দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (রোববার, ১২ মে ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।
বিপন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে বিএনপি
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
‘রাজনীতিতে শেষ কথা নেই’—কথাটি সংসদে দাঁড়িয়ে সম্ভবত উচ্চারণ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান। আজকাল রাজনৈতিকরা তাও বলেন না, এখন নিজের বক্তব্য নিজের বিপক্ষে গেলে পর মুহূর্তে তা অস্বীকার করে বসেন। এমন ধূর্ত আচরণ রাজনীতিকে পচানোর দুরভিসন্ধি ছাড়া আর কিছু নয়। সাংবাদিকেরাও অস্বীকৃত বক্তব্যের সত্যাসত্য প্রতিষ্ঠায় প্রভাবশালী বক্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় নামে না। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা, এ নীতিই যদি বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচিত না হয় তাহলে নীতি নিয়ে নীতিবান হওয়ার আস্ফালনে রাজনীতিবিদদের যাত্রার অভিনেতার বেশি কিছু মনে হয় না। রাজনীতিবিদেরা দেশ পরিচালনা করেন, তারাই আবার অহংকার করে বলেন, ‘আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত উল্টে যেতে পারে’। এ জন্য আমাদের দেশে প্রচলিত কথা ‘হাকিম নড়ে হুকুম নড়ে না’—এখন আর মুখে মুখে উচ্চারিত হয় না। মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে; এই অভ্যস্ত হয়ে উঠার ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির এরশাদ সাহেবের ভূমিকা মুখ্য। সকালে সিদ্ধান্ত দিয়ে তা পরিবর্তন করতে তিনি বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না। প্রবীণ বয়সের মতিভ্রম থেকে উচ্চারিত উল্টাপাল্টা কথাবার্তা জনগণ হাসতে হাসতে মেনে নিলেও ধীরস্থির, শান্ত ও সুস্থ রাজনীতিবিদদের মুখ থেকেও বিপরীতমুখী বক্তব্য শুনতে শুনতে জনগণ রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে।
ভোটের আগের দিন ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোটের বাক্স ভর্তি করা, পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের হুমকি ও নির্যাতনে বিএনপি কর্মীদের ঘর থেকে বের হতে না পারা, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ইত্যাদি অভিযোগ উত্থাপন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে সংসদে শপথ নেবে না বলে অনড় অবস্থানে ছিল বিএনপি। নির্বাচনে বিজয়ী এমপিদের শপথ গ্রহণ বা সংসদে যোগদান নিয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে কোন কথা বলার ক্ষেত্রেও দল থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সব সদস্য, বিএনপির মহাসচিব প্রায় প্রতিটি দলীয় অনুষ্ঠানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কথা বলেছেন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপির পল্টন অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রায় প্রতিদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একই কথা বলেছেন। বিএনপির প্রতিটি কর্মী তা বিশ্বাসও করে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংসদ হওয়ার শপথ নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি সত্ত্বেও বিএনপির নির্বাচিত পাঁচজন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। বাধানিষেধের এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রথমে বিএনপির জাহিদুর রহমান শপথ নিলে তাৎক্ষণিক তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে শপথ গ্রহণের নির্ধারিত সময়সীমার শেষদিন বিএনপির অপর চারজন শপথ পাঠ করে সংসদে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে এমন হম্বিতম্বি করার পর নতজানু হয়ে এভাবে পাঁচজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়া বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচায়ক। অবশ্য তার আগেও শপথ নিয়েছেন তাদের ঐক্যফ্রন্টের সাথী গণফোরামের আরেকজন। এক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেন নাকি শপথ গ্রহণকারীদের একজনকে তার অফিস কক্ষে ঢুকতে গেলে ‘গেট আউট’ বলে বের করে দেন। নির্বাচনের পরদিন থেকে যেভাবে ভোট ডাকাতির কথা বলে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচিত আটজন সংসদ সদস্যকে সংসদের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে তা আজ ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির কাছেই ভুল প্রমাণিত হলো। নির্বাচনের বৈধতা অস্বীকার করে শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার এমন দ্বিচারিতা জনগণ সহজভাবে