হিজাববিরোধী আন্দোলনে ইরানের অবস্থা টালমাটাল, রাজধানী তেহেরানসহ দেশের একাধিক শহরে পথে নেমে এসেছে মেয়েরা। সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। হিজাব পরা নিয়ে গড়ে উঠা আন্দোলনে ইরানের ‘গাশত-ই এরশাদ’ বা নৈতিকতা পুলিশের নির্যাতনে প্রথম মৃত্যু হয় ইরানের কুর্দিস্তানের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির। মাহসা আমিনি তার ভাইসহ তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে ছিলেন, পুলিশ গাড়ির কাঁচ নামিয়ে দেখে যে, মাহসার হিজাব পরা যথাযথ হয়নি, কিছু চুল হিজাবের বাইরে চলে এসেছে। তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশের ক্যাম্পে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে, এর ফলে মাহসা জ্ঞান হারিয়ে কোমাতে চলে যায় এবং হাসপাতালে নেয়া পর মারা যায়। কারও পোশাক ধর্মীয় নির্দেশনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হলে তাকে আটক করে এই নৈতিকতা পুলিশ। ইরানের আইন অনুযায়ী নারীদের চুল হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, তারা ঢিলেঢালা লম্বা ঝুলের পোশাক পরবে যাতে নারীর শরীরের বাঁক স্পষ্ট হয়ে না উঠে। ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি কট্টর, তার ক্ষমতায় আসার পর ‘নীতি’ পুলিশদের দাপট বেড়ে গেছে। তার মতে বিদেশি মদতেই আন্দোলন এত হিংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরই ইরান জুড়ে হিজাব নিয়ে শুরু হয়েছে গণআন্দোলন। হিজাব পরার বাধ্যতামূলক আইন বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদীরা তেহেরানের রাস্তায় রাস্তায় জড়ো হচ্ছে; তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘হিজাব নয়, স্বাধীনতা ও সাম্য চাই’। ইতোমধ্যে ৭৬ জন প্রতিবাদকারীকে গুলি করে মেরে ফেলেছে ইরানের পুলিশ। বিস্মিত হতে হয়, ৭৬ জন সহযোদ্ধার লাশ দেখেও ইরানের প্রতিবাদী মেয়ে-পুরুষ কেউ ভয় পাচ্ছে না, প্রতিবাদ করেই যাচ্ছে। প্রতিবাদী মেয়েগুলো তাদের হিজাব আর ওড়না খুলে প্রজ্জ্বলিত আগুনে নিক্ষেপ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব ছাড়া ছবি ও ভিডিও আপলোড করছে, তারা তাদের লম্বা চুল কেটে ছোট করছে, আবার কেউ কেউ মাথা ন্যাড়া করছে। নিজেদের আন্দোলনে উজ্জীবিত রাখতে গত শতাব্দীর ইতালীয় লোকসঙ্গীতকে তারা হাতিয়ার বানিয়েছে।

বিরোধী মতকে স্তব্ধ করার ব্যাপারে উত্তর কোরিয়া এবং চীনের প্রচুর বদনাম রয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তান, সৌদি আরব, সুদান, ইরানও একই আচরণ করে থাকে, বিরোধী মতকে তারাও কঠোরভাবে অবদমন করে। বিশ্ব যাতে আন্দোলনের ব্যাপকতা এবং পুলিশের নির্যাতন সম্পর্কে জানতে না পারে সেজন্য ইরানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী মতকে স্তব্ধ করতে ইরানের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৯ সনে যখন জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন হয়েছিল, সেই আন্দোলনে ১৫০০ মানুষ মারা যায়।

ইসলামি শরিয়া আইন যে সকল মুসলিম দেশে অনুসৃত হয় সেই সকল দেশে কোন গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্র থাকার কোন অবকাশও নেই। কারণ ধর্মীয় আদেশ-নির্দেশ নিয়ে প্রতিবাদ করার কোন অধিকার কারো থাকে না, মতভেদও করা যায় না। মানুষের প্রণীত আইনের বিরোধিতা করা যায়, সংশোধনের প্রস্তাব করা যায়, বাতিল করতে বাধ্য করা যায়। যেমন, বাংলাদেশে অনুসৃত ডিজিটাল আইন নিয়ে প্রচুর মতভেদ আছে, প্রচুর বিরোধিতা আছে এবং আন্তর্জাতিক চাপে এই আইন সংশোধনের কথাও সরকার বলে যাচ্ছে। কিন্তু হিজাব নিয়ে প্রতিবাদ করার অর্থই হচ্ছে শরিয়া আইনের বিরোধিতা করা। যে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই, সেই আইনের ভাল-মন্দ বিচার করার ক্ষমতাও মানুষের থাকতে পারে না। শরিয়া আইন ধর্ম থেকে উদ্ভূত, এই আইনের দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন কিছুই পরিবর্তন করার এখতিয়ার মানুষের নেই। তাই যে দেশে শরিয়া আইন চালু আছে সেই দেশে এই আইন মেনেই সবাইকে রাজনীতি করতে হয়। এই সকল দেশে দল থাকে একটি, কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলে তার শাস্তি, গুম অবধারিত। প্রয়াত ফের্দিনান্দ মার্কোসকে স্বৈরশাসক বলা হয়, কারণ তিনি একনাগাড়ে ২১ বছর ফিলিপিন্স শাসন করেছেন। কিন্তু ইরানে মৃত্যু না হলে সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তনই হয় না। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে বাদশাহ রেজা শাহ পাহলভীর পতনের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ইরানে সর্বোচ্চ নেতা হন; ১৯৮৯ সনে তার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনি ৩৩ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, সম্ভবত মৃত্যু অবধি থাকবেন। মৃত্যু ছাড়া এরা ক্ষমতা ছাড়েন না। তাই ইরানে মেয়েদের হিজাববিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি পুরুষেরাও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে শরিয়া আইনের প্রয়োগকারী একদলীয় শাসনব্যবস্থা সমাজতন্ত্রের প্রলেতারিয়েত শাসনব্যবস্থার চেয়েও কঠোর, সামরিক আইনের চেয়েও নিষ্ঠুর ও অনমনীয়।

