বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১; সাম্প্রতিক দেশকাল পত্রিকায় আমার লেখা:
আমেরিকাকে তুষ্ট রাখা কঠিন
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব এবং তাদের ৬ কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা, কর্মকর্তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য হবেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাবের প্রাক্তন মহাপরিচালক বেনজির আহমেদও রয়েছেন; তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক। বিচারবহির্ভূত হত্যা, আইনের অপব্যবহার করে নাগরিকদের উপর নির্যাতন চালানোসহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত করে কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সেই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের বেসরকারি সংগঠনগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী ২০০৯ সন থেকে প্রায় ছয়শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ছয় শতাধিক লোকের গুম হয়ে যাওয়া এবং নির্যাতনের জন্য র্যাব এবং অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দায়ী। অ্যাক্টিভিস্ট, সমালোচক ও বিরোধী দলের সদস্যদের গুমের বিষয়গুলো তদন্তে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে শতাধিক লোকের প্রাণহানি হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানোর ইচ্ছাকৃত পদ্ধতি বলেও তারা অভিযোগ তুলেছে। উত্থাপিত এই সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং থেকে বলা হয়েছে যে, র্যাব বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। শুধু বাংলাদেশের র্যাব নয়—চীন, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
র্যাবের বিরুদ্ধে যত অভিযোগই উত্থাপিত হোক না কেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাস দমনে র্যাবের ভূমিকা অতুলনীয়। ১৯৯১ সনে প্রথমবার বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর অদক্ষতা ও প্রশ্রয়ে দেশ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। ভয়ঙ্কর সকল সন্ত্রাসীর জন্ম হয় তার আমলেই। পুলিশ ছিলো নিষ্ক্রিয়, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার সাহস পুলিশের ছিলো না, মনে হতো দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের আরেকটি দেশ। নিরীহ ব্যক্তিরা অন্যায়ের প্রতিকারের আশায় থানায় না গিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাছে ধর্ণা দিত। এই অবস্থায় সন্ত্রাসীর বাবারা সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন; মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি ছিলো অপরিহার্য। তখন সন্ত্রাসীর বাবাদের উপস্থিতি ছাড়া এলাকায় কোন সালিশ-ব্যবস্থা হতো না। স্থানীয় নির্বাচনেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে থাকে; প্রবীণ অভিজ্ঞ মুরব্বীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে শুরু করেন, পেশীশক্তিতে বলবান লোকদের নির্যাতন থেকে বাঁচার লক্ষ্যে নিরীহ ভোটারেরা সন্ত্রাসীদের ভোট দিয়ে নির্বাচন করতে থাকলো। অবশ্য এক সময় আর ভোটেরও প্রয়োজন হলো না, এক সন্ত্রাসী আরেক সন্ত্রাসীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অস্ত্রবলে ভোটের বাক্স ভর্তি করতে লাগলো। ১৯৯৬ সনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগও এই সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।
২০০১ সনে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে; তারা নিশ্চিত হয় যে, শুধু পুলিশ দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত বিরাজমান সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব নয়। এই উপলব্ধি থেকে শুধু সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে পুলিশ, সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ২০০৪ সনে বিএনপি'র শাসনামলে র্যাব গঠিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় দলমত নির্বিশেষে শুধু সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে মরতে থাকে। সন্ত্রাসনির্ভর সমাজে সন্ত্রাসীদের কদর সব রাজনৈতিক দলে থাকলেও গ্রেফতার এড়িয়ে অবাধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর জন্য ক্ষমতাসীন দলে অবস্থান তাদের পছন্দনীয়। ফলে প্রাথমিক অবস্থায় বিএনপি'র শাসনামলে র্যাবের অভিযানে বিএনপি'র সমর্থক মাস্তানেরা বেশী নির্মূল হচ্ছিলো। সন্ত্রাসী নির্মূলের সাথে সাথে এলাকার জনগণ আনন্দে মিছিল করত, মিষ্টি বিতরণ করত। তখনো মানবাধিকার নিয়ে মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজ কথা বলতেন, টকশোতে ক্রসফায়ার নিয়ে সোচ্চার হতেন। কিন্তু তাদের এমন প্রতিক্রিয়া মানুষের কাছে কোন গুরুত্ব পেত না; কারণ সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি ছিলো, তাদের সম্মানজনকভাবে জীবনধারণের কোন উপায় ছিলো না, মেয়েদের সম্ভ্রমহানি হওয়ার আশঙ্কায় অভিভাবকেরা সর্বদা আতঙ্কিত থাকতেন। