আজ ১৭ মার্চ, ২০১৯ তারিখ; 'সংবাদ' পত্রিকায় প্রকাশিত আমার লেখা উপসম্পাদকীয়:

চাদরে মোড়া নিরাপত্তা

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম স্ক্যানিং মেশিন নির্বিঘ্নে পার হওয়ার ঘটনায় পত্র-পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ফেইসবুক সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে নকল পিস্তল ঠেকিয়ে বিমান ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চনের এই আসল পিস্তলের ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ঘটনাটির ব্যাপারে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ চলছে। ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্য হচ্ছে, তিনি ব্যাগে থাকা পিস্তলটি বাসায় রেখে আসতে ভুলে যান। দ্বিতীয় স্ক্যানিং মেশিনের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় তার মনে পড়ে যায় যে, তার ব্যাগে পিস্তল ও গুলি আছে; দ্বিতীয় স্ক্যানিং-এ ব্যাগ দেওয়া পূর্বেই তিনি দায়িত্বরত অফিসারদের বিষয়টি অবহিত করেন। প্রথম স্ক্যানিং-এ ধরা না পড়ায় তিনি বিস্মিত হয়ে বিষয়টির গলদ জানতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। অন্য দিকে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার কথা শুনে মনে হয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চন মিডিয়ায় বাহবা পাওয়ার প্রত্যাশায় পিস্তল নিয়ে একটি নাটক করেছেন। ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার কথা সত্য হলে বিমান ছিনতাই চেষ্টার সাথে সংশ্লিষ্ট পলাশের চেকিং-এ অবহেলার জন্য পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রয়োজন হতো না। এমন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের বিব্রতকর অবস্থায় তদন্ত কমিটিগুলো দ্বারা উদ্ঘাটিত সত্য জানার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। সাধারণ লোকজনও বিস্মিত হচ্ছে এই ভেবে যে, নিরাপত্তার খাতিরে যেখানে তাদের আপনজনের বিদায়ে বা আগমনে তাদের বিমানবন্দরের ধারে-কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয় না সেখানে আসল পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ ব্যাগ নিয়ে বিনা বাধায় বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিন ভেদ করে কীভাবে ইলিয়াস কাঞ্চন একটি নিরাপত্তা বলয় পার হয়ে গেলেন।

ইলিয়াস কাঞ্চনের এই ঘটনার আগে বিমান ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে পলাশও পিস্তল নিয়ে নির্বিঘ্নে কয়েকটি নিরাপত্তা বলয় পার হতে সক্ষম হয়েছিলো। অবশ্য পিস্তলটি পলাশ নিজের সাথে বহন করেছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। অভ্যন্তরীণ রুটে আমি কখনো চলাচল করিনি বলে এই রুটের যাত্রীদের চেকিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। টেলিভিশনে দেখলাম, স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে তার ব্যাগ পাস হয়েছে এবং সে আর্চওয়ে দিয়ে পার হওয়ার পর তার গায়ে হাতও বুলানো হয়েছে। পলাশের দেহ তল্লাশি করে এবং স্ক্যানিং মেশিনে তার ব্যাগের ভেতর পিস্তল জাতীয় কিছু দেখা যায়নি মর্মে বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব উল্লেখ করেছেন। মেটাল ডিটেক্টর ও হাত দিয়ে দেহ তল্লাশি তখনি করা হয় যখন আর্চওয়ে দিয়ে পার হওয়ার সময় লালবাতি জ্বলে শব্দ করে। হাত বুলানোর কারণে ধারণা করছি, আর্চওয়ে দিয়ে পার হওয়ার সময় শব্দ হয়েছিলো; শব্দ হলে যেভাবে দেহ তল্লাশি করার কথা তা পলাশের ক্ষেত্রে হয়নি বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। পিস্তলটি খেলনা বলেও অনেকে উল্লেখ করেছেন এবং খেলনা পিস্তল বলে ঘটনাটিকে হাল্কা করার চেষ্টা বলে মনে হয়। পিস্তলটি আসল, কি নকল তা মুখ্য নয়। পিস্তলটি খেলনা হলেও যাত্রীরা ভয় পেত, কারণ ভীত-সন্ত্রস্ত বিমানযাত্রী ও ক্রুদের পক্ষে তা যাচাই করা তখন সম্ভব ছিলো না।