নেয়নি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। এখন সংসদে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ও নির্বাচনকে বিএনপি স্বীকৃতি দিল। শপথ নেয়ার পক্ষে যুক্তি খুঁজতে গিয়ে প্রথমে রিজভী বললেন, সরকারের চাপের মুখে এমপিরা শপথ নিচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচিত এমপিরা বললেন, শপথ নেয়ার পক্ষে স্থানীয় জনগণের চাপ আছে। সরকারের তরফ থেকে চাপ দেওয়ার কথা বিএনপির কর্মীরা মুখ রক্ষার জন্য বলে বেড়ালেও কেউ তা বিশ্বাস করে না। শপথ নেয়ার জন্য এমপিদের ওপর স্থানীয় জনগণের কোন চাপ আছে বলেও কেউ বিশ্বাস করে না। তবে শপথ নেয়ার ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ থাকার বিষয়টি দলীয় নেতাকর্মী বিশ্বাস করেছে। শপথ নেয়ার পক্ষে যে সব যুক্তি দাঁড় করানো যায় তার মধ্যে হতে পারে—এক, নির্বাচিত এমপিদের বাধা দিয়ে রোখা যাচ্ছিল না, বিএনপি শেষের চারজনকে অনুমতি দিয়ে দলের মানইজ্জত রক্ষা করেছে; দুই, সংসদের ভেতরে অনেক কথাই বলা যায় যার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না; তিন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সংসদে যত বেশি হৈ চৈ করা হবে পত্রিকায় তত বেশি হেডলাইন হবে; চার, সংসদে যোগ দিলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কিছুটা নমনীয় হতে পারে এবং খালেদা জিয়ার জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া যেতে পারে; পাঁচ, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি কমতে পারে; ছয়, সংসদের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনে যোগাযোগের সূত্র পাওয়া যাবে; সাত, উল্লিখিত কোনটা অর্জিত না হলেও সংসদের ভেতরে ও বাইরে সংগ্রাম চালানো যাবে। তবে মহাসচিব ফখরুল ইসলাম শপথ নিয়ে সংসদে গেলে আটজনের সম্মিলিত উদ্যোগ হয়তো একটু বেশি গুরুত্ব পেত। কিন্তু কৌশল কৌশল বলে তিনি মান বাঁচানোর নিরর্থক প্রচেষ্টা নিচ্ছেন। হতে পারে শূন্য আসনে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাউকে নির্বাচিত করে আনার জন্য এ কৌশল।
শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেওয়ার আরও অনেকগুলো অদৃশ্য কারণও থাকতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের মুখ্য কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু শুধু আইন প্রণয়নের মধ্যে তারা কখনও সীমাবদ্ধ থাকেন না; একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। যে পুলিশ তাকে নিশ্চিন্তে বাসায় ঘুমাতে দেয়নি, সেই পুলিশ এখন তার ঘুমের ব্যাঘাত যাতে না হয় সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে, তাকে স্যালুট দেবে, তার নিরাপত্তা বিধানে তৎপর থাকবে। সংসদ সদস্য থাকাকালীন আর্থিক বেনিফিট ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকাও পায়ে ঠেলে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। ডিউটি ফ্রি গাড়ির প্রতি সংসদ সদস্যদের এত লোভ কেন তার হদিশ আমি এখনও পাইনি, খুব বেশি টাকা তো নয়। থোক বরাদ্দের চার কোটি টাকা একজন সংসদ সদস্য তার নিজের পছন্দ মতো যে কোন উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ করতে পারেন। এছাড়াও মনোনয়ন নিয়ে যেভাবে বাণিজ্য হয় তাতে পরের বছর মনোনয়ন পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ বর্তমান সুযোগ হারানোর ঝুঁকি কেউ নেননি। অন্য যুক্তিতে আমার কাছে মনে হয়েছে, শপথ নিয়ে এরা সঠিক কাজটি করেছেন। এরা স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের মতো ফাটা মাথা নিয়ে ঘরে বসে থাকেননি; মওদুদ আহমেদের মতো ১০ হাজার ভোট পেয়ে অভিযোগের বাক্স খুলে প্রতিদিন বিবৃতি দেওয়ার মনোবৃত্তি এরা দেখাননি, ফখরুল ইসলামের মতো নিজের এলাকায় ভি চিহ্ন দেখিয়ে জিয়াউর রহমানের এলাকায় গিয়ে জিতেননি; বিএনপির কথিত নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব, পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী কর্মীদের নির্যাতনে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশ, ভোট ডাকাতি ইত্যাদির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এরা জিতেছেন বিভিন্ন আনুকূল্যে বলীয়ান ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করে। এ জেতাটা তাদের অহংকার, দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডারের মতো এরা অপরাজেয়। তাদের এই জয়কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে পরাজিতদের কাতারে সামিল হতে বলাটা অন্যায়, অবিচার। বরং যারা সভা, সমিতি, সেমিনার, প্রেস ক্লাবের গোলটেবিল আর পল্টন অফিসের ব্রিফিং-এ বড় বড় কথা বলে পদ ও পদবী দখল করে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন তাদের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এসব নেতাদের রাজা-উজির মারার যাত্রাসুলভ বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘরে বসে অলস সময় কাটিয়েছেন।
