মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র নানাবিধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এমন বহু লোক আছেন যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক না হলেও বঙ্গবন্ধুকে পছন্দ করেন। কারণ বঙ্গবন্ধু অন্য দশজন রাজনীতিবিদের মতো ছিলেন না। যা বুঝতেন, যা ভাবতেন তা সহজ-সরল ভাষায় অকপটে বলে দিতেন, ভণ্ডামি ছিলো না। শত্রু-মিত্র সবার সঙ্গে কথা বলতেন, বৈঠক করতেন। কিন্তু এখনকার নেতারা রাজনীতির সরলতা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন না, রাজনীতি সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন না, ধারণা নেয়ার বা জানার চেষ্টাও করেন না, কর্মীদের তোষামোদে আপ্লুত হতে পছন্দ করেন। সক্রেটিস বলতেন, ‘আমি যে কিছু জানি না তা আমি ভালো করে জানি, কিন্তু অনেকে যে কিছুই জানে না তা কিন্তু তারা জানে না’। বঙ্গবন্ধু কখনো জ্ঞানীর ভান করেননি, তাই বলে না বোঝার অন্ধকারেও ছিলেন না। তিনি জনপ্রিয়তার অহঙ্কারে মত্ত থাকেননি। সাধারণ জনতা তাকে এমনিতেই প্রতিদিন প্রাত্যহিক কাজে স্মরণ করে, ঘটা করে অভিজাত শ্রেণির তৈরি সরকারের অন্দরের পরিকল্পনায় ঢুকে মুজিববর্ষ পালনের সুযোগ তাদের নেই।
মুজিববর্ষ বাঙালি জাতির জন্য একটি অবিস্মরণীয় বছর। বাংলাদেশ সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ এখন শোষণকারী পাকিস্তানের চেয়ে ভালো আছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি বিশ্বের নিকট অনেকটা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। বঙ্গবন্ধুর সমালোচক একেবারেই নেই তা কিন্তু নয়, তবে গুণগ্রাহীর সংখ্যা বেশি। মাঝে মাঝে বঙ্গবন্ধুর শত্রুও বঙ্গবন্ধুর গুণগান করে থাকেন।
আন্ডারগ্রাউন্ড দলের নেতা মোহাম্মদ তোয়াহা ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, কিন্তু তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ফজলুল হক হলের ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতিও ছিলেন। ফজলুল হক হলের এক মিলনমেলায় তাকে আমরা তার গোপন রাজনীতির কিছু ঘটনা বলতে বলায় তিনি অনেক অজানা কথা আমাদের শুনিয়েছিলেন। তোয়াহা সাহেবকে একদিন বঙ্গবন্ধু তার বাসায় ডেকে নিয়ে বললেন, ‘তোয়াহা, সদ্য দেশ স্বাধীন হয়েছে, এখন অনেকের হাতে অস্ত্র, তোকে আমি রক্ষা করতে পারব না, পালিয়ে থাক, পালানোর জায়গা না পেলে আমার বাসায় এসে থাক।’
সেদিন তিনি অনেক কথাই বলেছিলেন, কিন্তু সত্তরের দশকের কথাগুলো এখন আর মনে নেই। তবে তোয়াহাকে বহু বিপদ থেকে যে বঙ্গবন্ধু রক্ষা করেছিলেন তা তিনি কৃতজ্ঞতা চিত্তে সেদিন স্বীকার করেছিলেন।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের অনেক কিছু লিখে আমাদের জানিয়েছেন। বাসায় চিংড়ি রান্না হচ্ছে দেখে বঙ্গবন্ধু তার এককালের জনৈক রাজনৈতিক সহকর্মীকে জেলহাজত থেকে বিশেষ ব্যবস্থাধীনে এনে বাসায় ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে ভাত খাইয়েছিলেন। এককালের ঐ রাজনৈতিক সহকর্মী চিংড়ি মাছ পছন্দ করতেন বলেই বঙ্গবন্ধু এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এককালের এই সহকর্মী বাসায় গিয়ে সন্তান ও স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পরে আবার নীরবে জেলখানায় ঢুকেন।
শাহ আজিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু তিনি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর সহকর্মীও ছিলেন; এই সহকর্মী জেল খেটে মুক্তি পাওয়ার পর রিক্সায় চড়ে চলাফেরা করতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করায় বঙ্গবন্ধু তার জন্য একটি পুরোনো জিপের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এই বিষয়গুলোর সূত্র এখন মনে করতে পারছি না, সম্ভবত রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের লেখা থেকে জেনেছি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী যেখানে শত্রু-মিত্র সকলকে ঠাঁই দিতে দ্বিধান্বিত হতেন না। তিনি শত্রু-মিত্র চিহ্নিত না করে এক বিদেশি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘জনগণই আমার শক্তি, জনগণই আমার দুর্বলতা।’