শুধু অস্ত্র আর গুলি নয়, লাইটার, নেইল কাটার, ছোট একটি কাঁচিও স্ক্যানিংয়ে শনাক্ত হওয়ার কথা। পানি ভর্তি বোতল তো নেয়াই যায় না, অনেকে খালি বোতল নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীগুলো পার হয়ে টেপ থেকে পানি নিয়ে খায়। আমার রাখা একটি লাইটারের জন্য বুকিং করা স্যুটকেস খোলার জন্য লাউড স্পিকারে আমার নাম ধরে কয়েকবার ডাকা হয়েছিলো বেজিং বিমানবন্দরে। পঁচিশ বছর পূর্বে সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে আমার সঙ্গের ব্যাগে রাখা অনেকগুলো বডি স্প্রে রেখে আসতে হয়েছিলো। আমার স্ত্রী রেজিনা আহমেদের কোমরের ব্যথানাশক বেল্ট দেহ তল্লাশিতে ধরা পড়ার পর থাইল্যান্ডের বিমানবন্দরে হুলুস্থুল পড়ে যায়; নিরাপত্তাকর্মীদের ধারণা, সে বেল্টের ভেতর মাদক পাচার করছে। দশ মিনিট ধরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বেল্টটি পরীক্ষা করা হয়। আমি বেল্টটি পরার কারণ ব্যাখ্যা করতে সচেষ্ট হলে নিরাপত্তাকর্মীরা চোখ রাঙিয়ে থামিয়ে দেয়। ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোতে চেকিং-এর ক্ষেত্রে কোন শিথিলতা বা ব্যক্তিবিশেষের জন্য বিশেষ কোন অনুকম্পা নেই। আমাদের বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিনে ব্যাগ পরীক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের খুব বেশী মনোযোগী ও সিরিয়াস মনে হয়নি; ব্যাগ স্ক্যানিং-এর সময় দায়িত্বরত কর্মীকে সহকর্মীদের সাথে আলাপে মশগুল থাকতে দেখেছি। স্ক্যানিং-এর পর যে স্টিকারটি লাগানো হয় তাও যত্নসহকারে না করার কারণে একটু পরে ঝরে যায়। এদের অনেককে কাজে স্মার্ট মনে হয় না। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এসে কয়েক ঘণ্টা মালামালের জন্য বেল্টের কাছে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মনিটরগুলোতে বিমানের আগমন, নির্গমনের সঠিক সংবাদ যথাসময়ে প্রদর্শিত হয় না।

১৯৭৭ সনে আমাদের এই ঢাকা বিমানবন্দরে জাপানের রেড আর্মির জঙ্গি কর্তৃক নিয়ে আসা জাপানি এক বিমান ছিনতাইয়ের অবসান হয়েছিল সমঝোতার মাধ্যমে। ছিনতাইকারীদের সাথে দরকষাকষি বা সমঝোতার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ। আমি আগ্রহসহকারে এ জি মাহমুদের সাথে রেড আর্মির লোকদের দরকষাকষি দেখেছি। সমঝোতা স্থাপনে দরকষাকষির সময় সেনা বিদ্রোহে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডও ঘটে; বিমানের টার্মিনাল বিল্ডিং ও মূল ভবনের ভেতরটা দায়িত্বরত বিমান বাহিনীর সেনা, বিদ্রোহী সৈন্য ও বিদ্রোহ দমনে নিয়োজিত সেনা মিলিয়ে প্রায় ২০০ সেনার রক্তে ভেসে গিয়েছিলো। শতাব্দীকাল আগে থেকে বিমান ছিনতাই শুরু হলেও আমেরিকায় টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব দেশেই শুধু জোরদার করা হয়নি, এভিয়েশন সিকিউরিটি একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েও উঠেছে। বিমান ও বিমানবন্দরে কোন হামলা হলে তা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর যে কোন দেশের বিমান ও বিমানবন্দর আক্রান্ত হলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন দেশকে স্পর্শ করে। বিমানটি যে এয়ারপোর্ট থেকে উড়ে যায় ঐ বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সে দেশের। বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিরাজমান দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সনে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এবং ২০১৬ সনে ব্রিটেন বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কোন মালবাহী বিমান তাদের দেশে অবতরণ বন্ধ করে দিয়েছিলো; প্রথমে তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিষয়ক পরীক্ষার পর বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ নয় মর্মে সার্টিফিকেট দেওয়া হলেই কেবল বাংলাদেশী পণ্যকে ঐসব দেশের বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এমন ঘোরপ্যাঁচে বিমানে রফতানি খরচ অনেক বেড়ে গেছে, ফলে বিমানে আমাদের রপ্তানীও কমে যায়। এ অবস্থায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের রেড লাইন এভিয়েশন সিকিউরিটিজ কোম্পানীকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে হয়; এই প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যক্ষ পরিচালনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্য উন্নতি হওয়ায় শুধু বৃটেন তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি তুলে নেয়।

