উপসম্পাদকীয় (দৈনিক সংবাদ)

একজন স্মার্ট কর্মোদ্যোগী মেয়র

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

[ঢাকা, রবিবার, ০৮ জুলাই ২০১৮]

প্রায় ৩৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন ও নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। নতুন ভোটার এক লাখ ১১ হাজার এই নির্বাচনে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছে। মো. জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৪ লাখ ১০ ভোট এবং বিএনপির মো. হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ ভোটের ব্যবধানে জাহাঙ্গীর আলম বিজয়ী হয়েছেন; অথচ ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট সমর্থিত অধ্যাপক আবদুল মান্নান ৩ লাখ ৬৫ হাজার ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আজমত উল্লাহ খানের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ভোট বেশি পেয়ে গাজীপুরের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।

জাহাঙ্গীর আলম একজন সফল ব্যবসায়ী। তবে জাহাঙ্গীর আলম অন্যান্য ধনী ব্যবসায়ীর মতো রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়ন নিয়ে উড়ে এসে জুড়ে প্রার্থী হননি। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট। চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তার রাজনীতির শুরু। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পর পর তিন বার ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সদর ও টঙ্গী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনেও জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন সময় পাওয়ার প্রত্যাশী ছিলেন, মনোনয়ন না পাওয়াতে অনেক যুবককে কান্নাকাটি করতে দেখেছি। পরবর্তী সময় তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন।

গাজীপুর-টঙ্গি এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা সব সময় জনপ্রিয়। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে তার সহজ, সরল জীবনযাপনের জন্য সবাই পছন্দ করত। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী মোজাম্মেল হক সম্ভবত আজ পর্যন্ত কোন নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে হারেননি। তাকে দলমত নির্বিশেষে গাজীপুরের সবাই পছন্দ করে। আজমত উল্লাহ খান ২০১৩ সালের নির্বাচনে হেরে গেলেও এলাকাবাসী তাকে ভালো মানুষ হিসেবে সম্মান করে থাকে। এমপি জাহিদ আহসান রাসেল তার পিতা মরহুম আহসান উল্লাহ মাস্টারের জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখতে গাজীপুরবাসীর সমস্যা সমাধানে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজও অত্যন্ত অমায়িক নেতা হিসেবে সুপরিচিত। আমার অবসর গ্রহণের পূর্ব মুহূর্তে টাকশালবাসীর আমন্ত্রণে তিনি সস্ত্রীক টাকশালে বেড়িয়ে গেছেন। সর্বশেষ মূল্যায়নে জাহাঙ্গীর আলমের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে বলে প্রতিপন্ন হয়েছে।

আমি প্রায় নয় বছর গাজীপুরে সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছি। এ কারণে গাজীপুরের রাজনীতির হালহকিকত ও রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে আমার কিছু ধারণা আছে। সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন যা জনগণের নিকট টাকশাল হিসেবে সমধিক পরিচিত, একটি কেপিআই এ-ওয়ান প্রতিষ্ঠান। এই কারণে কোন রাজনৈতিক নেতা, কর্মী রাজনীতির উদ্দেশ্যে টাকশালে কখনো আসেননি। জাতীয় দিবসে আমরা মাঝে মাঝে জনপ্রতিনিধিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানাতাম। জঙ্গিদের অপকর্মের ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার জন্য সরকারের নির্দেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি জাহিদ আহসান রাসেল এসেছিলেন। এছাড়াও তিনি আমাদের আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকা ও রচনা প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও এসেছিলেন। রাসেলের বক্তৃতাও আকর্ষণীয়। তিনি তখন তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে আমাদের সঙ্গে একদিন হৈচৈ করে কাটিয়ে গেছেন, সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। এমপি সাহেব আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নিরাপত্তার ব্যাপারে সব সময় সজাগ ছিলেন; তার আগমনের সংবাদে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে টাকশালে ঢুকার প্রতীক্ষায় গেইটে দাঁড়িয়ে থাকতেন, কিন্তু তিনি ভেতরে ঢুকার জন্য কাউকে অনুমতি দিতেন না। মেয়র মান্নান সাহেবও একদিন এসে আমাদের মসজিদে নামাজ পড়ে সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে গেছেন। তিনিও সম্পূর্ণ একা এসেছিলেন।

