দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আজকের (রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯) উপসম্পাদকীয়।
ধর্ষকের পক্ষে মিছিল!
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
মাদরাসাপড়ুয়া নুসরাত জাহান রাফির অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ নিয়ে গত রোববার একটি কলাম লিখি; পত্রিকায় প্রকাশের পর এ লেখাটি আমি আমার ফেসবুকে আমার বন্ধুদের জন্য পোস্ট করেছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার এককালের ব্যাচমেট খন্দকার সেলিম তার মতামতে জানতে চাইলো, আমি কেন আমার কলামে ধর্ষকদের পক্ষে আয়োজিত মিছিল নিয়ে কিছু বললাম না। ১৭ এপ্রিলের পত্রিকায় দেখলাম, রাফির হত্যার পূর্বে মাদরাসার অধ্যক্ষ দ্বারা যৌন হয়রানির তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে অবহেলা খুঁজে পেয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। যৌন হয়রানির অভিযোগ দাখিলের পরপর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশ, মাদরাসার গভর্নিং বডি যথাযথ ব্যবস্থা নিলে দুর্বৃত্তরা রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার সুযোগ পেত না।
মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা দ্বারা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং মাদরাসার ভেতরে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা নাড়া দিয়েছে সারা দেশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেখলে বোঝা যায় রাফির করুণ মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের মধ্যে সৃষ্ট আলোড়নের মাত্রা। কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে দেওয়া গল্প, কবিতা, নিবন্ধ, কৌতুক, প্রহসন—সব কিছুতেই নুসরাত। ফেসবুকের প্রায় সবাই রাফির ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন—কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় ধর্ষক আলেমদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেছেন, অনেকে সব ধর্ষকের প্রকাশ্যে ফাঁসি দাবি করেছেন, কেউ কেউ বিচারের বিলম্বিত প্রক্রিয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন, কিছুদিনের মধ্যে ঘটনাটি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাবে বলে অধিকাংশ বন্ধু আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, সুশাসনের অভাবে ধর্ষণের ব্যাপ্তি হচ্ছে বলে অনেকে সরকারকে দোষারোপ করেছেন, হেফাজতের সঙ্গে সরকারের আপসকামী মনোভাব মাদরাসার শিক্ষকদের বেপরোয়া করে তুলছে বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার স্যার নিতাই দাস সাহার একটি পোস্টে তিনি তার এক ফেসবুক বন্ধুর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের উল্লেখ করেছেন; নুসরাতের প্রতি সংঘটিত নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদস্বরূপ ওই বন্ধু এবারের নববর্ষে তাকে কোন শুভেচ্ছা বাণী পাঠাতে নিষেধ করেছেন। সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ করেছে নুসরাত নিজেই; মফস্বল শহরের রক্ষণশীল পরিবারের এ মেয়ে প্রভাবশালীদের চাপ ও ভয়, ভীতির তোয়াক্কা না করে যৌন হয়রানির জন্য প্রথমে থানায় অভিযোগ করেছে, পরে ছাদে কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগানোর হুমকিতেও সে মামলা তুলে নিতে সম্মত হয়নি, এমনকি হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে থেকেও সে লড়াই করার মনোভাব দেখিয়েছে। তাকে বলতে শোনা গেছে—‘শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিয়েছে, শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমি এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করব’। প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই নুসরাতের চিকিৎসার মনিটরিং করেছেন, নুসরাতের ইচ্ছানুযায়ী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর ব্যবস্থা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এমন একটি প্রতিবাদমুখর পরিবেশে রাফি দেখে গেল, তার ধর্ষকের পক্ষেও মিছিল, জমায়েত ও মানববন্ধন হচ্ছে। কয়েকটি লেখায় দেখলাম, এসব জমায়েতের নেতৃত্ব দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী। জামায়াত থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর সিরাজ উদদৌলা পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ মামুনের সহায়তা নিয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষের পদটি রক্ষা করে; পরবর্তীতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদরাসার গভর্নিং বডির সদস্য মাকসুদুর রহমানের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেয়ার অভিযোগ আছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমীনের বিরুদ্ধেও। অভিযোগ উঠেছে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে, তিনি নাকি অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এ অভিযোগটি ওসি অস্বীকার করলেও নুসরাতের সঙ্গে তার অশ্লীল ভাষায় জেরা করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গিয়েছে। মাদরাসার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকও নাকি যৌন হয়রানির বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেননি। তার যুক্তি হচ্ছে, তিনি অফিসিয়াল কাজে অতি ব্যস্ত থাকার কারণে রাফির অভিযোগে মনোনিবেশ করতে পারেননি। এমন ব্যস্ত লোকের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হওয়ার রীতি রাখার দরকার কেন তা বোধগম্য নয়। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে এডিসি কেমন দায়িত্ব পালন করেছেন তা তার একটি বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ‘আমরা তো আসি আর যাই, আমাদের কাছে এত খোঁজ থাকে না’।
আমার মেজ ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ, কলাম লেখক ও সাবেক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেও তিনি ফেনীর নির্বাচিত তিনজন এমপির একজনকেও নুসরাতকে দেখতে হাসপাতালে যেতে দেখেননি। আমার এক ভাতিজা আশরাফ মেজ ভাইয়ের লেখার সূত্র ধরে একই সুরে উল্লেখ করেছে, ফেনীর অধিবাসী এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী বা এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী শমী কায়সার ও রোকেয়া প্রাচীকেও নুসরাতের ওপর বয়ে যাওয়া নিষ্ঠুরতা নিয়ে একটি বাক্য উচ্চারণ করতে দেখা যায়নি। আর আমি কোন ধর্মীয় দল, গোষ্ঠীর কোন আলেমকে মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি শব্দ উচ্চারণ করতে শুনিনি। বায়তুল মোকাররম মসজিদের অনেক মুসল্লিকে মাঝে মাঝে জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে মিছিল করতে দেখা যায়, রাফির ক্ষেত্রে এরা একেবারে নিশ্চুপ। মাদরাসা, মক্তব, এতিমখানায় বলাৎকার আর ধর্ষণের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা নিয়ে কোন হুজুরকে কোন দিন ওয়াজ করতেও শুনিনি।
ধর্ষকের পক্ষে মিছিল, মিটিং, প্রশাসনের পক্ষাবলম্বন শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারত এবং পাকিস্তানেও হয়। ঠিক এক বছর আগে কাশ্মীরের যাযাবর গোষ্ঠীর আট বছর বয়সী আসিফা বানুকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং হত্যা করার পর দুজন পুলিশ মৃতদেহের পোশাক পানিতে ধুয়ে নিয়েছিল যাতে পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া না যায়। ধর্ষণের পর মেরে ফেলার পূর্ব মুহূর্তে অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মীর উক্তি, ‘এখনই মেরো না, দাঁড়াও, আমি ওকে শেষবারের মতো একবার ধর্ষণ করে নিই’। শেষবার ধর্ষণ শেষে আট বছরের ছোট্ট মেয়েটির মাথা ভারী পাথরের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক সাঞ্জি রামসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার পরপরই স্থানীয় বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ধর্ষকদের পক্ষে মিছিল, মিটিং, হরতাল চলতে থাকে। আদালত চত্বরে আইনজীবীদের জঙ্গি আন্দোলন এড়িয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তাদের আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে হয়েছে গভীর রাতে। রাজ্য সরকারের দুই বিজেপি মন্ত্রী চৌধুরী লাল সিং এবং চন্দর প্রকাশ গঙ্গা হিন্দু একতা মঞ্চের আয়োজনে ধর্ষকদের মুক্তির দাবিতে করা সমাবেশে যোগ দেন। মোদি সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ার দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এত বড় দেশে দুই-একটা এমন ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে এত হৈ চৈ করার কিছু নেই।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে মর্মে ঘোষণা দেওয়ার পর স্থানীয় বিজেপি নেতা, কর্মী ধর্ষকের পক্ষের মিছিল, মিটিং থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।
