেরিকা থেকে ৯০ মাইল দূরত্বে কিউবার অবস্থান। কিন্তু ইউক্রেন রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ। ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিগত নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রায় সত্তর শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই তিনি আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেন। ন্যাটো হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ১৯৪৯ সনে গড়ে উঠা আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর একটি সামরিক জোট। রাশিয়াও ন্যাটোর মতো ‘ওয়ারশ’ নামে আরেকটি সামরিক জোট ১৯৫৫ সনে গঠন করে। ১৯৯১ সনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে ওয়ারশ জোটের বিলুপ্তি ঘটে। রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গরবাচেভকে দেওয়া আমেরিকার ওয়াদা মতো পূর্বদিকে ন্যাটোর ১ ইঞ্চিও সম্প্রসারণ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ন্যাটো পূর্বদিকে যেতে যেতে এখন রাশিয়ার সীমান্ত দেশ ইউক্রেনে চলে এসেছে। ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়াকে অবজ্ঞা করে ন্যাটোর সদস্য হতে উদ্গ্রীব। ওয়ারশ জোটের অধিকাংশ দেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় ন্যাটোর সদস্যসংখ্যা ১২ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩০ হয়েছে। আমেরিকা পৃথিবীতে অপ্রতিরোধ্য থাকতে চায়। ১৯৯১ সনে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা এখন শুধু নিজেদের আঞ্চলিক এলাকায় নয়, অনেক দূরের দেশসহ সারা পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করে আছে। রাশিয়া এখন উপলব্ধি করেছে, নিজের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর উপরও যদি প্রভাব না থাকে তাহলে নিজেদের সুপার পাওয়ার ইমেজ ধরে রাখা রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবিরত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে—রাশিয়ার ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, বিমান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা, সমুদ্রগামী জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থ স্থানান্তরে পাশ্চাত্যের প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা, রাশিয়ার লেনদেনে ডলার ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত রাশিয়ার রিজার্ভ মানি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিপ্রায়ে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফট পেমেন্ট নেটওয়ার্ক থেকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকার পশ্চিমা মিত্ররা। বেলজিয়ামভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুইফট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে ব্যবহৃত হয়। সুইফট নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলে রাশিয়ার ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, রপ্তানি-আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অন্য দেশের উপর আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কৌশল নতুন কিছু নয়। আমেরিকা যেমন তাদের আশেপাশে রাশিয়ার উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না, ঠিক তেমনি রাশিয়াও তার আশেপাশের দেশে আমেরিকার উপস্থিতি মানতে চায় না। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া আমেরিকার বিরোধিতা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে, তাদের ওয়ারশভুক্ত দেশগুলোকে একে একে ন্যাটোর সদস্য করা হলেও রাশিয়ার নিশ্চুপ থাকা ছাড়া গত্যন্তর ছিলো না। আমেরিকাও এতদিন রাশিয়ার ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোন গুরুত্বই দেয়নি। পুতিন ক্ষমতায় এসে বহির্বিশ্বে রাশিয়ার ইমেজ পুনরুদ্ধারে ব্রতী হন, সিরিয়ায় ন্যাটোর প্রতিপক্ষ হয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে সিরিয়ার সরকার ও সরকারপ্রধানকে রক্ষা করেন। পারমাণবিক যুদ্ধ এড়িয়ে রাশিয়ার পুনরুত্থান থামাতে আমেরিকা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পথ বেছে নিয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবা, সিরিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। ইউরোপের দেশগুলো আমেরিকার সাথে একাত্ম হয়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করে বিধায় তা ফলপ্রসূ হয়। এখন আবার পশ্চিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কানাডা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও আমেরিকা কোন দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা পৃথিবীর প্রায় সব দেশকে মানতে হয়, কোন দেশ না মানলে সেই দেশকেও আমেরিকার রোষানলে পড়তে হয়। তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিউবায় চটের বস্তা