শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙ্গালেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক। অনশন ভাঙলেও ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ আন্দোলন করে যাচ্ছে। বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের বিছানা সংকট ও খাওয়ার সমস্যা সমাধানের দাবিতে প্রভোস্টের পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবি আদায়ে ওই হলের ছাত্রীদের যে আন্দোলন শুরু হয় তা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। হলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে দেখা করতে গেলে প্রভোস্ট জাফরিন আহমদ লিজার ছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার কারণে তারা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখে। এই অবস্থায় উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে; কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের অনমনীয় অবস্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘাত বেধে যায়, অনেক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। পুলিশের লাঠিচার্জ ও ছাত্র-ছাত্রীর আহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য হলের ছাত্র-ছাত্রীরাও এসে আন্দোলনে যোগ দেয়, ফলশ্রুতিতে প্রভোস্টবিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে। প্রভোস্ট জাফরিন আহমদ ইতিমধ্যে পদত্যাগ করলেও শিক্ষার্থীরা তাতে তুষ্ট নয়, তাদের দাবি ভিসি’র পদত্যাগ। আন্দোলনরত ছাত্রদের অর্থ সহায়তাকারীকে খুঁজে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করার কোন প্রয়োজন ছিলো না—এই সকল একশনে আন্দোলন বহুমাত্রিকতা লাভ করে।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে এমন আমরণ অনশনের আরও বহুবিধ কারণ ছাত্র-ছাত্রীরা উল্লেখ করেছে। পুলিশি হামলায় তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাদের প্রথম অভিযোগ হচ্ছে, উপাচার্য স্বৈরাচারী কায়দায় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন, ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগের কোন গুরুত্ব দিতেন না, উদ্ভূত কোন সমস্যার সমাধানে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করতেন না। এছাড়াও আরও অনেক অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে, আন্দোলন দানা বাঁধতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করার অনুমতি দিতেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর যে সকল ফুডকোর্ট ছিলো তার নির্দেশে সব উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন ছাত্র-ছাত্রীদের বাইরে গিয়ে চা খাওয়ার আড্ডা দিতে হয়, ছাত্রীরা আগে রাত ১০টা পর্যন্ত হলের বাইরে থাকতে পারলেও এখন সন্ধ্যার পর কেউ হলের বাইরে থাকলে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। এই সকল অভিযোগের সাথে যোগ হয়েছে শিক্ষক রাজনীতি; শিক্ষক রাজনীতি বা গ্রুপিং-এর কারণে প্রাথমিক অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উপাচার্যের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ একদল শিক্ষক প্রভোস্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্যদিকে উপাচার্যের পক্ষে অভিমত হচ্ছে, বর্তমান উপাচার্য সৎ, টেণ্ডারবাজি করতে না পেরে কিছু ছাত্র আন্দোলনকে উসকিয়ে দিচ্ছে, আন্দোলনে অর্থের যোগান দিচ্ছে। তবে আন্দোলনের শুরুতে প্রভোস্টের দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হলে উপাচার্যের বিরুদ্ধে এত অভিযোগও উঠত না, আন্দোলনও হতো না।
বহু বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করে যাচ্ছে এবং এর ফলে ঘন ঘন উপাচার্যদের পদত্যাগ করতে হচ্ছে। উপাচার্য নিয়োগে দলীয় রাজনীতি এত প্রকট হয়ে উঠেছে যে, নিয়োগ পেয়েই অনেক উপাচার্য ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় ছাত্রসংগঠনের তোয়াজ শুরু করে দেন; এতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনগুলো গুরুত্ব পায় না বিধায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। ডাইনিং হলে গিয়ে বিনে পয়সায় খাওয়া, হলে সিট বরাদ্দসহ টেণ্ডারবাজিতে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের একাধিপত্যও বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোকে ঈর্ষান্বিত করে তোলে। বহু বছর আগে থেকেই বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধীদলীয় ছাত্রসংগঠনগুলো সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের সাথে সংঘাতে যায় না, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধীদলীয় ছাত্রসংগঠনের