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় ভুক্তভোগীরা ছিলো অতিষ্ঠ; সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন সাক্ষী পাওয়া যেত না, পুলিশের শত আশ্বাসেও কেউ সাক্ষী দিতে সম্মত হতো না। বাবার সম্মুখে মেয়ে লাঞ্ছিত হলেও বাবা ভয়ে অভিযুক্তকে না চেনার ভান করতেন। ২০০৪ সনে বিএনপি র্যাব গঠন না করলে এতদিনে বাংলাদেশ নরকে পর্যবসিত হতো, টকশোতে মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের ভিন্ন সুর শোনা যেত।
জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে র্যাবের সুনাম রয়েছে। মানুষ এখনো র্যাবের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা হারায়নি; এই আস্থা তখনি হ্রাস পাবে যখন মানুষ বিকল্প ব্যবস্থায় অধিকতর স্বস্তি খুঁজে পাবে। বছরের পর বছর পার হলেও একটি মামলার চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায় না। লক্ষ লক্ষ মামলা নিষ্পন্নের অপেক্ষায়। মানুষ প্রচলিত আইনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে অতীতে সামরিক শাসনও পছন্দ করেছে, এখন র্যাবকে স্বাগত জানাচ্ছে। আমেরিকার মতো আজ বিএনপিও র্যাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার; কিন্তু র্যাব তাদেরই সৃষ্টি, তাদের আমলেই 'ক্রসফায়ার' শব্দটির নতুন আঙ্গিকে প্রচলন শুরু হয়।কোনো বাহিনী যখন জঙ্গি বা সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে তখন তাদের হাতে কিছু অলিখিত ক্ষমতা অর্পিত থাকে; অলিখিত ক্ষমতা প্রয়োগে নজরদারি কঠোর না হলে নজরকাড়া বিচ্যুতি ঘটবেই। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কিছু নিয়ম-কানুন র্যাবের ক্ষেত্রে শিথিল থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু র্যাব তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা একনিষ্ঠ থাকতে পারেনি, কখনো কখনো ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে তাদের কেউ কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। কয়েক বছর আগে নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে র্যাবের তিনজন কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় বাহিনীটির ইমেজ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। তখন এই বাহিনীর উপর সাধারণ মানুষের এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছিলো। এটা ছিলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্ষমতার বড় রকমের অপব্যবহার। বিভিন্ন সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা কিছু গুমের ঘটনা বাহিনীটিকে বিতর্কে ফেলেছে। নিরীহ কিছু লোকও তাদের ক্রসফায়ারে মরেছে। অনেক ক্ষেত্রে যুক্তিহীন ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে জনগণকে আতঙ্কিত করা হয়েছে, তাদের প্রয়োজনাতিরিক্ত ক্ষমতার প্রদর্শনে সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকতে বাধ্য হয়েছে।
বহু বছর পূর্ব থেকেই আমেরিকা বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার নিয়ে পর্যালোচনা করছে, প্রশ্ন তুলছে। ইদানীং চীনও আমেরিকার মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাই মানবাধিকার নিয়ে রাজনীতি হয়। রাজনীতি বিবেচ্য ক্ষেত্রেও হয়েছে; ২০০৪ সনে র্যাবের সৃষ্টি হলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে ২০০৯ সন থেকে। বোঝা যাচ্ছে যারা তথ্য দিয়েছে তারা আওয়ামী লীগ বিরোধী। এটা কোনো অপরাধ নয়, বিরোধী দল চাইবেই সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলেও তাই করবে। তবে এটা সত্য যে, আমেরিকার কথামতো চললে শত মানবাধিকার লঙ্ঘনেও সমস্যা হয় না। গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর আমেরিকায় নরেন্দ্র মোদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ছিলো; কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথে তাকে ডেকে নিয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সাংবাদিক জামাল খাশোগীকে নির্মমভাবে হত্যার পর আমেরিকা সৌদি আরবের সাথে তাদের ব্যবসার উপর গুরুত্ব দিয়েছে, সৌদি আরবের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ব্যবসা ভাগিয়ে নিয়েছে, কিন্তু হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার দায়ে অভিযুক্ত সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি। মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মোরসি ইসরাইলবিরোধী ছিলেন বলে এক বছরের বেশী ক্ষমতায় থাকতে পারলেন না, সামরিক বাহিনী তাকে উৎখাত করার সাথে সাথে আমেরিকা সামরিক সরকারকে সমর্থন করল। মানবাধিকার নিয়ে আমেরিকার সকল অভিযোগ চীন, মিয়ানমার, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, ভেনিজুয়েলা, ইরান এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে; কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই দেশগুলোর অবস্থান আমেরিকার বিপক্ষে। সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করলে আমেরিকাকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা বাংলাদেশের এখনো হয়নি। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল থাকা সত্ত্বেও আমেরিকার অবরোধে ভেনিজুয়েলা ও ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা জরাজীর্ণ। আমেরিকার অবরোধের কারণে ১৯৬২ সন থেকে কিউবা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী যে কোন দেশের সাথে ব্যবসা করতে পারছে না। কিউবায় চটের বস্তা বিক্রি করার কারণে আমেরিকা ১৯৭৪ সনে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ তৈরি করে দিলো। কথা না শোনার কারণে ১৯৮৯ সনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পানামায় সামরিক অভিযান চালিয়ে পানামার সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ধরে নিয়ে আমেরিকার মাটিতে বিচার করেছে, অবাধ্য আচরণ করার কারণে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার আল গাদ্দাফীকে মরতে হয়েছে। অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চীন যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সামরিক শক্তি ও কারিগরি জ্ঞানে আমেরিকা অনেক এগিয়ে আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে আমেরিকায় চীনের ব্যবসা সীমিত করে ফেলায় চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধমকে উত্তর কোরিয়ার লাফঝাঁপ থেমে গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গণতান্ত্রিক সরকার বা স্বৈরশাসকের শাসন কখনো মুখ্য নয়। আমেরিকা তার স্বার্থে সামরিক সরকারের সাথেও গভীর সম্পর্ক রাখে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত দেশকেও সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে থাকে, কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ দেশের সাথে সম্পর্ক রাখাকে একেবারেই সহ্য করে না। বাংলাদেশের কিছু লোকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অর্থ হচ্ছে, আমেরিকা র্যাব নয়, হয়তো বাংলাদেশ সরকারের আচরণের পরিবর্তন দেখতে চায়। বাংলাদেশ চীন ও রাশিয়ার দিকে যত বেশী ঝুঁকবে তত বেশী নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। আমাদের গার্মেন্টস বিক্রি হয় আমেরিকা ও ইউরোপীয় মার্কেটে, রাশিয়া বা চীনে নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে সকল দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তারাও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী সব ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রভাব অপরিসীম। র্যাব পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট হলেও এই বাহিনীর পরিচালনায় থাকেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাই; তাই তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে এর প্রভাব অন্যত্র পড়তে পারে। র্যাবের বিরুদ্ধে কংগ্রেস এবং সিনেট থেকে অভিযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে। ওখানে সংসদ সদস্যদের পয়সা দিয়ে আইনসম্মতভাবেই কোন বিষয়ের সাথে সহজে সংশ্লিষ্ট করা যায়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন গণতন্ত্র সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। প্রশাসনের উপর কংগ্রেস ও সিনেটের শুধু নজরদারি নয়, প্রভাবও থাকে। ভুল বা শুদ্ধ যাই হোক না কেন, সিদ্ধান্ত একবার নিয়ে সেখান থেকে আমেরিকা সাধারণত ফেরত আসে না। বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ একই অভিযোগে আমেরিকাকেও অভিযুক্ত করে যাচ্ছেন, কিন্তু আমেরিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে মঞ্চ কাঁপিয়ে কোন বেনিফিট পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। তাদের তরফ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত নজিরই থাকুক না কেন তাকে আলোচনার এজেণ্ডা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, তাদের উত্থাপিত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারের বিবেচনায় নেয়াটাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।
লেখক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী
পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ahmedzeauddin0@gmail.com