রপ্তানি করায় আমেরিকার চক্রান্তে বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৪ সনে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানেও রাশিয়ার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে সেগুলোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাশিয়াকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই চেষ্টা বিশ্ববাসীর জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, করোনার পর আরেকটি বৈশ্বিক দুর্গতির সূচনা রোধ করা কঠিন হবে। অন্যদিকে রাশিয়াকে একঘরে করা হলে বিকল্প পথের অভাবে রাশিয়া হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে তার দেশের পরমাণু অস্ত্র প্রতিরোধী দলকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, ফিনল্যাণ্ড এবং সুইডেন ন্যাটোতে যোগদানের পদক্ষেপ নিলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে রাশিয়া থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাশিয়া এই মর্মেও হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছে যে, এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে আমেরিকা ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে শূন্যে ভাসমান ৫০০ টন ওজনের আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র যে কোনও সময়ে আমেরিকা, ইউরোপ, চীন বা ভারতের উপর আছড়ে পড়লে তার দায় রাশিয়া নেবে না। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে এই মহাকাশ স্টেশনটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা শুধু রাশিয়ার রয়েছে। রাশিয়ার ভাষ্যমতে, রাশিয়ার নিরাপত্তা ও অস্তিত্বে টান পড়েছে, পৃথিবীতে রাশিয়া যদি না থাকে তবে পৃথিবীরও থাকার প্রয়োজন নেই।

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাশিয়াকে দুর্বল করা গেলেও অনুগত করা যাবে কি না সন্দেহ। কারণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞায় নিপতিত দেশগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়া তাদের মিসাইল পরীক্ষা বন্ধ করেনি, কিউবা-ভেনেজুয়েলা-মিয়ানমার-ইরান-সিরিয়া এখনো আমেরিকার কাছে নতজানু হয়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশের পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাব ও এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। নিষেধাজ্ঞা আরোপে শুধু রাশিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, আমেরিকা ও ইউরোপের যে সকল সংস্থা রাশিয়ায় বিনিয়োগ করেছে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস না গেলে সারা ইউরোপের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, মূল্যস্ফীতি হবে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার যত্রতত্র অপব্যবহারে বিকল্প পথের উদ্ভাবনে এর কার্যকারিতা লোপ পেতে পারে, ডলারের পরিবর্তে অননুমোদিত মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে। রাশিয়া এবং চীন অনেক আগে থেকেই পশ্চিমা প্রযুক্তিকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প উদ্ভাবনায় রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ন্যাটোর ক্রমাগত সম্প্রসারণ রাশিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাতানো ফাঁদে পা দিতে প্রলুব্ধ করেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের উছিলা তৈরি করতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দাবার গুটি বানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য জোরালোভাবে ইউক্রেনকে কথা দিয়েছিল, আক্রান্ত হলে 'পাশে' থাকবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আক্ষেপ করে বলেছেন, কথা দিয়েও এখন কেউ পাশে নেই। অবশ্য জো বাইডেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে উদ্ধার করে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, জেলেনস্কি দেশবাসীকে ফেলে পালাতে সম্মত হননি, বরং যুদ্ধাস্ত্র চেয়েছেন। রাশিয়ার সেনাবহর যখন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সন্নিকটে তখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া শুরু করেছে। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নিজেদের স্বার্থে ইউক্রেনকে ব্যবহার করেছে। একটি বিষয় দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে দুর্বল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব বলতে কিছুই নেই। ফিলিস্তিনের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের জনগণ মিছিল করে, ভিয়েতনামে বোমা ফেলার কারণে আমেরিকান জনগণ আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে স্লোগান দেয়, ইউক্রেন আক্রমণের বিরুদ্ধে রাশিয়ার জনগণও প্রতিবাদ করছে, অথচ আমাদের মতো দেশগুলোর সরকার বা জনগণ এই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহসও হারিয়ে ফেলেছে।