অস্তিত্বও অনুভব করা যায় না। এক সময় বিএনপি তাদের মূল শক্তি খুঁজে পেত তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের মধ্যে; খালেদা জিয়া একবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে শায়েস্তা করতে ছাত্রদলই যথেষ্ট। সেই আমলে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন আওয়াজ ছিলো না, নীরব-নিস্তব্ধ। সেই ছাত্রলীগ এখন সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সরবে বিরাজমান, কিন্তু বিএনপি’র ছাত্রদল নীরব-নিস্তব্ধ। এই একতরফা শান্তি বিএনপি’র শাসনামলে বিএনপি চেয়েছে, এখন আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী চাচ্ছে। এই চাওয়া সম্পর্কে উপাচার্যগণ সম্যকভাবে অবহিত, তাই তাদের সিদ্ধান্তেও দলীয় রাজনীতির প্রতিফলন ঘটে।
উপাচার্য হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা শিক্ষকদের মানমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে সহায়তা করছে। উপাচার্য পদটি প্রশাসনিক—এই পদের অধিকারিকের মুখ্য কাজ হচ্ছে শাসন করা, নিয়ন্ত্রণ করা, ব্যবস্থা নেয়া। খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যের খুব বেশি গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না, কারণ শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশাসকের চেয়ে শিক্ষকের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শিক্ষকদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বাড়ে, কোন উপাচার্যের তত্ত্বাবধানে ছাত্ররা গবেষণা করে না, পিএইচডি ডিগ্রি নিতে ভিসি’র প্রয়োজন অনুভব করে না। তবে প্রশাসক হিসেবে তার অফুরন্ত ক্ষমতা, বিশ্ববিদ্যালয়কে সঠিক পথে পরিচালনা করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ তার হাতেই থাকে। কিন্তু কিছু উপাচার্য তা না করে সরকারের কাছাকাছি থাকার সুতীব্র বাসনায় তোষামোদী সংস্কৃতি অবলম্বন করেন। উপাচার্য পদ যে কত লোভনীয় তার উলঙ্গ প্রকাশ ঘটে বিএনপি’র আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর নিয়োগের পর তার যোগদানের নাটকীয় ঘটনায়। ২০০১ সনে দিনের বেলায় নিয়োগ পেয়ে সেদিন মধ্যরাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগ দেন আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী; পরে শামসুন্নাহার হলে ছাত্রীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের ঘটনায় গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে দায়িত্ব নেওয়ার নয় মাসের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবুও তিনি ভাগ্যবান, পদত্যাগের পর বিএনপি তাকে রাষ্ট্রদূত করে সম্মানিত করেন। পদত্যাগে বাধ্য হওয়া উপাচার্য মনিরুজ্জামান মিঞাকেও বিএনপি সরকার সেনেগালের রাষ্ট্রদূত করে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মতো ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনও প্রথমে শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ছিলো এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর বাসার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিলো।
রুমে আবদ্ধ করে বাইরে থেকে তালা মেরে শর্ত মানতে বাধ্য করার রীতিও স্বৈরতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক নয়। অবশ্য ভাঙচুর না করলে প্রশাসকেরা ন্যায়সঙ্গত দাবি মানা তো দূরের কথা, বৈঠক করতেও রাজি হয় না। কিন্তু রুদ্ধ ঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তালা মেরে রাখলে নিঃসঙ্গ একজন লোকের নার্ভে চাপ পড়তে পারে, তার পক্ষে তখন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই হয়তো উপাচার্য জোর করে ছাত্রদের হটানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদিও উপাচার্য তার তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। ছাত্ররা তার কথা বিশ্বাস করে না; কারণ ছাত্র-ছাত্রীদের একটি ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন না চাইলে পুলিশ কখনো শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করতে পারে না; কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠানকে এমন শুচিতা দেওয়ার আইন আছে বলে মনে হয় না। সব সরকারের আমলেই পুলিশ এমন নিষ্ঠুর দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হয়। রাজনীতি তো রাজনৈতিক দলগুলোও করে থাকে, বিরোধী দল কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী বা সচিবালয় অবরোধের বহু কর্মসূচী অতীতে নেয়া হয়েছে, কিন্তু কোন দলীয় সরকার কি আন্দোলনের মিছিল প্রধানমন্ত্রী বা সচিবালয়ের কাছে যেতে দিয়েছে? দেয়নি, অনেক দূরে মিছিল থামিয়ে