বঙ্গবন্ধুর নামে পুরো মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তাকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি করা হয়। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কারণে তিনি সমগ্র পাকিস্তানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হয়ে উঠেছিলেন, তার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবন্দসহ রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। ব্রিটিশ আমলে যে অসহযোগ আন্দোলনের সূত্রপাত মহাত্মা গান্ধীর হাতে, সেই অসহযোগ আন্দোলনের সফল রূপ পরিলক্ষিত হয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে, বঙ্গবন্ধুর মুখের কথাই ছিলো আইন, ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে হ্যান্ডমাইকে তিনি যে নির্দেশ দিতেন তাই জনগণ বিনা বাক্যব্যয়ে পালন করতেন। এরাই হচ্ছেন জাতীয় নেতা—যে নেতার উপর জনগণ আস্থা রাখতে ভরসা করেন, এরাই হচ্ছেন জাতীয় নেতা যাদের ভাবনায় সমগ্র জাতি আন্দোলিত হয়। তাই বঙ্গবন্ধুর নামে শুধু একটি বছর উৎসর্গ করা বাঙালি জাতির জন্য জরুরি ছিলো—এই বছরে আমরা শুধু উৎসব করবো না, ঘুষ-দুর্নীতি, চাপাবাজি, ধর্ষণ, গুম, হত্যা ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকার শপথ নেব—নতুবা মুজিববর্ষ প্রতিপক্ষদের সমালোচনার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে।
মুজিববর্ষ উদযাপনে ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগের সঙ্গে ভাস্কর রাশা যোগ দিয়েছেন।
ভাস্কর রাশা চাপালিশ গাছের একটি গুঁড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য করেছেন। যখন একটি গাছের গুঁড়ি এনে শিল্পকলা একাডেমিতে রাখা হলো তখন কেউই জানতো না রাশা এই গুঁড়ি দিয়ে কী করবেন। আমরা আড্ডার লোকজন প্রতিদিন রাশাকে গাছের গুঁড়ির ওপর কুড়ালের কোপ দিতে দেখতাম; কিছুদিন হাতুড়ি-বাটালির কারসাজিও দেখেছি। কিছুদিন কুড়াল আর হাতুড়ি-বাটালির কোপানোর পর তার হাতে উঠে এলো আরো সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি। তারপর একনাগাড়ে চলেছে শিরিষ কাগজের ঘষাঘষি। সূক্ষ্ম কারুকাজ ও ভাস্কর্যের অনুপুঙ্খ ভাঁজগুলো আনতে তাকে শেষপর্যায়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। কারণ একবার কোন কাজ ভুল হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ ছিলো না। আমরা গেলে মাঝে মাঝে বিরক্ত হতেন। পাউরুটি আর কলা ছিলো তার তখনকার একমাত্র খাবার। আমরা গিয়ে চেয়ার বা শোলার টুলে বসে বসে তার কাজ দেখতাম। কেউ ভাস্কর্য নিয়ে মন্তব্য করলে রেগে যেতেন—কারণ আমরা যারা মন্তব্য করতাম তাদের এই শিল্পের কাজ সম্পর্কে কোন ধারণা ছিলো না। বঙ্গবন্ধুর চেহারা ভেসে উঠে কয়েক মাস কাজ করার পর। তারপর প্রতিটি অঙ্গের ডিটেইল বের করতে তাকে আট মাস সকাল-সন্ধ্যা অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তার মতে গাছের গুঁড়িতে সাত ফুট উচ্চতার এত বড় ভাস্কর্য পৃথিবীতে এইটাই প্রথম। মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি কোথায় স্থাপন করা হবে তা রাশা জানেন না। এই ভাস্কর্যটি ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে।
বাবার কর্মসূত্রে ১৯৫৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করলেও ভাস্কর রাশার বসতবাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায়। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভাস্কর্য বিষয়ে পাঁচ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে লেখাপড়া করেছেন। আমাদের ইসলাম ধর্মে ললিতকলা বা ভাস্কর্যের কোন স্থান না থাকায় আমাদের দেশে ভাস্কর্যকে পেশা হিসেবে গ্রহণপূর্বক সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন। ধর্মের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও পাকিস্তানিদের প্রতিরোধে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা নিয়ে স্থাপিত ভাস্কর্যের উপর পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যটি ভাঙার জন্য এক সময় তাদের মতাবলম্বীদের স্বাক্ষর সংগ্রহপূর্বক জনমত সৃষ্টির প্রয়াস নিয়েছিলো। সত্তরের দশকের একেবারে শেষ দিকে আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করতে যাচ্ছি তখন হঠাৎ একদিন দেখি সাধারণ ছাত্ররা দল বেঁধে ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাঙ্গতে আসা শিবির কর্মীদের তাড়াচ্ছে। সম্ভবত ২০০৮ সালে ওলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাতের লোকজন মতিঝিল বাংলাদেশ বিমান অফিসের সম্মুখের ‘বলাকা’ বা বকের ভাস্কর্যটি কোদাল দিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। ধর্ম এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বাধা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সনে