সম্ভবত নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে জাহাঙ্গীর আলম কখনো আমাদের টাকশালের ভেতরে আসার আগ্রহ দেখাননি। আমার অবসর নেয়ার কয়েক মাস পূর্বে আমাদের একটি বনভোজনে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি সানন্দে আমাদের বনভোজনে অংশগ্রহণ করেন। বনভোজনে অংশগ্রহণে তিনি চাঁদা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, আমরা নিইনি। তবে তিনি দশ হাজার টাকার raffle draw-এর টিকিট কিনে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন; তার দেওয়া টিকিটে এক গরিব ছাত্রী প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি টেলিভিশন পেয়েছিল। টাকশালের বনভোজন টাকশালের অভ্যন্তরে হয়ে থাকে; এই বনভোজনে টাকশালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পোষ্যদের নিয়ে প্রায় তিন হাজার লোকের একটি মিলনমেলা। সকালবেলায় বনভোজনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে নানা খেলাধুলার আয়োজন করা হয়; এমন আয়োজিত একটি খেলায় জাহাঙ্গীর আলম প্রতিযোগিতায় প্রথম হন; সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য তিনি গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে অবস্থান করেন।

জাহাঙ্গীর আলম পোশাক-পরিচ্ছদে কেতাদুরস্ত, দেখতে হ্যান্ডসাম, জনসম্মুখে বলেনও ভালো। তার কাছে আমাদের কোন প্রত্যাশা ছিল না, আমাদের সঙ্গেও কখনো তিনি রাজনীতির কোন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেননি। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে চাঁদা তুলে কর্মীদের মিসকিন খাওয়ানোর প্রচলিত রীতি তিনি গাজীপুরে বন্ধ করে দিয়েছিলেন; বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবসে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গরু পৌঁছে দিতেন এবং তা দিয়ে গরিব-দুঃখীদের খাওয়ানো হতো। এছাড়াও দলীয় অনুষ্ঠান আয়োজনেও কোন কর্মীকে চাঁদা তোলার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অনুমতি দেননি। তার বাসায় দলীয় কর্মীদের অবাধ যাতায়াত ছিল। তার মুক্তহস্তে দান নিয়ে বিরোধী পক্ষের সমালোচনার জবাব তাকে কখনো দিতে দেখিনি।

নির্বাচনের পর জাহাঙ্গীর আলম তার সম্ভাব্য কাজের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। গাজীপুরকে গ্রীন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে তার একটি লক্ষ্য রয়েছে; গাজীপুর এক সময় সবুজের সমারোহে আবৃত ছিল। পরবর্তী সময় ধনী লোকদের বাগানবাড়ি করার উপযোগী হিসেবে এই এলাকায় অনেক পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে। টঙ্গি শিল্প এলাকা হিসেবে বহু পূর্ব থেকে প্রসিদ্ধ হলেও গাজীপুরে খুব বেশি শিল্পকারখানা ছিল না; এখন সবুজ গাছপালা পরিষ্কার করে শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। তাই গ্রীন সিটি গড়তে গেলে মেয়রকে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করা, বর্জ্য নিষ্কাশন ত্বরান্বিত করা এবং যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। টঙ্গি হাইওয়ে তার আওতাভুক্ত না হওয়ায় এখানেও তাকে সমস্যায় পড়তে হবে। সাধারণত হাইওয়েতে নর্দমার প্রয়োজন হয় না; কিন্তু টঙ্গি থেকে গাজীপুর পর্যন্ত হাইওয়ের দুপাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় রাস্তার দুদিকে বৃষ্টির পানি সরতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু পানি হয়ে যায়। বছর দুয়েক আগে রাস্তার দুপাশে নর্দমা তৈরি করতে দেখেছিলাম, সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। টাকশালে নির্বাহী প্রধান থাকাকালীন আমি প্রথম প্রথম ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে পৌনে দুই ঘণ্টার মধ্যে টাকশালে পৌঁছে যেতাম। হাইওয়েতে পানি জমে থাকার কারণে গার্মেন্টসের হাজার হাজার কর্মীকে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে হতো; এতে যানজট আরও বেড়ে যেত। বিকালে অফিস শেষে পৌনে পাঁচটায় রওনা দিয়ে বাসায় পৌঁছতাম রাত নয়টায়। এ অবস্থা এখনো বিদ্যমান। সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ময়লা-আবর্জনা সরানোর অক্ষমতা। টাকশাল থেকে আবর্জনা সরানোর জন্য আগের মেয়রকে বহুবার লিখিত অনুরোধ করেও কাজ হয়নি। এ কারণে টাকশালের ভোটারেরা সিটি কর্পোরেশনের প্রতি কিছুটা ক্ষুব্ধ। তিনি গাজীপুর সিটিকে একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। চৌরাস্তা মোড়ের ট্রাফিক জ্যাম নিরসন করা সম্ভব হলে যাত্রীদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। কয়েক মাস যাবৎ জাহাঙ্গীর আলম প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে নিজের পকেটের টাকায় লোক নিয়োগ করে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছেন। এক্ষেত্রে তার পকেটের টাকা খরচ করার আর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয় না, কারণ এটা সরকারের দায়িত্ব। এই টাকাটা দিয়ে তিনি বহু নিঃস্ব পরিবারকে স্বনির্ভর করে তুলতে পারতেন।