বিএনপি বিগত ১০ বছর ধরে বলে যাচ্ছে, শেখ হাসিনার সরকার অবৈধ, এ সরকারের অধীনে এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন রেখে তারা নির্বাচনে যাবে না; সহায়ক সরকারের অধীনে তারা নির্বাচন করবে। পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব কথাবার্তা বিএনপির কর্মীরা মেনে নিয়েছিল, কিন্তু রাতারাতি ভোল্ট পাল্টিয়ে বিএনপি যেভাবে শেখ হাসিনা ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে গেল তাতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একটা চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল। বিগত ১০ বছর বিএনপি রাজপথে কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি, এজন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মাজাভাঙা বিএনপিকে নিয়ে কত ঠাট্টা করেছেন, মশকরা করেছেন। এটা বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতাও হতে পারে, আবার কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তাও হতে পারে। নেতারা বলেন, কর্মসূচি দিলেও কর্মীরা রাস্তায় নামে না; অন্যদিকে কর্মীরা বলে, কর্মসূচি দিয়ে নেতারা ঘরে বসে থাকেন। সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সব দেশের সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধেই উত্থাপিত হয়ে থাকে। পুলিশ সব সময় সরকারের পক্ষে থাকে; জিয়াউর রহমানের আমলেও জনগণ বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে পারেনি। এক মিছিলে অলি আহাদ পুলিশের লাঠি খেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে তোমাকে আমি দেখিয়ে দেব’। প্রত্যুত্তরে পুলিশ বলেছিলেন, ‘তখন আপনার হুকুমে বিরোধী দলকে আমি আবার এভাবেই পেটাবো’। পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারিনি বলে আমাদের মতো দেশে সরকারি দল যে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে বিরোধী দল কখনও তা পায় না, দেয়াও হয় না; দেওয়া হয় না বলেই রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম লেগেই থাকে। তারপরও বিএনপির নেতাদের হাসি হাসি মুখ ও জ্বালাময়ী বক্তব্যে মনে হয়েছিল, তারা নির্বাচনে জিতবে, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিলের ট্রাম্প কার্ড তারা পেয়ে গেছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির অলিখিত পূর্বশর্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে আরোপ না করার প্রধান কারণই সম্ভবত নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে বেশি বেশি আস্থাবান থাকা। সংলাপে পেশ করা দাবি পূরণ করে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা না হলে নির্বাচনে যাবে না বলে বিএনপি ঘোষণা দিলেও অনুকূল পরিবেশ ছাড়াই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে সকাল-বিকাল নানা অভিযোগ করেও নির্বাচন থেকে বিএনপি সরেনি। কারণ বিএনপির বদ্ধ ধারণা ছিল, সরকার যত প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করুক না কেন ভোটের দিন বিএনপির পক্ষে জনতার ঢল নামবে, জনগণের গোপন ব্যালট পেপারে আওয়ামী লীগের নৌকা ডুবে যাবে। কিন্তু জনতাকে ভোটকেন্দ্রে নেয়ার ক্ষমতা বিএনপির যেমন ছিল না তেমনি তাদের ভোটকেন্দ্রে নেয়ার কোন কসরতও দেখা যায়নি। ভোটের কৌশল নিরূপণের পরিবর্তে বিএনপি নির্ভর করেছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ওপর; তারা যেভাবে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অডিও, ভিডিও প্রচার-প্রচারণায় লিপ্ত ছিল তাতে তাদের সমর্থকদের বিশ্বাস জন্মেছিল যে, প্রধান বিচারপতি সংসদ বাতিল করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে থাকবে। অন্যদিকে কর্মীদের ধারণা দেওয়া হয়েছিল, ভারতের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়ে গেছে, নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সমর্থনে আওয়ামী লীগের পরিবর্তে ভারত বিএনপির পাশে থাকবে। বিএনপির কোন ভাবনা, চিন্তাই কাজে লাগেনি; এখন যদি খালেদা জিয়া জামিন পায় বা প্যারোলে মুক্তি পায় তাহলেও সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার জন্য কর্মীদের চাপা ক্ষোভের কিছুটা প্রশমন হবে।
[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]