জয়দেবপুর চৌরাস্তার সড়কদ্বীপে প্রথম ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ স্থাপন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখে তিন নারী-পুরুষের ভাস্কর্য ‘অপরাজেয় বাংলা’ ১৯৭৯ সালে উদ্বোধন করা হয়। জাগ্রত চৌরঙ্গী এবং অপরাজেয় বাংলা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার নিমিত্তে স্থাপিত ভাস্কর্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি হচ্ছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংশপ্তক’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাবাস বাংলাদেশ’, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় ৭১’।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ’৭১-এর গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নামে দেশের একমাত্র গুচ্ছ ভাস্কর্যটি তৈরি করেন ভাস্কর রাশা; ভাস্কর্যের এক পাশে রয়েছে গণহত্যার চিত্র এবং অন্য পাশে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। পাকিস্তানি সেনারা গণহত্যা চালানোর নারকীয় দৃশ্যের পাশাপাশি ইয়াহিয়া খানকে মদ্যপ অবস্থায় চিত্রায়িত করা হয়েছে। পত্রশূন্য বৃক্ষে শকুন বসার চিত্রটি সোনার বাংলাকে শ্মশান করার একটি চিত্রকল্প। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং, তেজোদীপ্ত মুক্তিযোদ্ধার উন্নত শির। এছাড়াও নদীমাতৃক বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদিও সুনিপুণভাবে ভাস্কর্যে সমন্বয় করে সংযোজন করে হয়েছে। ভাস্কর রাশা ও তার সহকর্মীগণ ১৯৮৮ সালে শুরু করে ১৯৯১ সনে তা শেষ করেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের গৌরবগাঁথার সংযোজন না থাকায় ভাস্কর্যটি এখনো অসম্পূর্ণ। পাকিস্তানি বর্বর সেনা ও তাদের দোসর রাজাকারেরা ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বাঙালিদের ধরে এনে নির্বিচারে গুলি করে যে স্থানে মাটিচাপা দিতো সেই স্থানে এই ভাস্কর্যটি গড়ে তোলা হয়েছে।
শিল্প ও শিল্পীদের মধ্যেও আভিজাত্য আছে, অনেকের চারুকলায় পড়ার অহংবোধ আছে, উচ্চতর ডিগ্রি লাভের গর্ব রয়েছে। কিন্তু জাত শিল্পীদের আঁকা ছবি ও নির্মিত ভাস্কর্যই তো তাদের পাঠ গ্রহণের প্রাথমিক পাথেয়। জাতীয় পার্টির শাসনামলে একটি সরকারি আদেশে বলা হয় যে, ডিগ্রিধারী শিল্পী ব্যতীত অন্য কোন শিল্পী তাদের কাজের জন্য চারুকলা বা শিল্পকলা একাডেমি ব্যবহার করতে পারবে না। এই জঘন্য আদেশ বাতিলের আবেদন নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ভাস্কর রাশা বিভিন্ন পত্রিকায় ঘোষণা দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে তার কয়েকটি কাঠের ভাস্কর্যে আগুন লাগিয়ে দেন। এমন প্রতিবাদে সরকারের টনক নড়ে এবং আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এই জাত ভাস্করই এশীয় ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় ডিগ্রিধারী সকল ভাস্করকে হটিয়ে স্বর্ণপদক জিতে নেন।
আমরা কয়েকজন বন্ধু প্রায় প্রতিদিন শিল্পকলা একাডেমিতে সন্ধ্যায় আড্ডা দিয়ে থাকি—ভাস্কর রাশা তার মধ্যে একজন। আমাদের আড্ডায় শিল্প, সাহিত্য, নাটক, দেশ, রাজনীতি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা থাকে। ভাস্কর রাশা মাঝে মাঝে নিজের ও অন্যের কবিতা আবৃত্তি করে আড্ডাকে রসালো করে তোলেন। কবি আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ কবিতাটি আমাদের অনুরোধে তাকে বারবার আবৃত্তি করে শোনাতে হয়েছে। তার নিজের লেখা কয়েকটি বিপ্লবাত্মক কবিতাও চমৎকার। কফি হাউজের পাশে কাগজের ছোট কাপের অর্ধেকের অর্ধেক কফি এবং মুড়ি নিয়ে আমাদের আড্ডা চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। ভাস্কর রাশার কবিতার একটি সিডি বেরিয়েছিলো, কিন্তু সেই সিডির কোন কপি তার কাছে নেই। আমার আড্ডার দলভুক্ত নাট্যকার আবদুল আজিজ একটি সিডি সংরক্ষণ করেছিলেন, কিন্তু তা পরীক্ষা করে দেখা গেলো সিডিতে কিছু নেই। তিনি একটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। মুক্তমনা ও সংস্কৃতিবান এই লোকটি বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এমন জাত প্রতিভাবান লোকদের বিচরণ শিল্প-সংস্কৃতির জগতে, কোন কিছুর প্রতিরূপ সৃষ্টি করে এরা তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে থাকে, নতুনদের সত্যিকার ইতিহাস জানতে সহায়তা করে—এদের সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।