বাঙালির আবেগ, অনুভূতি বেশী বলেই সম্ভবত বিমানযাত্রীকে বিদায় দিতে বা স্বাগত জানাতে একগাদা লোক বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে থাকে। এরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দর থেকে বহু দূরে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে বন্দরের ভবনটির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে প্রিয়জনের বিদায়ে চোখের পানি ফেলতে থাকে। এই সাধারণ মানুষগুলো কিন্তু নিরাপত্তা ভঙ্গের কারণ হয় না; নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে ভিআইপি যাত্রীদের সাথে আসা অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন। এমন লোকদের বিমানবন্দরের ভেতরে যাওয়া রোধ করার সাধ্য কারো নেই। এদের যথাযথভাবে চেক করা যায় না এবং এদের জন্য বন্দরের অনেক কর্মী ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে অন্যদের চেকিং-এর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মাচার পালনেও বিঘ্ন ঘটে। বিদেশে ভিআইপি-দের এমন সুযোগ দেওয়া হয় বলে মনে হয় না; অবশ্য ঐসব দেশে যাত্রী ছাড়া অতিরিক্ত আর কোন লোক যাত্রীর সাথে আসেও না। শুধু বিমানবন্দর নয়, উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্থাপনায়ও নিরাপত্তা বিধানে কোন আপস করে না। নির্বাহী প্রধান সুপারিশ করা সত্ত্বেও পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকায় নিরাপত্তামূলক কাগজ তৈরির একটি কারখানার নিরাপত্তাকর্মী আমাকে ঢুকতে দেয়নি। আমাদের দেশে এমন হলে নিরাপত্তাকর্মীর চাকুরী রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেত।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সমন্বিত ফোর্স ইতোমধ্যে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিধানের কাজ শুরু করেছে বলে জানা যায়। আমাদের দেশে কোন একটি দুর্ঘটনা ঘটলে তার দুর্বলতা নিরসনে কয়েকদিন এমন কড়া ব্যবস্থা নেয়া হয় যে, এর জন্য সাধারণ কাজকর্মও ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের জন্যও চারটি বিমান ছিনতাই করা হয়েছিলো। তখন থেকে যে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে তার কোন শিথিলতা আজ পর্যন্ত হয়নি। কড়াকড়ির জন্যই আজকাল কোন পাসপোর্টে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সোমালিয়া ইত্যাদি দেশের ভিসা থাকলে ক্ষেত্রভেদে বহু দেশ ঐ পাসপোর্টে তাদের দেশে যাওয়ার ভিসা দিতে চায় না। কারণ এই মুসলিম দেশগুলোতে জঙ্গি উৎপাদন হয় বলে পাশ্চাত্যের ধারণা। এছাড়াও ফিলিস্তিনিরা ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক নিগৃহীত হওয়ার পর থেকে মুসলমান জিহাদিগোষ্ঠীর কার্যক্রম পাশ্চাত্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠায় বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিম নাম দেখলেই হেনস্তা করা হয়; যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে বহুবার হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। তার নামের সাথে 'খান' শব্দটি থাকার কারণেই তাকে এভাবে অপদস্থ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ভারতের বিজ্ঞানী ও অবসরপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবুল কালামকে অনেক সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দরে জেরা করার কারণে ভারতের আপত্তিতে পরে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বা টাকশালে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কত কষ্টকর তা উপলব্ধি করেছি। টাকশালে মুদ্রিত নিরাপত্তার সামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রেস ভবনের কাঠামোতে কর্মীদের প্রবেশ ও বেরুনোর শুধু একটি দরজাই রাখা হয়েছে; মালামাল গ্রহণ ও সরবরাহের যে দুটি পথ আছে তার শাটার গেইট খুলতে অনেক সময় লাগে। তাই নির্গমন পথে আগুন লাগলে এবং তা নেবানো সময়সাপেক্ষ হলে জীবনহানির সম্ভাবনা অনেক। এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শহরের প্রায় প্রতিটি ভবনে। গেইট বন্ধ থাকার কারণে আগুন লাগার পর বহু গার্মেন্টস কর্মী বের হওয়ার পথ না পেয়ে আগুনে দগ্ধ হয়েছে। প্রায় বাড়ীতে প্রবেশপথে কলাপ্সিবল গেইট থাকা সত্ত্বেও সিঁড়ির মধ্যে বা প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজায় কলাপ্সিবল গেইট দেখা যায়; আগুন লাগলে বা ভূমিকম্প হলে সহজে বেরুনোর সুযোগ না থাকার কারণে বহু লোক মারা যাবে। তাই কখনো কখনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা বিধান নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করে। আমাদের পুলিশের তরফ থেকে মাঝে মাঝে বলা হয়, ‘ভয়ের কোন কারণ নেই, আমরা চার, পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দিয়েছি’; তবুও আমাদের ভয় কাটে না। কারণ আত্মঘাতীকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা দশটি নিরাপত্তা চাদর দিয়েও ঠেকানো যায় না। এ অবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, নিরাপত্তা বিধানের প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রমে যেন পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর থাকে।

লেখক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক

zeauddinahmed@gmail.com