ইরানের একদলীয় শাসনব্যবস্থা এত কঠোর যে, দলের ভেতরেও ভিন্নমত সহ্য করা হয় না। ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে, ইরানের ধর্মীয় নেতাদেরও তাদের ধর্মীয় অনুশাসনের ভয়ে পাশ্চাত্যের খ্রিস্টান-অধ্যুষিত দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয়। ১৯৭৯ সনে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের প্রথম প্রেসিডেন্ট আবুল হাসান বনি সদর যিনি ইসলামি বিপ্লবের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন, ভিন্নমত পোষণের জন্য তাকেও জীবন নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, ৮৮ বছর বয়সে গত বছর তিনি ফ্রান্সে মারা যান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকেও তার স্বাধীনচেতা মনোভাবের জন্য ২০১৭ সনের নির্বাচনে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করে। তিনি ২০০৪ সনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন, ‘মানুষের ভিন্ন ভিন্ন রুচি থাকবে, তাদের সেবা আমরা দেব’। তবে প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানী ছিলেন কিছুটা নমনীয়। হিজাবের বিরুদ্ধে মেয়েদের বারবার প্রতিবাদ হচ্ছে দেখে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউ তার পছন্দ-অপছন্দ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না’। হাসান রোহানির শাসনামলে হিজাব আইন অমান্যকারীদের শুধু জরিমানা, গ্রেফতার ও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হত। কিন্তু এক বছর আগে ইব্রাহিম রাইসি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হিজাব আইনের প্রয়োগ কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে।

ইরান সৌদি আরবের আঞ্চলিক রাজনীতির প্রতিপক্ষ। মুসলিম দেশগুলোর মোড়ল হওয়ার জন্য ইরান, তুরস্ক আর সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। সৌদি আরব একদিকে ধর্মীয় অনুশাসন শিথিল করছে, অন্যদিক ইরান ধর্মীয় অনুশাসনের বাস্তবায়ন কঠোর করছে। নতুন প্রেসিডেন্ট আসার পর হিজাব শুধু ইরানের মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য থাকেনি, ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলতে হলেও বিদেশি মেয়েদের হিজাব পরতে হয়। নিউ ইয়র্কে মার্কিন সাংবাদিক ক্রিস্টিন আমানপোরকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ঐ মার্কিন সাংবাদিক হিজাব পরতে অস্বীকার করায় সাক্ষাৎকার বাতিল করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

জনবহুল রাস্তায় মাথার হিজাব খুলে উড়িয়ে দেওয়া বা জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করার মতো যে সাহস ইরানের মেয়েরা দেখাচ্ছে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সমর্থনকে ইরান বলছে ইন্ধন। পৃথিবীর দেশে দেশে যেখানে ইরানের লোক আছে, তারাও মেয়েদের হিজাববিরোধী আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জড় হচ্ছে, স্লোগান দিচ্ছে। ইরানের মেয়েদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তুর্কির সংগীতশিল্পী মেলেক মোসো গান গাইতে গাইতেই মঞ্চে তার চুল কাটলেন; যে চুল না ঢাকার জন্য মেয়েদের মেরে ফেলা হচ্ছে সেই চুল তিনি রাখতে চাননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মহিলারা কী ধরনের পোশাক পরবে, সেটা রাষ্ট্র ঠিক করে দিতে পারে না। ইরানি মেয়েদের পায়ে বুট পরাও নাকি পুরুষের জন্য কামোত্তেজক—তাই ইরানে মেয়েদের বুট পরাও নিষিদ্ধ। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, পুরুষের কামোত্তেজনার কলুষিত মনমানসিকতার নোংরামির দায়ও মেয়েদের নিতে হচ্ছে।

বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মদদ এবং সৌদি আরবের আর্থিক প্রলোভনকে দায়ী করে আসছেন ইরানি নেতারা। কিন্তু প্রয়োজনে তারাই আবার গণতান্ত্রিক দেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। ইরানের বাদশাহ রেজাশাহ পাহলভীর বিরোধী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি প্রথমে ইরাকে নির্বাসিত হন। ইরাকে অবস্থানকালীন বিশ্বের কেউ তার নামও শুনেনি। কিন্তু রেজা শাহ পাহলভীর অনুরোধে ইরাক তাকে বহিষ্কার করলে তিনি চলে যান ফ্রান্সে। ফ্রান্স বাক্‌স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বিধায় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ইরানের বাদশাহর অত্যাচার-নির্যাতন নিয়ে প্রতিদিন বিবৃতি দিতে পেরেছিলেন এবং এতে ইরানের ভেতর রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধে। যে বাক্‌স্বাধীনতাকে পুঁজি করে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ইরানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটালেন সেই ইরানে বাক্‌স্বাধীনতাকে এখন গুলি করে রুদ্ধ করা হচ্ছে।

ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিশ্বাস, ইরানের জনগণ সরকারে সাথে ঐক্যবদ্ধ। প্রেসিডেন্টের কথা সঠিক বলে মনে হয় না। ইরানের জনগণ হিজাব পরার ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ত হলে হিজাববিহীন মেয়েদের জন্য এত কঠোর শাস্তির প্রয়োজন হতো না। বারবার শাস্তির মাত্রা বাড়ানো থেকে প্রতীয়মান হয়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়ে ইরানের নির্ধারিত নিয়মে হিজাব পরতে চায় না। প্রথমে শুধু কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয় ১৯৭৯ সনে, অমান্যকারীদের তখন নমনীয় শাস্তি দেওয়া হতো। কিন্তু অমান্যকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৮৩ সনে হিজাববিহীন নারীদের জনসম্মুখে ৭৪ দোররা মেরে শাস্তি দেওয়ার আইন করতে হয়েছে। এই শাস্তিও যখন পর্যাপ্ত বিবেচিত হল না তখন অতিরিক্ত আরও ৬ মাসের জেল দেওয়ার আইন বলবৎ করা হয়। হিজাব পরার কড়াকড়ি অনুশাসন মানা হচ্ছে না বলেই শুধু ২০১৪ সনে ৩৬ লাখ অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

নারীর পোশাক পরার স্বাধীনতা নিয়ে ১৯৭৯ এবং ২০১৪ সনেও ইরানে আন্দোলন হয়েছিল, কিন্তু পুলিশের গুলির সামনে বেশী দিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৭৯ সনে আয়াতুল্লাহ খোমেনি শুধু কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশের প্রতিবাদে পরদিন নারী দিবসে ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় প্রায় লক্ষাধিক নারী জড় হয়েছিলেন, কিন্তু বেশী দূর এগুতে পারেনি। বর্তমান হিজাববিরোধী আন্দোলনও বেশীদিন স্থায়ী হবে না, কারণ ইরান আন্তর্জাতিক বাদ-প্রতিবাদের তোয়াক্কা করে না, খুব দ্রুত আন্দোলন স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। তবে যে হিজাব নিয়ে মেয়েদের গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে সেই হিজাবের কথা আমাদের পবিত্র কোরআনের কোথাও নেই; তবে পর্দা যদি হিজাবের প্রতিশব্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাহলে পর্দা নিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মু’মিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়…’ সূরা আহযাব: ৫৯। অধিকাংশ আলেম ‘জিলবাব’-এর অর্থ ‘চাদর’ বলে উল্লেখ করেছেন। এখানে শুধু চাদরের একাংশ টেনে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সূরা নূর: ৩১-এর সংশ্লিষ্ট অংশে বলা হয়েছে, ‘তারা যেন গ্রীবা ও বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে’।

ব্যভিচারের শাস্তির মতো পর্দা না মানার শাস্তির কথা ধর্মের কোথাও পাইনি। তাই ইরান সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শাস্তির বিধান জারি করেছে। কিন্তু রোজা না রাখা বা নামাজ না পড়া অথবা যাকাত না দেওয়ার জন্য ইরানে কোন পুরুষকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। এই সব পালন না করলে পরকালে প্রদেয় ভয়াবহ শাস্তির কথা আল্লাহ বলেছেন; এগুলোতে আল্লাহ হেদায়েত দান করে থাকেন। তাই মানুষের তৈরি আইনের শাস্তির ভয়ে পর্দা করলে ধর্মের মাহাত্ম্য সমুন্নত থাকে না; তাই জোর করে হিজাব পরানোর নীতি থেকে আমাদের সরে আসা উচিত। জোর করে ধর্ম মানানোর তোড়জোড় থাকায় ইসলাম ধর্মকে নিয়ে শুধু পাশ্চাত্যে নয়, সারা দুনিয়ায় ‘ফোবিয়া’ তৈরি হচ্ছে, যা মুসলমানদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আল্লাহ হেদায়েত করলে নিজের ইচ্ছে থেকে পরবে।