তিনি অবশ্য এখন সরকারের অংশ হয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বয়স এখনো চল্লিশ হয়নি; ইতোমধ্যে তিনি গাজীপুরে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। তার একটি ভালো উদ্যোগ গাজীপুরের সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘শিক্ষা ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে দলমত নির্বিশেষে অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি প্রদান ছাড়াও নগদ আর্থিক সহায়তা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, যানবাহন, শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হয়ে থাকে। আমার কাছে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ বলে মনে হয়। কারণ আজকাল ভোটের রাজনীতিতে মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুদানের জন্য বিবেচিত হয়ে থাকে; অনুদান গ্রহণে ধর্মানুগত লোকেরা কোন বাছবিচারও করে না। জাহাঙ্গীর আলম যেভাবে ব্যাপকভিত্তিক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে তেমন করে কোন ধনী রাজনৈতিক নেতাকে উদ্যোগী হতে দেখিনি।

নির্বাচনে কিছু অনিয়মের কথা শোনা যায়। এই অনিয়ম না হলেও জাহাঙ্গীর আলম বিপুল ভোটে জয় পেতেন। টাকশালে আমার এককালের সহকর্মী যারা বিএনপি'র সমর্থক তাদের অনেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ভোট দেবেন মর্মে আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন। বিএনপি’র প্রার্থী হাসান সরকারও গাজীপুরে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি; টঙ্গী ও গাজীপুরে তার ও তার পূর্বপুরুষের অনেক অবদান রয়েছে। কিন্তু তিনি একজন প্রবীণ ব্যক্তি; টেলিভিশনে যতবার তাকে দেখেছি ততবার মনে হলো তাকে কয়েকজন ধরে বসাচ্ছেন, উঠাচ্ছেন। এতে তার ইমেজ কিছুটা নষ্ট হয়েছে। ইন্টারনেটের দ্রুতগতির সঙ্গে মানুষ দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, এমন গতির মানসিক গঠন নিয়ে অন্যের সহায়তায় চলাফেরা করার একজন মেয়র প্রার্থীকে কট্টর দলীয় সমর্থক ছাড়া অন্য কারোর ভোট দিতে আগ্রহী হওয়ার কথা নয়। জাহাঙ্গীর আলম না হয়ে অন্য কেউ হলেও ভোটের চিত্র কিছুটা ভিন্ন হতে পারতো। নিশ্চিত বিজয়েও সমর্থকদের অতি উৎসাহের কারণে প্রার্থী বা নেতার অসম্মতিতে অনিয়মগুলোর জন্ম হয়। জাহাঙ্গীর আলম যেভাবে গাজীপুরবাসীকে পাওয়ার প্রত্যাশায় উজ্জীবিত করেছেন তা পরিপালন করা তার পক্ষে সম্ভব বলে আমি মনে করি। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মতো তারও বয়সের উদ্দীপনায় জনসেবা করার আগ্রহ রয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমের স্বপ্ন আর গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশার মধ্যে বিরাট কোন গ্যাপ নেই— তার সহকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতায় গাজীপুরের ঈর্ষণীয় অগ্রগতি হবে বলে আমার বিশ্বাস।

[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com