দিয়েছে, মিছিল এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সব দলীয় সরকারের আমলে লাঠিপেটার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ড. আহমদ শরীফ বলতেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি রাষ্ট্র, ছাত্রত্ব না ঘোচা পর্যন্ত ছাত্ররাই এই আলাদা রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী স্বৈরশাসক। আজ যে পুলিশ ছাত্রদের লাঠিপেটা করলো তারা কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো না, যে প্রভোস্ট বা উপাচার্যের রূঢ় ব্যবহারের জন্য আন্দোলন করছে সেই প্রভোস্ট বা উপাচার্য কি ছাত্র ছিলেন না? প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সচিব, পুলিশপ্রধান, উপাচার্য, প্রভোস্ট সকলেই ছাত্র ছিলেন।
উপাচার্যের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বহু নজির রয়েছে। ১৯৬২ সনে ঢাকা কলেজে ছাত্রবিক্ষোভের মুখে পড়ে গভর্নর আবদুল মোনায়েম খান সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ সৃষ্টি করলে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাহমুদ হুসেইন পদত্যাগ করেন। একাত্তরের ২৫ মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা চালানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে জেনেভায় ছিলেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হত্যার খবর শুনে তিনি সেখান থেকেই পদত্যাগ করেন। এরশাদ সরকারের চাপে নতিস্বীকার না করে উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোহাম্মদ শামসুল হক এবং ফজলুল হালিম চৌধুরী। ১৯৯৬ সনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে পদত্যাগ করেন উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া আরও কয়েকজন উপাচার্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনাকে পূতপবিত্র মনে করে, সেই আঙ্গিনায় পুলিশি নির্যাতন হলে তার বিরুদ্ধে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী একতাবদ্ধ হয়ে যায়। পুলিশি একশনের বিরুদ্ধে উপাচার্যকে অবশ্যই বিবৃতি দিতে হবে, নতুবা যে কোন ইস্যুর আন্দোলন অবশ্যম্ভাবীভাবে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে পর্যবসিত হবে। তবে ছাত্রদের পক্ষে দ্রুত একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করা সম্ভব বিধায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকে তা বিবেচনায় নিতে হয়। ইতিমধ্যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ‘না সরলে’ সরকার ‘পদত্যাগের’ আন্দোলন করার হুমকি দিয়েছে বিএনপি’র ছাত্রদল। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য মুহম্মদ আবদুল বারীর বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলনে জিয়াউর রহমানের সময় পুলিশ শুধু লাঠিপেটা করেনি অনশনরত ছাত্রদের জেলে পাঠিয়েছিল, কিন্তু ভিসিকে পদত্যাগ করতে হয়নি। ছাত্ররা রাজনৈতিক সচেতন, জাতীয় রাজনীতির সাথে তাদের গাঢ় সম্পর্ক। তাই যে কোন ইস্যুতে তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার প্রয়াস নেয়া রাজনীতিবহির্ভূত কোন ষড়যন্ত্র নয়; ছাত্রদের আন্দোলনকে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব দিয়ে ঢাকার অবিমৃষ্যকারী সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি মুহূর্তে ঘোলাটে হয়ে যায়। বিএনপি’র আমলে বিএনপি’র নিয়োজিত ভিসিকে ছাত্রদল, আর আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োজিত ভিসিকে ছাত্রলীগ সমর্থন করেছে। শুধু তাই নয়, উভয় ছাত্রসংগঠনই আন্দোলনরত বিপক্ষের ছাত্রদের পিটিয়েছে। রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে এত অন্ধভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে, ছাত্র-শিক্ষকের মাঝখানে শ্রদ্ধার সম্পর্কটি এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। যখন একজন উপাচার্য বলেন, তিনি পদ ছাড়তে রাজি যদি তাকে একটা যুবসংগঠনের চেয়ারম্যান করা হয় তখন এই পদটির মানমর্যাদা অটোমেটিক্যালি কলুষিত হয়ে যায়। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, আবুল ফজল, প্রফেসর আব্দুল মতিন চৌধুরী, এ আর মল্লিক, খান সারওয়ার মুর্শিদ, ফজলুল হালিম চৌধুরী, সৈয়দ আলী আহসান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর মতো উপাচার্য এখনো আছেন, খুঁজে বের করা খুব কঠিন নয়। চাটুকার ভিসি আর প্রভোস্ট থাকার কারণে হলগুলোতে নেতাদের দ্বারা সাধারণ ছাত্রদের হেনস্তা করা সহজ হয়। তাই প্রভোস্ট এবং উপাচার্যের নির্বাচন সঠিক না হলে অহর্নিশ পদত্যাগের আন্দোলন চলতেই থাকবে, ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে যেতেই হবে।