পাকিস্তানে ধর্ষণের বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অনেকটা অনুমোদিত। অধ্যাপক শাহলা হায়েরির মতে, পাকিস্তানে সংঘটিত ধর্ষণে রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ও কখনও কখনও প্রকাশ্য সমর্থন থাকে। গ্রামপরিষদের নির্দেশে পাকিস্তানে নারীকে গণধর্ষণ করানোর রীতি সামাজিকভাবে স্বীকৃত। ভাইয়ের সঙ্গে উঁচু বর্ণের একজন নারীর প্রেমের সম্পর্ক থাকার শাস্তিস্বরূপ গ্রামপরিষদের নির্দেশে তার বোন মুখতারান বিবিকে কয়েক বছর পূর্বে সালিশের সম্মুখে গণধর্ষণ করানো হয়। পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত চারজন ধর্ষকসহ ৬ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করলেও লাহোর উচ্চ আদালত অপর্যাপ্ত প্রমাণের যুক্তি দেখিয়ে উক্ত ছয়জনের মধ্যে ৫ জনকে মুক্তি দেয় এবং ষষ্ঠ ব্যক্তির সাজা কমিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। পরে আপিল মামলায় সুপ্রিমকোর্টও ধর্ষকদের বেকসুর খালাস করে দেয়। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ধর্ষিতা মেয়েদের সম্পর্কে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশাররফের একটি অশ্লীল বক্তব্য থেকে ধর্ষণ নিয়ে পাকিস্তানের রুচি ও অবস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়; তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পাকিস্তানের কিছু নারীর ধর্ষিত হয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা কামানোর উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের মাদরাসাগুলোতে প্রতি বছর প্রায় পাঁচশত বলাৎকার ও ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। পাকিস্তানের এক অর্থনীতিবিদ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, ‘আজও মনে পড়লে শিউরে উঠি, কীভাবে আমাকে ধর্ষণ করার পর গোসল করে হুজুর নামাজ পড়তে চলে যেতেন’।
শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের অভিযোগে জনতার হাতে মার খেয়ে গ্রেফতার হয়েছে এমন কিছু মাদরাসার হুজুরের নাম খুঁজতে গিয়ে শত শত নাম ইন্টারনেটে দেখলাম। ধর্মের পবিত্র নামে প্রতিষ্ঠিত এইসব মাদরাসায় যারা পড়ান তারা ধর্ম সম্পর্কে লেখাপড়া জানা জ্ঞানী আলেম। শিরকের পর যে অপরাধটি জঘন্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা হচ্ছে জেনা। এসব আলেম কি ধর্মের এ বিধি-নিষেধ ইচ্ছে করে অবজ্ঞা করেন? তাদের জেনা করার জোশ দেখলে মনে হয়, ধর্মের ওপর তাদের বিশ্বাস নেই। মাদরাসায় যারা পড়ে তাদের বেশিরভাগ অনাথ বা গরিবের সন্তান। এছাড়াও এই পরিবারগুলো ধর্ম বিষয়ে অত্যধিক সংবেদনশীল। মাদরাসার শিক্ষকদের পা ধুয়ে দেওয়া, লোটায় পানি ভরে দেওয়া, গোসলের আগে সরিষার তেল মালিশ করে দেওয়া মাদরাসার শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকেরা এমন সেবাকে ছওয়াবের কাজ মনে করে থাকে। মাদরাসার শিক্ষকদের কথা ছাত্র, ছাত্রীরা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে পাগল হয়ে যাওয়া হুজুরের সতর্কবাণী ছাত্র বিশ্বাস করে চুপ ছিল, হুজুর খুশি হলে বেহেশত পাওয়া যাবে—এমন আশ্বাসে বলাৎকারের শিকার শিশুরাও নিশ্চুপ থেকে পরকালের বেহেস্তের স্বপ্ন দেখেছে; কিন্তু বারবার একই ঘটনার পাশবিক নির্যাতন ঘটনাচক্রে পরবর্তীতে প্রকাশ পাওয়ায় এ সব হুজুরদের জনতার হাতে মার খেতে হয়েছে। ঝালকাঠির বেতলোচ রিয়াজিয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মতিনের শিশু ধর্ষণের কাহিনী কেউই জানতো না যদি না শিশুটি ধর্ষণে মারা যেত।
আমাদের সমাজে সংঘটিত এমন ঘটনার বিশ শতাংশও জনসম্মুখে আসে না; লোকলজ্জা, সামাজিক গঞ্জনা ও হেনস্তার ভয়ে অসংখ্য মেয়ে যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের কথা প্রকাশ করে না। সামাজিক হেনস্তা ছাড়াও আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ আর আইনজীবীর জেরায় ধর্ষণের অনুপুঙ্খ বর্ণনা ধর্ষিতার মুখ দিয়ে বের করানো হয়; এক্ষেত্রে ডাক্তারি পরীক্ষার হেনস্তাও আছে। অন্যদিকে ধর্ষণের পর কিছু লোক ধর্ষিতার ত্রুটি খুঁজে বের করতে গলদঘর্ম হয়; কেমন পোশাক পরেছিল, একা একা ঘর থেকে কেন বের হলো, চুলে রং করা ছিল কি না, কপালে টিপটি বেশি লাল ছিল, হিজাব পরলেও ঠোঁটে লিপস্টিক ছিল ইত্যাদি। ধর্ষক হুজুরদের মতো সমাজের মন, মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন; এ পরিবর্তন না হলে মেয়েসন্তানের প্রতি আমাদের আগ্রহ আস্তে আস্তে কমবে; রাফির মৃত্যুর পর একজন লিখেছেন, ‘সারা জীবন একটা কন্যাসন্তানের খুব শখ ছিল আমার, কিন্তু এখন ভয় পাই’।
[লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]
zeauddinahmed@gmail.com